ব্রজকিশোর চক্রবর্তী

ব্রজকিশোর চক্রবর্তী (ইংরেজি: Brajakishore Chakraborty) (জন্ম: ১৯১৩ - মৃত্যু: ২৫ অক্টোবর ১৯৩৪) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগ্রামী ও শহীদ। তিনি গোপন বিপ্লবী দল বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ হত্যা ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত হন। মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে তিনি ফাঁসিতে শহীদ হন।[১]

ব্রজকিশোর চক্রবর্তী

জন্ম শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

ব্রজকিশোর মেদিনীপুরের বল্লভপুরের বাসিন্দা ছিলেন । তার পিতার নাম উপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ব্রজকিশোর ছাত্রাবস্থায় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন।[১]

বার্জ হত্যাকাণ্ডসম্পাদনা

১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শ্বেতাঙ্গ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ সাহেব মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর বিরুদ্ধে মেদিনীপুর ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নামেন। খেলা প্রাকটিসের ছল করে বল নিয়ে মাঠে নামেন অনাথবন্ধু পাঁজামৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। মাঠেই দুই বন্ধু বার্জ সাহেবকে আক্রমণ করলে তিনি মারা যান। জোন্স নামে একজন আহত হন। পুলিস প্রহরী দুজনের উপর পাল্টা গুলি চালায়। এতে তারা দুজন নিহত হন এবং অপর সঙ্গীরা পলায়ন করতে সক্ষম হন। এই ঘটনার পর ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ, নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন, সনাতন রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা হয়। বিচারে ব্রজকিশোর, রামকৃষ্ণ ও নির্মলজীবনের ফাঁসি হয়। নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন এবং সনাতন রায়-এর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ড হয়।[২]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৫০৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী (ঢাকা বইমেলা ২০০৪)। জেলে ত্রিশ বছর। ঢাকা: ধ্রুপদ সাহিত্যাঙ্গন। পৃষ্ঠা ১৮১, ২৮৩। আইএসবিএন 984-81-8457-00-3 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: length (সাহায্য)  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)