প্রধান মেনু খুলুন

কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী (২০ ডিসেম্বর ১৯৩৩ - ১০ জানুয়ারি ১৯৯১)[২] হলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।[১]

মানিক চৌধুরী
মানিক চৌধুরী.jpg
জন্ম২০ ডিসেম্বর ১৯৩৩
মৃত্যু১০ জানুয়ারি ১৯৯১
ঢাকা
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণমুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ
পুরস্কারস্বাধীনতা পুরস্কার[১] (২০১৫)

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতিসম্পাদনা

তিনি ১৯৩৩ সালের ২০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সন্তান এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসাবে হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন।[৩]

মুক্তিযুদ্ধে অবদানসম্পাদনা

বৃহত্তর সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি; মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদেরও সংগঠিত করেন তিনি।[৪]

“কমান্ড্যান্ট” উপাধী লাভসম্পাদনা

মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অস্ত্রের প্রয়োজন তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সরকারি অস্ত্রাগার লুট করা হয় এবং এপ্রিলের প্রথম দিকে সরাসরি অংশ নেন সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বড় যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত শেরপুর-সাদিপুর যুদ্ধে।[৫] সম্মুখ সমরে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ৩ নং ও ৪ নং সেক্টরে সৈন্য, অস্ত্র, খাদ্য সরবরাহসহ ভারতের খাৈয়াই ও কৈলাশহরের মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল এম. এ. রব তাকে সিভিলিয়ান হওয়া সত্ত্বেও “কমান্ড্যান্ট” উপাধিতে ভূষিত করেন।[৬]

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে এম.এন.এ. এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন হবিগঞ্জ মহুকুমার গভর্নরও।[৭] তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদের জন্য মানিক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে চার বছর কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।[৪]

মৃত্যুসম্পাদনা

তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা, এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পিজি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডে একটি সিট বরাদ্দ পাননি।[২] এমতাবস্থায় ১৯৯১ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[৪]

পুরস্কার ও সম্মননাসম্পাদনা

“শ্যামল” প্রকল্পের জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর নিকট থেকে “বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক” গ্রহণ করেন।[৭]

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে[৪] অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ২০১৫ সালের “মরণোত্তর” স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।[১]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা"মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  2. "আমার বাবা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী"দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন। ৯ জানুয়ারী ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "'কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী মাটি ও মানুষের'"দৈনিক সিলেট অনলাইন। ৩ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "স্বাধীনতা পদক পেলেন সাতজন"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অনলাইন। ২৫ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  5. "মানিক চৌধুরী একমাত্র সিভিলিয়ান কমান্ড্যান্ট মুক্তিযোদ্ধা"দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন। ১০ জানুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  6. "গণমানুষের রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী"দৈনিক জনকন্ঠ অনলাইন। ১০ জানুয়ারী ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  7. "কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী শনিবার"উনাইটেডনিউজ২৪ডটকম অনলাইন। ৯ জানুয়ারী ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা