ভূপেন্দ্রনাথ বসু

ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী

ভূপেন্দ্রনাথ বসু (জন্ম- ১৩ জানুয়ারি, ১৮৫৯- মৃত্যু- ১৩ সেপ্টেম্বর,১৯২৪) একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং ১৯১৪ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।[১]

ভূপেন্দ্রনাথ বসু
জন্ম১৩ জানুয়ারি,১৮৫৯
রাধানগর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৪(1924-09-13) (বয়স ৬৫)
অফিসকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, বি.এন.বসু এণ্ড কোম্পানী(ল ফার্ম)(প্রতিষ্ঠাতা)
রাজনৈতিক দল১৯১৪ সালে মাদ্রাজ অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

ভূপেন্দ্রনাথ বসু ১৮৫৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের খানাকুলে রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৮৭৫ সালে খানাকুলের কৃষ্ণনগর স্কুলে ভর্তি হন। তারপর তিনি ১৮৮০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং অ্যাটর্নি পরীক্ষার নিমিত্ত শিক্ষানবীশ হন। শিক্ষানবীশ থাকা কালেই ১৮৮১ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৮৮৩ সালে অ্যাটর্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইন ডিগ্রির অসামান্য সাফাল্য অর্জন করেন।[২] তিনি বি.এন.বসু অ্যান্ড কোম্পানি নামে ল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন, যার অফিস কলকাতার ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটে এখনও "Temple Chamber" নামে পরিচিত।

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯০৪ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ভূপেন্দ্রনাথ বসু বেঙ্গল আইনসভার সদস্য ছিলেন। এই সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯০৫ সালে তিনি ময়মনসিংহে বাঙলা প্রাদেশিক সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন এবং সমগ্র ব্রিটিশ পণ্যদ্রব্য বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯০৭ সালে এবং তারপরে তাঁর জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে কলকাতায় ব্রিটিশরা গ্রেপ্তার করে এবং আটক করেন।[৩] তিনি ১৯১০ সালে প্রেস আইন পাস করার জন্য বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ১৯১৪ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হন।[১]

ভূপেন্দ্রনাথ বসু ১৯১৭ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত ভারত-সচিবের বেসরকারী পরামর্শদাতারুপে এবং কিছুকাল সহকারী ভারত-সচিবের হয়ে কাজ করেন। [২] ১৯২৩ সালে তাঁকে বাংলা সরকারের শাসন পরিষদের সদস্য করা হয়। এরপরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য হন। তিনি কলকাতা মোহনবাগান এসি-র প্রথম সভাপতি ছিলেন।[৪] তিনি ১৯২৪ সালে মারা যান।[২]

পরিবারসম্পাদনা

তাঁর পৌত্র কমল বসু পশ্চিমবঙ্গ এর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য হয়ে ছিলেন এবং পরবর্তীকালে কলকাতার মেয়র হন। তাঁর মেয়ে আইনজীবি ও জমিদার অপূর্ব কৃষ্ণ মিত্রের সাথে বিবাহ করেছিলেন। তাঁর পৌত্র ছিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জি.কে মিত্র, তাঁর নাতনি ডাঃ মানোসি মিত্র যিনি এডিবিতে কাজ করছেন। তাঁর নাতনি ডাঃ শ্রীজানা মিত্র দাস আমেরিকা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল এবং পিএইচডি করেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "ভূপেন্দ্রনাথ বসু"Indian National Congress। ২০২০-০৫-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-০৫ 
  2. প্রথম খন্ড, চরিতাভিধান|শেষাংশ=প্রথম খন্ড|প্রথমাংশ=সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (১৯৬০)। সংসদ বাঙালী চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৩৭৯। আইএসবিএন 81-85626-65-0 
  3. Raja Subodh Chandra Mallik and his times by Amalendu De, National Council of Education, Bengal - Page 96, 1996
  4. "Mohun Bagan History"। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২০