-: ঈশ্বর তত্ব :-
 ঈশ্বর ভাবনা মনুষ্য জাতির অন্যতম একটি প্রাচীন ভাবনা । এই ভাবনায় মানুষ যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছে । বলা যায় এটা অনেকটাই পরিপুর্ণতা লাভ করেছে । 
 ধর্ম থেকে মানুষ যা পেতে চায় তা হল:- 

(1) ঈশ্বর (2) স্বর্গ (3) স্বর্গ এবং ঈশ্বর দুটোই ।

   বলাবাহুল্য যে ঈশ্বর এবং স্বর্গ দুটো একসাথে পাবার জন্য ইচ্ছাকাঙ্খি লোক প্রায় সকলেই ।
  এখানে একটা মস্ত বড় ভূল ভাবনা আছে তা হল, "ঈশ্বর কেবলমাত্র স্বর্গতেই থাকেন আর কোথাও না" । এটা অশুদ্ধ চিন্তা । কারণ ঈশ্বর সর্ব্বশক্তিমান এবং নিজ চিন্তার অধীন । তিনি জলে, স্থলে, আগুনে, পৃথিবীতে, নরকে, পাতালে, স্বর্গে যথা তথা থাকতে পারেন । তাই স্বর্গেই একমাত্র থাকেন বা আমরা তাকে ঐখানে থাকতে বাধ্য করছি এটা অলীক কল্পনা ।
 আবার যারা স্বর্গবাদী এরা আাসলে ভোগবাদী । পৃথিবীর থেকে ও বেশী সুখ তারা স্বর্গে পেতে চান । এতে তাদের কোন দোষ নেই । কারণ, স্বর্গের সুখের এডভারটাজ বা বিপণন এত বেশী যে লোক সহজে এর লোভে পড়ে যায় । স্বর্গের হুরী, পরী, নারী এবং সুস্বাদু খাবার কে না পেতে চায় । কিন্তু ঐ খাবার অথবা সন্ভোগ এর পর শরীর থেকে বের হওয়া ময়লা আবর্জনা স্বর্গেই তো পতিত হবে । এটা কি সঠিক হবে ? যদিও বা হয় তাহলে স্বর্গের পবিত্রতা কোথায় ? 
 এখন ঈশ্বর সমন্ধে সামাণ্য বিবরণ দিচ্ছি ।

ঈশ্বর আছেন এই অনুভব আমরা পেয়েথাকি আমাদের অন্তরআত্মায়, এজন্য আমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস হয় । কিন্তু এই ঈশ্বের কাছে কিভাবে পৌছা যায় ?

  এটা বুঝতে হলে কর্মফলবাদকে বুঝতে হবে ।
ভালো কাজের ভালো ফল, খারাপ কাজের খারাপ ফল, এটাই কর্মফলবাদ ।
 পাপ কর্ম বা ধর্ম কর্ম এ থেকে অবশ্যই নরক গামী বা স্বর্গ ভোগ হবে । ঈশ্বর প্রাপ্তি হবে না ।

অর্থা্ত শরীরে ধর্ম থাকলে অথবা পাপ থাকলে তা ঈস্বর প্রাপ্তির অন্তরায় ।

 কাজেই শরীর থেকে পাপ মোচন এবং ধর্ম মোচন করা আবশ্যক । 

যেহেতু ঈশ্বরের ভিতরে কোন ধর্ম নেই কোন পাপ নেই, এইরুপ পবিত্র অবস্থা এই অবস্থাতে নিজেকে উন্নীত করতে হবে । এই পদ্দতি হল "নিষ্কাম কর্ম" পদ্দতি ।

 এতে আমাদের কাছে কোন পাপ বা ধর্ম এসে স্পর্শ করতে পারে না ।
 অনেকে আবার গঙ্গা স্নান করে, যাতে শরীরের সব ধর্ম এবং পাপ বিণষ্ট হয় । কেউ কেউ আবার পূজা অর্চনা করে, কাযিক শ্রম করে ।
      সার কথা হল:--
ঈশ্বর যেভাবে পাপমুক্ত ধর্ম মুক্ত, সেভাবে নিজে ও হতে হবে, এবং ঈশ্বর বা পরমাত্মার কাছে নিজের অাত্মাকে বিলীন করতে হবে । স্বর্গে নয়, ঈশ্বরের কাছে যেতে হবে ।