মাদারগঞ্জ উপজেলা

জামালপুর জেলার একটি উপজেলা

মাদারগঞ্জ বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি ৭টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন জামালপুর জেলার ৭ টি উপজেলার একটি এবং এটি জেলার পশ্চিমভাগে অবস্থিত। মাদারগঞ্জ উপজেলার উত্তরে ইসলামপুর উপজেলামেলান্দহ উপজেলা, দক্ষিণে সরিষাবাড়ি উপজেলা ও বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা,পূর্বে মেলান্দহ উপজেলাজামালপুর সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা অবস্থিত।

মাদারগঞ্জ
উপজেলা
মাদারগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মাদারগঞ্জ
মাদারগঞ্জ
বাংলাদেশে মাদারগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৩′৪৭″ উত্তর ৮৯°৪৫′৭″ পূর্ব / ২৪.৮৯৬৩৯° উত্তর ৮৯.৭৫১৯৪° পূর্ব / 24.89639; 89.75194স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৩′৪৭″ উত্তর ৮৯°৪৫′৭″ পূর্ব / ২৪.৮৯৬৩৯° উত্তর ৮৯.৭৫১৯৪° পূর্ব / 24.89639; 89.75194 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাজামালপুর জেলা
আয়তন
 • মোট২২৫.৩৯ কিমি (৮৭.০২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৬৩,৬০৮
 • জনঘনত্ব১২০০/কিমি (৩০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৩.০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২০৪১ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৩৯ ৫৮
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৬ সালে মাদারগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে মাদারগঞ্জকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারগঞ্জ উপজেলা জামালপুর-৩ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত । এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৪০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

মাদারগঞ্জ উপজেলার আয়তন ২২৫.৩৯ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী ২,৬৩,৬০৮ জন। পুরষ ও নারীর অনুপাত ১০০ঃ৯৮, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১৭০ জন, শিক্ষার হার ৩৩.০%।[২]

পটভূমিসম্পাদনা

মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। এ অঞ্চলে কোন প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনও নেই। তবে জানা যায় তিনশত বছর আগে এ অঞ্চলে বাউসমারি, কাতলামারি, চিড়াভিজাবিল, খড়কাবিল ও চতলবিলসহ বিভিন্ন অঞ্চল মাটির নিচে দেবে যায়। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর আবার নতুন করে জেগে ওঠে মাদারগঞ্জ।

১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে সারা বাংলা যখন ইংরেজ অত্যাচারে শশ্বানে পরিণিত,ব্যাপক বিশৃঙ্খলা অরাজগতায় ভরে গেছে,বাংলা মসনদে বসে পুতুল নবাব সমস্ত ক্ষমতা ইংরেজ সাহেবদের হাতে ঠিক সেই সময় শুরু হয় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। আর এমন একটা সময়ে বাংলার মানুষকে ইংরেজদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ফকির সন্নাসীরা আধ্যাত্মিক সাধনা ছেড়ে এদেশে চলে আসে। তাদের প্রধান আখাড়াছিল নেপালের গোরখপুর জেলার মাখনপুরে। তারা এদেশে এসে বগুড়ার মহাস্থনগড় এবং ময়মনসিংহ জেলার দাওকোবা নদীর দুর্গম চরে আখড়া স্থাপন করে। দাওকোবা ছিল ব্রক্ষপুত্রের একটি শাখা নদী, বর্তমানে এটি যমুনা নদী হিসেবে পরিচিত। তখন আজকের প্রবাহমান যমুনা নদীর কোন অস্তিত্ব ছিল না। ১৭৭৮ সালে ইংরেজ জরিপকারী মি. রেনেল যে মানচিত্র তৈরী করে তাতে যমুনার কোন নাম ছিল না, সে মানচিত্রে ব্রক্ষপুত্র  ও দাওকোবা নদীর নাম পাওয়া যায়। ফকির সন্ন্যাসীগণ এই দর্গম চরে তাদের গোপন কার্যক্রম শুরু করেন। সেই সময় তাদের দলে এসে যোগদেন মাদার শাহ্ নামে একজন ধর্ম প্রচারক। তিনি সিরিয়া থেকে ধর্ম প্রচার করার জন্য এদেশে আগমন করেন। তাঁর পুরু নাম ছিল সৈয়দ বদিউদ্দিন কুতুব-উর মাদার শাহ। মাদার শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা মজনু শাহ্ এর সাথে সরাসরি ফকির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৭৬৩ সালের দিকে শাহ্ মাদার দুর্গম এই চরে আগমন করার পর ফকিরগণ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে এবং তারা মাদারিয়া সম্প্রদায় নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৭২ সালে বর্ষায় ফকির-সন্ন্যাসীরা বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলার বিবিন্ন গ্রামে ব্যাপক লুটতরাজ ও দাঙ্গা সৃষ্টি করে। সন্ন্যাসী বিদ্রোহ কিছুটা দমন হলে ১৮১৫ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট মি. ইয়ার মাদারগঞ্জ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা ও সরকারী ফরমান জারী করার জন্য ১৩ জন চৌকিদার নিয়োগ করেন। ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৮৮২ সালে মাদারগঞ্জে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ফাঁড়ি স্থাপনের ২৪ বছর পর ১৯০৬ সালের ১৫ জুন পূর্ববঙ্গ আসাম গেজেটে মাদারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্নাঙ্গ থানায় রুপান্তর করা হয়। মাদারগঞ্জ সেই থেকে একটি থানার নাম।

মাদারগঞ্জ নামটি দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত। ‘গঞ্জ” শব্দের অর্থ সকলের জানা, এর অর্থ হাট বা বাজার। তবে ‘মাদার’ শব্দটি নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে। কিংবদন্তি আছে যমুনার তীরবর্তী এ অঞ্চলে একসময় ‘মাদার’ পিরের ভক্তরা গানের আসর বসাতো। সেই আসরকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ গ্রাম্য কিছু জিনিসপত্র নিয়েও বসত বিক্রি-বাট্টা করার জন্য। এভাবে ক্রমে একসময় বড় হাটে পরিনত হয় এলাকাটি। যেহেতু মাদার পিরের গানের আসরকে কেন্দ্র করে হাট বা গঞ্জের সৃষ্টি, তাই এলাকাটির নাম একসময় হয়ে যায় মাদারগঞ্জ।

আবার কেউ কেউ বলে থাকেন ‘গঞ্জ’ নামের অর্থ হাট আর আরবি ভাষায় ‘মাদার’ শব্দের অর্থ গ্রাম। এর পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় গ্রামের হাট। আর সরকারি দলিলপত্রে দেখা যায় যমুনা নদীর উপকূলে ‘জামথল মাদারগঞ্জ’ ও ‘নওখিল মাদারগঞ্জ’ নামে দুটি মৌজা আছে। এখানে সারাক্ষণ লোকের আনাগোনা থাকত। কেউ কেউ অনুমান করেন এ থেকেই হয়তো মাদারগঞ্জ নামের উৎপত্তি।

কালের পরিক্রমায় যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে জামথল আর নওখিল মৌজাদুটি রক্ষা পায়নি, যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে জামথলেরচর নামে একটি এলাকা এখনও আছে, যেটি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে জামথলের অধিকাংশ এলাকা নদীর পানিতে ডুবে থাকে।

মাদারগঞ্জের প্রশাসনিক থানা এই যমুনা নদীর কারণে পরিবর্তীত হয়েছে। যেখানে একসময় থানার অবস্থান ছিল তা দীর্ঘদিন যমুনার গর্ভে বিলীন থাকার পর কিছু কাল আগে সেটি জেগে উঠলেও তা এখন এক বিশাল চরের অন্তর্গত। যমুনার ভাঙ্গনের তীব্রতা টের পেয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ থানার সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম সরিয়ে তৎকালীন থানা নির্বাহী কর্মকর্তার (বর্তমানে ইউএনও) কার্যালয়ের পাশে ভূমি নিবন্ধন অফিসে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ভূমি অফিসের অতিরিক্ত একটি টিনশেড ঘরে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে মাদারগঞ্জ থানার কার্যক্রম তার নিজস্ব ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। মাদারগঞ্জ সদরের অদূরে জোনাইল এলাকায় থানা ভবনটি অবস্থিত।

যমুনার রাক্ষুসে স্বভাবের কারণে তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তার কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা আসল মাদারগঞ্জের অনেকাংশই। তাই প্রয়োজনের তাগিদেই মাদরগেঞ্জের একেবারে লাগোয়া এলাকা বালিজুড়ি বাজারে আস্তে আস্তে মাদারগঞ্জের ব্যবাসয়িক কর্মকান্ড স্থানান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে বালিজুড়ি বাজারকে কেন্দ্র করেই ওঠা এলাকাকেই মাদারগঞ্জ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কেননা স্থান হিসেবে মাদারগঞ্জকের এখন খুজে পাওয়া দুরূহ। ‍যদিও বালিজুড়িকে এখন আর মানুষ ক্ষুদ্রার্থে বাজার হিসেবে বিবেচনা করে না। এখন বালিজুড়ি বাজার মানে ‘শহর’।

ব্রিটিশ আমলে এবং ১৯০৬ সালের ১৫ জুন এ অঞ্চলটি ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার আওতাভুক্ত থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২৪ এপ্রিল পাকিস্তান বাহিনী মাদারগঞ্জে প্রবেশ করে।[৩] কিন্তু সেদিনই তারা মাদারগঞ্জে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে জামালপুরে ফিরে যায়। ভৌগোলিক কারণেই পাকবাহিনী মাদারগঞ্জে কোন স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারেনি। বলা যায যুদ্ধকালীন সময়ে মাদারগঞ্জ প্রায় মুক্ত এলাকা ছিল। ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চ মাদারগঞ্জ থানা উপজেলায় উন্নীত হয়। ২১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ তারিখে মাদারগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়।

ভৌগোলিক অবস্থানসম্পাদনা

জামালপুর জেলা সদর থেকে সড়কপথে ৩৪ কিলোমিটার পশ্চিমে যমুনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী এলাকা জুড়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। মাদারগঞ্জ উপজেলা ২৪°৪৭´ থেকে ২৪°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪০´ থেকে ৮৯°৫০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।[৪] এর আয়তন ২২৫.৩৯ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে ইসলামপুর উপজেলামেলান্দহ উপজেলা, দক্ষিণে সরিষাবাড়ি উপজেলা ও বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা,পূর্বে মেলান্দহ উপজেলাজামালপুর সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা অবস্থিত।

উপজেলার মাটির প্রকৃতি বেলে-দোআঁশ ও এটেল-দোআঁশ। ভূমি উর্বর ও পলিসিক্ত। প্রায় প্রতিবছর এ অঞ্চল বন্যা কবলিত হয় এবং প্রচুর রবিশস্যের ক্ষতি হয়। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে ঘন কুয়াশা হয়। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩০° থেকে ৩৭° সেলসিয়াস থাকে। গড় বৃষ্টিপাত ৮৫৩ সে.মি.। মোট কৃষিজমির পরিমান ৬০০৬২ একর, আবাদি জমির পরিমান ৪২৮৭৬ একর।[৫]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

মাদারগঞ্জ উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় ১০১ টি মৌজা, ১১৯ টি গ্রাম রয়েছে।[৫] ইউনিয়ন সমূহ হলো:

পৌরসভা

মাদারগঞ্জ পৌরসভা ২১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ তারিখে গঠিত হয়। পৌরসভার আয়তন ‌১০.৭৮৮ বর্গ কিলোমিটার, ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি। ১৯৯৯ সালে মাদারগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে এটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১১ সালের ৩১ মে ৮১১ নম্বর পরিপত্র অনুযায়ী জামালপুর জেলাধীন মাদারগঞ্জ পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়।[৬]

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জামালপুর-৩ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৪০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

নির্বাচিত সাংসদগণ:

নির্বাচন সদস্য দল
১৯৭৩ ডা. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[৭]
১৯৭৯ আব্দুস সালাম তালুকদার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল [৮]
১৯৮৬ সফিকুল ইসলাম খোকা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ[৯]
১৯৮৮ সফিকুল ইসলাম খোকা জাতীয় পার্টি (এরশাদ)[১০]
১৯৯১ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১১]
ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ মোঃ আবুল হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল[১২]
জুন ১৯৯৬ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৩]
২০০১ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৪]
২০০৮ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৫]
২০১৪ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৬]
২০১৮ মির্জা আজম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৭]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২,৬৩,৬০৮ জন।এর মধ্যে পুরুষ ১,৩০,৩৩৯ জন ও নারী ১,৩৩,২৬৯ জন। পুরষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ঃ১০০, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১৭০ জন, শিক্ষার হার ৩৩.০%। মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রধানত মুসলমানহিন্দু এই দুই সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। অন্যান্য ধর্মের লোকসংখ্যা একেবারেই কম। এর মধ্যে মুসলমান জনগোষ্ঠীই সংখ্যাগরিষ্ঠ। জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ২,৫৯,০৯০, হিন্দু ৪,৪৮১, বৌদ্ধ ৩, খ্রিস্টান ৮ এবং অন্যান্য ২৬ জন।[৫]

মাদারগঞ্জ উপজেলায় বসবাসকারীদের আদি পুরুষদের বেশির ভাগই বহিরাগত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পেশার সুবাদে এসে মাদারগঞ্জের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর উর্বরভূমির কারণে তারা এখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলে। তবে প্রতি উপজেলাতেই বংশগত উপাধি নিয়ে আদিবাসিন্দার দাবিদার আছে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় যাদের বংশগত উপাধি ‘মন্ডল’ তারা নিজেদেরকে মাদারগঞ্জের আদিবাসী বলে দাবি করে। তবে তারাও কবে কোন সময়কালে মাদারগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।

এ উপজেলায় শেখ, খন্দকার, মির্জা, মৃধা, আকন্দ, খান প্রভৃতি বংশ-উপাধিধারী লোক বাস করে। এসব বংশের পূর্বপুরুষেরা বেশির ভাগই বাইরের দেশ থেকে কেউ ব্যবসাসূত্রে, কেউ চাকরিসূত্রে আবার কেউবা বৈবাহিকসূত্রে এ অঞ্চলে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। শেখরা এককালে জাজিরাতুল আরব আর উত্তর আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার অধিবাসী ছিলেন। খন্দকারদের আদিপুরুষ ইরাক থেকে বাংলাদেশে আসে। তবে তারা প্রথমে বসতি স্থাপন করে বর্তমান পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার শানিলা গ্রামে। সেই খন্দকারদের এক ছেলে খন্দকার জবান আলী ধর্ম প্রচারের জন্য মাদারগঞ্জে আসেন। তখন এই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাঁকে এখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অনুরোধ করেন। তাঁদের অনুরোধে তিনি বাংলা ১৩০০ সালে মাদারগঞ্জের বলদভরা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মির্জাদের আদিপুরুষ যারা মাদারগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তাঁরা ইরান থেকে এসেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁদের মধ্যে বয়োজৈষ্ঠদের মতে তাঁদের কেউ কেউ মঙ্গোলিয়া থেকে এসেছিলেন। তাদের ভাষ্যমতে সম্রাট বাবর যখন ভারত জয় করেন তখনই তাঁরা এদেশে এসেছিলেন। এমনকি মির্জা মোহাম্মদ আলিবর্দী খান তাদের কৃতীপুরুষ বলে দাবি করেন। তবে মাদারগঞ্জে তাঁরা কখন বসবাস শুরু করেন তা সুনির্দিষ্টভাবে অনুমান করা যায় না। একইভাবে মৃধা, আকন্দ, খানরা ঠিক কোথা থেকে মাদারগঞ্জে এসে বসতি স্থাপন করে তারা যথাযথ তথ্য পাওয়া যায় না।[১৮]

শিক্ষাসম্পাদনা

মাদারগঞ্জ উপজেলার উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো: বালিজুড়ি এফ.এম. উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১০), বালিজুড়ী রওশন আরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিষবাথান আর.এম উচ্চ বিদ্যালয়,(১৯৪৬), শ্যামগন্জ উচ্চ বিদ্যালয়(১৯৪৭), জাঙ্গালিয়া ডি এম উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারগঞ্জ এ.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয়(১৯৯৮), আদারভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি। বালিজুড়ি এফ.এম. উচ্চ বিদ্যালয়টি মাদারগঞ্জের সাবেক এম.এন.এ রফাতউদ্দিন তালুকদারের পিতা ফাজেল মাহমুদ প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যান্য উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে আছে গুনারিতলা উচ্চ বিদ্যালয়, ৫ নং ইউনিয়ন জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়, জোরখালী উচ্চ বিদ্যালয়, তাহমিনা হাছান আলী আমিনুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জা রওশন আলী উচ্চ বিদ্যালয়, পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়, জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়, জোনাইল নয়াপাড়া ফাতেমা খানমামুদ উচ্চ বিদ্যালয়, তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ঝাড়কাটা উচ্চ বিদ্যালয়, ঝাড়কাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কয়ড়া পাটাদহ উচ্চ বিদ্যালয়, ঘুঘুমারী উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি।

মাদারগঞ্জ উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মাদারগঞ্জ এ.এইচ.জেড সরকারি কলেজ (১৯৬৮), ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম কলেজ, খাজা শাহসুফী ইউনুস আলী কলেজ, নুরুন্নাহার মির্জা কাশেম মহিলা কলেজ, মির্জা আজম কলেজ, হাজী কাদের সাং মাহবুব টেক: কলেজ, সেকান্দর আলী চেৌধুরী কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ, মোজাম্মেল মমতাজ মহিলা কলেজ কারিগরী কলেজ, মাহমুদা বেলাল বিএম কারিগরী কলেজ ইত্যাদি।

মাদ্রাসার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বালিজুড়ী এস.এম ফাজিল সিনিয়র (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, মাদারগঞ্জ আব্দুল আলী মির্জা কাসেম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা, জোড়খালী দাখিল মাদরাসা, মিলন বাজার ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা, জোনাইল নয়াপাড়া কে.কে. মাহমুদ দাখিল মাদরাসা, জোনাইল রাইসিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসা ইত্যাদি।

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৬টি, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৪টি, কিন্ডার গার্টেন ৩৩টি, এনজিও স্কুল ২২৬টি; সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১টি, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৪৮টি, স্কুল এন্ড কলেজ ১টি; সরকারি কলেজ ১টি, বেসরকারি কলেজ ৭টি; মাদ্রাসা ২৭টি, কওমি মাদ্রাসা ২টি, এবতেদায়ি মাদ্রাসা ৭টি; এগ্রিকালচারাল ও ভেটেনারি কলেজ ১টি।[২]

স্বাস্থ্যসম্পাদনা

উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৭টি উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে মাদারগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারি ৫টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে।

অর্থনীতিসম্পাদনা

মাদারগঞ্জ মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সব ধরনের ফসলই এখানে উৎপন্ন হয়। এখানে  ধান, আলু, পাট, তামাক, বেগুন, মরিচ, সরিষা, ভুট্টা, গম, মিষ্টি আলু, মসুর, ছোলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, রসুন, সূর্যমুখী, মাষকলাই, যব, ঢেড়শ, হলুদ, আদা, পান এবং বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপন্ন হয়।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি হলো- তিল, তিসি, চীনাবাদাম, কাউন।[১৯]

প্রধান ফল-ফলাদি আম, নারিকেল, কাঁঠাল, কলা, ফুটি, তরমুজ।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য হলো-  ধান, পাট, সরিষা, ছোলা, মাষকলাই, আদা, শাকসবজি, মিষ্টি আলু।[১৯]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস: কৃষি ৭১.৬৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.১৩%, শিল্প ০.৪%, ব্যবসা ১১.৪%, পরিবহন ও যোগাযোগ ১.৪৮%, চাকরি ৩.৯৮%, নির্মাণ ১.০২%, ধর্মীয় সেবা ০.১৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৯% এবং অন্যান্য ৭.৩৭%।[১৯]

শিল্প ও কলকারখানা চালকল, তেলকল, চিড়াকল, চানাচুর ফ্যাক্টরি, বেকারি, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, ছাপাখানা।[১৯]

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, বাঁশশিল্প।[১৯]

যোগাযোগসম্পাদনা

মাদারগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়ক পথেই হয়ে থাকে। বর্ষাকালে সীমিতভাবে নৌপথে চলাচল করে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় মোট সড়ক পথের দৈর্ঘ্য ৪৯১.৩২ কিলোমিটার; এর মধ্যে পাকা রাস্তা ১৫১.৬৮ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা ৩৩৯.৬৪ কিলোমিটার।[২০]

মাদারগঞ্জ উপজেলায় কোন রেলপথ না থাকায় সড়ক পথে জামালপুর সদর বা মেলান্দহ রেলস্টেশনে এসে সেখান থেকে রেলপথে ঢাকা যাতায়াত করা যায়। তাছাড়া সড়ক পথে বাস যোগাযোগ ব্যবস্থাও আছে। সড়ক পথে বিআরটিসি, রাজিব, ক্রাউন ডিলাক্স বাস যোগে সরাসরি ঢাকা যাতায়াত করা যায়। উপজেলায় অভ্যন্তরে সিএনজি, রিক্সা , অটোরিক্সা, নৌকা এবং চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ী চলাচলের মাধ্যম।

নদ-নদী ও খাল-বিলসম্পাদনা

যমুনা নদীই মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রধান নদী। এছাড়া চতলা ও ঝাড়কাটা নামে দুটি নদী আছে। এ দুটি নদী যমুনার শাখা নদী। শাখা নদী দুটি আবার স্থানভেদে ভিন্ন নামে প্রবাহিত হয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলার ঝাড় কাটা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময়ে নদীটার নাম হয়ে যায় ঝাড়কাটা নদী

এ উপজেলায় প্রচুর খাল-বিল আছে। খরকা বিল, ভুরভুরে, পানাগাড়ি, কইয়ের বিল ইত্যাদি এখানকার নামকরা বিল। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপে অনেক বিলই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

উল্লেখযোগ্য স্থানসম্পাদনা

  • জোড়খালী বায়তুর রব জামে মসজিদ (১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ)
  • তালুকদার বাড়ি মসজিদ।
  • ঠাকুরবাড়ি মন্দির।
  • তারতাপাড়া নীলকুঠি।
  • খরকা বিল
  • হাওয়াই রোড
  • তমালতলা শিব মন্দির
  • মালিপাড়া ভিটা (১৮০০-১৯৭০ খ্রী.)

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিসম্পাদনা

  • আশেক মাহমুদ তালুকদার (১৮৭০ - ১৯৬০ ) সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
  • নজরুল ইসলাম বাবু (১৭ জুলাই ১৯৪৯ - ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯০) একজন গীতিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। "সব কটা জানালা খুলে দাও না", "একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার" গানের গীতিকার তিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পদ্মা মেঘনা যমুনা চলচ্চিত্রের গীত রচনার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
  • গিয়াস উদ্দিন আহমদ (১৮৮৯- ২৯ জুলাই ১৯৬৫) ১৯২১ সালে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্সী কলেজ ত্যাগ করে প্রথম কারাবরণ করেন। জেল-মুক্ত হয়ে জামালপুরে এসে শক্তিশালী কংগ্রেস সংগঠন গড়ে তুলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে এম.এল.এ নির্বাচিত হন এবং খাদ্যমন্ত্রী হন।[২১]
  • সৈয়দ করিমুজ্জামান তালুকদার নেতাজী সুভাষ বসুর অনুসারী একজন নেতৃস্থানীয় কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। কলকাতা জেলা কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৪০ সারে নেতাজী সুভাষ বসু সাংগঠনিক সফরে জামালপুরে এসে সৈয়দ করিমুজ্জামানের চন্দ্রার বাড়িতে উঠেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ এলাকা থেকে এম.এন.এ নির্বাচিত হন।[২১]
  • আহছান উল্লাহ
  • ডা. মুনির উদ্দিন আহমদ (জন্ম: ১৯০০ সালে সিধুলী ইউনিয়নের চর নান্দিনায়) ময়মনসিংহ মেডিকের কলেজ থেকে পাশ করে কলকাতায় চলে যান। কলকাতা থাকাকালীন কৃষক প্রজা পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে জামালপুরের দুর্ভিক্ষ-পীগিত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন। ১৯৬৬ সারে ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।[২১]
  • ডা. সৈয়দ জামান
  • সৈয়দ আখতারুজ্জামান
  • আলাউদ্দিন বিএসসি
  • আশরাফ তালুকদার

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে মাদারগঞ্জ উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৩ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১, জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো 
  3. মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস, ময়মনসিংহ। বাংলা একাডেমী। জুন ২০১১। পৃষ্ঠা ১০৯। আইএসবিএন 984-07-4996-X 
  4. "মাদারগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া 
  5. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১, জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি, ২০২০  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  6. "প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ মাদারগঞ্জ পৌরসভা"কালের কন্ঠ। ২৪ এপ্রিল, ২০১৯।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  7. "প্রথম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  8. "দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  9. "তৃতীয় জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  10. "চতুর্থ জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  11. "পঞ্চম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  12. "ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  13. "সপ্তম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  14. "অষ্টম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  15. "নবম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  16. "দশম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  17. "একাদশ জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  18. বাংলাদেশ লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা, জামালপুর। বাংলা একাডেমী। ২০১৩। পৃষ্ঠা ৩৩–৩৪। আইএসবিএন 984-07-5178-6 
  19. "মাদারগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি, ২০২০  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  20. "রোড ডাটাবেস"এলজিইডি। ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি, ২০২০  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  21. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা, জামালপুর। বাংলা একাডেমী। ২০১৩। পৃষ্ঠা ৭৪। আইএসবিএন 984-07-5178-6 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা