প্রধান মেনু খুলুন

মেক্সিকো সিটি

মেক্সিকোর রাজধানী

মেক্সিকো সিটি উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর রাজধানী ও সবচেয়ে জনবহুল স্থান। এটি উত্তর আমেরিকার জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে একটি। এটি আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি। এটি মেক্সিকো উপত্যকায় (ভ্যালে দে মেক্সিকো) অবস্থিত, যা মধ্য মেক্সিকোর সবচেয়ে উচ্চ মালভূমির একটি বৃহত উপত্যকা। এর উচ্চতা ২২৪০ মিটার বা ৭৩৫০ ফুট। মেক্সিকো সিটি ১৬টি বোরোতে বিভক্ত।

২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী শহরে ৮.৮৪ মিলিয়ন জনসংখ্যা ছিল এবং আয়তন ছিল ১৪৮৫ বর্গকিলোমিটার বা ৫৭৩ বর্গমাইল।

ভূগোলসম্পাদনা

মেক্সিকো সিটি মেক্সিকো ভ্যালিতে অবস্থিত, যা প্রায়ই মেক্সিকো অববাহিকা নামে পরিচিত। এই উপত্যকাটি দক্ষিণ-মধ্য মেক্সিকোর উচ্চতর মালভূমিতে ট্রান্স-মেক্সিকান ভলকানিক বেল্টে অবস্থিত।[১][২] সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর সর্বনিম্ন উচ্চতা ২,২০০ মিটার (৭,২০০ ফুট) এবং এর চারপাশে যে পাহাড় এবং আগ্নেয়গিরির রয়েছে সেগুলোর উচ্চতা ৫০০০ মিটার (১৬,০০০ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছেছে।[৩] এই উপত্যকায় পাহাড়ের শীর্ষ থেকে প্রবাহিত পানির জন্য কোনও প্রাকৃতিক নিকাশীর নদী বা নালা নেই, যা শহরকে বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ১৭ শতাব্দীতে শহরে খাল বা টানেল খননের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।[১][৩]

আবহাওয়াসম্পাদনা

কোপেন জলবায়ু শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী মেক্সিকো সিটির গ্রীষ্মমন্ডলীয় অবস্থান কিন্তু উচ্চ উচ্চতা কারণে, এখানে উপট্রোপিক্যাল পার্বত্য জলবায়ু বিরাজমান। উপত্যকার নিম্ন অঞ্চলে; ইজপাপাপা, ইজতে্যাকলকো, ভেনস্টিয়ানো ক্যারারজা এবং গাস্টভো এর পূর্ব অংশটিতে, দক্ষিণের উপরের অঞ্চলে তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হয়। উপরের দক্ষিণাঞ্চলের তলালপান, মিলপা আলটা থেকে ম্যাদিরো সাধারণভাবেই শুষ্ক ও গরম। পর্বতাঞ্চল আজুসকো পাইন ও অক গাছের জন্য বিখ্যাত।

মেক্সিকো সিটিতে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা থাকে ১২° থেকে ১৬° সেলসিয়াস।

জনসংখ্যাসম্পাদনা

ঐতিহাসিকভাবে এবং প্রাক-কলম্বিয়ার সময় থেকেই আনাহুয়াক উপত্যকা মেক্সিকোতে সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠেছে। ১৮২৪ সালে যখন ফেডারেল জেলা গঠন করা হয়েছিল, মেক্সিকো সিটির নগর অঞ্চলটি আজকের কুয়াহটমোক বোরোর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অভিজাতরা দক্ষিণ এবং পশ্চিমে থেকে অভিবাসন শুরু করে এবং শীঘ্রই ক্রমবর্ধমান সংযোগের ফলে মিক্সকাক এবং সান এঞ্জেলের মত ছোট শহরগুলো এর সাথে সংযুক্ত হয়। ১৯১২ সালের আদমশুমারি অনুসারে নগরীর ৫৪.৭৮% জনগণকে মেস্তিজো গণ্য করা হয়েছিল (আদিবাসী মিশ্রিত ইউরোপীয়), ২২.৭৯% ইউরোপীয় এবং ১৮.৭৪% আদিবাসী হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল।[৭]

মেক্সিকো সিটির বেশিরভাগ বাসিন্দা (৮২%) হলেন রোমান ক্যাথলিক, ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জাতীয় শতাংশের চেয়ে সামান্য কম ৮৭%, যদিও গত দশকে এটি হ্রাস পেয়েছে।[৮] এছাড়াও অনেক অন্য ধর্ম এবং দর্শন এ শহরে প্রচলিত আছে: বিভিন্ন ধরনের প্রোটেস্ট্যান্ট গ্রুপ, বিভিন্ন ধরনের ইহুদি সম্প্রদায়, বৌদ্ধ, ইসলামী এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক এবং দার্শনিক সম্প্রদায়।

শিক্ষাসম্পাদনা

প্লাজা দে লাস ট্রেস কাল্টুরাস-এ অবস্থিত কোলজিও ডি সান্তা ক্রুজ দে ত্লেটললকো আমেরিকা মহাদেশের প্রথম[৯] এবং প্রাচীনতম ইউরোপীয় স্কুল হিসাবে স্বীকৃত,এবং নতুন বিশ্বের দোভাষী এবং অনুবাদকদের প্রথম বড় স্কুল।[১০]

মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত মেক্সিকো জাতীয় ন্যাশনাল স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএনএএম) এই মহাদেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, যার ৩০০,০০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে (সকল ব্যাকগ্রাউন্ডে)।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Diccionario Porrua de Historia, Biografia y Geografia de Mexico 6th ed. – Mexico, Cuenca de (Spanish ভাষায়)। 3। Mexico City: Editorial Porrua। ১৯৯৫। পৃষ্ঠা 2238। আইএসবিএন 978-968-452-907-6 
  2. "Mexico City: Opportunities and Challenges for Sustainable Management of Urban Water Resources"। ডিসেম্বর ২০০৪। ডিসেম্বর ৭, ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২৫, ২০০৮ 
  3. National Research Council Staff (১৯৯৫)। Mexico City's Water Supply: Improving the Outlook for Sustainability.। Washington, DC: National Academies Press। আইএসবিএন 978-0-309-05245-0 
  4. "Normales climatológicas para Mexico-Central-Tacubaya D.F" (Spanish ভাষায়)। Colegio de Postgraduados। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২০, ২০১৩ 
  5. "NORMALES CLIMATOLÓGICAS 1981-2000" (PDF) (Spanish ভাষায়)। Comision Nacional Del Agua। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ৫, ২০১৩ 
  6. "Tacubaya, Distrito Federal Climate Normals 1961-1990"। National Oceanic and Atmospheric Administration। সংগ্রহের তারিখ মে ১৪, ২০১৩ 
  7. "The Hispanic Experience – Indigenous Identity in Mexico"। Houstonculture.org। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৭, ২০১১ 
  8. Volumen y porcentaje de la población de 5 y más años católica por entidad federativa, 2010 INEGI
  9. Steck; Francis Borgia (১৯৩৬)। The first college in America: Santa Cruz de Tlatelolco.। Washington DC। 
  10. Lourdes Arencibia Rodriguez। The Imperial College of Santa Cruz de Tlatelolco 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা