আলোচনা যোগ করুন

قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ ۖ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ৩১ বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। ৩২ বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না। ৩৩ নিঃসন্দেহে আল্লাহ আদম (আঃ) নূহ (আঃ)¬ ও ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর এবং এমরানের খান্দানকে নির্বাচিত করেছেন। (৩নং সূরা ইমরান আয়াত ৩১-৩৩)


قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّه আল্লাহকে কেন ভাল বাসবে ১. তিনি আমাদের সৃষ্টি কর্তা তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করে আমাদের চলার জন্য সব কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছেন إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনু سبح اسم ربك الا على- الذى خلق فسوى তোমার মহান শ্রেষ্ঠ রব্ব এর নামের তসবীহ করো যিনি সৃষ্টি করেছেণ এবং ভারসাম্যতা স্থাপন করেছেণ (সূরা আ’লা১-২)

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-কে কেউ জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি মুসলমান?  তিনি বললেন, হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ!

তারপর সে প্রশ্ন করল, মুসলমান কাকে বলে? তিনি বললেন যে, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী তাকে মুসলমান বলে

সে বলল, আল্লাহ এক, তিনি বিদ্যমান আছে এবং নিখিল পৃথিবী তিনি সৃষ্টি করেছেন এটা আপনি কীভাবে বুঝলেন? এখন যদি ইমাম সাহেব এভাবে জবাব দিতেন যে, কুরআন শরীফে আল্লাহ তা’আলা এই এই বলেছেন তাহলে সে মূর্খ লোকটি বুঝতে সক্ষম হত না তিনি তার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বুঝালেন বললেন আমি এক বিস্ময়কর পন্থায় আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করেছি তাহল এই-

আমি পৃথিবীতে এমন একটি প্রাসাদ দেখেছি, যা রৌপ্য দ্বারা নির্মিত তাতে কোন দরজা-জালনা নেই এমনকি কোন ছিদ্রও নেই তার অভ্যন্তরে আরেকটি স্বর্ণের ভবন তাতেও কোনো দরজা-জালনা এবং ছিদ্র নেই মোটকথা এমন দু’টি ভবন দেখলাম বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ বা ভিতর থেকে বাইরে বেরুনোর কোনো ব্যবস্থা নেই এমনকি আলো বাতাস গমনাগমন করারও কোনো ব্যবস্থা নেই একটি ভবনের ভিতর আরেকটি ভবন রয়েছে আমি অবাক নেত্রে প্রাসাদটি অবলোকন করছিলাম হঠাৎ সে প্রাসাদের দেয়াল ভেঙ্গে গেল এবং তার ভিতর থেকে একটি জীবন্ত বাচ্চা বের হল জন্ম গ্রহণের পর শিশুগন সাধারনত অজ্ঞ ও মুর্খ থাকে কিন্তু দেখলাম সে বাচ্চাটি বের হতেই এমন কাজ শুরু করল যা কোনো অভিজ্ঞ প্রানী করে থাকে তখন আমি অনুভব করলাম যে, এ প্রাসাদের ভিতর তো বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করেনি এবং এ প্রানীটি সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে তাহলে তার ভিতরেই কোনো সৃষ্টিকারী রয়েছে যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এ ঘটনা থেকে আমি বুঝেছে যে, তিনিই হলেন আল্লাহ তা’আলা উপস্থিত লোকজন প্রশ্ন করল, হযরত! আপনি যে প্রাসাদটি প্রত্যক্ষ করেছেন সেটি কোথায় অবস্থিত? আমরা তো অদ্যাবধি দেখিনি যে, রূপার প্রাসাদের ভিতর স্বর্ণের প্রাসাদ আপনি সে প্রাসাদ দেখার জন্য কোন পৃথিবীতের গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, সে প্রাসাদ তোমাদের কাছেও বিদ্যমান আছে লোকেরা বলল, আমরা তো দেখিনি বললেন, তোমরা কখনো ডিম দেখনি? সেটিই হল রূপার প্রাসাদ তার ভিতরকার হলুদ কুসুমটি হল স্বর্নের প্রাসাদ তাতে কোনো দরজা বা ছিদ্র নেই না বাইরের কিছু ভিতরে এবং ভিতরের কিছু বাইরে আসতে পারে মুরগী ডিমে তা দেয় উনিশ দিন পর উভয় প্রাচীর ভেঙ্গে বাচ্চা বের হয় বের হওয়ার পর মুরগীর ছানাটি ঐ কাজ করতে থাকে যা বড় মুরগীটি করে অথচ সে না কোনো স্কুলে গিয়েছে বা কোনো ডিগ্রী হাসিল করেছে মার কাছে সে কোনো শিক্ষা পায়নি অথচ মা যেভাবে খাবার আহরণ করে সেও সেভাবেই করে মা যে ভাষায় কথা বলে সেও তাই বলে পক্ষান্তরে মানব সন্তান যতক্ষন পযন্ত বিদ্যালয়ে না যায় এবং মাতৃ ভাষায় কোনো বই-পুস্তক না পড়ে ততক্ষণ সে ভালভাবে ভাষা আয়ত্ত্ব করতে পারে না এবং কবি-সাহিত্যিক হতে পারে না অন্য ভাষার সম্পর্কে কোনো কথাই নেই, মাতৃভাষা শিখতে হলেও বই পড়া ছাড়া সম্ভব হয় না অন্য ভাষা শিক্ষার জন্য অনেক দেশ ভ্রমন করতে হয় কষ্ট সহ্য করতে হয় তারপর অন্যদের ভাষা শেখা যায় আর এখানে ডিমের ভিতর থেকে একটি মুরগীর ছানা নির্গত হতেই কুট কুট করে আওয়াজ করে এবং তার মাকে যা করতে দেখে সেও তাই করে যেন শিক্ষাদীক্ষা প্রাপ্ত হয়েই জন্ম লাভ করেছে চিন্তা করুন, ডিমের খোসার ভিতর তাকে কে শিক্ষা দিল? কে তাকে বুঝাল যে, তোমাকে এভাবে কথা বলতে হবে, কে শেখাল যে, ডিম থেকে বের হয়েই দানা কুড়িয়ে খেতে হবে এ শিক্ষা তাকে ঐ মহান সত্তা দিয়েছেন, যিনি পবিত্র কুরআনের ইরশাদ করেছেন قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ “ আমাদের রব তো সেই সত্তা, যিনি তাবৎ বন্তু সৃষ্টি করেছন এবং প্রত্যেকে তার নিজ নিজ কাজের পথপ্রদর্শন করেছেন

(সূরা ত্বা-হা ৫০) ( নির্বাচিত ঘটনা ২০২পৃষ্ঠা)

২. তিনি আমাদের রিযিক দাতা

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ


আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে। সূরা হুদ ৬ قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ বলঃ আমার রাবব যার প্রতি ইচ্ছা রিয্ক বর্ধিত করেন, অথবা এটা সীমিত করেন; কিন্তু অধিকাংশ লোকই এটা জানেনা। সূরা সাবা ৩৬

হাত পা বাধা লোককে আল্লাহ খাবার ব্যাবস্থা করেন এই প্রখ্যাত বুজুর্গ হযরত মালেক ইবনে দীনার বলেন আমি িএকবার হজ্বের সফরে ছিলাম একদিন আমি দেখতে পেলাম িএকটি কাক ঠোটে করে দুটি রুটি নিয়ে উড়ে যাচ্ছে আমি কাকটিকে অনুস্বরণ করলাম কিছুদূর গিয়ে দেখলাম, িএকস্থানে অতি জীর্ণ শীর্ণ একলোক হাত পা বাধা অবস্থায় পড়ে আছে আর সেই কাকটি নিজের ঠোটের সাহায্যে লোকটিকে রুটি খাইয়ে দিচ্ছে রুটি খেয়ে লোকটি পরিতৃপ্ত হলে পরে কাকটি উড়ে চলে লে তখণ আমি লোকটির কাছে গিয়ে অবস্থা জানতে চাইলে সে বলল আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেম পথে েএকদল ডাকাত আমার মালঅমাল লুট করে নিয়ে নেয় এবঙ আমাকে হাত পা বেধে এ অবস্থায় ফেলে চলে যায় পাচ ছয়দিন হাত পা বাধা অবস্থায় আমার অনাহারে কাটে আমি আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করতে থাকি ষষ্ঠ দিনে আমার দোয়া কবুল হয় আল্লাহ পাক এ কাকটিকে আমার জন্য নিয়োগ করেন প্রতিদিন কাকটি আমার খাবারের ব্যবস্থা করছে মালেক িইবনে দীনার বলেন, লোকটির দুরাবস্থা দেখে আমার দয়া হলো আমি তার হাত পায়ের বাধন খুলে তাকে মুক্ত করলাম, িএবং তাকে আমার সফরের সঙ্গী করে নিলাম কিছুপথ অতিক্রম করার পর আমরা উভয়ে পিপাসার্থ হয়ে পড়লাম এবং অনেক অনুসন্ধান করে একটি পানির কূপ পেলাম দেখলাম একপাল হরিণ সেই কূপ থেকে পানি পান করছে আমাদের পায়ের শব্দ শুনে হরিনগুলো ছুটে অদৃশ্য হয়ে গেল অতঃপর আমরা কূপের নিকট গিয়ে বালতি দ্বারা পানি উঠিয়ে তৃপ্তির সাথে পান করলাম কিন্তু পানি পান করার পর িএকটি বিষয় আমাকে ভাবিয়ে তুলল আমি মনে মনে আল্লাহকে বললাম, হে প্রভু! হরিণগুলোতো রুকু সেজদা করে না অথচ তাদের জন্য পানি কূপের মুখ পযন্ত উঠে িএলো, ফলে তারা মুখ দিয়েই পানি পান করল, আর আমরা বালিতি ছাড়া পানি পেলাম না এমতাবস্থায় অদৃশ্য থেকে আওয়াজ এলো হে মালেক ইবনে দীনার! হরিণ গুলো তো আমারই উপর ভরসা করেছে, আর আমরা বালতি ছাড়ােই পানি ওদের মুখের সামনে এনে দিয়েছি আর তুমি যেহেতু রশি বালতির উপর ভরসা করেছ, তােই তোমাকে সে ভাবেই পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে হযরত মালেক িইবনে দীনার (রহ,) বলেন, এ কথা শুনে আমার যেন হুশ চলে গেল আমার ভিতর এক অদ্ভুদ অবস্থার সৃষ্টি হলেঅ সাথে সাথে আমি রশি ও বালতি ফেলে দিলাম সুবহানাল্লাহ! যারা আল্লাহ পাকের উপর ভরসা করে তাদের জন্য তিনিই যথেষ্ট (সাগর কুড়ানো সেরা মুক্তা ৫১পৃ)

পাথরের মধ্যেও আল্লাহ খাবার ব্যবস্থা করেন

 হযরত মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দী রহ, তার এক বন্ধুর ঘটনা বর্ণনা করেন তিনি বলেন- আমার এক ডাক্তার বন্ধু সে একদিন সপরিবারে পাহাড় দেখতে গেল েএক পযায়ে একটি পাহাড়ে গোলাকৃতির একটি সুন্দর পাথর তার নযরে পড়ল তার ছোট্ট মেয়েটি তার সাথেই হাটছিল সে তাকেও পাথরটি দেখাল পাথরটি দেখে মেয়েটি তার মাকে ডেকে বলল, আম্মু! পাথরটির রং আমাদের ড্রয়িং রুমের মত দেখো কত সুন্দর!!
মা বলল পাথরটি নিয়ে নাও আমরা এই সফরের স্মৃতিস্বরূফ পাথরটি ড্রইংরুমে সাজিয়ে রাখব

মেয়েটি মায়ের নির্দেশ পালন করল সফল থেকে ফেরার পর পাথরটি ড্রইংরুমে রাখা হলেঅ দু বছর পরের কথা বন্ধুর স্ত্রী একদিন পাথরটি পরিস্কার করতে আসল কিন্তু হাত থেকে পড়ে গিয়ে তা ভেঙ্গে কয়েক খন্ড হয়ে গেল তিনি দেখরেন, পাথরখন্ডের ছিদ্র থেকে িএকটি পোকা বেরিয়ে এসেছে পোকাটি দেখে তিনি অত্যন্ত অবাক হলেন বুঝতে পারলেন, এই দু’বছর যাবত এটি পাথরের ভিতরই ছিল আর এর ভেতরে থাকা রিযিক খেয়েই সে বেচে ছিল পাঠক! রিযিক প্রত্যেক মাখলুকের জন্যেই বন্টিত আর আল্লাহর উপর ভরসা করলে তিনি এমন স্থান থেকে রিযিক দান করবেন যার কল্পনা করা যায় না আপনি চারপাশে লক্ষ্য করলেই এর দৃষ্টান্ত দেখতে পাবেন পশু-পাখি পোকামাকড় পিপড়া মৌমাছি ইত্যাদি তারা তো আমাদের মতো কাজ করে না তবুও কেউ বলতে পারবে না, এসকল প্রাণী না খেয়ে থাকে

আমরা যদি আল্লাহর উপর ভরসা করি তাহলে তিনিই আমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন চোর চুরি করে যে হারাম মাল খেয়েছে সে যদি সামান্য সবর করত তাহলে এই মালই তার জন্য হালাল হয়ে আসত যেহেতু তার রিযিকে এটা আছে তাহলে যেভাবেই হোক এটা তার কাছে আসবেই এখণ সে চুরি করেছে তার হারামভাবে এসেছে যদি সবর করত তাহলে অন্য কোনো হালাল উপায়ে আসত এর নামই তাওয়াক্কুল বা ভরসা আল্লাহ তাআলঅ আমাদের সবাইকে সর্বদা তার উপর ভরসা করার তাওফীক দান করুন আমীন (সূত্র: ইমানী গল্প ৩৭৯)(যে গল্পে শান্তি মিলে-৩ পৃ ৩৪)

তোমার খাবারের জন্য তিন শ’ষাটজন কারীগর খাটে বর্ণিত আছে যে, জনৈক সাধু পুরুষ তার এক বন্ধুকে দাওয়াত করে তার সামনে রুটি উপস্থিত করলে উক্ত বন্ধু উত্তম রুটি বেছে নেয়ার জন্য রুটিগুলো উলট-পালট করতে লাগল তখন উক্ত সাধু পুরুষ তাকে বললেন, বন্ধু! তুমি এ কি করছ? তুমি কি অবগত নও যে, যে রুটি তুমি পছন্দ করছ না তার মধ্যে কতপ্রকার কলা-কৌশল রয়েছে? কত কারীগরের হস্ত দ্বারা তা তৈরী হয়ে তোমার নিকট পৌছেছে? প্রথমতঃ পানি বহনকারী মেঘের কথাই ধর না কেন! মেষ দুনিয়ায় বৃষ্টিপার করে এবং তার ফলে ভুখন্ড, জীব-জন্তু এবং আদম সন্তান পানি পান করে যমিয়ে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় তারপর তা তোমার নিকট খাদ্য তৈরী হয়ে উপস্থিত হয় আর তুমি কি না সে রুটিগুলো উলপ পালট করে দেখছ এবং উত্তম রুটি ব্যতীত তুমি সন্তুষ্ট হচ্ছ না? হাদীস শরীফে এসেছে, রুটি গোল হয়ে তোমার সামনে প্রস্তুত হয়ে আসে না যে পযন্ত তাতে তিন শ’ষাটজন কারীগর না খাটে এদের মধ্যে প্রথম মিকাইল ফিরেশতা যিনি রহমতের ধন-ভান্ডার থেকে পরিমিত পানি মেপে দেন তারপর অন্যানা ফিরেশতাগণ মেষ, সূয, চন্দ্রিইত্যাদিকে ঘূর্ণায়মান করেন অতঃপর বায়ুর ফিরেশতা এবং মৃত্তিকার কীট-পতঙ্গ এবং সর্বশেষে রুটি প্রস্তুতকারীর সাহায্য প্রয়োজন হয় যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামতে গণনা কর তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না ( এহইয়াউ উলূমিদ্দীন (৫ম খণ্ড)২২পৃষ্ঠা)

27 তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন। أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ ۚ بَنَاهَا 28 তিনি এটাকে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন। رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا 29 এবং তিনি ওর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং ওর জ্যোতি বিনির্গত করেছেন। وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا 30 এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন। وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا 31 তিনি ওটা হতে বহির্গত করেছেন ওর পানি ও তৃণ, أَخْرَجَ مِنْهَا مَاءَهَا وَمَرْعَاهَا 32 আর পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করেছেন; وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا 33 এ সবই তোমাদের ও তোমাদের জন্তুগুলির ভোগের জন্য। সূরা নাজিয়াত مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ ৩. তিনি আমাদের অনুগ্রহকারী দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা তার রহমতের ভিখারী ইহকাল ও পরকালের মঙ্গল এর দুআ ربنا اتنا فى الدنيا حسنة وفى الاخرة حسنة وقنا عذاب النار অর্থাৎ হে আমাদের বর! হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতেও মঙ্গল দান করুন এবং আখিরতেও মঙ্গল দান করুন। আর আমাদেরকে দোজখের আযাব থেকে বাঁচান।(ছিলাহুল মু’মিন ৩৪ পৃষ্ঠা)

ربنا اتنا فى الدنيا حسنة

ثم لتثئلن يومئذ عن النعيم নিশ্চয়ই কেয়ামতের দিন সমস্ত নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

বুখারী শরীফের হাদীছে আছে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বণী ইসরাঈল গোত্রে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনজন লোক ছিল তন্মধ্যে একজন ছিল কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত, দ্বিতীয় জন মাথায় টাকপড়া তৃতীয় জন অন্ধ আল্লাহ তায়ালা এই তিনজনকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা করলেন তিনি একজন ফিরিশতা পাঠালেন ফিরিশতা প্রথমে কুষ্ঠ রোগীর কাছে গিয়ে বললেন তুমি কি চাও? লোকটি উত্তর করল, আমি আল্লাহর কাছে এই চাই যে, আমার এই কুৎসিত ব্যাধি নিরাময় হোক আমার দেহের চামড়া নতুন রূপ ধারণ করে সুন্দর হোক, যেন আমি লোকসমজে যেতে পারি, লোকে আমাকে ঘৃণা না করে, আমি যেন এই মুসিবত হতে মুক্তি পাই ফিরিশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দোয়া করলেন মুহূর্তের মধ্যে তার রোগ নিরাময় হয়ে গেল সর্বশরীর নতুন রূপ ধারণ করল তারপর আল্লাহর ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি পেতে চাও? লোকটি বলল , আমি উট পেলে খুশি হব ফিরিশতা তাকে একটি গর্ভবতী উটনী এনে দিলেন এবং আল্লাহর দরবারে বরকতের দোয়া করলেন অতঃপর ফিরিশতা টাকপড়া লোকটির কাছে গিয়ে বললেন তুমি কোন জিনিস পছন্দ কর? লোকটি বলল, আমার মাথার ব্যাধি নিরাময় হোক যে কারণে লোকে আমাকে ঘৃণা করে আল্লাহর ফিরিশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন মাথা ভাল হয়ে গেল নতুন চুল উঠে চমৎকার রূপ ধারণ করল এখন ফিরিশতা জিজ্ঞেস করলেন, কোন ধরনের মাল তুমি পেতে চাও? সে বলল, আল্লাহ যদি আমাকে একটি গরু দান করেন, তবে আমি খুব সন্তুষ্ট হব ফিরিশতা তাকে একটি গর্ভবতী গাভী এনে দিলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন অতঃপর ফিরিশতা অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি চাও? লোকটি বললঃ আল্লাহ তাআলা আমার চোখ দুটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিন, যেন আমি আল্লাহর দুনিয়া দেখতে পাই এটাই আমার আরজু আল্লাহ তা’আলার ফিরিশতা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন চোখ ভাল হয়ে গেল সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল অতঃপর ফিরিশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বলতো তুমি কোন জিনিস পছন্দ কর? অন্ধ বলল আল্লাহ যদি আমাকে একটি বকরী দান করেন, আমি খুব খুশী হব ফিরিশতা তৎক্ষনাত একটি গর্ভবতী বকরী এনে তাকে দিলেন এবং বরকতের দোয়া করে চলে গেলেন অল্প দিনের মধ্যেই এই তিনজনের উট গরু এবং বকরীতে মাঠ ভরে গেল তারা প্রত্যেকই এখন ধনী কিছুদিন পরে সেই ফিরিশতা প্রথম ছুরতে পুনরায় সেই উটওয়ালার (কুষ্ঠ রোগীর) কাছে এসে বললেন আমি বিদেশ সফরে এসে বড়ই অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছি আমার বাহক জন্তুটিও মারা গেছে আমার পথখরচও ফুরিয়ে গেছে আপনি যদি মেহেরবানী করে কিছু সাহায্য না করেন তবে আমার কষ্টের সীমা থাকবে না এক আল্লাহ ছাড়া আমি সম্পূর্ণ নিরুপায় যে আল্লাহ আপনাকে সুন্দর স্বাস্থ্য ও সুশ্রী চেহারা দান করেছেন তার নামে আমি আপনার কাছে একটি উট প্রার্থনা করছি আমাকে একটি উট দান করুন আমি এতে আরোহণ করে কোন প্রকারে বাড়ি যেতে পারব লোকটি বলল, হতভাগা কোথাকার! এখানে থেকে দূর ‘হ’ আমার নিজেরই কত প্রয়োজন রয়েছে? তোকে দেয়ার মত কিছু নেই ফিরিশতা বললেন, আমি তোমাকে চিনি বলে মনে হচ্ছে তুমি কি কুষ্ঠ রোগগ্রস্ত ছিলে না? লোকেরা এই রোগের কারণে তোমাকে তুচ্ছ ও ঘৃণা করত না? তুমি কি নিঃম্ব ও গরীব ছিলে না? আল্লাহ তা’আলা কি তোমাকে এই ধন-সম্পদ দান করেননি? লোকটি বলল, বাঃ বাঃ কি মজার কথা বলছ? আমারা বাপদাদার কাল হতে বড়লোক এই সম্পত্তি পুরুষানুক্রমে আমরা ভোগদখল করে আসছি ফিরিশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহ তা’আলা তোমাকে সেরূপ করে দিন যে রূপ তুমি পূর্বে ছিলে কিছু কালের মধ্যে লোকটি সর্বস্ব হারিয়ে পূর্বাবস্থা প্রাপ্ত হল অতঃপর ফিরিশতা দ্বিতীয় ব্যক্তি অর্থাৎ টাকপড়া লোকটির কাছে গেলেন লোকটির সুন্দর ও সুঠাম চেহারা মাথার কুচকুচে কালো চুল দেখলে মনে হয় যে পূর্বে তার কোন রোগই ছিল না ফিরিশতা তার কাছে একটি গাভী চাইলেন, কিন্তু সেও উট ওয়ালার ন্যায় ‘‘না’’ সূচক জবাব দিল ফিরিশতা তাকে বদদোয়া দিয়ে বললেন যদি তুমি মিথ্যুক হও তবে আল্লাহ তা’আলা যেন তোমাকে সেই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেন ফিরিশতার দোয়া ব্যর্থ হবার নয় তার মাথার টাক পড়া শুরু হল সমস্ত ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল তারপর ফিরিশতা পূর্বাকৃতিতে সেই অন্ধ ব্যক্তির কাছে গিয়ে বললেন, বাবা! আমি মুসাফির বড়ই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছি আমার টাকা-পয়সা কিছুই নেই আপনি সহানুভূতি ও সাহায্য না করলে আমার কোন উপায দেখছি না যে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে সম্পদের মালিক বানিয়ে দিয়েছেণ তার নামে আমাকে একটি বকরী দান করুন, যেন কোন প্রকারে অভাব পূরণ করে বাড়ি যেতে পারি লোকটি বলল, নিশ্চয়ই আমি অন্ধ, দরিদ্র ও নিঃস্ব ছিলাম আমি আমার অতীতের কথা মোটেই ভুলিনি আল্লাহ তা’আলা শুধু নিজ রহমতে আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন এই সব ধন সম্পদ যা কিছু দেখছেন সব আল্লাহ তা’আলার আমার কিছু নয় তিনি অনুগ্রহ করে আমাকে দান করেছেন আপনার যে কয়টির প্রয়োজন ইচ্ছামত আপনি নিয়ে যান যদি ইচ্ছা হয় তবে আমার পরিবার পরিজন ও সন্তান- সন্তুতির জন্য কিছু রেখেও যেতে পারেন আল্লাহর কসম! আপনি সবগুলেঅ নিয়ে গেলেও আমি বিন্দুমাত্র অসন্তুষ্ট হব না কারণ এসব আল্লাহর দান ফিরিশতা বললেন, বাবা এসব তোমার থাকুক আমার কোন কিছুর প্রয়োজন নেই তোমাদের তিনজনের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য ছিল, তা হয়ে গেছে তারা দু’জন পরীক্ষায় ফেল করেছে তাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলা অসন্তুষ্ট ও নারায হয়েছেন তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন (বেহেশতী খুশবু ১৬পৃষ্ঠা)

জান্নাতও নেব, চোখও নেবঃ কাতাদােইবনে নুমান একজন ছাহাবি ওহুদের যুদ্ধে তিরের আঘাতে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তিরটা ছোখের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার চোখটি থেতলে গেলে সেই থেতলানো চোখটি বের করে হাতে করে নবীজি সাল্লাল্লাহও আলাইহ ওয়াসাল্লাম দরবারে এসে হাজির হলেন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমার চোখটি ভালো করে দেন নবীজি সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চোখ নেবে না জান্নাত নেবে? ছাহাবি বললেন, জান্নাতও নেব চোখও নেব আল্লাহর কাছে অভাব আছে নাকি দু-ই নেব ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার যদি একটি চোখ না থাকে আমি যদি কানা হয়ে যাই তা হলে আমার স্ত্রীর কাচে খারাপ লাগবে না? শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিটিমিটি হাসলেন তারপর থেতলানো চোখটি তুলে সেটি কোটরে ভরে দিয়ে তার ওপর হাত বুলিয়ে বললেন হে আল্লাহ, কাতাদার এই চোখটিকে অপর চোখ অপেক্ষা সুন্দর করে দাও সঙ্গে সঙ্গে চোখটি ভালো হয়ে গেল এবং সেটি অপর অক্ষত চোখের তুলনায় সুন্দর হয়ে জ্বলজ্বল করতে শুরু করল ( হৃদয় ছোয়া কাহিনি ১২৭ পৃ)

وفى الاخرة حسنة وقنا عذاب النار তোমার রহমতের সাহারা নিয়ে এসেছিঃ

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম নামে একজন বড় মাপের বুযুর্গ ছিলেন ইমাম পযায়ের আলেম ছিলেন তার ইন্তেকালের পর অন্যান্য বুযুর্গানেদীন তাকে স্বপ্নে দেখেন দেখলেন তাকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হয়েছে আল্লাহ তা’আলা বললেন, হে ইয়াহইয়া! তুমি আমার জন্য কী নিয়ে এসেছ?
তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি পঞ্চান্নটি হজ করেছি 

আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমি একটিও কবুল করিনি তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি একশ বায়ান্নাবার কুরআন খতম করেছি

বললেন, আমি একটিও কবুল করিনি তারপর বললেন, হে আল্লাহ! আমি এ পরিমাণ নামাজ পড়েছি বললেন, একটি ও কবুল হয়নি 

এভাবে একের পর এক তিনি গোটা জীবনের সমগ্র আমলের কথা তুলে ধরেন আর আল্লাহ বলেন, আমি কবুল করিনি বলতে বলতে সকল আমলের কথা শেষ হয়েছে তারপর আল্লাহ বলেন, আর কী নিয়ে এসেছো? তিনি আপারগ হয়ে গেলেন অবশেষে বললেন, হে আল্লাহ! আপনার রহমতের সাহারা নিয়ে এসেছি আর কিছু আনতে পারিনি আল্লাহ তা’আলা বললেন এবার সঠিক বলেছ আমার রহম তোমার জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে যাও, তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম (খুতুবাতে হাকীমুল ইসলামঃ৪/২৯২)(নির্বাচিত ঘটনা ১৯৫ পৃষ্ঠা)

আল্লাহর রহমতেঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট একটি ঘটনা বর্ণনা করেন এক ব্যক্তি পাহাড়ের উচ্চ চুড়ায় পাচশ বছর যাবত আল্লাহ পাকের ইবাদাতে মশগুল ছিল ঐ পাহাড়ের চারদিকে লবনাক্ত পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল আল্লাহ তায়ালা তার জন্যে পাহাড়ের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির ঝরণা এবং একটি আনারের গাছ সৃষ্টি করেন প্রতিদিন সেই ব্যক্তি আনার ফল আহার করত এবং পানি পান করত আর পানি দিয়ে অযু করত সে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নিকট এই দোয়া করে হে আল্লাহ! আমার রূহ সেজদারত অবস্থায় কবজ করার ব্যবস্থা করুন আল্লাহ তায়ালা তার এই দোয়া কবুল করেন হযরত জিবরাঈল (আঃ) বর্ণনা করেনঃ আমি আসমানে আসা যাওয়ার সময় তাকে সেজদারত দেখতাম কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তার সম্পর্কে বলবেনঃ আমার এই বান্দাহকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও ঐ ব্যক্তি বলবে না, বরং আমার আমলেন বরকতে, তখন নির্দেশ আসবে আমার নিয়ামতের বিপরীত তার কৃতআমল পরিমাপ কর, পরিমাপ করে দেখা যাবে পাঁচশ বছরের ইবাদত খতম হয়ে গেছে একটি চক্ষুর নিয়ামতের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিবেন- আমার বান্দাহকে জাহান্নামে নিয়ে যাও ফিরিশতারা তখন নিয়ে রওয়ানা হবে কিছুদূর যাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি আরজ করবে হে আল্লাহ! আমাকে তোমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও নির্দেশ আসবে তাকে ফিরিয়ে আন আল্লাহ তায়ালার নিকট ফিরিয়ে আনার পর তাকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো করা হবেঃ প্রশ্নঃ তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন? উত্তরঃ আল্লাহ, আপনি প্রশ্নঃ এই কাজটা তোমার আমল না আমার রহমতের বরকতে হয়েছে? উত্তরঃ আপনার রহমতে প্রশ্নঃ তোমাকে পাঁচশ বছর ইবাদত করার শক্তি এবং তৌফিক কে দিয়েছে? উত্তরঃ হে আল্লাহ! আপনি প্রশ্নঃ সমুদ্রের মাঝে পাহাড়ের উপর তোমাকে কে পৌছিয়েছে? লবনাক্ত পানির মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা কে করেছে? আনারের গাছ কে সৃষ্টি করেছে? তোমার দরখাস্ত মুতাবেক সেজদার মধ্যে কে তোমার রূহ কবজ করার ব্যবস্থা করেছে উত্তরঃ হে পরওয়ারদিগার আপনি ইরশাদ হবেঃ এই সব কিছু আমার রহমতে হয়েছে এবং আমার রহমতেই তোমাকে জান্নাতে দাখিল করছি (বেহেশতী খুশবু ৮৭ পৃষ্ঠা)


৪. তিনি আমাদের বিপদাপদে সাহায্যকারী إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ কাফেরমোশরেকরা বিপদে পরলে আল্লাহকে ডাকে মক্কা বিজয়ের সময় ইকরামা বিন আবি জাহল আবিসিনিয়া পলায়নের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো তখন সে একটি নৌকায় আরোহণ করল হঠাৎ নৌকাটি ঝড়ের মধ্যে পতিত হলো বিপরীত মুখী বাতাসের ঝাপটা নৌযানকে একটি ক্ষুদ্র পাতার মত দোলাতে লাগল তখন নৌযানটিতে যত কাফির ছিল সবাই একজন আরেকজনকে বলতে লাগলো এখন স্বয়ং এক আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কোন কাজে আসবে না সুতরাং শুধু তাকেই ডাক ইকরামার মনে তখণ খেয়াল হলো যদি সমুদ্রের মধ্যে এক আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কোন কাজে না আসে তবে একথা স্পষ্ট যে স্থলভাগেও তিনি কাজে আসবেন হে আল্লাহ আমি মানত করছি যে যদি আপনি এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তবে আমি অবশ্যই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে অত্মসমর্পন করব, নিশ্চয় তিনি আমার উপর দয়া করবেন এরপর সমুদ্র অতিক্রম করে তিনি সরাসরি হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম এর দরবারে হাজির হলেন এবং ইসলাম কবুল করলেন পরবর্তীকালে তিনি ইসলামের এক বিশিষ্ট সৈনিক হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন (বেহেশতী খুশবু ৫৯ পৃষ্ঠা)/


ইমাম জাফর ছাদেক (রহঃ) এর এক নাস্তিককে দেয়া অবাক করার জবাবঃ

এক নান্তিক নাবিকের সাথে হযরত ইমাম জাফর ছাদেক (রহঃ) এর বিতর্ক হয়েছিল সে নাবিক বলতো যে আল্লাহর বলতে কিছু নাই (নাউজুবিল্লাহ) হযরত ইমাম জাফর ছাদেক (রহঃ) ওকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি েো জাহাজ চালক  চালক, সমুদ্রে কি কখনো তুঠানের সম্মুখীন হয়েছিলেন? সে বলল, হাঁ আমার স্পষ্ট স্মরণ আছে যে একবার আমার জাহাজ সমুদ্রে ভয়ানক তুঠানে পতিত হয়েছিল হযরত জাফর ছাদেক (রহঃ) জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কি হয়েছিল? সে বলল, আমার জাহাজ ডুবে গিয়েছিল এবং জাহাজের সমস্ত যাত্রী ডুবে মারা গিয়েছিল তিনি জিজ্ঞেস কররেন, আপনি কিভাবে বেচে গেলেন? সে বলল, আমার হাতের কাছে জাহাজের েএকটি তক্তা ভেসে এসেছিল, আমি সেটার সাহায্যে সাতরিয়ে কুলের প্রায় কাছাকাছি এসে গিয়েছিলাম কিন্তু পানির স্রোতে সেই তক্তাটা হাত ছাড়া েহয়ে যায় তখন নিজেই চেষ্টা করতে লাগলাম হাত পা নাড়াচাড়া করে কোন মতে কিনারে এসে পৌছলাম হযরত জাফর ছাদেক (রহঃ) বললেন, এবার আমার কথা শুনুন, যখন আপনি জাহাজে ছিলেন তখণ আপনার জাহাজের উপর এ বিশ্বাস ও আস্থা ছিল যে, এ জাহাজ আপনাকে কূলে পৌছাবে যখন সেটা ডুবে গেল তখন আপনার আস্থা ও ভরসা তক্তার উপর ছিল যা হঠাৎ আপনার হাতে লেগেছিল কিন্তু যখন সেটাও আপনার হাত ছাড়া হয়ে গেল তখন সেই অসহায় অবস্থায় আপনার কি এ রকম আশা ছিল যে, কেহ বাচাতে চাইলে আমি বাঁচাতে পারি? সে বলল এ আশাতো নিশ্চয়ই ছিল হযরত জাফর ছাদেক (রহঃ বললেন, কার কাছে এ আশা ছিল? কে বাঁচাতে পারে? এ প্রশ্নে সেই নাস্তিক নিশ্চুপ হয়ে গেল তিনি বললেন, ভালমত স্মরণ রাখুন, সেউ অসহায় অবস্থায় আপনি যে সত্তার কাচে আশাবাদী ছিলেন, সে-ই হল আল্লাহ, সে-ই তোমাকে বাচিয়েছেন নাবিক এ কথা শুনে মোহ মুক্ত হল এবং ইছলাম গ্রহণ করল (তাফসীরে কবীর: ১ম জিলদ ২২১পৃষ্ঠা)( মুছলিম মনীষীদের অবাক করা আকলি জবাব ১৬পৃষ্ঠা)

বাদশাও আল্লাহর কাছে চায় বাদশা হারুন রশীদের সময়ের কথা একবার তার রাজ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল এক গ্রাম্য লোক অভাবের তাড়নায় বাদশার দরবারে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে আগমন করল ইচ্ছা হল পরিবারের দুর্দশার করুন অবস্থা শুনিয়ে বাদশাহ কাছে কিছু চাইবে সে রাজ প্রাসাদের নিকটবর্তী হয়ে দেখতে পেল বাদশা নামাজ পড়ছেন দ্বাররক্ষী বলল, অপেক্ষা কর খলিফা নামাজ পড়ছেন গ্রাম্য লোকটি দরজায় দাড়িয়ে রইল বাদশা সালাম ফিরিয়ে দোয়া করলেন তারপর লোকটির দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলেন, চৌধুরী সাহেব কেন এসেছেন? চৌধুরী সাহেব বলল, এর জবাব আমি পরে দিব তার পূর্বে আপনি জবাব দিন, এতক্ষণ আপনি কী করছিলেন? বললেন, আমি আমার মালিকের সামনে মস্তকবনত হয়েছে বলল, আপনার চেয়েও বড় অন্য কেউ আছে কি? খলিফা বললেন, হ্যাঁ, আমার চেয়েও বড় আল্লাহ তাআলা রয়েছেন আমি তার সকাশে প্রার্থনা করি গ্রাম্য লোকটি বাদশার জবাব শুনে সোজা বাড়ির পথ ধরল এবং বলতে লাগল, তাহলে আমি তোমার কাছে চাইব কেন? আমিও তার কাছে চেয়ে নিব, যার কাছে তুমিও প্রার্থনা করছ তুমি তার মুখাপেক্ষী হলে আমি তার মুখাপেক্ষী হব না কেন? (খুতুবাতে হাকীমুল ইসলামঃ৪/৪৩৯) বস্তুত সকলেই আল্লাহর সামনে অসহায় অভাবী শক্তিহীন তিনি সকলকে সক কিছু প্রদান করেন পৃথিবীর কেউ কাউকে কিছু দিতেও পারে না নিতেও পারে না আল্লাহ তাআলাই প্রদান করেন এবং ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকারও একমাত্র তারই রয়েছে সুতরাং মানুষ কিছু পেতে চাইলে আল্লাহ তাআলার সকাশেই প্রার্থনা করতে হবে সব মিলে যাবে আর তার সাথে সম্পর্কে খারাপ হলে প্রাপ্ত বস্তুও হাত ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে (নির্বাচিত ঘটনা ২০৬পৃষ্ঠা) আছমাউল হুছনা যা পাঠ করে সাহাবাগণ(রা)সমুদ্র পার হয়ে গিয়েছিলেন يا اول الاولين يا اخر الاخرين يا ذا القوة المتين يا راحم المساكين يا ارحم الرحمين يا على يا عظيم يا حليم يا كريم অর্থাৎ হে আদি হে অন্ত, হে মজবুত শক্তিধর, হে অভাবীদের উপর দয়াবান, হে শ্রেষ্ঠ দয়ালূ, হে বিরাট ও মহান, হে মর্যাদাশীল, হে পরম ধৈর্যশীল, হে পরম দয়ালু।’’ এই আছমাউল হুছনার মধ্যে শেষের চারটি কালিমা, আছমাউল হুছনা। (আল্লাহ তাআ’লার উত্তম নাম) পাঠ করে হযরত আ’লা হাদরবী রদিইয়াল্লহু তাআ’লা আ’নহু এক জিহাদে সাহাবায়ে কেরামগণের এক বিরাট বাহিনী (প্রায় দশ হাজার লোকের জমাত) নিয়ে পনের হিজরীতে পানির উপর দিয়ে পারস্য উপসাগর পার হয়ে গিয়েছিলেন অথচ তাদের ঘোড়ার পায়ের ক্ষুরও পানিতে ভিজেনি। উপসাগরের যে স্থান দিয়ে পার হয়ে ছিলেন তার চওড়াই ছিল নৌযানে পূর্ণ এক দিন ও এক রাত্রের রাস্তা (অর্থাৎ প্রায় ৩৬(ছত্রিশ)মাইল চওড়া)উপসাগর পার হওয়ার পূর্বে এই একই কালিমাগুলো পাঠ করে তিনি আছমান থেকে মরু প্রান্তনে বৃষ্টি নামিয়ে ছিলেন এবং ঐ পানির দ্বারা পুরা জমাতের এবং সকল জানোয়ারের যাবতীয় প্রয়োজন পুরা করেন। (হায়াতুস সাহাবা) একজন আমানতদার জনপ্রিয় কুলি ছিল তার বিশ্বস্থতার কারনে ব্যাসায়ীরা তার মাধ্যমে মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা নেয়া করতো এক সময় সে ‍কুলিমাল পত্র নিয়ে যাবার কালে পথের মধ্যে এক লোকের সাথে দেখা হয় লোকটি বললো কুলি কোথায় যাবে? যেনে নিয়ে বলল আমিও সে শহরে যাব তবে আমার জন্য পায়ে হেটে যাওয়া খুবই কষ্টকর তাই দয়াকারে যদি খচ্চরের উপর আমাকে একটু জায়গা দাও তাহলে তার ভাড়া বাবদ তোমাকে একটি স্বর্ন মুদ্রা দিব পথিকের কথায় কুলি বেচারা সম্মত হয়ে পথিককে খচ্চরের পিঠে উঠিয়ে নিল পথ চলতে চলতে যখন তারা দ্বিমুখী রাস্থার মোড়ে পৌছিল তখন আরোহী কুলিকে একটি নতুন পথের দিকে ইশারা করে বলল যে পুরোনো পথ থেকে েএপথে তাড়াতাড়ি হবে এবং ইহা পুরোনো পথ থেকে বেশী নিরাপদ ফলে কুলি বেচারা সে পথেই রওয়ান হল কিন্তু কিছু পথ অতিক্রম করতে না করতেই কুলি দেখলো যে এ পথ তাদের কে নিয়ে এসেছে একটি জঙ্গলের দিকে কুলি আরও লক্ষ করলেন যে, সেখানে অনেক গুলো মৃত্যু দেহ পড়ে আছে সেখানে পৌছতে না পৌছতেই অরোহী লোকটি খাপ থেকে তলোয়ার বের করে কুলিকে হত্যা করতে উদ্যত হল বিপদ উপলব্দি করে কুলি আরোহীকে বলল যে, আমি আপনার নিকট প্রাণ ভীক্ষা চাই আমার জীবনের বিনিময়ে আমার সব মালামাল নিয়ে যাও তবুও আমাকে হত্যা করোনা কিন্তু পাষান্ড ডাকাত কুলির কোন কথাই শুনতে চাইল না বরং বলল আমি তোমাকে প্রথমত হত্যঅ করব তারপর তোমার মালামাল ‍লুট করব তখণ কুলি বেচারা কোন প্রকার আশ্রয় ও উপয় না দেখে বলল কমপক্ষে আমাকে দু’রাকআত নামায পড়ার সুযোগ দাও তারপর যা খুশি তা করতে পারো পথিখ বলল ঠিক আছে তাড়াতাড়ি পড়েনাও মনে রেখো এতে কোন ফল হবেনা যাদের মৃত্যুদেহ দেখতে পাচ্ছ তারাও এমন করে ছিল কিন্তু আমার হাত হতে রেহাই পায়ানি অতপর কুলি বেচারা অযু করে নামাযে দাড়াল ঠিক কিন্তু কোন আয়াত তার স্বরণ হচ্ছিলনা এদিকে সে পাষান্ড দস্যু তাড়াতাড়ি নামায শেষ করার জন্য তাকিদ করছিল এই চরম সংকটময় অবস্থায় তার জবান থেকে আপনা আপনি উচ্চারিত হলো امن يجيب المضطر اذا دعاه অর্থঃ বলত কে অসহায়ের ডাকে সাড়া দেয়া এবং দুঃখ দূরীভূত করেন যখণ সে ডাকে?কুলি বেচারা ক্রন্দন করতে করতে এআয়াত শরীফ পাঠ করতে ছিল এমন সময় হঠাৎ করে ঘোড়ায় আরোহন করে লৌহ পোষাক পরিহিত এক আগন্তুক দেখেতে পেলে তার হাতে ছিল একটি লৌহ বল্লম –আগন্তুক সে বল্লম দ্বারা সে পাপিষ্টকে েএত জোরে আঘাত করলে যে. সাথে সাথেই সে জালেম দস্যুর মৃতদেহ মাটিতে লুঠিয়ে পড়ল এবং সে স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠল নামাযরত কুলি অবস্থা লক্ষ্য করে বেহাল হয়ে সেজদায় পড়ে রইল এবং আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করল অতঃ পর দৌড়ে এসে আগন্তককে জিজ্ঞাসা করল যে দয়া করে বলন আপনি কে? আজ আমার েএই চরম বিপদের দিনে কে আপনি আমাকে রক্ষা করলেন? কোত্থেকে আসলেন আগন্তুক বলল আমি امن يجيب المضطر اذا دعاه নামল ৬২ আয়াত) আমি এর গোলাম, বিপদ গ্রস্থ ও অসহায় লোকদের দুর্দিনের সাহায্যকারী বন্ধু (মাওয়ায়েযে সিরজীয়া ১০৪পৃ)

পাখির কাণ্ডঃ

একি! পাখিটা তো মোজা নিয়ে উড়ে গেল চোখের পলকে নাগালের বাইরে চলে গেল কি করবেন? পাখির কজ্বা থেকে মোজাটি কিভাবে উদ্ধার করবেন? কিছুই বুঝতে পারছেন না হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা নিরুপায় চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে  দেখছেন পাখিটির উড়ে যাওয়া এছাড়া আর কীইবা করতে পারেন এই অিযাচিত পরিস্থিতিতে এমন অকস্মাৎ ঘটনাটি ঘটে গেল যে, তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর করারও কিছু ছিল না; কিন্তু পাখিটির অস্বাভাবিক আচরণ, লক্ষ্যহীন উড়াউড়ি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়াসাল্লামকে কৌতুহলী করে তুলল তার সমস্ত মনোযোগ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেল উড়ন্ত পাখিটি তিনি গভীর মনোযোগে দেখতে লাগরেন একপাটি মোজা ঠোটে কামড়ে ধরে পাখিটি  বার বার শুধু মাথার উপর চক্কর দিতে লাগল আশ্চযের ব্যাপার পাখিটি একবারের জন্যও দৃষ্টি সীমার আড়ালে যাচ্ছে না আবার মাটিতেও নামছে না আওতার মধ্যেও আসছে না, নাগালেও পাওয়া যাচ্ছে না এত উপরেও উঠছে না যে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় তার প্রতিটি নড়াচড়া পরিস্কার চোখে ধরা পড়ছে দেখে মনে হচ্ছে যে, মোজাটিকে সে কিছুক্ষণ পর পর ঝাকুনী দিচ্ছে মানুষ কাপড় থেকে মেন ময়লা ঝাড়ে ঠিক তেমন ভিতর থেকে কি যেন ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়া সাল্রাম অপার কৌতুহল নিয়ে পাখিটির কাযকলাপ পযবেক্ষণ করতে লাগলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হরত আবদুল্লাহ  িইবনে আব্বাসের মনেও দারুণ কৌতুহল নিস্পলক নয়নে তিনিও তাকিয়ে আছেণ উড়ন্ত পাখিটির দিকে তিনিও যেন অন্য রকম এক মোহ, ভিন্ন ধরনের এক সম্মোহন ও মুগ্ধতায় জড়িয়ে পড়েছেণ চোখের পাপড়ি এক করতেও যেন ভুলে গেছেণ হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাধারণত অভ্যাস ছিল, প্রাকৃতিক প্রয়োজনে তিনি লোকালয় থেকে অনেক দুরে চলে যেতেন এই দিনও তেই হয়েছিল প্রাকৃতিক প্রয়োজনে তিনি লোকালয় থেকে দূরে চলে আসলেন কোনো সাহায্য করতে পারবেন এই প্রত্যাশায় হযরত আবদুল্রাহ ইবনে আব্বাস রা. পিছে পিছে এসেছেণ চুপিসারে প্রথমে হুযুর একটি গাছের নীচে গিয়ে জুতা মোজা খুলে মাটিতে রাখলেন তারপর আড়ালে গিয়ে প্রয়োজন সেরে আবার যখন মোজা পায়ে দিতে যাবেন, ঠিক তখণই এই অবাক করা কাণ্ড একটি মোজা নিয়ে পাখির এই উড়াউড়ি নির্বাক দুই দর্শকের নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকা 

হঠাৎ দেখা গেল পখির অনবরত ঝাকুনীতে মোটাটির ভিতর থেকে কি যেন মাটিতে পড়ে গেল মাটিতে পড়েও জিনিসটি নড়াচড়া করছিল কাছে যাওয়ার পর বুঝা গেল তা একটি কাল বিষাক্ত সাপ মাটিতে পড়েও সাপটি অসহ্য আক্রোশে ও রাগে ফোস ফোস করছিল তখণও ফনা তুলে ছোবল মারার ভাব করছিল আকারে ছোট হলেওসাপটি ছিল মারাত্মক বিষাক্ত যাকে দংশন করবে তারই জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দিবে দৃশ্যটি দেখে উভয়েই চমকে উঠরেন হযরত ইবনে আব্বাস রা, কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়অ জ্ঞাপনের ভাষায় উড়ন্ত পাখিটির দিকে তাকিয়ে রইলেন উড়তে উড়তে সেটি দিগন্ত রেখার হারিয়ে গেল হয়তো তা পাখিই ছিল অথবা অন্য কিছুতখণ হুযুর (সাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে লক্ষ্য করে বললেন, এটা আমার ওপর আল্লাহ পাকের অনেক বড় একটি এহসান তিনি এভাবে ব্যবস্থা না করলে হয়ত পরিনথি আরো খারাপ হতে পারত তিনি আরো বললেন, যারা আল্লাহকে এবং আল্লাহর রাসূলকে মানে, আখেরাতে যাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে তাদের কর্তব্য হলো, প্রতিবার মোজা পড়ার সময় মোজা ভালেঅ করে ঝেড়ে নেয়া (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মু’জিযা ৬৮ পৃ) বিষধর সাপঃ

আবু জেহেল দেখল, নজর ইবনে হারিস উলটা দিক থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসচে চেহারায় সন্ত্রস্ত ভাব, পদক্ষেপ এলোমেলো, ভীতির ছাপ চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম  ভয়ংকর কিছু যেন তাকে তাড়া করে নিয়ে আসছে উদভ্রান্তের মতো ছুটে ছুটে আসছে আর ঘাড় বাকিয়ে বার বার পিছন দিকে ফিরে ফিরে দেখছে ভয় ও আতঙ্কে তার অবস্থা শোচনীয় প্রাণ হাতে নিয়ে উর্ধশ্বাসে ছুটে আসছে কোন দিকে তাকানোর মত সামান্য হীতাহীত জ্ঞানটুকু তার নেই 

একেবারে কাছাকাছি আসার পর বিস্মিত আবু জেহেল হাতের ঈশারায় তাকে থামতে বলল তার গতি রুদ্ধ করে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার নজর! উদভ্রান্তের মতো এমন হন্তদন্ত হয়ে কোত্থেকে ছুটে আসছ? কাবিলার কোনো সমস্যা হয়েছে? গোত্রের ওপর কেউ হামলা করেছে? নাকি কোরো সাথে বিবাদে জড়িয়েছ? আবু জেহেলের ইশারায় গতি রুদ্ধ হলেও বুকের ধড়ফড়ানী ও আতঙ্কের কারণে তার মুখ দিয়ে স্বাভাবিক কোনো কথা বের হচ্ছে না হাপরের মতো বুক উঠানামা করছে সে শুধু হাতের ইশারায় পিছন দিকে দেখাচ্ছে আর রগ কাটা পশুর ন্যায় তার গলা দিয়ে গরগর আওয়াজ বের হচ্ছে অস্থির না হয়ে আবু জেহেল তাকে ধাতস্থ হওয়ার সময় দিল গলা ভেজানোরজন্য পানি এগিয়ে দিল সামান্য স্থির হওয়ার পরআবু জেহেল আবার বলল, নজর ব্যাপার কী? একটু খুলে বল তো?

সাপ! সাপ! সরদার! সাপ?

কোথায় সাপ! কি আবোল তাবোল বকছ? মাথা খারাপ এখানে সাপ আবসে কোত্থেকে?

মাথা খারাপ হয়নি সরদার ইয়া বড় বিষাক্ত সাপ ফনা তুলে হা করে  আসছে ঐ তো আমি পরিস্কার দেখছি ঐ তো সরদার! তুমিও তাকিয়ে দেখো 

বুঝতে পারছি, কোথাও কিছু ঘটেছে গোলমেলে ব্যাপার মনে হচ্ছে এসো আমার সাথে মাথা ঠাণ্ডা করে ঘটনা খুলে বল শুনি কি হয়েছে? আবু জেহেলের কথায় নজর ইবনে হারিস কিছুটা স্বস্তি পেল ততক্ষক্ষে তার শ্বাস-প্রশ্বাসও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে ভীতি ও সন্ত্রন্ত ভাবটাও কেটে গিয়ে কথাবার্তা ওআচরণে স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে উভয়ে গিয়ে একটি টিলার কাছে পাথরের উপর বসল কিছুটা আত্মস্থ হলে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে তার কাহিনী বলতে আরম্ভ করল

সরদার! আপনি তো জানেন, মুহাম্মদ যখণ নবী দাবি করেছে তখণ থেকেই আমি তার পিছনে লেগে আছি অষ্টপ্রহর আমার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান হলো, কিভাবে মুহাম্মদের অনিষ্ট করা যায় তার বিরুদ্ধে এমন কোনো কাজ নেই যা আমি করিনি যখনই সুযোগ পেয়েছি তাকে কষ্ট দিয়েছি সমস্যায় ফেলেছি সব সময় অপেক্ষায় থেকেছি  তাকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার মতো সুযোগ কখন হাতে এসে যায় আজ তেমনি এক সুযোগ পেয়েছিলাম 

সরদার! দেখতেই পারছেন গরমের তীব্রতা আজ কত বেশি মরুভুমির প্রতিটি তপ্ত বালুকণা থেকে যেন আগুনের হলকা বের হচ্ছে বাতাসের ছিটা ফোটাও নেই কোথাও গাছের পাতাও নড়ে না প্রতিটি মানুষ এমন কি পশু পাখিরও হাস-ফাস অবস্থা ভ্যাপসা গরমে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত এই গরমে দুপুরের দিকে মুহাম্মদের হয়তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন হয়ে ছিল আর আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, েএই সময় আপনার ভাতিজা লোকালয় ছেড়ে কোনো জঙ্গলে বা আড়ালে চলে যায় আজও তার গিয়েছিল ঘটনাচক্রে আমার নজরে পড়ে যায় তাকে জঙ্গল পাহাড়ের নির্জনে পৌঁছতে দেখে আমি ভাবলাম, মুহাম্মদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেওয়ার েএটাই মোক্ষম সুযোগ অকস্মাৎ পাওয়া এই সুযোগকে কী হেলায় নষ্ট করা যায়? তাই তাকে কাজে লাগালোন উদ্দেশ্যে আমিও তার পিছু নিলাম সুযোগ পেলেই মুহাম্মদকে হত্যা করে ফেলব পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলাম নিঃশব্দে হাতে ধারালো খঞ্জর কিছু বুঝে উঠার আগেই তার মেরুদন্ডবরাবর ঢুকিয়ে দিব তার জীবন লীলা সাঙ্গ করে দিব আমি যখন মুহাম্মদের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম তখন হঠাৎ তাকিয়ে দেখি কোত্থেকে যেন একটি বিষধর কাল সাপ আমার মাথার উপর ফনা তুলে দাড়িয়ে আছে এত বড় সাপ আমি জনমেও দিখিনি ছোবল মারার জন্য উদ্দত হয়ে ফনা তুলে ফুসফুস করছে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে সামনে পেয়ে আমার প্রাণবায়ূ বেরিয়ে যাওয়ার দশা হলো আরেকটি কদম সামনে বাড়ালেই দংশন করবে আর আমার মৃত্যু অবধারিত ভয়ে আতঙ্কে জমে গেলঅম আমার বুদ্ধি লোপ পেল মুহাম্মদকে কতল করার কথা আর মনেই থাকল না নিজের প্রাণ বাচাতে পড়িমড়ি করে উলটা পায়ে এমন ছুট লাগালাম যে, কোনো দিকে হুশ ছিল না আমার জীবনে এমন সাপ কখনো দেখিনি এখনো আমার বুক ধড়ফড় করছে লাত-উযযার দয়ার প্রাণ নিয়ে কোনোরকমে পালিয়ে এসেছি আপনি না থামালে হয়তো এখনো আমার আতঙ্কে কাটত না সরদার! আপনিই বলুন, আমার মতো অবস্থায় পড়লে কোনো মানুষের কি হুশ জ্ঞান থাকার কথা আবু জেহেল বাকরুদ্ধ দৃষ্টিতে শুধু ফেল করে তাকিয়ে রইল রাসূর (সাঃ) এর মু’জিযা ৩১পৃ)


إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ আল্লাহ তার উপর নির্ভরকারীদের ভাল বাসেন সূরা আলে এমরান ১৫৯

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। সূরা বাকারা ১৯০ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ আর আল্লাহ অত্যাচারীদেরকে ভালবাসেন না। সূরা আল এমরান ৫৭

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ নিশ্চয়ই আল্লাহ ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না। সূরা আনফাল ৫৮

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়। সূরা নিসা ১০৭

মুহিনীর বিশ্বাসঃ ১৯৪৭ সাল দু ভাগে বিভক্ত হয় ভারতীয় উপমহাদেশ একটি নাম পাকিস্থান, অপরটির নাম ভারত ভাগ হবার পর মুসলমানরা পাকিস্থানে হিজরত করতে থাকে হিন্দুরা জমা হতে থাক েভারতে বিভক্তির পূর্বে কিন্তু হিন্দু মুসলিম একত্রে বসবাস করত পরস্পরের মধ্যে ছিল পিয়ার মহব্বত দেশ বিভাগের পর যেন উভয়ের মনও ভাগ হয়ে গেল উঠে পড়ে লে গেল নিজ নিজ এলাকা থেকে একে অপরকে বিতাড়িত করতে আমি িএখন যে কাহিনী লিখতে বসেছি সে কাহিনীটি পাকিস্তানের সিন্দ এলাকার সিন্দ একটি ছোট শহর শহরেই বাস করতে ছোট একটি হিন্তু পরিবার পরিবারের সদম্য মাত্র দু জন স্বামী ও স্ত্রী িএখানো তাদের কোনো ছেলে মেয়ে হয়নি স্বামীর নাম নন্দলাল স্ত্রীর নাম মুহিনী তাদের প্রতিবেশি ছিল মুসলমান দুটো পরিবারের মধ্যে ছিল পরস্পরে সীসাঢালা বন্ধন কোথাও এতটুকু ফারাক নেই, নেই, কোনো কালিমা আমোদে আহলাদে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে তাধের সেকেন্ড মিনিট ঘন্টা দিন, সপ্তাহ মাস ও বছর গুলো কাট ছিল কৃত্রিমতার এতটুকু ছাপ নেই কোথাও নিরেট খাটি আর নিখাদ ভালবাসার মাঝেই পরিবার দুটো পাশাপাশি বসবোস করছে যেন একই পিতার ঔরসে জন্ম গ্রহন করছে দুটো সন্তান এভাবেই কেটে যায় তাদের বেশ কয়েকটি বছর প্রতিবেশি মুসলমান লোকটির নাম আহমদ বয়সে নন্দলালের চেয়ে একটু বড় নন্দলাল ও তার স্ত্রী তাকে ভাই বলেই সম্বোধন করত সম্মান করত বড় ভাইয়ের মতই কিন্তু আহমদ শেষ পযন্ত তার মযাদা রক্ষা করতে পারেনি দিতে পারেনি তাদেরকে ছোট ভাই ও বোনের মযাদা আসলে মানুষের মধ্যে দীনদারী না থাকলে আল্লাহর ভয় অন্তরে পোখতা হয়ে না বসলে, যে কোনো মুহূর্তে সে বিপদগামী হতে পারে,লিপ্ত হয়ে যেতে পারে মহা অন্যায়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে পারে বহু দিনেরলালিত বিশ্বাস ও আস্থাকে আহমদের বেলায়ও ব্যাপারটি তাই হয়েছে আহমদ নামে মুসলমান হলেও কাজে মুসলমান ছিল না ছিল না তার মধ্যে মুসলমানিত্বের কোনো চিহ্ন সে যেমন খোদার ভয়ে ভীত ছিল না , তেমনি পরওয়া করত না কোনো মানুষকেও যখন যা ইচ্ছা তাই করত সে তবে অন্যদের সাথে যাই করুক না কেন, নন্দলাল পরিবারের সাথে এখনো সে কোনো অসদাচরণ করেনি সম্পাদন করেনি এমন কোনো কাজ যদ্বারা তার উপর থেকে আস্থা উঠে যেতে পারে নড়বড় হয়ে যেতে পারে বিশ্বাসের দেয়াল একদিন নন্দলাল প্রতিবেশি আহমদকে বলল, ভই! বাধ্য হয়েই আমাদেরকে চলে যেতে হচ্ছে এখান থেকে বুঝতেই তো পারছেণ এ দেশ এ মাটি ছেড়ে চলে যেতে মন সায় দিচ্ছে না এ মাটিতেই আমাদের জন্ম এখানেই বড়হয়েছি আমরা এ স্থান এখন ত্যাগই বা করি কিভাবে? কিন্তু কি করব বলুন নিয়তিন পরিহাস পরিস্থিতি দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে একদিন যে মুসলমানরা বিগড়ে গিয়ে আমাদের ক্ষতি সাধন করবে না তারই গ্যারান্টি কি বলুন? আহমদ বলল নন্দ কিেআবোল তাবোল বকছ তুমি? আমরা বেচে থাকতে তোমাদের গায়ে ফুলের টোকা পড়বে, এটা তোমরা ভাবেলে কেমন করে? নন্দলালের মনে ভূত ঢুকেছে তােই আহমদের কথায় সে আশ্বস্ত হতে পারে না দিন দিন তাকে মনে ভয় গ্রাস করতে থাকে পাকাপোক্ত করতে থাকতে ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত মুহিনীকে বলে রাখে তুমি তৈরি থেকো যে কোনো দিন আমরা রওয়ানা হতে পারি ভারতের উদ্দেশ্যে এরপর অনেকদিন চলে যায় হঠাৎ একদিন নন্দলালের নিকটাত্মীয় এক ভাইয়ের চিঠি আসে চিঠিতে সে লিখেছে, আমরা ভারতে চলে যাওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছি, তোমাদের খবর কি? তোমরাও প্রস্তুত থাকলে বলো, এক সাথেই পাড়ি জমাই চিঠি পেয়ে নন্দলাল খুশি হয় সে আহমদ ও তার স্ত্রীকে চিঠিটা দেখায় জানতে চায় তাদের অভিমত আহমদ চলে ঘরের আসবাবপত্র প্রস্তুত করে ফেল তারপর তোমার ভাইয়ের কাছে গিয়ে সরাসরি আলাপ করে যাত্রার দিনক্ষন ঠিক করে এসো প্রস্তাবটি নন্দালালের মন মতই হয়েছে তাই স্ত্রী মুহিনীকে সবকিচু রেডি করতে বলে সকালে সে ভাইয়ের সাথে দেখাকরতে রওয়ানা হয় নন্দলালের স্ত্রী ছিল অস্পরা সুন্দরী একহারা গড়ন লম্বা চিকন নাক আপেলের সত গন্ডদ্বয় কাজল টানা চোখ ভ্রু দুটো ধনুকেরমত বাকা জায়তুনি রং দুধে আলতা মেশানো যেন পচিশ ছাব্বিশ বছর বসয় ভরা যৌবন তার বেতেন ন্যায় টানটান শরীর কেউ দেখে ভাবতেই পারবে না যে, তার বয়স ঘোল বছরের বেশি হয়েছে মহান আল্লাহর আপন হস্তে যেন সৃষ্টি করেছেণ িএ মেয়েটিকে সাক্ষাত হুর বালা আর কি তার দিকে দৃষ্টি পড়লে চোখ ফিরিয়ে নেয় এসম সাধ্য ক জনের আছে ? মুহিনী এখণ একা বাসায় আর কেউ নেই নন্দালাল বলে গেছে সন্ধ্যায়র আগেই সে ফিরবে এ সুযোগে অহমদের পশুত্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সে অনেকদিন যাবত এ রমনীকে দেখে আসছে কিন্তু কোনো দিন এতটুকুন ইঙ্গিত করতে সাহস হয়নি তার না বলা কথাগুলো মনের মধ্যে গুমড়ে মরছিল হিস্মত হয়নি প্রেমি নিবেদন করতে সাহস হয়নি ভাল লাগার কথাগুলো জানাতে সুযোগের সন্ধানে ছিল আহমদচাতক পাখির মত তাকিয়ে ছিল সুযোগের অপেক্ষায় এটাই তো মোক্ষম সময় এ সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা যায় না নন্দলাল চলে যাওয়ার ঘন্টা তিনেক পরেই আহমদ তার বাসায় এসে হাজির সঙ্গে টাঙ্গা নিয়ে এসেছে দস্তুর মত হাপাচ্ছিল ইবলিসটা ভেতর থেকে নন্দলালের স্ত্রী মুহিনী জিজ্ঞেস করল, কে ভাই, কি কাজে এসেছেণ? জবাবে আহমদ বলল, ভাবী! তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও অলংকার, মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী নগদ অর্থসম্পদ সাথে নিতে ভূল হয় না যেন শিগগির বের হও নন্দলাল পাচটার গাড়িতে আসছে তার সাথেই আসছে তোমার ভাইসহ সবাই তারা একত্রে একই গাড়িতে চলে যাবে বলে খবর পাঠিয়েছে এমুখো হবে না তারা একটু পূর্বে তাদের পাঠানো এক লোক এ খবর দিয়ে গেছে লোকটি এও বলেছে যে, আমার যত কাজই থাক না কেন, আমি যেন তোমাকে ষ্টেশনে পৌছে দেই তাই আমি সব কাজকর্ম ছেড়ে তোমাকে তাদের কাছে পৌছে দিয়ে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি নন্দলালের স্ত্রীর কাছে আহমদ অনেক দিনের চেনা মানুষ তােই আহমদের কথায় সন্দেহ-সংশয়েল বিন্দু মাত্র উদ্রেক হয়নি তার মনে তাছাড়া ভারত যাওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছিল প্রতিদিন মুহিনী ভাবল, সত্যিই তার স্বামী তাকে আহমদ ভাইয়ের সাথে যাওয়ার জন্য খবর দিয়েছে মুহিনী দ্রুত তৈরি হয়ে নেয় অত্যধিক হিফাযতের জন্য স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিষগুলো আহমদের হাতে সোপর্দ করে তারপর বলে ভাইজান! চলুন আমি প্রস্তুত আহমদ মুহিনীকে টাঙ্গায় উঠায় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র গুছিয়ে রাখে অতপর চালককে উদ্দেশ্য করে বলে, চলো ভাই মুহিনীদের বাড়ি থেকে ষ্টেশন বেশি দূরে ছিল না অনেকক্ষণ ধরে টাঙ্গা চলছে এতক্ষণে ষ্টেশন ছাড়িয়ে বহুদূল চলে যাওয়ার কথা কিন্তু টাঙ্গা থাকছে না অবিরাম গতিতে ছুটে চলছে তাও আবার অন্য পথে এতে মুহিনীর কিছুটা সন্দেহ হয় সে আহমদকে লক্ষ্য করে বলে, ভাইজান! আমরা কোথায় যাচ্ছি? এটা তো ষ্টেশন রোজ নয় ধূর্ত আহমদ জবাব দেয় ভাবী! চিন্তার কোনো কারণ নেই আমরা জঙ্গলের পথ ধরে এগিয়ে চলছি তোমরা কখন, কোথায় চলে গেছ একথা কেউই যেন টের না পায়, এ জন্যেই এ ব্যবস্থা আহমদের কথা শুনে মুহিনী চুপ হয়ে যায় সে আর কথা বাড়ায় না নিরবে ভগবানকে ডাকতে থাকে খানিক পর টাঙ্গা থেমে যায় চারিদিকে গভীর অরন্য মুহিনী ভয়ে কাপতে থাকে েএরই মধ্যে ভেসে আসে পাপিষ্ঠ আহমদের গলার আওয়াজ মুহিনী প্রাণ আমার নিচে নেমে এসো আর কত সময় এভাবে টাঙ্গায় বসে থাকবে? ভুবন পাগল করা রূপ যৌবন দিয়ে আমার হৃদয় মনকে তুমি সিক্ত কর সেই কবে থেকে তোমাকে কাছে পাওয়ার এক বুক তৃষ্ণা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আহমদের কথায় মুহিনীর হৃদপিন্ড থরথর করে কেপে উঠল মুখমন্ডলে ফুটে উঠল িএকটা উৎকন্ঠার ভাব কিছুক্ষণ তার মুখ দিয়ে কোনো কথা সরলো না তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে মনের সকল সাহস একত্রিত করে বলল, ভাই! আপনি কি লাজ শরমের মাথা খেয়েছেণ? আমি তো আপনাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছি আপনিও আমাকে গ্রহণ করেছেণ বোন হিসেবে আমাদের সম্পর্ক এখণ ভাই বোনের মনে রাখবেন, জন্মের চাইতে ধর্মের মূল্য অনেক বেশি আমার একান্ত অনুরোধ, আপনি আমাদের পবিত্র সম্পর্কের কথাটি একটু ভাবুন লজ্জা-শরমের কথাটি একটু চিন্তা করুন সব অরন্যে রোদন আর কি! আহমদের উপর তো আগেই শয়তান সাওয়ার হয়েছে সে মুহিনীর কথায় মোটেও কর্ণপাত করেনি বরং ঙউল্টো তাকে নিজের দিকে টানতে থাকে সেই সঙ্গে বলতে থাকে রানী আমার পবিত্র সম্পর্ক তো পরেও দেখা যাবে এ সম্পর্ক তো মূলতঃ প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় এখণ তুমি ক্ষত বিক্ষথ আমার এ তৃষ্ণার্ত হৃদয়কে উপশম কর এই নেশাসক্ত আখিযুগলে শরাব পান করিয়ে আমাকে শান্তি দাও এ ধরণের সুযোগ খুব কম হয় মুহিনী আমি চািই না এ সুযোগকে তুমি সম্পর্কের দোহাই দিয়ে পন্ড করে দাও আমি চািই, এ সুযোগের সদ্ব্যবহার তুমিও কর, আমাকেও করতে দাও উপকৃত তুমিও হও, আমাকেও কর এসো, কাছে েএসো আরো কাছে এসো মুহিনীর মুখ এতক্ষণে মরার মুখের মত বিবর্ণ ফ্যাকাশে হ উঠেছে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গুলির আঘাত খাওয়অ পাখির ন্যায় ছটফঠ করছিল সে করুন চোখে তাকাচ্ছে মুহিনী আহমদের মুখের দিকে তার দু গন্ড বেয়ে ঝরে পড়ছে উত্তপ্ত অশ্রু আহমদ মুহিনীর দিকে তাকিয়ে হাসে তাকে আবার টেনে নিতে চায় মুহিনী ঝটপট পিছনে সরে যায় সাহায্যের জন্য তাকায় টাঙ্গা চালকের দিকে কিন্তু সেখান থেকে হতাশ হওয়া ছাড়া কিছুই পেল না সে মনে হলো, সেও আহমদেরই প্রতিচ্ছবি সেও কিছু ভাগ পেতে চায় চিৎকার দিতে চাইল মুহিনী কিন্তু পারল না ভয়ে কথা বের হচ্ছিল না তার মুখ দিয়ে তবুও শেষ চেষ্টা হিসেবে উঠে দাড়ায় সে দু হাত জোড় করে বলে, ভাই! আল্লাহ দোহাই লাগে আমার সর্বনাশ করবেন না আমি আপনাকে আপনাদের প্রিয় নবীর দোহাই দিয়েও বলছি, আমার ইজ্জত কেড়ে নিবেন না আমার যত টাকা পয়সা আছে যত অলংকার ও মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী আছে, সব আপনি নিয়ে যান এসব টাকা পয়সা ও অলংকারাদিদিয়ে আপনি আমার চেয়ের অধিদ সুন্দরী রমনীর পাণি গ্রহণ করতে পারবেন তাদের পাণি গ্রহণ করে আপনি আপনার জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করুন তবুও িএকটু করুনা করুন আমার প্রতি মুক্তি দিন আমাকে সারা জীবন আমি আপনার িএ করুনার কথা সস্মণ রাখব আহমদ বলল, এসব ধন দৌলত তো আমারই সেই সাথে তুমিও আমার বুঝলে প্রিয়া! সোজা পথে বাগে না এলে বুঝতেই পারছ, আমাকে বাধ্য হয়ে বক্র পথ বেছে নিতে হবে এবার শেষ বারের মত বল, তোমার অভিপ্রায় কি মুহিনী নির্বাক কোনো কথা সে বলে না বলতে পারে না মনে হয় যেন মাটির পুতুল দাড়িয়ে আছে আর দেরি সহ্য হচ্ছে না আহমদের সে জাপটে ধরে মুহিনীকে মিশিয়ে নেয় বুকের সাথে েযবেহ করা পশুর মত তড়পাতে থাকে মেয়েটি প্রাণপন চেষ্টা চালায় আহমদরে বাহুবেষ্টন থেকে মুক্ত হতে কিন্তু সব চেষ্টািই তার বৃথা যায় পরাজিত হয় আহমদের পেশী শক্তির কাছে আহমদ কোলে তুলে নেয় তাকে রওয়ানা হয় পার্শ্বস্থ টিলার পিছনের দিকে বেচারী মুহিনী শত ফন্দি এটে ও আহমদের সাথে কুলিয়ে উঠতেপারছে না কি-ই বা করতে পারে সে এক দুর্বল নারী, বলিষ্ঠ এক পুরুষের সাথে কিভাবেই বা কুলিয়ে উঠতে পারে তাই শেষ পযন্ত উপায়ান্তর না দেখে সে তার দাতগুলো সজোরে বসিয়ে দেয় আহমদের কাধের উপর ব্যাস, আর কি মানবরূপী হায়েনাটি ব্যথায় করিয়ে উঠে শিথিল হয়ে আসে তার বাহুবন্ধন এ সুযোগে মুহিনী তার বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেয় আহমদের নাগালের বাইরে যাবার জন্য দৌড়াতে থাকে শরীরের সর্ব শক্তি একত্রিত করে আহমদ মিনিট দুয়েক স্বীয় কাধ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারপর শিকারী হাতছাড়া হয়ে যায় কিনা, সেজন্য মুহিনীর পিছনে পিছনে ছুটতে থাকে পাগলের মত ছুটতে ছুটতে এক সময় ধরেও ফেরে তাকে মুহিনী আবারো তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দোহাই দিয়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে মিনতি জানায় আহমদ জবাব দেয়, কোনো কাজই আল্লাহর এবং তার রাসূলের ইচ্ছা ব্যতিরেকে সংঘটিতে হতে পারে না এ সুবর্ণ সুযোগ ও আমি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতেই পেয়েছি মুহিনী হিংস্র লোকটির হাত থেকে নিস্কৃতি লাভের অন্য কোনো পথ খুজে পাচ্ছিল না চিন্তা করছিল সে হঠাৎ 7তার হাত গিয়ে পড়ে গলায় হাতে চলে আসে একটি তাবিজ সোনার মাদুলি দিয়ে বন্দী তাবিজটি সে তাবিজটি খুলে হাতে নেয় আহমদে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, দেখো এ তাবিজের মধ্যে তোমাদের পবিত্র গ্রস্থ কুরআন মজিদের কটি আয়াত সংরক্ষিত আছে িএটা তো তোমাদেরই পবিত্র কুরআন যা াকি তোমাদের সংবিধান, মুক্তিসনদ আমিও ভক্তির সঙ্গে গলায় রেখেছি কুরআনের আয়াতগুলো আমি যদিও হিন্দু তথাপি আমার বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ আমাকে িএর বিনিময়ে এর উসি লায় যাবতীয় বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন লক্ষ্মী ভােইটি আমার তুমি আমার ইজ্জত লুটে নিও না আমার সতিত্বের উপর কালিমা লেপন করো না সারা জীবনে সঞ্চিত সম্পদ তুমি এক ঝাপটায় ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলো না দোহাই তোমার এ আয়াতগুলোর সস্মানার্থে হলেও তুমি আমাকে পরিত্রাণ দাও আহমদ তাবিজটি তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় অবজ্ঞা ভরে উহাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুহূর্তকাল ধেকে নেয় তারপর তাচ্ছিলোর সঙ্গে নিক্ষেপ করে দূরে বহু দূরে বলে, আয়াতের সম্মান সব সময়ই করা যাবে এ মূহ ূর্তে েএটা দূরে থাকাই ভাল আর তোমার ভক্তি যদি কুরআনের উপর এত বেশিই হয়ে থাকে তবে দেখা যাক, উহা তোমার কোনো উপকারে আসে কিনা এবলে সে মুহিনীকে আবার জড়িয়ে ধরে উস্মাদের ন্যায় ছিড়তে থাকে দেহের বস্ত্রগুলো এক পযায়ে মুহিনী বিবস্ত্র হয়ে যায় অবশিস্ট থাকে না তার দেহে এক ইঞ্চি কাপড়ও জন্মদিনের পোষাক পরা মেয়েটি ভাবছে, জমিন কেনো ফেটে যায় না এর চেয়ে জীবন্ত কবরই তো শ্রেয় আল্লাহ কি এসব একেবারেই দেখছেণ না? আহমদ তার অপবিত্র বাসনা চরিতার্থ করতে মুহিনীর জীবনের গচ্ছিত সম্পদ ধ্বংস করতে উদ্যত হয় ম ুহিনীও আয়াতের উসিলা দিয়ে ডাকতে থাকে আল্লাহকে এভাবে অতিবাহিত হয় ক য়েক মূহ ূর্ত এরপর হঠাৎ এক গগনবিদারী চিৎকার বেরিয়ে আসে আহমদের কণ্ট চিরে সাথে সাথে মুহিনীর গায়ের উপর ঢলে পড়ে তার বিশাল দেহ মুহিনী বিস্ময়ে হতবাক কিভাবে কি হলো, প্রথমে সে বুঝতেই পারেনি পরে দেখল তিনফুট লম্বা একটা নিকষ কালো সাপ আহমদের পায়ের গোড়ালতে কাড়দে ধরে রেখেছে তার পায়ের গোছা বেয়ে অঝোরে ঝরছে কালো জামের রসের মত বিষাক্ত শোনিতধারা অল্প সময়ের মধ্যেই আহমদ তড়পাতে তড়পাতে শান্ত হয়ে যায় মৃত্যুর সাথে সাথে সাপাটি তাকে ছেড়ে দেয় েএকে বেকে চলে যায় অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের সামনে থেকে ভয়ঙ্কর েএ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছিল টাঙ্গীওয়ালা ছুটে আসে সে যে তাবিজটি আহমদ ছুড়ে ফেলেছে, তিনি স্তর্পণে তুলে নেয় চুমু খায় আখিযুগলে স্পর্শ করায় শ্রদ্ধার আতিশয্যে গদগদ হয়ে পড়ে েএরপর টাঙ্গাওয়ালা হুমড়ি খেয়ে পড়ে মুহিনীর পায়ে বলতে থাকে মুহিনী আজ থেকে তুমি আমার বোন তুমি তোমার পাপিষ্ঠ ভাইকে ক্ষমা কর ক্ষমা কর আমাকেও এতটুকু বলে সে কাদতে কাদতে স্বীয় পাগড়ীখানা মুহিনীর গায়ে জড়িয়ে দেয় ঢেকে দেয় দেহের স্পর্শকাতর স্থানগুলো তারপর যথাযোগ্য মযাদায় তাকে নিয়ে টাঙ্গায় উঠায় চলতে থাকে বাসার দিকে টাঙ্গাওয়ালার নাম ছিল আবদুল্লাহ পথিমধ্যে সে মুহিনীর কাছে তাবিজটির মাহাত্ম্য জানতে চায় মুহিনী বলে দীর্ঘ সাত বছর ধরে আমার কোনো সন্তানাদি হচ্ছে না সে জন্যে আমার এক মুসলামান সখি এ তাবিজটি আমাকে এনে দেয় তাবিজের মধ্যে েএকটি হাতের চিহ্ন রয়েছে সখি বলেছে তাতে সূরা ইয়াসিন ছাড়াও লিখা রয়েছে তোমাদের পবিত্র কুরআনের আরো পাচটি আয়াত আজ আমার বুঝে এসেছে, কুরআন কত মূল্যবান গ্রস্থ কত অসীম শক্তি রয়েছে তাকে কুরআনের বদৌলতে আল্লাহ আজ আমার সম্ভ্রম রক্ষা করেছেণ সত্যিই এটা অলৌকিক ঘটনা আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম, বিশ্বের কোনো শক্তিই হিংস্র জানোয়ারটির হাত থেকে আমাকে বাচাতে পারবে না কিন্তু যখণই সে কুরআনের সাথে বেয়াদবী করল, কুরআনের আয়াত সম্বলিত তাবিজখানাকে তাচ্ছিল্যের সাথে নিক্ষেপ করল অনেক দূর; আমার ম নে তখণই এ নিশ্চিত ধারণা জন্ম নিল যে, পাপিষ্ঠের উপর এখনই খোদায়ী গজব নেমে আসবে নেমে আসবে কঠিন শাস্তি ধ্বংস তার অনিবায সত্যি কথা বলতে কি, এ চিন্তাটি আমার মাথায় আসার সাথে সাথেই আহমদের ভবলীলা সঙ্গ হলো বিদায় নিল সে এ ধরাপৃষ্ঠ থেকে চিরকালের মত কথাগুলো বলতে বলতে তারা বাড়িপৌছে যায় এদিকে পাচটার গাড়িতে নন্দলাল বাড়িতে পৌছে ঘরের মধ্যে সবকিছু খা খা করতে দেখে বিস্মিত হয় এক অজানা আশংকায় তার অন্তর কেপে উঠে পরে েএদিক সেদিক খবর নিয়ে জানতে পারে, মুহিনী আহমদের সাথে টাঙ্গায় বেরিয়েছে নন্দলাল হিসাব মেলাতে পারে না তার বুঝে আসে না যে, মুহিনী আহমদের সাথে কোথায় গেল? কেনই বা গেল? এসব ভাবতে ভাবতে আহমদের বাসায় পৌছে যায় সে বাসা থেকে আহমদের স্ত্রী জানাল, আহমদ সেই যে সকালে বেরিয়েছে এখনো ফেরেনি সীমাহীন দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকে নন্দলার খবর নিতে থাকে বিভিন্ন জায়গায় জিজ্ঞেস করতে থাকে, পরিচিত অপরিচিত সবােইকে কিন্তু সঠিক কোনো খবর কেউ দিতে পারে না বলতে পারে না এরা কোথায় গেছে এমন করতে ক র তে রাত গবীর হয়ে যায় নন্দলালের দুশ্চিন্তা পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দুশ্চিন্তার পাহাড় মাথায় নিয়ে নন্দলাল ঘরে বসে আছে হঠাৎ মুহিনী ও আবদুল্লাহ ঘরে প্রবেশ করে তারা নন্দলালকে ঘটনার আদ্যোপাস্ত জানায় কাহিনী শুনে নন্দলাল ও আশ্চাযন্বিত হয় হৃদয় জগতে বইতে থাকে এক নব পরিবর্তনের ছোয়া পরের দিন তাদের ভারত যাত্রার ইচ্ছা পাল্টে যায় কুরআনের মুজিযা দেখে মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, কুরআনই একমাত্র আসমানী গ্রস্থ, যা মানুষকে মুক্তির দিশা দিতে পারে পৌছে দিতে পারে পূর্ণ সফলতার দ্বারপ্রান্তে সুতরাং দেরি না করে সেদিনই তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ধন্য হয় এগিয়ে চলে জান্নাতের পথ ধরে সন্তানের বড় সখ ছিল তাদের ইসলাম গ্রহণর পর তাদের সে আশাও পূরণ হয় আজ তারা চার চারটি সন্তানের জনক জননী তারা আজ সুখের জীবন যাপন করছে শান্তিই এখণ তাদের জীবনের প্রধান সহচর কোথাও নেই এতটুকুন কালিমা নন্দলাল ও মুহিনী মুহাম্মদ আলূ ও আয়েশা না ধারণ করে পরম সুখে কাটিয়ে দিচ্ছে তাদের জীবনের বাকী সময়গুলেঅ (সুত্র- আলোচ্য ঘটনাটি পাকিস্তানের লেখক জবান তানভীন আহমদ খান এর লেখা থেকে অনুদিত )( যে গল্পে মানুষ গড়ে ২৩পৃ) সাদ্দাদের বিপদের ঘটনা ফেরাউন পা উপরে রেখে আল্লাহর কাছে সাহায্য

সুন্নাতের গুরুত্বসম্পাদনা

فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

নামাযের ক্ষেত্রে অনুসরন কর দারীর ক্ষেত্রে আমাকে অনুসরন কর রাজনীতির ক্ষেত্রে অনুসরন কর বিচারের ক্ষেত্রে অনুসরন কর যেহাদের ক্ষেত্রে অনুসরন কর নেতার ক্ষেত্রে অনুসরন কর


নামাযের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসরন না করলে সে নামায আল্লাহ কবুল করবেন না হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেখানে বসা ছিলেন। অতঃপর লোকটি নামায পড়ল। নামায শেষে এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম করল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেনঃ ফিরে যাও আবার নামায পড়। কেননা তুমি নামায পড়নি। সে ফিরে গিয়ে আবার নামায পড়ে পুনরায় কাচে এসে নবীজীকে সালাম করল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে আবার বললেনঃফিরে যাও আবার নামায পড়। তুমি নামায পড়নি। এভাবে লোকটি তিন বার নামায পড়া শেষে আরয করলঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ যখন নামাযে দাঁড়াবে প্রথমে তাকবীর বলবে। অতঃপর তোমার সাধ্যানুযায়ী কুরআন পড়। তার পর রুকু কর এবং ধীর স্থিরভাবে রুকু করে সোজা হয়ে দাঁড়াও। অতঃপর সিজদা কর এবং সিজদায় গিয়ে স্থির হও। অতঃপর সোজা হয়ে বস। আবার সিজাদ কর এবং সিজদায় গিয়ে স্থির হও। এভাবে বাকী রাকআতও সম্পন্ন করে নামায শেষ কর।-(বুখারী মুসলিম) (কবীরা গুনাহ ৩১ পৃষ্ঠা) nhiZ nvmvb (ivt) †_‡K ewb©Z wZwb e‡jb ûRyi cvK (mvt) Bikv` K‡i‡Qb Avwg wK †Zvgv‡`i‡K ej‡ev †h `ywbqv‡Z wbK…óZg †Pvi †K ? mvnvev‡q wKivg AviR Ki‡jb †n Avj¬vni ivm~j! Aek¨B Avcwb Avgv‡`i‡K GK_v e‡j w`b| ûRyi cvK (mvt) ej‡jb me †P‡q wbK„óZg †Pvi n‡”Q H e¨w³ †h bvgv‡h Pzwi K‡i mvnvexMb AviR Ki‡jb bvgv‡h Pzwi Kiv nq wK fv‡e Avj¬vni ivm~j (mvt) ej‡jb i“Kz I wmR`v cwic~b© fv‡e Av`vq bv KivB bvgv‡h Pzwi Kiv| (†gvKvkvKvZzj Kzjye 1/108) জামাতের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসরন না করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে দোযখে দিবেন واقيمو الصلوة واتوا الزكوة واركعوامع الركعين ‡Zvgiv bvgvh cÖwZôv Ki Ges hvKvZ `vI Ges hviv i“Ky K‡i Zv‡`i mv‡_ i“Kz Ki|

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, এক লোক সারাদিন রোযা রাখে এবং সারা রাত্র নামায পড়ে, কিন্তু ফরজ নামাযের জামাআতে শরীক হয়না, তার কি ফয়সালা? তিনি বললেনঃ এ অবস্থায় মারা গেলে সে দোযখে যাবে।(তিরমিযী) (কবীরা গুনাহ ৩৫ পৃষ্ঠা) উম্মে মাকতুম (রাঃ) রাসূল(সাঃ)-এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মদীনায় বিভিন্ন প্রকার হিংস্র প্রাণী রয়েছে। আমি এক অন্ধ। আমার বাড়ীও বেশ দূরে। আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মত কেউ নেই। আমি কি বাড়ীতে নামায পড়তে পারি? তিনি বললেনঃ তুমি কি আযান শুনতে পাও? তিনি জবাব দিলেনঃ হ্যাঁ। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তাহলে তুমি জবাব দেবে, অর্থাৎ মসজিদে যাবে। তোমাকে মুক্তি দেয়ার কোন পথ নেই। (আবুদাউদ) (কবীরা গুনাহ ৩৫ পৃষ্ঠা)

ليس صلاة اثقل على المنافقين من الفجر والعشاء ولو يعلمون ما فيهما لاتوهما ولو حبوا لقد هممت ان امر المؤذن فيقيم ثم امر رجلا يوم الناس ثم اخذ شعلا من نار فاحرق على من لايخرج الى الصلوة بعد (متفق عليه) gybvwdK‡`i wbKU dhi I Bkvi bvgvh A‡c¶v AwaK Kó avয়K I `ytmva¨ KvR Avi wKQyই bvB wKš‘ G`yB Iqv³ bvgv‡hi g‡a¨ wK mIqve ও বরকত Ges cyi“®‹I wbw`©ó K‡i ivLv n‡q‡Q Zv hw` Zvov RvbZ Zvn‡j Zvov Gbvgv‡h Aek¨B Dcw¯’Z nZ †m Rb¨ nvUz‡Z fi w`‡q I nvgv¸wo w`‡q Avm‡Z n‡jI Zv‡Z Zvov wcQcv nZ bv। wZwb e‡jb Avgvi B‡”Q nq যে, †Kvb w`b gyqvhwhb‡K Rvgvqv‡Zi BKvgZ w`‡Z wb‡`©k †`B Ges Avgvi cwie‡Z Aci KvI‡K BgvgwZ Kivi `vqZ¡ w`‡q Avwg Av¸‡bi gkvj nv‡Z wb‡q †ei nq Ges যারা Avhvb ও GKvgZ nIqvi ciI Rvgv‡Z nvwRi n‡ebv Zv‡`রmn Zv‡`i Ni¸wj R¡vwj‡q †`B|



حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ ‏"‏ أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلاَئِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لاَبْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلاَةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ وَحْدَهُ وَصَلاَتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى ‏"‏ ‏.



৫৫৪. হাফস ইবনু উমার ..... উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি জামাআতে হাযির হয়েছে? সাহাবীরা বলেন, না। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি নামাযে উপস্থিত হয়েছে? তারা বলেন, না। তিনি বলেনঃ এই দুই সময়ের (ফজর ও এশার) নামায আদায় করা মুনাফিকদের জন্য কষ্টকর। যদি তোমরা এই দুই ওয়াক্তের নামাযের ফযীলাত সম্পর্কে অবহিত থাকতে, তবে অবশ্যই তোমরা এই দুই সময়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাআতে হাযির হতে এবং জামাআতের প্রথম লাইনটি ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। যদি তোমরা এর ফযীলত সম্পর্কে অবগত থাকতে তবে তোমরা প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয়ই মানুষের একাকী নামায হতে দুইজনের একত্রে নামায আদায় করা অধিক উত্তম এবং দুইজনের একত্রে নামায অপেক্ষা তিনজনের একত্রে নামায আদায় করা আরও অধিক উত্তম। এর অধিক জামাআতে যতই লোক বেশী হবে, ততই তা মহান আল্লাহর নিকট অধিক পছ্ন্দনীয়। (নাসাঈ, ইবনু মাজাহ)।



খাবার ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসরন করলে আল্লাহ ভাল বেসে সুস্থ রাখবেন {চিকিৎসা করা সুন্নাত,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, খলীফা হারুর রশীদ ও চিকিৎসকগণঃ বর্ণিত আছে যে, খলীফা হারুন রশীদ চারজন চিকিৎসক ভারতবর্ষ, রোম, ইরাক এবং আবিসিনিয়া দেশ থেকে সংগ্রহ করে তাদেরকে বললেন, আপনাদের মধ্যে প্রত্যেকই আমাকে এমন ঔষধ দেবেন, যাতে আমার আর কোন রোগ না হয়

ভারতবর্ষের চিকিৎসক বলল, যে ঔষধ সেবন করলে আর কোন রোগ হবে না আমার নিকট সে ঔষধ হর,‘‘ কাল আহলীজ’’ ইরাকের চিকিৎসক বলল, তা শ্বেত বর্ণেন হেলেঞ্চার দানা রোমের চিকিৎসক বলল, আমার নিকট তা হল গরম পানি হাবসার চিকিৎসক সর্বেপেক্ষা অভিজ্ঞ ছিল সে বলল, আহলীজ ঔষকে পাকস্থালী সংকীর্ণ হয়ে যায় এটাও একপ্রকার রোগ জন্মায়, তারপর হেলেঞ্চার দানা পাকস্থালীকে নরম করে এবং এটাও এক প্রকার রোগ জন্মায় গরম পানিও পাকস্থলীকে নরম করে এবং এটাও একটা ব্যাধি জন্মান তখন অন্যান্য চিকিৎসকগণ তার নিকট জিজ্ঞেস করল, তাহলে আপনার নিকট খলীফার জন্য কি ঔষধ আছে


তখন আবিসিনিয়ান চিকিৎসব বলল, আমার নিকট খলীফার জন্য ঔষধ আছে এই যে, ক্ষুধা না হলে সে কখনও আহার করবে না এবং আহারের সময় কিছু ক্ষুধা বাকী থাকতেই আহার থেকে হাত উঠিয়ে নেবে তখন তারা সবাই-ই বলল, আপনি সত্যই বলেছেন আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কয়েকজন চিকিৎসকের সামনে জনৈক দার্শনিককে হুযুরে পাক (দঃ) এর নিম্নোক্ত বানী সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, উদরের এক তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক তৃতীয়াংশ পানি জন্য এবং এক তৃতীয়াংষ নিঃস্বাস প্রশ্বাসের জন্য সে তাতে আশ্চযান্বিত হয়ে বলল, অল্লাহারের ব্যাপারে এর চেয়ে জ্ঞানগর্ভ বানী আমি আর কখনও শুনি নি নিশ্চয়ই এ কোন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞ লোকের বানী হুযুরে পাক (দঃ) বলেছেন ভুরীভোজন রোগের মূল এবং পানাহারের নিয়ন্ত্রণ নিরোগ থাকার মূল এবং যে অঙ্গের যে অভ্যাস হওয়া উচিত, সেই অভ্যাস তাকে শিক্ষা দেবে এ বানী শুনে উক্ত দার্শনিক চিকিৎসক অধিকতর আশ্চয্যন্বিত হল (এহইয়াউ উলুমিদ্দীন (৫ম খণ্ড ১২পৃষ্ঠা)

হুযুরে পাক (দঃ) বলেছেন, ক্ষুধাই হেকমতের নূর, পরিতৃপ্ত আহারই আল্লাহকে দূরে রাখে (এহইয়াউ উলুমিদ্দীন ৯ পৃষ্ঠা) এসব আহমকদের কথায় নবীর সুন্নত বর্জন করবঃ

হযরত হুযায়কা ইবনুল ইয়ামান (রাযি.) একজন বিশিষ্ট সাহাবী তার একটি ঘটনা ইরান বিজিত হওয়র পর তিনি রাজধাবী বাগদাদে গেলেন সে সময় ইরাসের রাজধানী বাগদাদ ছিল একদিন তিনি খাবার খাচ্ছিলেন একজন পারসিক গোলাম পানি নিয়ে দাড়িয়ে আছে খাবারের সময় হযরত হুযায়ফা (রাযি.) এর হাত থেকে এক লোকমা খাবান নীচে পড়ে যায় তিনি তৎক্ষণাৎ তা উঠিয়ে ধুলোবালি পরিস্কার করে খেয়ে ফেলেন তা দেখে পারসিক গোলাম বলে উঠল জনাব আপনি এটি কী করলেন? ইরান সংস্কৃতিবান সভ্য লোকদের দেশ এখানকার সভ্যতা সংস্কৃতি বেশ উন্নত মাটি থেকে খাবার তুলে খাওয়া এ দেশে সংস্কৃতিত পরিপন্থী আপনাকে লোকেরা লোভী বলবে তাই পানি এমনটি করবেন না অন্যথায় লোকেরা আপনাকে তিরস্কার করবে, বিদ্রুপ করবে 

তার জবাবে হযরত হুযায়ফা (রাযি) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন,

আমি কি এসব আহমকদের কথায় আমার নবীর সুন্নতকে বর্জন করব? এ সুন্নতে যে বরকত রয়েছে তা দুনিয়া এবং তার মধ্যে অবস্থিত কোনো কিছুতেই নেই সুবহানাল্লাহ’(খুতুবাতে হাকীমুল ইসলাম: ৩/২৮৩ যতক্ষণ পযন্ত কোনো বান্দার অন্তরে দীন এবং দীনের নবীর মহব্বত এ পযাযে উন্নীত না হবে ততক্ষণ পযন্ত তার ঈমান পূর্ণ হবে না কতই না সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যে সুন্নতের অনুসরণে এ পযায়ে উন্নীত হয়েছে যে, মানুষ তাকে পাগল মজনু বলছে কিন্তু সে কারো ভৎসনার পরোয়া করছে না রাসূলের এক একটি সুন্নতের জন্য জান কুরবান করে দিকে প্রস্তুত (নির্বাচিত ঘটনা ৪৪ পৃষ্ঠা)

বিবাহের ক্ষেতে অনুসরন কর


দাড়ি বৃদ্ধি ও গোফ ছোট রাখার ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসরন কর خالفوا المشركون اوفوالحى واحفوا الشوارب তোমরা মোশরেকদের বিরোদিতা কর এ ভাবে যে, তোমরা দাড়ি লম্বা কর এবং গোফ ছোট কর )( দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ১৬পৃ)

جزوا الشوارب وارخو الحى خالفو المجوس

তোমরা গোফ ছোট কর এবং দাড়ি লম্বা কর অগ্নি পুযকদের বিরোধিতা করার জন্য )( দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ১৬ পৃ)

من لم يا خذ شاربه فليش منا (لزمذ ى)

যে ব্যক্তি গোফ ছোট করেনা সে আমার উম্মতের দল ভুক্ত নয় 

لعن الله المتشبهين من الرجال با لنساء والمتشبهات من النساء

بالرجال (بنحارى)
আল্লাহ তাআল ঐ সমস্ত পুরুষের উপর অভিশম্পাত করেছেণ যারা মহিলাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে এবং ঐ সমস্ত মহিলাদের উপর যারা পুরুষের সাদৃশতা অবলম্বান করে )( দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ২২ পৃ)

فكر النظر اليها وقال ويلكما من امر كما بهذ قال امرنا ربنا كشراى (هداية ونهاية حياة الصحابة ج اص ) 110 দাড়ি মুন্ডানো গোনাহের প্রতি রাসূল (সাঃ) এর এত ঘৃনা ছিল যে যখন পারস্য সম্রাটের পক্ষ হতে দাড়িহীন ও বড় বড় মোট বিশিষ্টী দুজন ক্বাছেদ রাসূল (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হল তখন তাদের প্রত দৃষ্টি দিতে রাসূল (সাঃ) ঘৃনাবোধ করলেন এবং তাদেরকে বললেন তোমাদের ধ্বংশ অনিবায তোমাদের এই দৃশ্য চেহারা বিকৃতি করার হুকুম কে দিল? তখন তাড়া বলল এটা আমাদের রব- ইরানের বাদশাহ কেসরার হুকুম তখন রাসূল (সাঃ) তাদেরকে বলিলেন যে আমার রব তোমাকে দাড়ি বাড়ানোর ও মোচ ছোট করার হুকুম দিয়েছেন সুতরাং যে ব্যক্তি হুজুর (সাঃ) এর প্রভৃত হুকুমের বিরোধিতা করে অগ্নি পুজকদের প্রভূত হুকুম মেনে নেয় তাদের শতবার চিন্তা করে দেকা উচিৎ যে কেয়ামতের দিন রাসূল (সাঃ) এর সামনে কিভাবে মুখ দেখাবো সে দিন যদি তিনি বলেদেন যে, আমার সম্মুখ হতে দূর হয়ে যাও যাদের প্রভূর হুকুম মেনে ছিলে তাদের কাছে যাও আমার আজ তোমরা কোন মুখে চাইতে এসেছো? তোমাদের জন্য আজ আমার কোন শুপারিস বা শাফায়াত নেই সে দিন ঐ ব্যক্তির নাজাতে কি ব্যাবস্থা হবে )( দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ২১ পৃ)


وقد اتفقت المذاهب الاربعة على وجوب توفير اللحية وحرمة حلقها নিঃসন্দেহে চার মাজহাব এ ব্যাপারে এক মত যে, দাড়ি বৃদ্ধি করা ওয়াজিব এবং মুন্ডানো হারাম )( দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ১৮ পৃ)


রাসূলের সুন্নাত তরককারীর প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে শাস্তি দিলেন আফগানিস্তানের দুইজন লোক পেশোয়ার থেকে আফগানিস্তান যাচ্ছিল তাদের একজন প্রাক চালাচ্ছিল অন্যজন ছিল ট্রাকের আরোহী পথে দুর্ঘটনায় ট্রাকটি বিদ্বস্ত হয় এবং ওরা দুইজন মারা যায় অচেনা লোক হওয়ায় স্থানীয় জনগন রাস্তার পাশে দুই জনের লাশ দুটি কবরে দাফন করে কিছুদিন পর দুই আফগানের আত্মীয়স্বজন খুজতে খুজতে বিধ্বস্ত ট্রাক দেখে ট্রাকের আরোহীদের খবর জানতে চায় তাদের জানানো হয়ে যে ট্রাক দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার তারা মারা গেছে এবং তাদেরকে এখানে দাফন করা হয়েছে দুইজন আফগানের আত্মীয়স্বজন তাদের লাশ তুলে নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে চায় দুইজনের মধ্যে একজনের মুখে দাড়ি ছিল অন্যজন ছিল ক্লিনশেভ করা কবর খনন করার পর দেখা গেল যার মুখে দাড়ি ছিল তার লাশ আবিক্রত রয়েছে কিন্তু যার মুখে দাড়ি ছিল না তার চিবুকে একটি বিচ্ছু বারবার দংশন করছিল সেই বিচ্ছুকে তাড়িয়ে ক্লিনশেভ ব্যক্তির লাশ তুলতে কারো সাহস হলো না ফলে তার লাশ সেই কবরে রেখে দেয়া হলো যার মুখে দাড়ি ছিল তার লাশ তুলে আফগানিস্তানে তার এলাকায় নিয়ে দাফন করা হলো (চোখে দেখা কবরের আযাব ৪০ পৃষ্ঠা)

মুখে দাঁড়ি না দেখে রাসুল (সাঃ) বললেন, তোমার চেহারা আমার চেহোরার মতো নয় আমার এক বন্ধু কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদে চাকরি করে অবসর নিয়েছিলেন স্বাভাবিকভাবেই তার মুখে দাড়ি ছিল না কিন্তু কয়েক বছর পর দেখা হলে লক্ষ্য করলাম তিনি দাড়ি রেখেছেন তার এ পরিবর্তনে আমি ভীষণ খুমি হলাম তাকে তার দাড়ি রাখার কারণ জানতে চাইলাম তিনি বললেন এক রাতে স্বপ্ন দেখি কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে নিজেকে অস্থির দিশেহারা মনে হলো সব মানুষকে এক দিকে ছুটে যেতে দেখে আমিও সেদিকে গেলাম সেখানে রাসূল সাঃ) অবস্থান করছিল মানুষ তার সাথে করমর্দন করছিল কিন্তু আমাকে দেখে রাসূল (সাঃ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন আমার সাথে করমর্দন না করার কারণ সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করলাম রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমার চেহারা আমার চেহারার মতো নয় অর্থাৎ তোমার মুখে দাড়ি নেই অথচ আমার মুখে দাড়ি আছে ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে আমি কখনো দাড়ি শেভ করিনি (চোখে দেখা কবরের আযাব ৩৫পৃষ্ঠা)


বিবাহের ক্ষেতে অনুসরন কর

 হযরত খাজা সাহেবের প্রথম বিবাহঃ

একদা হযরত খাজা সাহেব (রহঃ) স্বপ্নে দেখিলেন, হুযুরে পাক (দঃ) তাহাকে লক্ষ্য করে বলিতেছেন, হে মঈনুদ্দীন! তোমার প্রত্যেকটি কাজের জন্যই আমি তোমার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট আছি; কিন্তু তোমার একটি কাজ আমার মনোপুত নহে উহা আমার শরীয়তের প্রতিকূল কাজটি তোমার ব্যক্তিগত পযায়ে সীমাবদ্ধ থাকিলে না হয উহার গুরুত্ব দেওয়া হইত না কিন্তু তোমার এই আদর্শকে পরবর্তীকালে তোমার লক্ষ লক্ষ মুরীদ অনুসরণ করে চলিবে তাহাতে ইসলামের বিরাট ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিবে; সুতরাং শীঘ্র তুমি তোমার মনোভাব পরিবর্তন কর

এই রূপ স্বপ্ন দেখিয়া হযরত খাজা সাহেব অত্যন্ত ভীত হরেন এবং তখনই তার মনোভাব পরিবর্তন করলেন এবং বিবাহ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন পরদিনই তিনি তহার কতিপয় মুরীদকে নিজের বিবাহ করার অভিপ্রায় জ্ঞাপন করে পাত্রীর অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিলেন শীঘ্রই খাজা সাহেবের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত পাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেল এই সময় হযরত খাজা সাহেবের বয়স নব্বই বৎসর তার জন্য নির্বাচিতা পাত্রী ছিলেন দারগড়ের বিধর্মী রাজকন্যা, যিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া সাগ্রহে ইসলামে দীক্ষিত হইয়াছিলেন তার ইসলামী নামকরন করা হইয়াছিল আমাতুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর সেবিকা স্থনি ছিলেন অত্যন্ত রূপসী এবং পরমা বিদুষী রমনী ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হইয়া তিনি মনে প্রাণে তাহাতে আত্মনিবেদন করলেনই রমনীর গর্ভে হযরত খাজা সাহেবের দুই পুত্র ও এক কন্যা জন্মগ্রহণ করেন (হযরত খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) জীবনও কর্ম ১৬০ পৃ)

রাজনীতির ক্ষেত্রে অনুসরন কর আপনার সমর্থকরা রাসূলের উম্মত না রাসূল (সাঃ) বলেনঃ দুনিয়াতে অচিরেই কতিপয় অনাচারী ও অত্যাচারী শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে সমর্থন করবে এবং তাদের অত্যাচারে সহায়তা করবে সে আমার উম্মত নয়, আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই কস্মিনকালেও সে হাউজের কাউসারের নিকট আসতে পারবে না (তিরমিযী, নাসায়ী) (কবীরা গুনাহ ৮৮ পৃষ্ঠা)

আল্লামা ইবনে জওযী (রাঃ) উয়ুনুল হেকায়েত গ্রস্থে আবু আলী যরীর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন শাম দেশে এক পরিবারে তিন ভাই ছিল তাদের সময় তারা বড় বাহাদুর ও বীর বলে খ্যাত ছিল সর্বদা কাফেরদের সাথে সংগ্রাম করতো এক যুদ্ধে রোমের বাদশাহ তাদেরকে বন্দী করে বললো তোমরা খৃষ্টধর্ম গ্রহন করলে আমার রাজত্ব তোমাদেরকে দান করবো এবং আমার কন্যাদেরকে তোমাদের সাথে বিবাহ দিব কিন্তু তারা অস্বীকার করল এবং চিৎকার করে বলে উঠলো হে আল্লাহ আমাদেরকে সাহয্য করুন ইহা শুনে বাদশাহ তিনটি প্রকান্ড ডেগ তৈলপূর্ন করে আগুনের উপর চাপালেন একাধারে তিন দিন পযন্ত অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হতে লাগল এদিকে প্রত্যহ তাদেরকে ডেগের কিনট গিয়ে বলতে লাগলেন তোমরা নাসারাদের ধর্ম গ্রহণ কর, নচেৎ এই ডেগে নিক্ষেপ করব তারাও সব সময় অস্বীকার করতে লাগলেন চতুর্থ দিন পালাক্রমে প্রথম বড় ভাই ও দ্বিতীয় ভাইকে ডেগে নিক্ষেপ করা হল তারপর তৃতীয় ভাইকে বুঝিয়ে বলতে লাগল এবং অনেক চেষ্টা করতে লাগল. যেন নাসারার ধর্ম গ্রহন করে কিন্তু সে কিছুতেই গ্রহন করল না; অস্বীকার করলো ইত্যবসরে একজন অগ্নি পূজক এসে বললো বাদশাহ নামদার আমি তাকে ধর্মান্তরিত করতে পারব সে বললো আবরবাসীরা নারীজাতিকে অতিশয় ভালোবাসে আমার একটি পরমা সুন্দরী কন্যা আছে তাকে এই কন্যা দান করলে সে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করবে একথা বলে সে চল্লিশ দিনের সময় নিল সে তাকে বাড়ী নিয়ে গিয়ে তার মেয়ের হাওয়ালা করে দিয়ে মেয়েকে বলল, এই লোকটিকে তোমার বশে এনে ধর্মান্তরিত করে দিবে মেয়ে বলল, আমি নিশ্চয়ই এই কাজ সম্পন্ন করব, আপনি নিশ্চন্ত থাকুন যুবক সারাদিন রোযা রেখে এবং সারা রাত ইবাদত করে কাটাতে লাগল এরূপে এক মাস অতিবাহিত হল কিন্তু সে রমনীর প্রতি ভ্রূক্ষেপও করল না একদিন তার পিতা জিজ্ঞাসা করল তোমার কাজ কতদূর অগ্রসর হয়েছে মেয়ে বলল, তার দুই ভাই প্রানত্যাগ করায় সে চিন্তিত সেজন্য আমার দিকে আকৃষ্ট হয় না আমাকে তার সাথে অন্য শহরে পাঠিয়ে দিন এবং বাদশাহর নিকট হতে আরও সময় নিন তদানুসারে তাদেরকে অন্য শহরে পাঠিয়ে দেয়া হল সেখানেও যুবক পুরা দিন রোযা রেখে এবং সমস্ত রাত্রি ইবাদত করে কাটাতে লাগলো রমনীর প্রতি দৃষ্টিপাতও করলো না নির্ধারিত সময়ের শেষ রাত্রে ঐ রমণী তাকে বলল হে যুবক তুমি তোমার প্রভুর আদেশ পালনে ও তাবেদারীতে পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছো তোমার প্রতিপালক আল্লাহই সত্য আমিও তোমার ধর্ম গ্রহন করলাম এবং পূর্ব পুরুষের বাতিল ধর্ম চড়ালাম যুবক বললো, কী কৌশলে আমরা এই স্থান হতে পলায়ন করতে পারি রমনী একটি বলিষ্ঠ অর্শ্ব নিল উভয়ে অর্শ্বে আরোহণ করে পুরা রাত্রি পথ চলতো এবং পুরা দিন লুকিয়ে থাকতো এক রাত্রে পথ চলছে এমন সময় কয়েকজন অশ্বারোহীর আওয়াজ শুনতে পেল একটু পরেই সেই যুবক দেখতে পেল, অশ্বারোহীরা তার ঐ নিহত দুই ভাই তাদের সাথে ফেরেশতাও ছিল যুবক সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা তো নিহত হয়েছিলে এখন কী করে এখানে এলে? তারা বলল আমাদের মৃত্যু এরূপ ছিল যে আমরা ডেগে এক ডুব দিয়ে জান্নাতুল ফিরদাঊসে উপনীত হলাম এখন আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তোমার সাথে এই রমনীর বিবাহ দেবার জন্য প্রেরন করেছেন অনন্তর বিবাহকায সম্পন্ন করে তারা যেখান হতে এসেছিল সেখানে চলে গেল যুবক এই নব বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে স্বদেশে পৌছল সাথে সাথে এই ঘটনা দেশময় ছড়িয়ে পড়ল (চোখে দেখা কবরের আযাব ৭৭ পৃষ্ঠা)

বিচারের ক্ষেত্রে আমার অনুসরন কর হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ মাখযুম গোত্রের এক মহিলা বিভিন্ন বস্তু ধার করার পরে তা অস্বীকার করত। রাসূল(সাঃ) তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তার আত্মীয়-স্বজন উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) এর কাছে গিয়ে উক্ত মহিলার অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করতে অনুরোধ জানাল। উসামা সুপারিশ করায় রাসুলল্লাহ(সাঃ) বলেনঃ হে উসামা! আল্লাহ পাকের বিধানের ব্যাপারে তুমি সুপারিশ কর আমি তা দেখতে চাই না। অতঃপর রাসূল(সাঃ) সকলের উদ্দেশ্যে বললেনঃ তোমাদের পূর্ববতী জাতি শুধু একারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত কোন ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর কোন দুর্বল লোক চুরি করলে তার হাত কেটে দিত। যার নিয়ন্ত্রণে আমার জান সে সত্ত্বার কসম! মুহাম্মদের(সাঃ) মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। অতঃপর মাখযুম গোত্রের সেই মহিলার হাত কেটে দেয়া হল।(বুখারী মুসলিম)(কবীরা গুনাহ ১১৭ পৃষ্ঠা) ان سرق فا قطعوا يده ثم ان سرق فا قطعوا رجله ثم ان سرق فا قطعوا يده ثم ان سرق فا قطعوا ارجله কেউ চুরি করলে তার এক হাত কেটে ফেল, আবার চুরি করলে তার এক পা কেটে দাও, আবার চুরি করলে আর এক হাত কেটে দাও, পুনরায় চুরি করলে আর এক পা কেটে দাও।( আবু দাউদ নাসায়ী)(কবীরা গুনাহ ১১৯ পৃষ্ঠা) রাসূল(সাঃ)বলেছেনঃ তোমরা ভাইকে সাহায্য কর, সে যালেম হোক অথবা মযলুম হোক। সাহাবাগণ আরয করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! মযলুমকে সাহায্য করব তা তো বুঝলাম, কিন্তু যালেমকে সাহায্য করব কিভাবে? রাসূল (সাঃ)বললেনঃ তাকে অত্যাচার থেকে বারণ কর, এটাই হবে তাকে সাহায্য করণ।-(বুখারী,মুসলিম)(কবীরা গুনাহ ১৩৭ পৃষ্ঠা) রাসূল(সাঃ) বলেনঃ সেদিন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের হক ক্ষমা করে দেবেন, কিন্তু বান্দার হক ক্ষমা করবেন না। অতঃপর আল্লাহ উক্ত নারী বা পুরুষকে হাশরবাসীর সামনে দাঁড় করিয়ে দাবীদারদের বলবেনঃ তোমাদের পাওনা বুঝে নিতে এগিয়ে এস। অতঃপর আল্লাহ পাক ফিরিশতাদেরকে নির্দেশ দেবেন-এ লোকের আমল থেকে প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্র অনুযায়ী দিযে দাও। এভাবে সব পাওনাদারকে দেয়ার পর যদি সামান্য পরিমাণও নেক আমল অবশিষ্ট থেকে যায় এবং সার্বিক আমলের বিচারে সে যদি আল্লাহ প্রিয় বান্দা প্রমাণিত হয় তবে অবশিষ্ট নেক আমল এমনভাব বাড়িযে দেয়া হবে, যেন সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। অতঃপর তাকে জান্নাতে পৌছে দেয়া হবে আর বিচারে সে যদি বদকার প্রমাণিত হয় এবং তার কোন সৎকর্মও বাকী থাকে, তবে ফিরিশতারা আরয করবেঃ হে আল্লাহ! এর সব নেক শেষ হয়ে গেছে। অথচ এখনো অনেক হকদান রয়ে গেছে। আল্লাহ তখন বলবেনঃ পাপের সাথে হকদারদের পাপসমূহ সংযুক্ত করে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর।(কবীরা গুনাহ ১৩২ পৃষ্ঠা)

হযরত আবু হোরায়রা(রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল(সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান দরিদ্র কে? সাহাবা (রাঃ) গণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে দরিদ্র সেই ব্যক্তি যার কাছে কোন অর্থকড়ি নেই। রাসূলাল্লাহ!(সাঃ) বললেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি দারিদ্র যে কিয়ামতের দিন বহু নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাতের সাওয়াব সাথে নিয়ে আসবে। কিন্তু সে কাইকে গালি, কানো সম্পদ আত্মসাত, কাউকে মার-ধর এবং কাউকে আঘাত করেছিল। অতঃপর এর নেক আমলগুলো তাদের মধ্যে ভাগ করে দেয় হবে। নেকীসমুহ ভাগ করে ক্ষতিপূরণ হওয়অর আগেই যদি তার নেক আমলগুলো শেষ হয়ে যায়। তবে মযলুমের গুনাহগুলো তার ঘাড়ে চাপানো হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।(সিহা সিত্তাহ)(কবীর গুনাহ ১২৭ পৃষ্ঠা) রাসূল(সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলমানের ন্যায্য দাবী নাকচ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। আরয করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) যদি পরিমাণে সামান্য কোন বস্তু হয়? রাসূল(সাঃ) বললেন, তা যদি পিলু করেছের একটি ডালও হয় তবুও।(কবীরা গুনাহ ১৩৩ থেকে ১৩৪ পৃষ্ঠা)আমি আর লেখতে পরছিনা আমাকে ক্ষমা করে দিও। রাসূল (সাঃ) বলেনঃ দুনিয়াতে অচিরেই কতিপয় অনাচারী ও অত্যাচারী শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে সমর্থন করবে এবং তাদের অত্যাচারে সহায়তা করবে সে আমার উম্মত নয়, আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই কস্মিনকালেও সে হাউজের কাউসারের নিকট আসতে পারবে না (তিরমিযী, নাসায়ী) (কবীরা গুনাহ ৮৮ পৃষ্ঠা) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ তাওরাত কিতাবে উল্লেখ আছে। কিয়ামতের দিন পুলসিরাতের পাশে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকবে, যে যালেমগন! আল্লাহ, আপন ইযযত ও প্রতাপের কসম খেয়ে বলছেনঃ আজ কোন যালেম এই পুল অতিক্রম করতে পারবে না। (কবীরা গুনাহ ১২৮ পৃষ্ঠা) মর্দে মুমিন হযরত হাতীত যাইয়াদ (রহঃ)এর অবাক করা জবাব হযরত হাতীত যাইয়াদ (রহঃ) কে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের নিকট নেয়া হলে সে তাকে জিজ্ঞেসা করল কিহে !তুমি নাকি হাতীত যাইয়াদ ? তিনি বললেন হাঁ আমিই হাতীত যাইয়াদ । তোমার কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে জিজ্ঞেস করতে পার তবে আমি মাকামে ইব্রাহিমে দাড়িয়ে আল্লাহর সাথে তিনটি অঙ্গিকার করেছি !(ক) আমাকে কেহ কিছু জিজ্ঝেস করলে আমি সত্য জবাব দিব । (খ) যদি আমাকে কেহ কোনভাবে বিপদগ্রস্ত করে তবে আমি ধৈর্যধারন করব । (গ) আমাকে কেহ ক্ষমা করলে আমি আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জানাব হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ বলল ,তুমি আমার সম্বন্ধে কি মত পোষন কর? হাতীত বললেন , তুমি দুনিয়ায় আল্লাহর শএুদের অন্যতম । তুমি মানুষের সম্মান নস্ট কর এবং কথায় কথায় মানুষ হত্যাকর। হাজ্জাজ জিজ্জেস করল তুমি খলীফা আবদুল মালেক ইকনে মারোয়ান সম্মন্ধে কি মত পোষণ কর ? হাতীত বললেন, সে তোমার চেয়েও অধিক পাপী । আর তার পাপের মধ্যে একটি পাপ তুমি । একথা বলা মাএ হাজ্জাজ বলল , তোমরা একে শাস্তি দাও । সাথে সাথে তার প্রতি কঠোর শাস্তি শুরু হল ।তাকে প্রহারের চোটে জল্লাদের চাবুক ভেঙ্গে গেল ।তারপর হাজ্জাজের লোকগন তাকে রশি দ্বরা বেধে তার শরীরের গোশত ছুরি দ্বারা কর্তন করতে লাগল ।গোশতগুলোকে কেটে টুকরা টুকরা করা হল । কিন্তু তাতে তিনি এতটুকু আহঃ উহুঃ করলেন না । তখন হাজ্জাজকে বলা হল,এর জীবনের শেষ মুহুর্ত ঘনিয়ে এসেছে ।হাজ্জাজ বলল এর প্রাণ বের হয়ে গেলে একে বাইরে নিয়ে বাজারের রাস্তায় ফেলে দিবে। হযরত জাফর রহঃ বলেন এ সময় আমি এবং তার এক বন্ধু তার নিকট এসে জিজ্ঘেস করলাম হাতীত তোমার কোন কিছু প্রয়োজন আছে কি তিনি বললেন তোমরা আমাকে এক ঢোক পানি পান করতে দাও । আমরা তাকে পানি এনে দিলাম ।পানি পান করার সাথে সাথে তার প্রান বায়ু বের হয়ে গেল ।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন ।এ সময় তার বয়স ছিল মাএ ১৮ (আঠার) বছর । (পৃস্টা ১১৩) রাসুল(সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণও অন্যের জমি দখল করবে। কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিনসহ তার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দেয়া হবে।(বুখারী)(কবীরা গুনাহ ১২৭ পৃষ্ঠা)

আলী ইবনে মাবাদ(রাঃ) (মুহাদ্দিস ছিলেন) বর্ণনা করিয়াছেন, আমি ভাড়া রাড়ীতে থাকিতেছিলাম, একবার আমি একটি রচনা লিখিয়াছি, যাহা শুকাইবার জন্য মাটির প্রয়োজন ছিল। ঐবাড়ীর কাঁচা দেওয়াল ছিল, আমার খেয়াল আসিল যে, সামান্য মাটি ঐ দেওয়াল হইতে লইয়া ঐ রাচনার উপর ঢালিয়া দেই। অতঃপর খেয়াল আসিল যে, ভাড়া বাড়ীতে থাকা তো বৈধ;কিন্তু মাটি রচনার উপর দেওয়া তো বৈধ নহে। অতঃপর আবার এই খেয়াল হইল যে সামান্য মাটি খরচ করার মধ্যে কি অসবিধা আছে। আমি সামান্য মাটি লইয়া রচনার উপর ডালিয়া দিয়াছি। রাত্রে স্বপ্নে দেখিতেছি, যে এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া বলিতেছে, কিয়ামতের দিন সামান্য মাটি ব্যবহার করাতে কি ক্ষতি হইবে-এই কথার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে।(আখেরাতের মোরাকাবার ৫০টি ঘটনা ৫৪পৃষ্ঠা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন المؤ من امنه الناس على دمالهم وامو الهم অর্থাৎ, প্রকৃত মুমিন ঐ ব্যক্তি যার থেকে মানুষ স্বীয় জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু সম্পর্কে আশ্বস্ত ও নিরাপদ থাকে যার ব্যাপারে মানুষ মনে করে যে, তার দ্বারা আমাদের জান মাল ও ইজ্জত-আব্রু সাংরক্ষিত থাকবে আমার উপস্থিতিতে কিংবা অপুপস্থিতিতে সে কোনো প্রকার খেয়ানত করবে না কেননা, যে মু’মিন ডাকাত ও মুসাফিরের অর্থ সম্পদ চুরির আযাবঃ বোরাক আরো সামনে অগ্রসর হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দেখতে পেলেন ভয়ানক কাটাদার বৃক্ষে পরিপূর্ণ এক ঝোপ জঙ্গল আর ঐ সকল বৃক্ষগুলোর শাখা প্রশাখা এবং কাটাগুলে বহু দূর পযন্ত বিস্তৃত কোন পথিক ঐ দিক যাতায়াত করার সময় কাটাদার বৃক্ষগুলোর শাখা প্রশাখা এসে পথিকদের বস্ত্র জড়িয়ে ধরছে এবং তাদের মাথায় ওই কাটাগুলো বিদ্ধ হচ্ছে তাতে পথচারীদের ভীষন কষ্ট হচ্ছে লোকদের এ অবস্থা দেখে তিনি হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন হে জিবরাঈল (আঃ) এ কাটাদার বৃক্ষগুলো কিভাবে এখানে লাগানো হল যদ্বারা পথচারীদের এরূপ কষ্ট দেয়া হচ্ছে?

জবাবে হযরত জিবরাঈল (আঃ) বললেন হে আল্লাহ নবী এগুলো আপনার উম্মতের ঐসকল ব্যক্তিদের রূহ আপনাকে দেখানো হচ্ছে যারা দুনিয়াতে ডাকাতি করত এবং মুসাফিরদের অর্থ সম্পদ চুরি করতো কেয়ামত পযন্ত তাদেরকে এ ধরনের শাস্তি প্রদান করা হবে (বিশ্বনবীর জীবনী

রাসূল(সাঃ) কিয়ামতের দিন মিথ্যা সাক্ষ্য তার জন্য জাহান্নামের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্তত তারা পা নাড়াতেও পারবে না।(ইবনে মাজা হাকেম)(কবীরা গুনাহ ৯৫ পৃষ্ঠা) রাসূল(সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলমানের ন্যায্য দাবী নাকচ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। আরয করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল(সাঃ) যদি পরিমাণে সামান্য কোন বস্তু হয়? রাসূল(সাঃ) বললেন, তা যদি পিলু করেছের একটি ডালও হয় তবুও।(কবীরা গুনাহ ১৩৩ থেকে ১৩৪ পৃষ্ঠা)আমি আর লেখতে পরছিনা আমাকে ক্ষমা করে দিও।

এতীমের মাল ভক্ষণকারীর আযাব বোরাক আরো সামনে অগ্রসর হলে নবীজী এমন এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন যাদেরকে দেখতে মানুষের মত দেখায় কিন্তু তাদের চেহারা উটের ন্যায় ফেরেশতারা বড় বড় আগুনের কয়লা তাদের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে আর আগুনের কয়লাগুলো তাদের পেটের ভেতর দিয়ে ঢুকে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে আর লোকগুলো এ দুরবস্থার কারণে চিৎকার করছে আর বলছে, আল্লাহ শান্তি দাও, রক্ষা কর ইত্যাদি এ অবস্থা দেখে নবী করীর (সাঃ) হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরাঈল এরা কারা ? এবং এদেরকে কেন এ ধরনের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে? জবাবে জিবরাঈর (আঃ) বললেন এরা আপনার উম্মদের ওই সকল লোক যারা দুনিয়াতে এতীমের সম্পদ আত্মসাত করেছে’’( বিশ্বনবীর জীবনী ও মেরাজের আশ্চয ঘটনাবলী ২১৯ পৃষ্ঠা) হারাম মাল উপার্জনকারীর আযাবঃ অতপর আরো একটু সামনে অগ্রমর হলে হুজুর (সাঃ) দেখতে পেলেন, একদল পুরুষ ও নারী যারা বড় বড় আগুনের ‍চুল্লী হতে উলঙ্গ অবস্থায় জ্বলতে জ্বলতে বের হয়ে পুনরায় অপর একটি অগুনের চুল্লীতে ঢুকে পড়তেছে তাদের অবস্থা দেখে হুজুর (সাঃ) ভীষণ ভয় পেলেন এ ব্যাপারে তিনি জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন যে, এরা কারা এবং এদেরকে কেন এ ধরনের আযাব প্রদান করা হচ্ছে? জবাবে জিবরাঈল (আঃ) বললেন এরা হলো ঐ সকল পুরুষ এবং মহিলা যারা দুনিয়াতে হালাল রিযিক ত্যাগ করে হারামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং হালাল উপার্জন না করে হারাম উপায়ে উপার্জন করেছিল তাদের বদ আমলের শাস্তির উদাহরণ আপনাকে প্রত্যক্ষ করানো হয়েছে (বিশ্বনবীর জীবনী ও মে’রাজের আশ্চয ঘটনাবলী ২১৭ পৃষ্ঠা)

عن انس رض الدرهم الذى يصيبه الر جل من الر با اشد من ست وثلاثين زينة فى الاسلام- হযরত আনাস(আঃ) বর্ণনা করেনঃ রাসূলুল্লাহ(সাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে এক খুতবায় সুদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেছেনঃ সুদ থেকে অর্জিত এক দিরহাম পরিমাণ অর্থ ইসলামের দৃষ্টিতে ৩৬ বার যিনা করা অপেক্ষা গুরুতর।(আবিদ্দুনইয়া, বায়হাকী)( কবীরা গুহান ৭৫ পৃষ্ঠা)

من شفع لر جل شفا عة فا هدى له عليها فقبلها فقد اتى با با عظيما من ابواب الربا যে ব্যক্তি কারো জন্য সুপারিশ করল, অতঃপর সুপারিশকারীর জন্য ঐ ব্যক্তি উপহার পাঠাল আর সুপারিশকারী তা গ্রহন করল, তবে সে একটি বড় সুদূ কারবার করল।(বুখারী, মুসলিম) (কবীরা গুনাহ ৭৬ পৃষ্ঠা)

দরুদ পাঠ ত্যাগ করার ভয়াবহ পরিণতিঃ শেফাউল আসকাম কিতাবে’’ বর্ণিত আছে যে, একজন লোক রছুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম-এর নাম শুনে দরুদ পাঠ করতে কার্পন্য করত তার জন্য তার অবস্থা ইহাই হয়েছিল যে, মরনের আগে সে বোবা ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং হাম্মাম খানায় পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটল (নাউজু বিল্লাহ) (দরুদ শরীফের ফজীলত ৮৩ পৃষ্ঠা)


হাদীসঃ রছুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেছেন যার নিকট আমাকে স্মরণ করা হয় সে যদি দরুদ পাঠ না করে তবে সে দোজখে প্রবেশ করবে (দরুদ শরীফের ফজীলত ২৪ পৃষ্ঠা)

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রদিঃ)বলেন, রছুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেছেন যে আমার প্রতি দরুদ পাঠায় না তার কোন ধর্ম নেই (দরুদ শরীফের ফজীলত ২৬ পৃষ্ঠা) নামাযের সময় দুরুদ না পড়লে আল্লাহ নামায কবুল করেন না

রাসূলের অনুসরন কেন করব

لايومن احد كم حتى اكون اهب اليه من والده وولده والناس اجميعن – بخارى ومسلم

তোমাদের মধ্যে কেহই পূর্ণ ঈমানদার হইতে পারবেনা যে পযন্ত নিজ পিতা পুত্র ও অন্যান্য লোক অপেক্ষা আমার সহিত অধিক ভাল বাসা না রাখে (১-৩১ হায়াতুল মুসলিমীন )

হযরত ওমর আরজ করিলেন ইয়ারাসূলাল্লাহা আমি নিজের জীবন ব্যতীত অন্যান্য সকল বন্তু হইতে আপনার সঙ্গে বেশী মহব্বত রাখি হুযুর (সাঃ) বলিলেন সে আল্লাহর হাতে আমার প্রাণ সেই আল্লাহর কসম করিয়া বলিতেছি যে, যতক্ষন নিজের প্রানের চেয়েও অধিক আমার সহিত মহব্বত না রাখিবে ততক্ষণ কেহই মুমিন হবে না হযরত ওমর রাঃ কিছুক্ষণ চিন্তা করিয়া দেলকে ঠিক করিয়া আরয করিলেন এখন আপনার মহব্বত আমার প্রাণ অপেক্ষা ও অধিক ভাল বাসি হুজুর বলিলেন, হে ওমর এখন তুমি পূর্ণ ঈমানদার হইলে (বুখারী ) (হায়াতুল মুসলিমীন ৩১)

مثلى كمثل رجل استوقد نارا فلما اضاءت ما حوله جعل الفراش وهذه الدواب التى تقع فى النار يقعن فيها وجعل يحجرهن ويغلبنه فيتقحمن فيها فانا اخد يحجزكم عن النار وانتم تقحمون فيها - بخرى

আমার এবং তোমাদের দৃষ্টান্ত ঠিক এই রকম যেন একজন লোক আগুন জ্বালাইতেছে আর চতুদিক হইতে পতঙ্গ আসিয়া তাহাতে পুরিয়া মরিতে চাহিতেছে সেই লোকটি পতঙ্গ গুলোকে বাধা দিয়া রাখিতে প্রাণ পন চেষ্টা করিতেছে কিন্তু উহারা তাহার কথা না শুনিয়া আগুনে ঝাপাইয়া পড়িতেছে এরুপে আমি তোমাদের কোমর ধরিয়া আগুন হইতে দূরে রাখিতে চেষ্টার করিতেছি (অর্থাৎ যে সমস্ত কাজ করিলে দোযখে যাইতে হইবে সেই সব কাজ করিতে নিষেধ করিতেছি) কিন্তু তোমরা আমাকে মানিতেছনা আগুনে ঝাপাইয়া পড়িতেছ (হয়াতুল মুসলিমীন ৩৪) 

يايها الذين امنوا اطيع الله واطيع الرسول


كل امتى يدخلون الجنة الا من ابى قالوا ومن ابى قال من اطاعنى دخل الجنة ومن عصانى فقد ابى (صحيح البخارى ج ص 182 আমার উম্মতের সমস্ত মানুষ বেহেশ্তে যাবে কিন্তু েঐ সমস্ত মানুষ যাবে না যারা আস্বীকার করেছে সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ) অস্বীকার কে করে? হুজুর (সাঃ) ফরমারেন যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের অনুসরণ করল সে বেহেশতে যাবে আর যে আমার সুন্নাতের করলনা সে অস্বীকার করল (বোখারী) (দাড়ি পাগড়ী মেসওয়াক এবং লাল দস্তর খানার ফজীলত ৩৩ পৃ) من اطاعنى فقد اطاع الله ومن عصانى فقد عصى الله ومن يطع الامير فقد اطاعنى ومن يعص الامير فقد عصانى ( متفق عليه)

যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করল সে যেন আল্লাহরই অনুসরণ করলো আর যে আমার হুকুমের আমরণ্য করল সে যেন আল্লাহর হুকুমের আমান্য করল আর যে ব্যক্তি আমীরের অনুগত্য করলো সে আমারই অনুগত্য করল আর যে আমীরের অবদ্ধহল সে আমারই অবাধ্য হল من احبنى فقد احب الله যে ব্যক্তি আমাকে ভাল বাসল সেযেন আল্লাহর ভাল বাসা লাভে ধন্য হল (বারচা:২২)

وان تطيعوه تحتدو আর যদি তোমরা রাসূলের অনুগত্য কর তাহলে হেদায়াত প্রাপ্ত হবে (মিশকাতুল মাসাবীহ ৩) (সূ: নুর ৫৩)

من ضيع سنتى حرمت عليه شفاعتى

যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত পরিত্যাগ করেছে তার জন্য আমার শাফায়াত হারাম করে দেওয়া হয়েছে (মুকাশাফাতুল কুলুব ১ম ৮৩)

فمن تبعنى فانه منى( مسلم مثكوة) যে আমাকে অনুসরণ করল সে আমার ধর্মের অর্ন্তভূক্ত উত্তপ্ত অগ্নিশিখার তাপে চেহারা কালো হয়ে গেছে একজন আলেমে দ্বীন বর্ণনা করেন যে, আমাদের কাছে এক ব্যক্তি বাস করত। সে সর্বদা রোযা রাখত, কিন্তু দেরীতে ইফতার করত। একদা সে স্বপ্নে দেখল যে, দুই কৃষ্ণকায় ব্যক্তি তাকে জ্বরন্ত আগুনে নিক্ষেপ করার জন্যে তার বাহু এবং কাপড় ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করল, আমাকে এখানে নিক্ষেপ করছ কেন? তারা জবাব দিল, তুমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের খেলাফ কাজ কর। তাই তোমার এ শাস্তি। তিনি তো সূর্যাস্তের সাথে সাথে জলদি ইফতার করতে বলেছেন; কিন্তু তুমি দেরী করে ইফতার কর। ভোরে উঠে দেখে উত্তপ্ত অগ্নিশিখার তাপে তার চেহারা কালো হয়ে গেছে। তাই পরবতীতে সে তার চেহারা ঢেকে রাখত।

( রুহ ২৭৫ পৃষ্ঠা )

من احب سنتى فقد احبنى ومن احبنى كان معى فى الجنة

যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালবোসে, প্রকৃত পক্ষে সে আমাকেই ভালবাসে, আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালবসিবে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে যাইবে

Orphaned non-free image চিত্র:আল আমিন সিদ্দীকি.jpgসম্পাদনা

 

Thanks for uploading চিত্র:আল আমিন সিদ্দীকি.jpg. The image description page currently specifies that the image is non-free and may only be used on Wikipedia under a claim of fair use. However, the image is currently not used in any articles on Wikipedia. If the image was previously in an article, please go to the article and see why it was removed. You may add it back if you think that that will be useful. However, please note that images for which a replacement could be created are not acceptable for use on Wikipedia (see our policy for non-free media).

Note that any non-free images not used in any articles will be deleted after seven days, as described in the criteria for speedy deletion. Thank you. জনি (আলাপ) ১৯:৩৮, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ (ইউটিসি)উত্তর দিন[উত্তর দিন]