মুজীবুর রহমান খাঁ

বাংলাদেশী সাংবাদিক

মুজীবুর রহমান খাঁ (২৩ অক্টোবর ১৯১০ - ৫ অক্টোবর ১৯৮৪) হলেন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।[২] সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত সেতারা-ই-কায়েদে আজম এবং সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সরকারি সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।[৩]

মুজীবুর রহমান খাঁ.
মুজীবুর রহমান খাঁ.png
জন্ম(১৯১০-১০-২৩)২৩ অক্টোবর ১৯১০
মৃত্যু৫ অক্টোবর ১৯৮৪(1984-10-05) (বয়স ৭৩)
ঢাকা, বাংলাদেশ
সমাধিবনানী কবরস্থান, ঢাকা
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
পাকিস্তানি
বাংলাদেশি
শিক্ষাইংরেজি সাহিত্য (এম এ)
মাতৃশিক্ষায়তনকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

আনন্দমোহন কলেজ

আঞ্জুমান হাই স্কুল, নেত্রকোণা
পেশাসাংবাদিক ও সাহিত্যিক
কর্মজীবন১৯৩৬-১৯৮৪
পিতা-মাতাপিতা মরহুম ইসমাইল উদ্দিন খাঁ ও মাতা মরহুমা  নজিরুন্নেসা খাতুন।
পুরস্কারসেতারা-ই-কায়েদে আজম
একুশে পদক

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

মুজীবুর ১৯১০ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) নেত্রকোণা জেলার উলুয়াটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৮ সালে নেত্রকোণার আঞ্জুমান হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৩৪ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বি এ পাস করেন[৩] এবং ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।[৪][৫]

কর্মজীবনসম্পাদনা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কিছু দিন পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা ত্যাগ করে ২৪ পরগণার হারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন।[৩] পাশাপাশি শুরু করেন সাংবাদিকতা। তিনি ১৯৩৬ সালে কলকাতার সাপ্তাহিক মোহাম্মদীতে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।[৪] একই বছরের ৩১ অক্টোবর তিনি দৈনিক আজাদে সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন[৫] এবং সেখানে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।[৩] ১৯৩৯ সালে তিনি যুগ্মসম্পাদকের পদ লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে সৈনিক আজাদ ঢাকায় আসার পর তিনি একই পদে তার দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে মাসিক মোহাম্মদীর সম্পাদক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আজাদ ও মোহাম্মদীতে তার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পয়গামের সম্পাদক পদে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই দৈনিকের সাথে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭৬ সালে দৈনিক আজাদ পুনঃপ্রকাশিত হলে তিনি এই পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতির পদ লাভ করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।[৪]

মুজীবুর বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি অল বেঙ্গল অ্যান্টিফ্যাসিস্ট রাইটার্স গিল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি এবং ১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদকের পদ লাভ করেন।[৩] ১৯৪৬ সালে তিনি ভারতের প্রথম বঙ্গীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫২ সালে মিশর এবং ১৯৫৪ সালে হল্যান্ড সফরে যান।[৪] ১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এই পদে নিযুক্ত ছিলেন।[৫] এছাড়া তিনি ১৯৫৪ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন।[৩]

মৃত্যুসম্পাদনা

মুজীবুর রহমান ১৯৮৪ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ঢাকার বনানি কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

প্রকাশিত গ্রন্থসম্পাদনা

  • বিলাতে প্রথম ভারতীয় (১৯৩৯)
  • পাকিস্তান (১৯৪২)
  • ইকনমিক প্রবলেম অব ইস্ট পাকিস্তান
  • সাহিত্যের সীমানা (১৯৬৭)
  • সাহিত্য ও সাহিত্যিক (১৯৭১)
  • মহানবী (১৯৮০)
  • সাহিত্যেও বুনিয়াদ
  • আমাদের ইতিহাস
  • নয়া তারিখ[৬]

সম্মাননাসম্পাদনা

  • পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত সেতারা-ই-কায়েদে আজম
  • বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সরকারি সম্মান একুশে পদক, ১৯৮০
  • মৃত্যুর ৩৫ বছর পর সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাহিত্যজন মুজিবর রহমান খাঁকে মননশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সৈয়দ আলী আহসান সিএনসি পদক’ (মরণোত্তর) দেওয়া হয়েছ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"নেত্রকোণা জেলা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. "মুজীবুর রহমান খাঁ"দৈনিক যুগান্তর। ৫ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  3. মোঃ হারুন-অর-রশীদ। "খাঁ, মুজীবুর রহমান"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  4. "সাংবাদিক মুজীবুর রহমান খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ"দৈনিক নয়া দিগন্ত। ৫ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  5. হোসেন, মুহম্মদ আলতাফ (২৩ অক্টোবর ২০১২)। "সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে মুজীবুর রহমান খাঁ"দৈনিক জনতা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  6. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা- ২৯১-২৯২।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা