মনপুরা দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর এলাকার উত্তরদিকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপ।[১] এটি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় কিছুটা অংশ জুড়ে অবস্থিত।[২] সাম্প্রতিককালে এই দ্বীপে জলদস্যুদের দ্বারা আক্রমণ হয়েছে।[৩] এই দ্বীপের আয়তন ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপের উপকূলীয় অন্যান্য দ্বীপের মধ্যে ভোলা (যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ) এবং হাতিয়া দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি দ্বীপই ঘনবসতিপূর্ণ।

মনপুরা দ্বীপ
ভূগোল
অবস্থানবঙ্গোপসাগর
স্থানাঙ্ক২২°১৮′ উত্তর ৯০°৫৮′ পূর্ব / ২২.৩০০° উত্তর ৯০.৯৬৭° পূর্ব / 22.300; 90.967স্থানাঙ্ক: ২২°১৮′ উত্তর ৯০°৫৮′ পূর্ব / ২২.৩০০° উত্তর ৯০.৯৬৭° পূর্ব / 22.300; 90.967
আয়তন৩৭৩ বর্গকিলোমিটার (১৪৪ বর্গমাইল)
প্রশাসন

ইতিহাসসম্পাদনা

 
জেমস রেনেল-এর ১৭৭৮ সালের মানচিত্রে মনপুরা দ্বীপ (Moncoorah I. হিসেবে চিহ্নিত করা)

প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা হচ্ছে ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম দ্বীপ। মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরা নামকরন করা হয়।

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ'র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় লম্বা লোমওয়ালা কুকুর।

বর্তমানে দ্বীপটি ভূমি ক্ষয়ের উচ্চ হুমকি রয়েছে। ১৯৭৩ থেকে ২১০ পর্যন্ত করা গবেষণাগুলিতে ভূমি ক্ষয়ের প্রমাণ দেখা যায়।[৪]

অবস্থানসম্পাদনা

বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। মেঘনার কোল ঘেসে জেগে ওঠা তিন দিকে মেঘনা আর একদিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ সাজে সজ্জিত লীলাভূমি মনপুরা। ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মেঘনার মোহনায় চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা। মনপুরা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিঃ।

চরসম্পাদনা

ছোট বড় ১০টি চর ও বনবিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজি বিশাল মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। শীত মৌসুমে শত শত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। এই চরগুলো হলো-

  1. চরতাজাম্মুল,
  2. চর পাতালিয়া,
  3. চর পিয়াল,
  4. চরনিজাম,
  5. চর সামসুউদ্দিন,
  6. লালচর,
  7. ডাল চর,
  8. কলাতলীর চর ইত্যাদি।

প্রকৃতিসম্পাদনা

বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা মনপুরা। সুবিশাল নদী , চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগানে সমৃদ্ধ।

সাংস্কৃতিক তাৎপর্যসম্পাদনা

মনপুরা চলচ্চিত্রে অভিনীত বৈশিষ্ট্যের মতো এখানকার সাংস্কৃতিক জনজীবনে তা বিরাজমান।

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Solar hope for Manpura"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  2. "1.4cr coastal people still out of shelter coverage"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৭-১১-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  3. "Pirates loot 5 trawlers on Meghna estuary"archive.thedailystar.net। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৮ 
  4. আলী, মোঃ; হক, ফজলুল; রহমান, শাহ; ইকবাল, কাজী; নাজমা; আহমেদ, আশফাক (২০১৩-০১-২৫)। "Loss and gain of land of Manpura island of Bhola district: An integrated approach using remote sensing and GIS" [ভোলা জেলার মনপুরা দ্বীপের লোকসান ও লাভ: দূর অনুধাবন এবং জিআইএস ব্যবহার করে একটি সংহত পদ্ধতিতে অভিগমন]। ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নাল অফ বায়োলজিক্যাল সাইন্সেস (ইংরেজি ভাষায়)। ২২doi:10.3329/dujbs.v22i1.46271