*** ভাববাদ কি? বার্কলীর আত্মগত ভাববাদ ব্যাখ্যা করো।

ভাববাদ: ভাববাদ বলতে এমন একটি মতবাদ কে বুঝায় যা জ্ঞান বিদ্যার দিক থেকে মতবাদ অনুসারে জ্ঞেয় বস্তুর জ্ঞান নিরপেক্ষ কোন অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্ব তথা জ্ঞান জ্ঞাতার ওপর নির্ভরশীল তাকে ভাববাদ বলে। ভাববাদ একটি বস্তু নিরপেক্ষ মতবাদ এবং এ মতবাদ বস্তুজগতের কোন অস্তিত্ব স্বীকার করে না। বাহ্যবস্তু মানুষের বা ঈশ্বরের জ্ঞানের বিষয় হিসেবে বিদ্যমান বা উচিত। সত্তা সম্পর্কীয় মতবাদ হিসেবে ভাববাদ কে আধ্যাত্মিক মতবাদ বা আধ্যাত্মবাদ বলা হয়। ভাববাদের সুনির্দিষ্ট একক কোন সংজ্ঞা নেই। তাই এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে হলে এর প্রচলিত গ্রুপগুলো ব্যাখ্যা করতে হবে।

ভাববাদের প্রচলিত গ্রুপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১। অধিবিদ্যা গত দিক থেকে ভাববাদ: অধিবিদ্যা গত দিক থেকে ভাববাদ হল এমন একটি সত্তা যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্য বলে মনে করে।

২। উদ্দেশ্যগত দিক থেকে ভাববাদ: এ দিক থেকে ভাববাদের মূলকথা হলো এ জগত নিছক অণু-পরমাণুর সমষ্টি নয় বরং উদ্দেশ্যের পথে একটি অগ্রসরমান।

৩। জ্ঞান তাত্ত্বিক দিক থেকে ভাগবত: এ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাববাদের মূল কথা হলো বাহ্যবস্তুর মন নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র কোন সত্তা নেই।

বার্কলীর আত্মগত ভাববাদ: জর্জ বিশাপ বার্কলি আত্মগত ভাববাদের একজন অন্যতম প্রবক্তা। তিনি মনে করেন জড়বাদের সঙ্গে নিরীশ্বরবাদ ও সংশয়বাদ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তিনি জড়বাদ কে খন্ডন করতে গিয়ে বলেন জড়ে কোন অস্তিত্ব নেই। জগতের সব বস্তু মনের ভবে বা ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। বার্কলির এ মতবাদই আত্মগত ভাববাদ নামে পরিচিত। তিনি জন লক এর বিজ্ঞানসম্মত বাস্তববাদের সমালোচনার মধ্য দিয়ে তার আত্মগত ভাববাদ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ভাববাদ প্রধানত জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদ। কেননা এ মতবাদ জ্ঞেয় বস্তু ও জ্ঞাতার উপর নির্ভরশীল। জন লক এর সূত্র ধরেই বার্কলি বলেন আমরা যদি প্রত্যক্ষভাবে একমাত্র ধারণাকেই জানতে পারি, তাহলে বস্তুর মনো নিরপেক্ষ অজ্ঞাত সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করা ঠিক নয়। কেননা যা অজ্ঞাত তার অস্তিত্ব স্বীকার করা একটি কল্পনাপ্রসূত ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।  বার্কলির মতে প্রত্যক্ষ যোগ্য নয় তার অস্তিত্ব নেই। দ্রব্যের প্রত্যক্ষণ সম্ভব নয়। সংবেদন ছাড়া কোন বস্তুর দর্শন অথবা বোধ জন্মে না। তিনি বলেন ধারণাকে বস্তুর প্রতিলিপি মনে করলে বস্তুকে ধারণা মনে করাই সঙ্গত। তিনি লকের অভিজ্ঞতাবাদের অসংগতি প্রদর্শন করে জ্ঞানের অতিরিক্ত বস্তুসত্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। আর তাই তার মতবাদকে আত্মগত ভাববাদ বলা হয়।

তার ভাববাদ ও বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছে।বাস্তববাদীদের মতে বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনের ওপর নির্ভর করে না বরং পূর্ব থেকেই অস্তিত্বশীল তাই আমরা বস্তুকে দেখতে পারি। কিন্তু বার্কলির মতে বস্তু ও তার সংবেদন এক অভিন্ন। আর সমালোচকগণ মনে করেন বস্তু ও তার সংবেদন অবিচ্ছিন্ন হলেও তারা অভিন্ন নয়। আবার তার মতে অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর। এদিকে তার বিরুদ্ধে সমালোচকগণ প্রশ্ন তোলেন যে অস্তিত্ব যদি প্রত্যক্ষ নির্ভর হয় তবে তিনি কীভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। বার্কলি বলেন বস্তু ও বস্তুর জ্ঞানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই কিন্তু সমালোচকগণ বলেন এর মধ্যে পার্থক্য আছে।

পরিশেষে বলা যায় যে, দর্শনের ইতিহাসে ভাববাদ একটি আলোচিত বিষয়। বার্কলি বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হয়েও তার এই মতবাদকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আত্মগত ভাববাদ নামে নতুন দার্শনিক মতবাদের জন্ম দিয়েছেন।

ভাববাদ: ভাববাদ বলতে এমন একটি মতবাদ কে বুঝায় যা জ্ঞান বিদ্যার দিক থেকে মতবাদ অনুসারে জ্ঞেয় বস্তুর জ্ঞান নিরপেক্ষ কোন অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্ব তথা জ্ঞান জ্ঞাতার ওপর নির্ভরশীল তাকে ভাববাদ বলে। ভাববাদ একটি বস্তু নিরপেক্ষ মতবাদ এবং এ মতবাদ বস্তুজগতের কোন অস্তিত্ব স্বীকার করে না। বাহ্যবস্তু মানুষের বা ঈশ্বরের জ্ঞানের বিষয় হিসেবে বিদ্যমান বা উচিত। সত্তা সম্পর্কীয় মতবাদ হিসেবে ভাববাদ কে আধ্যাত্মিক মতবাদ বা আধ্যাত্মবাদ বলা হয়। ভাববাদের সুনির্দিষ্ট একক কোন সংজ্ঞা নেই। তাই এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে হলে এর প্রচলিত গ্রুপগুলো ব্যাখ্যা করতে হবে।

ভাববাদের প্রচলিত গ্রুপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

১। অধিবিদ্যা গত দিক থেকে ভাববাদ: অধিবিদ্যা গত দিক থেকে ভাববাদ হল এমন একটি সত্তা যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্য বলে মনে করে।

২। উদ্দেশ্যগত দিক থেকে ভাববাদ: এ দিক থেকে ভাববাদের মূলকথা হলো এ জগত নিছক অণু-পরমাণুর সমষ্টি নয় বরং উদ্দেশ্যের পথে একটি অগ্রসরমান।

৩। জ্ঞান তাত্ত্বিক দিক থেকে ভাগবত: এ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাববাদের মূল কথা হলো বাহ্যবস্তুর মন নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র কোন সত্তা নেই।

বার্কলীর আত্মগত ভাববাদ: জর্জ বিশাপ বার্কলি আত্মগত ভাববাদের একজন অন্যতম প্রবক্তা। তিনি মনে করেন জড়বাদের সঙ্গে নিরীশ্বরবাদ ও সংশয়বাদ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তিনি জড়বাদ কে খন্ডন করতে গিয়ে বলেন জড়ে কোন অস্তিত্ব নেই। জগতের সব বস্তু মনের ভবে বা ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। বার্কলির এ মতবাদই আত্মগত ভাববাদ নামে পরিচিত। তিনি জন লক এর বিজ্ঞানসম্মত বাস্তববাদের সমালোচনার মধ্য দিয়ে তার আত্মগত ভাববাদ প্রতিষ্ঠা করেন। তার ভাববাদ প্রধানত জ্ঞানতাত্ত্বিক মতবাদ। কেননা এ মতবাদ জ্ঞেয় বস্তু ও জ্ঞাতার উপর নির্ভরশীল। জন লক এর সূত্র ধরেই বার্কলি বলেন আমরা যদি প্রত্যক্ষভাবে একমাত্র ধারণাকেই জানতে পারি, তাহলে বস্তুর মনো নিরপেক্ষ অজ্ঞাত সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করা ঠিক নয়। কেননা যা অজ্ঞাত তার অস্তিত্ব স্বীকার করা একটি কল্পনাপ্রসূত ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।  বার্কলির মতে প্রত্যক্ষ যোগ্য নয় তার অস্তিত্ব নেই। দ্রব্যের প্রত্যক্ষণ সম্ভব নয়। সংবেদন ছাড়া কোন বস্তুর দর্শন অথবা বোধ জন্মে না। তিনি বলেন ধারণাকে বস্তুর প্রতিলিপি মনে করলে বস্তুকে ধারণা মনে করাই সঙ্গত। তিনি লকের অভিজ্ঞতাবাদের অসংগতি প্রদর্শন করে জ্ঞানের অতিরিক্ত বস্তুসত্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। আর তাই তার মতবাদকে আত্মগত ভাববাদ বলা হয়।

তার ভাববাদ ও বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়েছে।বাস্তববাদীদের মতে বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষনের ওপর নির্ভর করে না বরং পূর্ব থেকেই অস্তিত্বশীল তাই আমরা বস্তুকে দেখতে পারি। কিন্তু বার্কলির মতে বস্তু ও তার সংবেদন এক অভিন্ন। আর সমালোচকগণ মনে করেন বস্তু ও তার সংবেদন অবিচ্ছিন্ন হলেও তারা অভিন্ন নয়। আবার তার মতে অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর। এদিকে তার বিরুদ্ধে সমালোচকগণ প্রশ্ন তোলেন যে অস্তিত্ব যদি প্রত্যক্ষ নির্ভর হয় তবে তিনি কীভাবে ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। বার্কলি বলেন বস্তু ও বস্তুর জ্ঞানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই কিন্তু সমালোচকগণ বলেন এর মধ্যে পার্থক্য আছে।

পরিশেষে বলা যায় যে দর্শনের ইতিহাসে ভাববাদ একটি আলোচিত বিষয়। বার্কলি বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হয়েও তার এই মতবাদকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আত্মগত ভাববাদ নামে নতুন দার্শনিক মতবাদের জন্ম দিয়েছেন।