ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ( ২১ সেপ্টেম্বর ১৮৯১ ―  ৩ অক্টোবর ১৯৫২) একজন বাঙালি গবেষক ও সম্পাদক যিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সক্রিয় ছিলেন। বাংলা সাহিত্য নিয়ে তার বিভিন্ন কাজ ও প্রকাশনা গুরুত্ববহ ও তুলনারহিত।[১][২]

ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম( ১৮৯১-০৯-২১)২১ সেপ্টেম্বর ১৮৯১
বালি হুগলি বৃটিশ ভারত বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু৩ অক্টোবর ১৯৫২(1952-10-03) (বয়স ৬১)
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাভারতীয়
সময়কাল১৯১২ - ১৯৫২
উল্লেখযোগ্য রচনাবলিসাহিত্য সাধক চরিতমালা
উল্লেখযোগ্য পুরস্কাররবীন্দ্র পুরস্কার
রামপ্রাণ গুপ্ত স্বর্ণ পদক

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ২১ শে সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বালি'তে এক দরিদ্র পরিবারে। পিতা উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সেকেন্ড ক্লাশ পর্যন্ত পড়ে অর্থাভাবে পড়াশোনা করতে পারেন নি। কাজের খোঁজে কলকাতায় চলে আসেন এবং নিজের চেষ্টায় বিদ্যানুশীলন করেন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতার বিভিন্ন অফিসে টাইপিস্ট ও পরে স্টেনোগ্রাফারের কাজ করেন।

কর্মজীবন ও সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

ছোটবেলা থেকেই ব্রজেন্দ্রনাথ সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। বিপুল পরিশ্রমে ও নিষ্ঠার সাথে আমৃত্যু সাহিত্যচর্চা করেছেন। নলিনীরঞ্জন পণ্ডিতের সাথে পরিচয়ের সূত্রে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে "জাহ্নবী"তে তাঁর প্রথম রচনা স্বপ্নভঙ্গ প্রকাশিত হয়। এরপর অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণের তত্ত্বাবধানে তিনি নবাবি আমলের ইতিহাস অবলম্বনে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দেই বেগমস্ অফ বেঙ্গল তথা বাংলার বেগম গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি "প্রবাসী" ও "মডার্ন রিভিউ" পত্রিকার সহসম্পাদক হন এবং ঐতিহাসিক গবেষণামূলক প্রবন্ধাদি নিয়মিত লিখতে থাকেন। এই সময়ে তিনি শোভাবাজার রাজবাড়ি হতে প্রাপ্ত সমাচার দর্পণ, অন্যান্য সাময়িক পত্রিকা ও বিভিন্ন সংবাদপত্র ঘেঁটে ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজের বহু উপকরণ সংগ্রহ করেন। যদুনাথ সরকারের কাছে তিনি বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ইতিহাস রচনার পদ্ধতি শিক্ষা করেন। সাহিত্য সাধক চরিতমালা, দু খণ্ডে সংবাদপত্রে সেকালের কথা, বঙ্গীয় নাট্যশালার ইতিহাস, দু খণ্ডে বাংলা সাময়িক-পত্র, এবং ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের পরিষৎ পরিচয় ইত্যাদি হলো তাঁর গবেষণা গ্রন্থ। তাঁর উপকরণ সংগ্রহে ও তথ্য সমাবেশে বঙ্গ-সংস্কৃতি, সমাজ ও সাহিত্যে নবজাগরণের ধারাবাহিকতার ইতিহাস রচনার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। চারটি ইংরাজী গ্রন্থ সহ তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তেত্রিশটি। এর মধ্যে পঁচিশটি গ্রন্থ সজনীকান্ত দাসের সাথে যুগ্মসম্পাদনায় প্রকাশিত। অন্যান্য গ্রন্থ গুলি হল-

  • দিল্লীশ্বরী (১৯২৩)
  • বেগম সমরু
  • কেল্লা ফতে
  • মোগলযুগে স্ত্রীশিক্ষা
  • মোগল বিদুষী (১৯২৪)
  • অক্ষয়কুমার দত্ত
  • বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গ (১৯৩১)
  • বঙ্গ সাহিত্যে নারী
  • রাজা বাদশা
  • রণডঙ্কা

ব্রজেন্দ্রনাথ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্মকর্তা হিসাবে যখন ছিলেন, এর নবরূপায়ণ, গ্রন্থাবলি সম্পাদনা সহ সুষ্ঠু পরিচালনায় বিশেষ সচেষ্ট ছিলেন। তিনি ক্যালকাটা হিস্টরিক্যাল সোসাইটির সাম্মানিক সদস্য ছিলেন। এছাড়া শশিশেখর, রাজশেখর ও গিরীন্দ্রশেখর বসুর উদ্যোগে গঠিত 'উৎকেন্দ্র সমিতি'রও একজন উৎসাহী সদস্য ছিলেন।

সম্মাননাসম্পাদনা

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ব্রজেন্দ্রনাথকে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে রামপ্রাণ গুপ্ত স্বর্ণপদক প্রদান করে। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর সাহিত্যের ইতিহাস ( সংবাদপত্রে সেকালের কথা, বাংলা সাময়িক পত্র, সাহিত্য-সাধক চরিতমালা ইত্যাদি) গ্রন্থগুলির জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে।

জীবনাবসানসম্পাদনা

সাহিত্য সাধক ব্রজেন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্য সাধনায় আমৃত্যু লিপ্ত ছিলেন। রোগশয্যায় 'বাংলা সাময়িক-পত্র' সংশোধন সংযোজন শেষ করার দিন অর্থাৎ ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা অক্টোবর প্রয়াত হন। [১]

উত্তরাধিকারসম্পাদনা

সম্প্রতি ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌহিত্র বিশ্বনাথ রায় সাহিত্য সেবক ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষক এক গ্রন্থে তাঁর পিতামহের জীবনী, দর্শন ও সাহিত্যভাবনা নিয়ে এক আলেখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬ পৃষ্ঠা ৫০৮, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ১৫৫। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9