মধুর জাফরি, সিবিই (বিবাহ-পূর্ব বাহাদুর; জন্ম ১৩ আগস্ট ১৯৩৩) একজন জন্মসূত্রে ভারতীয় অভিনেত্রী, খাদ্য ও ভ্রমণ বিষয়ক লেখিকা এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব।[১][২] ওনার প্রথম পাকপ্রণালীর বই অ্যান ইনভিটেশন টু ইন্ডিয়ান কুকিং (১৯৭৩)-এর মাধ্যমে ভারতীয় রন্ধনশৈলী আমেরিকাতে জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব ওনাকে দেওয়া হয়। বইটিকে ২০০৬ সালে জেমস বেয়ার্ড ফাউন্ডেশনের কুকবুক হল অফ ফেম-এর অন্তর্গত করা হয়।[৩][৪][৫] মধুর জাফরি এক ডজনেরও বেশি পাকপ্রণালীর বই লিখেছেন ও এই বিষয়ক অনেক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্যে শুরু হওয়া টেলিভিশন অনুষ্ঠান মধুর জাফরিস ইন্ডিয়ান কুকরি[৬] নিউ ইয়র্ক সিটির দাওয়াত-এর, যা কিনা খাদ্য সমালোচকদের মতে ওই শহরের অন্যতম সেরা ভারতীয় খাবারের রেস্তোরা, উনি খাদ্য পরামর্শদাতা।[৭][৮][৯]

ভ্যাংকোবারে নিজের বইয়ে স্বাক্ষর দিচ্ছেন

চিত্র নির্মাতা জেমস আইভরিইসমাইল মার্চেন্টকে একসাথে কাজ করানোর পিছনে ওনার অবদান অনস্বীকার্য।[১০][১১] উনি এনাদের বেশ কিছু সিনেমাতে অভিনয় করেন। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ১৯৬৫ সালের শেক্সপিয়রওয়ালা, যার জন্য মধুর পঞ্চদশতম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর রৌপভল্লুক জেতেন।[১২]

প্রথম জীবনসম্পাদনা

১৯৩৩ সালের ১৩ই আগস্ট দিল্লীর সিভিল লাইন্স-এ হিন্দু কায়স্থ যৌথ পরিবারে মধুর জাফরির জন্ম।[১৩][১৪] লালা রাজ বংশ বাহাদুর ও কাশ্মিরণ রাণীর ছয় সন্তানের মধ্যে মধুর পঞ্চম।[১৫][১৬]

মার্চেন্ট আইভরি সিনেমাসম্পাদনা

জেমস আইভরি ও ইসমাইল মার্চেন্টকে একসাথে আনার পিছনে বড় হাত ছিল মধুর জাফরির।[১১]

আইভরি ও মার্চেন্ট ১৯৬৩ সালে দ্য হাউসহোল্ডার বানাতে ভারতে আসলে শশী কাপুর ও তার শ্বশুরবাড়ীর লোকেদের ওদের সাথে আলাপ হয়। শশীর শ্বশুর-শ্বাশুরি জোফ্রি কেন্ডাল ও লরা লিডেল সেই সময়ে শেক্সপিয়রানা নামক ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার কোম্পানি নিয়ে সারা ভারত ঘুরে শেক্সপিয়রের নাটক অভিনয় করছিলেন। মধুর ও সৈয়দ জাফরির মূল ধারণার সাথে শেক্সপিয়রানার সত্য ঘটনা মিশিয়ে আইভরি ও মার্চেন্ট তাদের পরবর্তী ছবি শেক্সপিয়রওয়ালার পরিকল্পনা করেন।[১৭] ছবিতে মধুর একজন চিত্রতারকার চরিত্রে অভিনয় করেন।[১৮]

পরবর্তীকালে উনি আইভরি ও মার্চেন্টের সাথে আরো ছবিতে কাজ করেন, যেমন দ্যা গুরু (১৯৬৯), অটোবিয়োগ্রাফি অফ আ প্রিন্সেস (১৯৭৬), হিট অ্যান্ড ডাস্ট (১৯৮২) এবং দ্যা পারফেক্ট মার্ডার (১৯৮৮)। ১৯৯৯ সালের কটন মেরি উনি মার্চেন্টের সাথে সহ পরিচালনা করেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

মধুর প্রথম বিবাহ করেন সাইদ জাফরিকে। ওনাদের তিনটি কন্যা সন্তান আছে। জিয়া, মীরা ও সাকিনা।[১৯]

১৯৬৬ সৈয়দের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পরে ১৯৬৯ সালে মধুর স্যানফোর্ড অ্যালেনকে বিবাহ করেন। স্যানফোর্ড সেই সময়ে নিউ ইয়র্ক ফিলহার্মোনিক অর্কেস্ট্রায় ভায়োলিন বাদক ছিলেন।[২০]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Michele Kayal (২০ অক্টোবর ২০১৫)। "From actress to cookbook author: The lives of Madhur Jaffrey"। Associated Press। ১৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৫ 
  2. Nicola Foster (২৫ অক্টোবর ২০১৩)। "Encyclopedia of Television - Jaffrey, Madhur"। Museum of Broadcast Communications। ২৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  3. "Madhur Jaffrey"Ebury Publishing। My Kitchen Table। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  4. Daniel Bettridge (২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "Six to watch: TV chefs"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  5. Florence Fabricant (১০ মে ২০০৬)। "New York Dominates at Beard Awards"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  6. "Live chat: Madhur Jaffrey"। The Guardian। ৭ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  7. Bryan Miller (১২ ডিসেম্বর ১৯৮৬)। "Restaurants"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  8. Bryan Miller (৫ জুলাই ১৯৯১)। "Restaurants"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  9. Bryan Miller (১৪ জুন ১৯৯৫)। "Unsung Chefs In a City of Stars"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  10. Laurence Phelan (১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯)। "How We Met: Ismail Merchant & Madhur Jaffrey"। The Independent। ১৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  11. Mel Gussow (২ জানুয়ারি ২০০৩)। "Telling Secrets That Worked For a Gambling Life in Films"। New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  12. "Prizes & Honours 1965 - International Jury"। Internationale Filmfestspiele Berlin। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  13. Chloe Diski (৯ সেপ্টেম্বর ২০০১)। "Desert island dish"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  14. Jaffrey, Madhur (১০ অক্টোবর ২০০৬)। Climbing the Mango Trees: A Memoir of a Childhood in India। Knopf। পৃষ্ঠা 3আইএসবিএন 978-1400042951 
  15. Jaffrey, Madhur (১০ অক্টোবর ২০০৬)। Climbing the Mango Trees: A Memoir of a Childhood in India। Knopf। পৃষ্ঠা xi। আইএসবিএন 978-1400042951 
  16. "Family Tree of Rai Bahadur Jeewan Lal ji - Family Chart 10"। ১৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  17. Ismail Merchant; Laurence Raw (৯ এপ্রিল ২০১২)। "James Ivory and Ismail Merchant: An Interview by Jag Mohan, Basu Chatterji and Arun Kaul, 1968"। Merchant-Ivory: Interviews। University Press of Mississippi। পৃষ্ঠা 7। আইএসবিএন 9781617032370 
  18. Judith Weinraub (২ ডিসেম্বর ২০১০)। "Madhur Jaffrey Interview - Part 1: An oral history project conducted by Judith Weinraub"। Fales Library, NYU। ৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  19. Sanjay Suri (১৬ নভে ১৯৯৮)। "The Seduction Of Saeed"। Outlook India। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  20. Contemporary Authors Online, Gale, 2008. Reproduced in Biography Resource Center. Farmington Hills, Mich.: Gale, 2008.