মাদুরকাঠি মেদিনীপুর জেলার জি আই ট্যাগ প্রাপ্ত একটি কুটিরশিল্প জাত পণ্য। নরম মাদুরকাঠি দিয়ে মাদুর তৈরি করা হয়। মাদুরকাঠি মূলত স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। মেদিনীপুর জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্য এবং গর্ব।[১] বাড়ির মহিলারা সমবায় গোষ্ঠী হিসাবে এই মাদুর তৈরি করে থাকেন।[২]

মাদুরকাঠি
ভৌগোলিক স্বীকৃতি
চিত্র:Madur Logo Registered for GI.png
বর্ণনাহস্তশিল্প
ধরণকুটির শিল্প
অঞ্চলপশ্চিমবঙ্গ
দেশভারত
নথিবদ্ধ২৮ মার্চ ২০১৮; ২ বছর আগে (28 March 2018)
প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটipindiaservices.gov.in

সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে মাদুরের ব্যবহার হয়ে চলছে।[৩] অথর্ব বেদে মাদুরের ব্যবহার উল্লেখ করা আছে। সেখানে মাদুরকে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাভারতে শুকনো ঘাসের আসনের উপর বসতে দেওয়া হতো বলে উল্লেখ করা আছে। যা মাদুরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলার জনমানসে মাদুরের গুরুত্ব অনেকটা। এটিকে মাটিতে বা মেঝেতে পেতে বসার জন্যই বেশি ব্যবহার করা হয়। যদিও এই রীতি এখন গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। অনেক সময় এটিকে বিছানাতেও ব্যবহার করা হয়। তাপের অপরিবাহিতা ও জলীয় বাষ্প শোষণ ক্ষমতা এটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। এছাড়াও বিয়ে, ভাইফোঁটা ইত্যাদি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এটিকে ব্যবহার করা হয়।

২০১৮ সালের ২৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকার হস্তশিল্প হিসাবে জি আই ট্যাগ দিয়েছে।[৪][৫]

ইতিহাসসম্পাদনা

প্রকারভেদসম্পাদনা

মূলত তিন ধরনের বুনন পদ্ধতিতে মাদুরকাঠি বোনা হয়।

  • এক রোখা
  • দুই রোখা
  • মাসলন্দ

এক রোখা হালকা মাদুর। এটির গুণমান সব থেকে কম। এটিতে একবার বুনন দেওয়া হয়। দুই রোযা এর থেকে উন্নত মানের মাদুর বুনন পদ্ধতি। এক রোযার তুলনায় অনেকটা ভারী ও টেকসই হয়। মাসলন্দ সবথেকে উন্নত মানের মাদুর বুনন পূদ্ধতি।

মাদুর কাঠি দিয়ে মাদুর ছাড়াও নানা ধরনের নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি করা হয়। যেমন পর্দা আসন টিফিন নেওয়ার ব্যাগ ছোট ব্যাগ

বিবরণীসম্পাদনা

  • আকার - বড় (৪৫” - ৫০”), মাঝারি (১৮” - ১২”), ছোট (৫” - ৬”)
  • ওজন - বড় (৫ কি.গ্রা.), মাঝারি (২ কি.গ্রা.), ছোট (১ কি.গ্রা.)
  • রং - এক রঙের এবং বিভিন্ন রং, দুই ধরনেরই হয়ে থাকে।

মাদুরকাঠি চাষসম্পাদনা

বুনন পদ্ধতিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Madurkathi"Biswa Bangla (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১১ 
  2. Jana, Kalyan; Puste, Am (২০১৪-০৪-০১)। "Madur Kathi – An Important Economic Non-food Crop of West Bengal"18: 2014145–151। 
  3. "MADUR KATHI : MAT WEAVING, DATES BACK TO THE INDUS VALLEY"www.wbkvib.org.in। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১১ 
  4. "India: Madurkathi of West Bengal Gets a Geographical Indication (GI) Tag | Lexology"www.lexology.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১১ 
  5. Singh, Shiv Sahay (২০১৮-০৫-৩০)। "Bengal's Chau mask acquires GI fame"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-১১