মৃৎক্ষার ধাতু

পর্যায় সারণীর দ্বিতীয় শ্রেণীর মৌলের তালিকা

মৃৎ ক্ষার ধাতু বা ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু বলতে পর্যায় সারণির দ্বিতীয় শ্রেণীর মৌলগুলো বোঝানো হয়। মোট ৬টি মৌল এই শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হল: বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনশিয়াম, বেরিয়াম, রেডিয়াম

বেরিলিয়ামের প্রধান খনিজ এমারাল্ড
মৃৎক্ষার ধাতু
হাইড্রোজেন হিলিয়াম
লিথিয়াম বেরিলিয়াম বোরন কার্বন নাইট্রোজেন অক্সিজেন ফ্লোরিন নিয়ন
সোডিয়াম ম্যাগনেসিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকন ফসফরাস সালফার ক্লোরিন আর্গন
পটাশিয়াম ক্যালসিয়াম স্ক্যান্ডিয়াম টাইটেনিয়াম ভ্যানাডিয়াম ক্রোমিয়াম ম্যাঙ্গানিজ আয়রন Cobalt Nickel Copper Zinc Gallium Germanium Arsenic Selenium Bromine Krypton
Rubidium Strontium Yttrium Zirconium Niobium Molybdenum Technetium Ruthenium Rhodium Palladium Silver Cadmium Indium Tin Antimony Tellurium Iodine Xenon
Caesium Barium Lanthanum Cerium Praseodymium Neodymium Promethium Samarium Europium Gadolinium Terbium Dysprosium Holmium Erbium Thulium Ytterbium Lutetium Hafnium Tantalum Tungsten Rhenium Osmium Iridium Platinum Gold Mercury (element) Thallium Lead Bismuth Polonium Astatine Radon
Francium Radium Actinium Thorium Protactinium Uranium Neptunium Plutonium Americium Curium Berkelium Californium Einsteinium Fermium Mendelevium Nobelium Lawrencium Rutherfordium Dubnium Seaborgium Bohrium Hassium Meitnerium Darmstadtium Roentgenium Copernicium Nihonium Flerovium Moscovium Livermorium Tennessine Oganesson
ক্ষার ধাতুমৃৎক্ষার ধাতু   → গ্রুপ ৩
আইউপিএসি গ্রুপ নম্বর
মৌল অনুযায়ী নাম বেরিলিয়াম গ্রুপ
সংক্ষিপ্ত নাম মৃৎক্ষার ধাতু
IIA
IIA

↓ পর্যায়
Image: Lump of beryllium
বেরিলিয়াম (Be)
Image: Magnesium crystals
ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
১২
Image: Calcium stored under argon atmosphere
ক্যালসিয়াম (Ca)
২০
Image: Strontium floating in paraffin oil
স্ট্রনসিয়াম (Sr)
৩৮
Image: Barium stored under argon atmosphere
বেরিয়াম (Ba)
৫৬
Image: Radium electroplated on copper foil and covered with polyurethane to prevent reaction with air
রেডিয়াম (Ra)
৮৮

বৈশিষ্ট্য

সম্পাদনা
  • তীব্র তড়িৎ ধনাত্মক।
  • এরা জলের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষারীয় অক্সাইড তৈরি করে।
  • মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়।
  • সকলের জারণ অবস্থা সাধারণত +২। আয়নীভবন ঘটলে দুটি ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে এরা +২ আধান বিশিষ্ট ধনাত্মক ক্যাটায়নে পরিণত হয়।
  • রেডিয়াম হল তেজস্ক্রিয় মৌল।

ইলেকট্রন বিন্যাস

সম্পাদনা
Z মৌল কক্ষের সংখ্যা ইলেকট্রন বিন্যাস
বেরিলিয়াম 2, 2 [He] 2s2
১২ ম্যাগনেসিয়াম 2, 8, 2 [Ne] 3s2
২০ ক্যালসিয়াম 2, 8, 8, 2 [Ar] 4s2
৩৮ স্ট্রনশিয়াম 2, 8, 18, 8, 2 [Kr] 5s2
৫৬ বেরিয়াম 2, 8, 18, 18, 8, 2 [Xe] 6s2
৮৮ রেডিয়াম 2, 8, 18, 32, 18, 8, 2 [Rn] 7s2

পর্যায় সারণি

সম্পাদনা
H   He
Li Be   B C N O F Ne
Na Mg   Al Si P S Cl Ar
K Ca Sc Ti V Cr Mn Fe Co Ni Cu Zn Ga Ge As Se Br Kr
Rb Sr Y Zr Nb Mo Tc Ru Rh Pd Ag Cd In Sn Sb Te I Xe
Cs Ba * Hf Ta W Re Os Ir Pt Au Hg Tl Pb Bi Po At Rn
Fr Ra ** Rf Db Sg Bh Hs Mt Ds Rg Cn Nh Fl Mc Lv Ts Og
 
  * La Ce Pr Nd Pm Sm Eu Gd Tb Dy Ho Er Tm Yb Lu
  ** Ac Th Pa U Np Pu Am Cm Bk Cf Es Fm Md No Lr
দ্বিতীয় শ্রেণীর মৌল মৃৎক্ষার ধাতু

এই ধাতুগুলো কে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়।

কিছু বিক্রিয়া

সম্পাদনা
হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া
Ca + Cl2 → CaCl2

নিরুদিত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড বায়ুমন্ডল থেকে জলশোষণ করে বলে একে পরীক্ষাগারে জলশোষক হিসেবে ব্যবহার করা হয় (ডেলিকোশেন্ট)।


অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া
Ca + 1/2O2 → CaO
Mg + 1/2O2 → MgO

সালফারের সাথে বিক্রিয়া
Ca + 1/8S8 → CaS

কার্বনের সাথে বিক্রিয়া
2Be + C → Be2C
CaO + 3C → CaC2 + CO (২৫০০°সে তাপমাত্রায়)
CaC2 + 2H2O → Ca(OH)2 + C2H2
Mg2C3 + 4H2O → 2Mg(OH)2 + C3H4

নাইট্রোজেনের সাথে বিক্রিয়া

কেবলমাত্র বেরিলিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সরাসরি নাইট্রাইড যৌগ তৈরি করে।

3Be + N2 → Be3N2
3Mg + N2 → Mg3N2

হাইড্রোজেনের সাথে বিক্রিয়া
Ca + H2 → CaH2

জলের সাথে বিক্রিয়া
Mg + H2O → MgO + H2

আম্লিক অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া
2Mg + SiO2 → 2MgO + Si
2Mg + CO2 → 2MgO + C

অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া
Mg + 2HCl → MgCl2 + H2
Be + 2HCl → BeCl2 + H2

ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া
Be + NaOH + 2H2O → Na[Be(OH)3] + H2

অ্যালকিল হ্যালাইডের সাথে বিক্রিয়া
RX + Mg → RMgX (নিরুদক ইথারে)

চিহ্নিত করণ

সম্পাদনা

অগ্নিবর্ণ পরীক্ষা

সম্পাদনা

বুনসেন বার্নারে যখন এই ধাতুগুলির কোন লবণ ধরা হয় তখন বিভিন্ন রঙের অগ্নিশিখা দেখতে পাওয়া যায়, সেই রং থেকে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব। বেরিলিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম তাদে, ছোট আকারের জন্য শিখা তৈরীতে ব্যর্থ হয়, তাই চেনা যায় না।[১] নিম্নলিখিত সারণিতে[২] এটি বর্ণিত হল:

ধাতু রং
Ca লাল (ইটের ন্যায়)
Sr ক্রিমসন লাল
Ba কাঁচা আপেলের মতো সবুজ/হলুদ
Ra কার্মাইন লাল

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "Beryllium and magnesium do not give colour to flame whereas other alkaline earth metals do so. Why" 
  2. "QUALITATIVE ANALYSIS TESTS for metal cations identifying positive ions, carbonates, ammonium ion, hydrogen ions, acids identification" 

আরও পড়ুন

সম্পাদনা
  • Lide, David R. (২০০৪)। Handbook of Chemistry and Physics  (84th সংস্করণ)। CRC Press। আইএসবিএন 978-0-8493-0566-5 
  • Weeks, Mary Elvira; Leichester, Henry M. (১৯৬৮)। Discovery of the Elements । Easton, PA: Journal of Chemical Education। LCCCN 68-15217। 
  • Wiberg, Egon; Wiberg, Nils; Holleman, Arnold Frederick (২০০১)। Inorganic chemistry। Academic Press। আইএসবিএন 978-0-12-352651-9। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১১ 
  • Group 2 – Alkaline Earth Metals, Royal Chemistry Society.
  • Hogan, C. Michael. 2010. "Calcium". A. Jorgensen, C. Cleveland, eds. Encyclopedia of Earth. National Council for Science and the Environment.
  • Maguire, Michael E. "Alkaline Earth Metals". Chemistry: Foundations and Applications. Ed. J. J. Lagowski. Vol. 1. New York: Macmillan Reference USA, 2004. 33–34. 4 vols. Gale Virtual Reference Library. Thomson Gale.
  • Petrucci R.H., Harwood W.S., and Herring F.G., General Chemistry (8th edition, Prentice-Hall, 2002)
  • Silberberg, M.S., Chemistry: The Molecular Nature of Matter and Change (3rd edition, McGraw-Hill, 2009)