মুহাম্মদ আইয়ুব খান (আফগানিস্তানের আমির)

আফগানিস্তানের আমীর (১৮৭৯-১৮৮০)

গাজি মুহাম্মদ আইয়ুব খান (পশতু: غازي محمد ايوب خان) (১৮৫৭ – ৭ এপ্রিল ১৯১৪, উর্দু: غازی محمد ایوب خان) (মিওয়ান্দের বিজয়ী বা আফগান প্রিন্স চার্লি নামেও পরিচিত) ছিলেন আফগানিস্তানের আমির। ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ১২ অক্টোবর থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মে পর্যন্ত তিনি আমির ছিলেন। এছাড়া তিনি হেরাত প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১][২] দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের সময় তিনি আফগান নেতা ছিলেন। আফগানিস্তানে তাকে জাতীয় বীর হিসেবে সম্মান করা হয়। পেশাওয়ারে তাকে দাফন করা হয়েছে।[৩]

মুহাম্মদ আইয়ুব খান
আফগানিস্তানের আমির
MohammadAyoubKhan.jpg
গাজি মুহাম্মদ আইয়ুব খান
আফগানিস্তানের আমির
রাজত্ব১২ অক্টোবর ১৮৭৯ – ৩১ মে ১৮৮০
পূর্বসূরিমুহাম্মদ ইয়াকুব খান
উত্তরসূরিআবদুর রহমান খান
জন্ম১৮৫৭
কাবুল, আফগানিস্তান
মৃত্যু৭ এপ্রিল ১৯১৪ (বয়স ৫৬–৫৭)
লাহোর, বর্তমান পাকিস্তান
সমাধি১৯১৪
পূর্ণ নাম
মুহাম্মদ আইয়ুব খান
রাজবংশবারাকজাই রাজবংশ
পিতাশের আলি খান

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

তার পিতা ছিলেন শের আলি খান এবং মাতা ছিলেন প্রভাবশালী মুহমান্দ নেতার কন্যা।[৪]

দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধসম্পাদনা

১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই আইয়ুব খান মিওয়ান্দের যুদ্ধে জর্জ বুরোসের ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে এটি ছিল ইঙ্গ-ভারতীয় বাহিনীর সবচেয়ে বড় পরাজয়। তিনি কান্দাহারে সুসজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর উপর আক্রমণের জন্য অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে এতে তিনি ব্যর্থ হন। ১ সেপ্টেম্বর কান্দাহারের যুদ্ধে জেনারেল ফ্রেডেরিক রবার্টসের বাহিনীর কাছে তিনি পরাজিত হন। এরপর দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।[৪]

দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের পরবর্তী সময়সম্পাদনা

এক বছর পর আবদুর রহমান খানের কাছ থেকে আইয়ুব খান কান্দাহার পুনরায় অধিকারের চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।

"আফগানিস্তানের স্বাধীন শাসক হিসেবে নিজ ক্ষমতা অনুধাবন করার সুযোগ আইয়ুব খানের ছিল[sic]। কুশক জেলার কিছু গোত্র বিদ্রোহ করার পর তিনি তাদের শাস্তি দেয়ার জন্য হেরাত থেকে একটি বাহিনী পাঠাতে চেয়েছিলেন; কিন্তু তিনি তার লোকেদের যেতে বললে তারা যেতে অস্বীকার করে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন তাদের বেতন দেননি।" টোয়ালিনগেট সান হতে, বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৮১।

আইয়ুব খান পারস্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনার পর তিনি ব্রিটিশ রাজের পেনশন প্রাপ্ত হন। তিনি ভারতে আসার পর রাজনৈতিক কর্মকর্তা উইলিয়াম ইভান্স-গর্ড‌ন তার দায়িত্ব নেন। উইলিয়াম করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডি পর্যন্ত তার সাথে ছিলেন।[৫]

মৃত্যু ও স্মরণসম্পাদনা

১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ আইয়ুব খান মারা যান। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি ভারতে বসবাস করেছেন। বর্তমানে আফগানিস্তানে তাকে আফগানিস্তানের জাতীয় বীর হিসেবে স্মরণ করা হয়। পেশাওয়ারে দুররানি কবরস্থানে শাইখ হাবিবের মাজারের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Hamid। "Afghanistan Monarchs"। afghanistantourism.net। ২০১২-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৭-১৪ 
  2. Wahid Momand। "Leaders"। Afghanland.com। ২০১১-০৭-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৭-১৪ 
  3. various। "Cities"। The Columbia Encyclopedia, 6th ed.। 
  4. Chisholm 1911
  5. Skelton ও Bulloch 1912, পৃ. 395।
উৎস
  • চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Ayub Khan"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
মুহাম্মদ ইয়াকুব খান
আফগানিস্তানের আমির
১৮৭৯–১৮৮০
উত্তরসূরী
আবদুর রহমান খান