প্রধান মেনু খুলুন

ব্যবহারকারী:ব্যবহারকারী নাম/উপপাতা

1= আল্লাহর ৯৯ গুনবিশিষ্ট নামগুলি ১০০% জাহেলিয়াতের প্রভাব মূক্ত

=================================সম্পাদনা

প্রবন্ধকার


মৌলানা আবদুল্লাহ ভূঁইয়া

গত ৩ জুলাই 2015 নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনের রাষ্ট্রদূত ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে তথাকথীত সাংবাদিকও কলামিষ্ট্ খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন, যে "আজকের আরবি ভাষায় যেসব শব্দ, এর সবই তৎকালীন কাফেরদের ব্যবহৃত শব্দ। যেমন- আল্লাহর ৯৯ নাম, এর সবই কিন্তু কাফেরদের দেবতাদের নাম।সে বলেছিল যে,তাদের ভাষা ছিল আর-রহমান, গাফফার, গফুর ইত্যাদি। সবই কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম এডাপ্ট করেছিল"। নাউযুবিল্লাহ । প্রিয় মুসলিম ভাইবোনেরা আপনারা সকলেই অবগত আছেন এই পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক আল্লাহদ্রোহী ভন্ড,জাহেল-মূর্খ, মুরতাদদের আবির্ভাব ঘটেছিল,ইসলামের আলোকে নিভিয়ে ফেলার জন্য।কিন্তু কোন বেঈমান-কাফেরের দল ইসলামের চুল পরিমান ও ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়নি।বরং তারাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।যারাই ইসলামের আলোকে নিভানোর ব্যর্থ চেষ্টা করবে তারাই এর আগুনে পুড়ে ছারখার হতে বাধ্য। ।এই সকল মুরতাদদের কথার সত্যতার বিন্দুমাত্রও এর অবকাশ নেই।যারা নিজের স্রষ্টাকে অস্বীকার করে তাদের চেয়ে অপদার্থ আর কেউ আছে বলে মনে হয়না।কাজেই কেউ যেনএই ধরণের আগাছাদের কথায় বিভ্রান্তী না হন এই জন্যই আমার এ প্রয়াস ।এবার আসা যাক মূল কথায় ১* আল্লাহর গুনবাচক নাম সমূহ ১০০%জাহেলিয়াত মূক্ত কারণ অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমানীত যখন রসুল সাঃ ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে রাহমান ,রাহীম,গাফুর, রাজ্জাক,হাইয়ূল-ক্বাইয়ূম ইত্যাদী আল্লাহর গুনবাচক নাম গুলো উচ্ছারণ করতেন তখনি কাফেররা বলত ماالحى القيوم؟ ماالرحمن؟ماالرحيم ؟ما الغفار ؟ অর্থাৎ ؟ কে রাহমান ?কে রাহীম ? কে গাফুর ? কে রাজ্জাক? ইত্যাদী, মূলত কাফেররা এই সকল নাম সম্পর্কে কোন প্রকারের অবগতও ছিলেন না। যদি দেবতাদের নাম হত, বা আগে থেকে অবগত থাকত তাহলে তারা এ প্রশ্ন কখনই করতেন না যে, কে রাহমান ?কে রাহীম ? কে রাজ্জাক ইত্যাদী।অবশ্যই আল্লাহর মূল নাম "আল্লাহ" সম্পর্কে সকলেই অবগত ছিলেন।কিন্তু গুনবাচক নাম সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলনা। ২ * ইসলাম ধর্ম, দেবতা তথা মূর্তি পুজাকে বিশ্বাস তথা এলাউ করেনা , ইসলামে দেবতা পুজার কোন স্হান নেই। আপনারা যারা ইতিহাস জানেন তাদের আবশ্যই জানা থাকার কথা যে আজকে যে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ধর্ম সহ অন্যান্য ধর্মে দেবতা পুজার যে হিড়িক চলছে, ঐ সকল ধর্মের মূল গ্রন্হেই বর্ণিত আছে যে মূর্তি বা দেবতা পুজা নট্ এলাউ । (প্রসঙ্গত এখানে যদি হিন্দু ধর্মের কথাই যদি বলি তাহলে আমরা দেখতে পাব হিন্দু ধর্মে প্রতিমা পুজার স্হান কতটুকু তা তাদেরই ধর্ম গ্রন্হ থেকেই জানার চেষ্টা করবো রেফারেন্স সহকারে :- (১) না-তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ ) অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই । . (২) যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে। ( ভগবৎ # গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০নম্বর । . (৩) হিন্দুরা অনেক দেব দেবির পুজা করলেও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হিন্দুদের কেবল মাত্র এক জন ইশ্বরের উপাসনা করতে বলা হয়েছে॥ বেদের ব্রহ্ম সুত্র’ তেই তা আছে “একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চন” অর্থাৎ ইশ্বর এক তার মত কেউ নেই কেউ নেই সামান্যও নেই । আরও আছে “সে একজন” তারই উপাসনা কর” ( # ঋকবেদ ২;৪৫;১৬)। “একম এবম অদ্বৈত্তম” অর্থাৎ সে একজন তাঁর মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (# ঋকবেদ ১;২;৩) । “এক জনেই বিশ্বের প্রভু” (#ঋকবেদ ১০;১২১;৩) । (4) হিন্দু ধর্মে মুর্তি পুজা করতে নিষেধ করা হয়েছে॥ ভগবত গীতা – # অধ্যায় ৭ –স্তব ২০ - [ যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। ] (৫) ভগবত গীতা – অধ্যায় ১০ – স্তব ৩, - এ বলা হয়েছে [ তারা হচ্ছে বস্তুবাদি লোক ,তারা উপদেবতার উপাসনা করে ,তাই তারা সত্যিকার স্রস্টার উপাসনা করে না।] (৬) যজুর্বেদ – অধ্যায় ৪০- অনুচ্ছেদ ৯ –[ অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে –যারা অশম্ভুতির পুজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তারা অধিকতর অন্ধকারে পতিত হয় শাম মুর্তির পুজা করে । অশম্ভুতি হল – প্রাকৃতিক বস্তু যেমন বাতাস,পানি,আগুন ।শাম মুর্তি হল, মানুষের তৈরী বস্তু যেমন - চেয়ার টেবিল ,মূর্তি ইত্যাদি।] ভারতের এক ইসলামীক স্কলার ডাঃ জাকির নায়েক জাপানে 2015 এক বক্তব্যে এই তথ্য দিয়েছিলেন। যেহেতু হিন্দু ধর্ম প্রাচীন ধর্ম, এবং সবার বেদ,গীতা পড়ার অধিকার ছিল না তাই সেই সময়কার কিছু ঋষি মুনির কারনে মুর্তি পুজোর উদ্ভব হয়েছে । ডা. চমনলাল গৌতম তাঁর বিষ্ণুরহস্য বই এর ১৪৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-‘ঋষিগন মুর্তি পুজার প্রচলন করেছেন॥ খ্রিষ্টীয় ৭ম শতাব্দী হতে বাংলায় কিছু কিছু অঞ্চলে কালী পূজা শুরু হয়॥১৭৬৮ সালে রচিত কাশীনাথের কালী সপর্যাসবিধি গ্রন্থে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপূজার বিধান পাওয়া যায়। [তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া]তাহলে এ আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে হিন্দুধর্মে দেবতা পুজা মুলত ঋষি মুনিররাই এর প্রচলন ঘটিয়েছিলেন । কালের বিবর্তনে তা ডুকে পডেছে। তাদের ধর্মীয় গ্রহন্থ বারংবার সংস্কারের ফলে অতি ভক্তির ফসল হিসাবে মুর্তি পুজার সূচনা হয়।যেমনটি আজকে মুসলিম সমাজে মাজার কেন্দ্রিক যা কিছুই হচ্ছে সবই অতি ভক্তি অতিরঞ্জিত।মূলত এ ভাবেই পুথিবীতে মুর্তি দেবতা পুজার সূচনা হয়েছিল।) সুতরাং ইসলাম ধর্মে আল্লাহর গুনবাচক নাম কে দেবতাদের নাম বলে মানুষ কে বিভ্রান্তি করার অপকৌশল মাত্র । পবিত্র কোরআনে পূর্ণাঙ্গ একটি সুরাই অবতীর্ণ করা হয়েছে ," সূরায়ে কাফেরুন" যেখানে দেবতা পুজাকে সম্পূর্ন ভাবে প্রত্যাখান করা হয়েছে ।যেমন এরশাদ হচ্ছে قل يا ايهاالكافرون لا اعبد ماتعبدون ولا انتم عبدون ما اعبد অর্থাৎ 1 বলুন ( হে নবী) হে কাফেরকুল 2 আমি এবাদত করিনা ,তোমরা যার এবাদত কর । 3 এবং তোমরাও এবাদত কারী নও , যার এবাদত আমি করি । 4 এবং আমি এবাদতকারী নই যার এবাদত তোমরা কর। 5 তোমরা এবাদতকারী নও যার এবাদত আমি করি 6 তোমাদের কর্ম ও কর্ম ফল তোমাদের জন্য এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে । এই পূর্নাঙ্গ একটি সুরা সহ অন্যান্য আয়াতে দেবতা পুজাকে যেখানে সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাখান করা হয়েছে ,সেখানে আল্লাহর ৯৯ নাম দেবতাদের নাম হয় কি করে ? এই আগাছাদের জানা দরকার । এই সুরার শানে নুযুল দেখলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বর্নণা করেন ,একবার তৎকালীন মক্কার বড বড কাফেরদের লীডার যেমন ওলীদ ইবনে মুগীরা ,আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ও উমাইয়া ইবনে খলফ প্রমুখ মক্কার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজন রাসুল সাঃ এর কাছে এসে প্রস্তাব দিল।আসুন আমরা পরস্পরের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি করি যে, একবছর আপনি আমাদের উপাস্য তথা দেবতাদের এবাদত করবেন এবং এক বছর আমরা আপনার উপাস্যের তথা আল্লাহর এবাদত করব । ( কুরতুবী ) মারেফুল কোরআন বাংলা পৃঃ 1479 ।এর পরিপেক্ষিতে জিবরাইল আঃ এই পূর্নাঙ্গ সূরা নিয়ে আল্লাহর পক্ষথেকে হাজির হলেন এবং কাফেরদের এই সকল ক্রিয়া-কর্মের সাথে সম্পূর্ন স্মপর্কচ্ছেদ ও ভয়কট করার নির্দেশ দিলেন এবং আল্লাহর অকৃত্রিম ভালবাসা ও এবাদতে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছন।এখানে আগাছাদের কাছে প্রশ্ন যদি আল্লাহর ৯৯ নাম দেবতাদের নামই হতো তাহলে কাফেরদের প্রস্তাব মেনে নিলেইতো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো। কাফের মুশরীকদের সাথে এত যুদ্ধ করতে হতোনা আবার নবী সাঃ তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে মদীনাতে হিজরত করতে হতোনা।সুতরাং এতে কারো বুঝতে কষ্ট হবেনা যে দেবতাদের নাম ও আল্লাহর গুনবাচক নাম সম্পর্নই ভিন্ন। ৩ * একবার কাফের-মুশরিকরা নবী সাঃ থেকে আল্লাহর বংশ পরিচয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল অথবা অন্য রেওয়াতে এসেছে মুশরিকরা আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাঃ এর কাছে প্রশ্ন করেছিলেন যে আল্লাহ কিসের তৈরী? স্বর্নরৌপ্প অথবা অন্য কিছুর থেকে তৈরী ? তখন তাদের জবাবে সুরায়ে এখলাস সমপূর্ন অবতীর্ণ হয়। আর বলা হয় "আল্লাহ"হলেন তিনি, যিনি একক অদ্বিতীয় যার কোন শরীক নেই যার কোন মাতা পিতা নেই , তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকে ও কেউ জন্ম দান করেননি। কারন সন্তান প্রজনন সৃষ্টির বৈশিষ্ট স্রষ্টার নয় । তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, কেউ তাঁর সমতূল্য নয় এবং আকার আকৃতিতে কেউ তাঁর সাথে সামঞ্জস্য রাখেনা । তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তিনিই হলেন আল্লাহ ।আর দেবতা বলা হয় যার শরীক আছে যাদের ছেলে-মেয়ে আছে, যাকে জন্ম দান করেছেন কেউ ,তিনিও কাউকে জন্ম দিয়েছেন। তাছাড়া দেবতা তথা মূর্তি গুলো কোন এক সময় মানুষ ছিল, তাদের মৃত্যুর পর ভক্তরা তার মূর্তি বানিয়ে তাদের পুজা শুরু করে দিয়েছে ।। ইসলাম তথা মুসলমানগন মানব পুজা করেনা ।মুসলমান এমন দেবতাদের এবাদত করেনা ।যাকে শরিয়তে ইসলামে শীর্ক ও হারাম করা করা হয়েছে । ৪*অপর দিকে আল্লাহর গুনবাচক নাম আর-রাহমান এরالرحمن পরিচয় দেয়ার জন্য কোরআন মজীদের পূনাঙ্গ একটি সূরা,সূরা আর-রাহমান অবতীর্ণ করা হয়েছে।কারণ তৎকালীন মক্কার কাফেররা আল্লাহ তায়ালার এই নাম সমপর্কে অবগত ছিলনা।তাই মুসলমানদের মুখে "রাহমান"নাম শুনে ওরা বলাবলি করত:وماالرحمن রহমান আবার কি?সুতরাং কাফেরদের অবহিত করার জন্য সূরার শুরুতে এই নাম ব্যবহার করা হয়েছে।এবং অত্র সুরার প্রথম থেকেই শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আয়াতে মূলত সেই "রাহমান"এর পরিচয় গুনাবলী,কুদরত,বৈশিষ্ট আর ক্ষমতার কথা বর্নণা করা হয়েছে। সুতরাং রাহমান সহ আল্লাহর প্রসিদ্ধ ৯৯ নামের সাথে দেবতা-মুর্তির নামের সাথে কোন সম্পর্ক নেই ।আললাহ যেমন অবদী আল্লাহর সকল নাম ও অবদী, তাছাড়া আল্লাহর এ প্রসিদ্ধ ৯৯ নাম ছাড়া আরও প্রায় ৩ হাজার বা ১০ হাজার গুনবাচক নামের কথা বিভিন্ন ওলামাদের (নুর ইসলাম আদীবওওলীপুরী )মুখে শুনে থাকি,সবই আল্লাহর জন্য প্রজোয্য,যদিও তা আমাদের জানা নেই।ঐসকল খোদাদ্রোহী নাস্তিকদের প্রতি জিজ্ঞাসা আল্লাহর গুনবাচক নাম গুলো দেবতাদের নাম হয় কি ভাবে ?যেমন ধরুন আল্লাহর গুনবাচক নাম সমূহের একটি" حى القيوم" অর্থাৎ যিনি জিবীত এবং চিরন্জীব।পৃথিবীতে এমন কোন দেবতার কি অস্হিস্ত আছে যে,যিনি জিবীত এবং চিরজিবী ? তাহলে এটা দেবতার নাম হয় কি ভাবে? আল্লাহর অপর গুনবাচক নাম যেমন "خالق" সৃষ্টি কর্তা অর্থাৎ ভূমন্ডল-নবমন্ডলে মানব দানব আসমান জমিন গ্রহ -নক্ষত্র সহ সব কিছুরই যিনি সৃষ্টি কর্তা । পৃথিবীতে যারা দেবতা পুজক তারাও আজ পর্যন্ত এই কথার দাবী করার সাহস পায়নি যে তাদের দেবতা ছোট একটি মশা মাছি আর পিপিলীকার মত ছোট্ট প্রানী সৃষ্টি করেছে ।তাহলে خالق দেবতার নাম হয় কি ভাবে?তেমনি ভাবে "الصمد" অর্থাৎ অমুখাপেক্ষী । আল্লাহ যিনি মানব দানব তথা সৃষ্টি কুলের মত কোন কিছুরই মুখাপেক্ষী নয়। পৃথিবীতে এমন কোন দেবতা আছে কি? যে কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নয় ? প্রথমত দেবতার অস্হিত্বের জন্য মাটি, পাথর,রং, অলংকার,পোশাক,আর মানবের হাতের স্পর্শের মুখাপেক্ষী। মানবের হাতের তৈরী এ মূর্তি বা দেবতা কি ভাবে الصمد "অমুখাপেক্ষী"আল্লাহর এ গুনবাচক নাম ধারণ করতে পারে? এই সকল নাস্তিকদের প্রতি জিজ্ঞাসা ।এইভাবে আল্লাহর অন্যান্য গুনবাচক নামও একই ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখুন,এমন কোন একটা নাম পাওয়া যাবেনা যেটা দেবতাদের নামের সাথে সামান্যতম্ সামঞ্জস্য রাখতে সক্ষম।এখানে এক্ষুদ্র লেখনিতে তা বিশ্লেষন সম্ভব না।আক্বলমন্দ কে ইশারাই যথেষ্ট। ৪* আল্লাহর ৯৯ নাম গুলো কি ? যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন

    ولله الاسماء الحسنى فادعوه بها وذروااللذين يلحدون فى اسمائه سيجزون  ما كانوا يعملون

অর্থাৎ আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সেই নাম ধরেই তাকে ডাক। আর তাদের বর্জন কর ,যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃত কর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।আল আরাফ -আয়াত ১৮০ ।উক্ত আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদেরকে তাঁকে তাঁর সুন্দরতম নাম দিয়ে স্বরণ করতে বলেছেন। মূল "আল্লাহ" শব্দ হল আল্লাহর জাতী নাম ।আর আল্লাহ জাল্লাহ শানুহুর ৯৯ নামের কিছু নাম এসেছে আল্লাহর নিজের পছন্দে যা কোরআনুল করিমে আল্লাহ নিজেকে নিজে অভিহিত করেছেন, কিছু এসেছে জিব্রায়িল ফেরেশতার পরামর্শে। যা হাদীসে রসুল সা্ঃ দ্বারা প্রমানীত এ নাম গূলো সম্পর্কে পৃথিবীবাসী কখনো এর পূর্বে ওয়াকেফহাল ছিলেননা একমাত্র এটা দ্বীনিয়াল্ ইসলামের বৈশিষ্ট। ৯৯ নামের হাদিসটি আবু হোরায়রা (রা) বর্ণিত, এর সনদ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া আরও অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমানীত যে , আল্লাহর ৯৯ নাম দ্বারা তাকে ডাকার জন্য বলেছেন।যেমন আবু হোরাইরাহ রাঃ থেকে এক দীর্ঘ হাদিসে সেই ৯৯ নামের বর্ণনা পাওয়া যায় নিন্মে হাদিসটি পাঠকদের জন্য উল্লেখ করা হল । عن أبي هريرة ، رضي الله عنه ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " إن لله تسعا وتسعين اسما مائة إلا واحدا ، من أحصاها دخل الجنة ، وهو وتر يحب الوتر " . أخرجاه في الصحيحين من حديث سفيان بن عيينة ، عن أبي الزناد ، عن الأعرج ، عنه رواه البخاري ، عن أبي اليمان ، عن شعيب بن أبي حمزة ، عن أبي الزناد به وأخرجه الترمذي ، عن الجوزجاني ، عن صفوان بن صالح ، عن الوليد بن مسلم ، عن شعيب فذكر بسنده مثله ، وزاد بعد قوله : " يحب الوتر " : هو الله الذي لا إله إلا هو الرحمن الرحيم ، الملك ، القدوس ، السلام ، المؤمن ، المهيمن ، العزيز ، الجبار ، المتكبر ، الخالق ، البارئ ، المصور ، الغفار ، القهار ، الوهاب ، الرزاق ، الفتاح ، العليم ، القابض ، الباسط ، الخافض ، الرافع ، المعز ، المذل ، السميع ، البصير ، الحكم ، العدل ، اللطيف ، الخبير ، الحليم ، العظيم ، الغفور ، الشكور ، العلي ، الكبير ، الحفيظ ، المقيت ، الحسيب ، الجليل ، الكريم ، الرقيب ، المجيب ، الواسع ، الحكيم ، الودود ، المجيد ، الباعث ، الشهيد ، الحق ، الوكيل ، القوي ، المتين ، الولي ، الحميد ، المحصي ، المبدئ ، المعيد ، المحيي ، المميت ، الحي ، القيوم ، الواجد ، الماجد ، الواحد ، الأحد ، الفرد ، الصمد ، القادر ، المقتدر ، المقدم ، المؤخر ، الأول ، الآخر ، الظاهر ، [ ص: 515 ] الباطن ، الوالي ، المتعالي ، البر ، التواب ، المنتقم ، العفو ، الرءوف ، مالك الملك ، ذو الجلال والإكرام ، المقسط ، الجامع ، الغني ، المغني ، المانع ، الضار ، النافع ، النور ، الهادي ، البديع ، الباقي ، الوارث ، الرشيد ، الصبور

ثم قال الترمذي : هذا حديث غريب وقد روي من غير وجه عن أبي هريرة [ رضي الله عنه ] ولا نعلم في كثير من الروايات ذكر الأسماء إلا في هذا الحديث . মূলত:এই নাম গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বিশেষ ক্ষমতা মাহাত্য ও কুদরতের বহিঃপ্রকাশ করে থাকেন । তাছাড়া উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখায় (মুফতি শফি ছাঃ রাহঃ তফসীরে মারেফুল কোরআন বাংলা সংস্করণ মাওঃ মহিউদ্দিন খান কতৃক ৫০৬ পৃঃ ) বলেছেন এই নিদ্দিষ্ট নাম গুলি যদি আল্লাহ ছাডা অপর কারো ক্ষেত্রে ভ্রান্ত বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয় ,যাকে এসব শব্দ সম্বোধন করা হচ্ছে তাকেই যদি খালেক কিংবা রায্যাক মনে করা হয় ,( যেমনটি আঃ গাফ্ফার চোধুরী বলেছেন এই নাম গুলি দেবতাদের নাম ) তাহলে তা সম্পূর্ণ কূফর। (অর্থাৎ কাফের হয়ে যাবে )।আর বিশ্বাস যদি ভ্রান্ত না হয়, শুধু অমনোযোগিতা কিংবা না বুঝার দরুন কাউকে খালেক ,রায্যাক রাহমান কিংবা সুবহান বলে ডাকা হয়, যেমনটি ( যেমনটি আঃ গাফ্ফার চোধুরী বলেছেন এই নাম গুলি দেবতাদের নাম ) তাহলে তা যদি ও কুফর নয়, কিন্তু শেরেকী সূলভ শব্দ হওয়ার কারনে কঠিন পাপের কাজ ।(মারেফুল কোরআন বাংলা বঙ্গানুবাদ মহিউদ্দিন খান কৃত ৫০৬ পৃঃ) অর্থাৎ শির্ক হওয়ার কারনে বিনা তাওবায় ক্ষমা যোগ্য নয় । ৫*তৎকালীন আইয়্যামে জাহেলিয়াতে কাবা শরীফে ৩৬০টির মত মূর্তি ছিলো তাদের নামের সাথে আল্লাহর ৯৯ নামের কোনো দূরতম সম্পর্ক নেই, হুবাল,লাত ,উজ্জা, মানাত, অবগাল ,দুল খালসা, , মালাকবেল, এল্লাহ নেব, নের্গাল,সিন সুয়া, ইগুছ,নছর, নুহা, সুয়া, রুভা , ‘ছাফা’ পর্বতে ‘এসাফ’ এবং ‘মারওয়ায়’ ‘নায়েলা’ইত্যাদি। শুধু "এল্লাহ" নামটি আল্লাহর নামের কাছাকাছি, কিনতু এল্লাহ দেবতার নাম হলেও কাফেররা "আল্লাহ"কে আল্লাহই ডাকতো। আর দেবতাদের ডাকতো আল্লাহ পর্যন্ত পৌছার মাধ্যম হিসাবে ।সেই কারণে আমরা দেখতে পাই জাহেলিয়াত যুগেও আবদুল ওজজাহ আবদুল লাত মুলত দেবতাদের নামের সাথে মিল রেখেই নাম রাখতো মুশরেকরা, আবার আবদুল্লাহ যেমন আমাদের নবী সাঃ এর পিতার নাম ছিল ।আরও অনেকেই এনাম রেখেছিল ।কিন্তু আল্লাহর মূল নামের সাথে পরিচিত থাকলেও গুনবিশিষ্ট নামের সাথে পরিচিত ছিলনা তাইতো প্রশ্ন করেছিল ما الرحمن؟ماالرحيم؟ কে রাহমান ?কে রাহীম ? ইত্যাদী।কিন্তু আল্লাহর গুনবাচকতায় বিভিন্নতা ছিলো। কিন্তু শাব্দিক উচ্চারণে একই আল্লাহ শব্দে আল্লাহকে ডাকতো কাফেররা এবং মুসলমানরা, কিন্তু ৯৯ বা ততোধিক নামের গুনবাচকতার অর্থে মুসলমানদের আল্লাহ আলাদা । দেবতাদের যে নামেই ডাকা হতনা কেন, সেগুলি কখনো আল্লাহর নাম ছিলনা। দেবতাদের নাম থেকে আল্লাহর নাম এডাপ্ট করা হয়নি।আর আল্লাহর নাম জাহেলিয়াত যুগেও আল্লাহই ছিল । আবার নাস্তিকদের কেউ বলেন যে "আল্লাহ" শব্দটা নাকী জাহেলিয়াতের শব্দ তারা যুক্তি দিয়ে থাকেন যে, আমাদের প্রিয় নবী সাঃ এর পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ, আবদ+আল্লাহ= আব্দুল্লাহ। আরবী আবদ অর্থ- দাস, অর্থাৎ আল্লাহর দাস। কিন্তু কোন্ আল্লাহর দাস? তখন তো মক্কায় ইসলাম প্রচার হয়নি। অর্থাৎ মক্কার কুরাইশরা সবাই ছিল মূর্তি পুজক? আসলে আল্লাহ শব্দটি জাহেলিয়াতের মক্কার সেই কাফেরদের সংস্কৃতি থেকে আসেনি,আল্লাহ যেমন আজলী-আবদী তেমনি আল্লাহর নাম ও আজলী-আবদী।বরং আল্লাহ শব্দটি প্রথম মানব হযরত আদম আঃ এর সময় থেকেই পরিচিত ছিল,শুধু ইসলামী যুগ বা জাহেলী যুগেষ সাথে কোন সম্পর্কই নেই।তবে ইসলামী যুগে তা ব্যপকতা পায়। যেমন আদম আঃ এর সময় তাওহিদের কালিমা ছিল "লাইলাহা ইল্লাল্লাহ আদমু ছফিউল্লাহ " (ছফি+আল্লাহ) আবার নূহ আঃ সময়"লাইলাহা ইল্লাল্লাহ নূহ্ রাসুলুল্লাহ "লাইলাহা ইল্লাল্লাহ মুসা কালিমুল্লাহ"লাইলাহা ইল্লাল্লাহ ঈসা রুহূল্লাহ ইত্যাদি । আর আদম আঃ থেকে শুরু করে নূহ আঃ এর যূগ পর্যন্ত তৎকালীন সকলমানুষই তাওহীদ তথা একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন , মুসলিম ছিলেন অর্থাৎ আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণকারী ছিলেন,কোন কুফর-শীর্ক বা মূর্তি দেবতা পূজা তাদের কে স্পর্শ করেনি।আল্লাহকে আল্লাহ হিসাবেই মানতো,চিনতো। কিন্তু এর পরবর্তিতে নূহ্ আঃএর বংশে কুফর শীর্ক মূর্তি পুজা আরম্ভ হলেও,আল্লাহ কে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে মূর্তি বা দেবতাদের ডাকতো এই ভেবে যে তারা আল্লাহর নিকটবর্তি করে দেবে, আল্লাহর কাছে সুপারীশ করবে ইত্যাদি।পরবর্তিতে কাফেররা আল্লাহকে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেবতাদেরকেও ডাকতো সহযোগী হিসাবে, যেমন আজকাল আমাদের দেশের হিন্দুরাও মূর্তি-দেবতা পুজায় সেরা হওয়ার পরও জিজ্ঞাসা করলে বলবে , আল্লাহ একজন ,খৃষ্টানরাও তাই বলে, তবে সাথে অংশীদারিত্ব সাব্যস্হ করেন, যা ইসলাম এলাউড করেনা। সুতরাং আল্লাহ শব্দটি জাহেলিয়াতের কাফেরদের শব্দ নয় বরং এই শব্দটি আদিকাল থেকেই পরিচিত একটি শব্দ একটা সত্বা, যিনি হলেন আমার আপনার সকলের সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ তায়ালা। তাছাড়া জাহেলিয়াত বলা হয় হযরত ঈসা আঃকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃএর আগমনের আগ পর্যন্ত প্রায় ৫৭০ বছরের মধ্যবর্তী সময়কেই একমাত্র জাহেলী যুগ বলা হয়। এতে পৃথিবীর সকল ঐতিহাসীক একমত,অথচ আল্লাহ শব্দটির সাথে জাহেলী যুগের সাথে কোন সম্পর্কই নেই বরংএর আগের থেকেও দুনিয়াবাসী পরিচিত ছিল।যা উপরের আলোচনা দ্বারায় স্পষ্ট হয়েছে। তাছাডা আরও একটু পিছনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব যে "আল্লাহ" শব্দটি আদম সৃষ্টির আগে থেকে ও ছিল যেমন হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন আদম আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণের বিষয়টি ধরা পড়ল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি মুহাম্মাদের ওয়াসীলা নিয়ে তোমার দরবারে ফরিয়াদ করছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও।অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম, তুমি মুহাম্মাদকে কীভাবে চিনলে, এখনো যাকে সৃষ্টি করি নাই? তিনি বললেন, হে আল্লাহ, তুমি যখন আমাকে সৃষ্টি করেছিলে, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়েছিলাম। তখন দেখতে পেয়েছিলাম, আরশের খুটিগুলোর উপর লেখা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, সমগ্র সৃষ্টির মধ্য সবচেয়ে প্রিয় না হলে তুমি তাঁর নাম তোমার নামের সাথে মিলাতে না। অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম তুমি ঠিকই বলেছ। নিশ্চয়ই সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সে আমার সবচেয়ে প্রিয়, আর যেহেতু তুমি তাঁর ওয়াসীলা নিয়ে আমার নিকট দোয়া করেছ, তাই তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর(জেনে রাখ) মুহাম্মাদকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না। (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাকী ৫/৪৮৯, আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম-২/৬১৫ , আল মু’জামুল আওসাত লিত তাবারানী- ৬৪৯৮) এখানে জানার বিষয় হল আরশের খুটিগুলোর উপর লেখা, ইসলামের পাক কালিমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। (ইল্লা+আল্লাহ)ইল্লাল্লাহ এখানে আল্লাহ শব্দটি আছে ।তেমনিভাবে বিভিন্ন হাদিসের ভাষ্যমতে আমরা জানতে পারি যে বেহেশতের দরজা ও গাছের পাতায় পাককালিমা লিপিবদ্ধ আছে সেখানেও "আল্লাহ" শব্দটি বিদ্ধমান । উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে আল্লাহ্ একটি আরবি শব্দ, ইসলাম ধর্মানুযায়ী যার মানে হল "বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং প্রতিপালকের নাম"। আল্লাহ" শব্দটি আরবি "আল"(বাংলায় যার অর্থ সুনির্দিষ্ট বা একমাত্র) এবং "ইলাহ"(বাংলায় যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা) শব্দদ্বয়ের সম্মিলিত রূপ, যার অর্থ দাড়ায় "একমাত্র আললাহ" বা "একক আললাহ""আল্লাহ" শব্দটি বর্তমানে প্রধানতঃ মুসলমানরাই সর্বাধীক ব্যবহার করে থাকেন। তবে আরবি খ্রিস্টানরাও প্রাচীন আরবকাল থেকে "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। বাহাই, মাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও "আল্লাহ" শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। সুতরাং আল্লাহ শব্দটি জাহেলী যুগের শব্দ বলে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মুসলিমদের বোকা বানানো যাবেনা বরং নাস্তিকরাই বোকা সেজে ইতিহাসের আস্তাকুডে নিক্ষিপ্ত হবে । ৬* কাবার প্রথম ও প্রধান মূর্তি "হুবাল" বা হুবুল" ইলাত বা ইলাহ নয় । ঐভদ্রলোক অন্য এক বক্ততায় বলছে কাবার প্রথম মূর্তির নাম নাকী " ইলাত, বা 'ইলাহ" থেকে আল্লাহ শব্দ এসেছে ,নাউযুবিল্লাহ । অথচ এই আগাছা বুড়ো বয়সে ইতিহাস বিকৃত করে মানুষ কে কি মেসেজ দিতে চাচ্ছে আমরা জানিনা আসলে ইতিহাস বলছে মক্কার প্রথম ও প্রধান মূর্তির নাম হল"হুবাল" বা হুবুল " যা সর্ব প্রথম তৎকালীন মুশরেকদের সরদার আমর বিন লুহাই সিরিয়া থেকে এনে সেই কাবা ঘরে রেখেছিল সেই থেকে মক্কা তথা কাবা ঘরে মূর্তি পুজা শুরু হয়। সুতরাং হুবাল বা হুবুল হল কাবার প্রথম মূর্তি ।এখন আমর বিন লুহাই কি ভাবে মূর্তি আনলেন তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করব ইনাআল্লাহ।আমর ইবন লুহাই বনু খুজা‘আ গোত্রের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। ছোটবেলা থেকে এ লোকটি ধর্মীয় পূণ্যময় পরিবেশে প্রতিপালিত হয়েছিল। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল অসামান্য। সাধারণ মানুষ তাকে ভালবাসার চোখে দেখতো এবং নেতৃস্থানীয় ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে মনে করে তার অনুসরণ করতো। এক পর্যায়ে এ লোকটি সিরিয়া সফর করে। সেখানে যে মূর্তিপূজা করা হচ্ছে সে মনে করলো এটাও বুঝি আসলেই ভাল কাজ। যেহেতু সিরিয়ায় অনেক নবী আবির্ভূত হয়েছেন এবং আসমানী কিতাব নাযিল হয়েছে। কাজেই সিরিয়ার জনগণ যা করছে সেটা নিশ্চয় ভালো কাজ এবং পূণ্যের কাজ হবে। এরূপ চিন্তা করে সিরিয়া থেকে ফেরার পথে সে ‘হুবাল’ নামের এক মূর্তি নিয়ে এসে সেই মূর্তি কা‘বাঘরের ভেতর স্থাপন করলো। এরপর সে মক্কাবাসীদের মূর্তিপূজার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শির্ক করার আহবান জানালো। মক্কার লোকেরা ব্যাপকভাবে তার ডাকে সাড়া দেয়। মক্কার জনগণকে মূর্তিপূজা করতে দেখে আরবের বিভিন্ন এলাকার লোকজন তাদের অনুসরণ করলো। কেননা, কাবাঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারীদের বৃহত্তর আরবের লোকেরা ধর্মগুরু মনে করতো। (শায়খ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওহাব, মুখতাছারুস সীরাত, প্রাগুক্ত, পৃ. ২)। অবশ্য তার পূর্বেই নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর সময়ে সর্বপ্রথম পৃথিবীতে মূর্তিপূজার সূচনা হয়। তারা ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়া‘উক ও নসর নামক মূর্তির পূজা করত। এ মর্মে কুরআনে এসেছে ﴿ وَقَالُواْ لَا تَذَرُنَّ ءَالِهَتَكُمۡ وَلَا تَذَرُنَّ وَدّٗا وَلَا سُوَاعٗا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسۡرٗا ٢٣ ﴾ [نوح٢٣] “তারা বলল, তোমরা ছাড়বে না তোমাদের উপাস্যদের এবং তোমরা ওয়াদ্দ, সূওয়া, ইয়াগুছ, ওয়াদ ছিল ‘কালব’ গোত্রের দেবতা, ‘সুওয়া’ ‘হুযাইল’ গোত্রের, ‘ইয়াগুছ’ ‘মায্যাহ’ গোত্রের, ‘ইয়া‘উক’ ইয়ামেনের ‘হামদান’ গোত্রের এবং ‘নাসর’ ইয়ামেন অঞ্চলের ‘হিমইয়ার’ গোত্রের দেবতা ছিল। (ড. জামীল আব্দুল্লাহ আল-মিসরী, তারিখুদ দা‘ওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ ফি যামানির রাসূল ওয়াল খোলাফায়ির রাশেদীন, (মদীনা মুনওয়ারা : মাকতাবাতুদ দার, ১৯৮৭ খৃ.), পৃ. ৩১।যা ইতে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।সুতরাং কাবার প্রথম ও প্রধান মূর্তি " হুবাল" বা হুবুল" ইলাত বা ইলাহ নয় । পরিশেষে জাতীয় কবি নজরুলের একটি কবিতার ভাষায় বলতে চাই, উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেস আর নিন্দাবাদ আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ মানুষের অনাগত কল্যানে উহারা চির অবিশ্বাসী ওরা বলে,হবে নাস্তিক সব মানুষ, করিবে হানাহানি। মোরা বলি, হবে আস্তিক, হবে আল্লাহ মানুষে জানাজানি। নিত্য সজীব যৌবন যার, এস এস সেই নৌ-জোয়ান সর্ব-ক্লৈব্য করিয়াছে দূর তোমাদেরই চির আত্নদান! ওরা কাদা ছুডে বাঁধা দেবে ভাবে-ওদের অস্র নিন্দাবাদ। মোরা ফুল ছড়ে মারিব ওদের, বলিব-"এক আল্লাহ জিন্দাবাদ"। উঃয়য়হহ উ উহারাউউউহাhttp://www.bangla-kobita.com/nazrulislam/ek-allah-jindabad/ আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস পড়ার ও বুঝার তাওফিক দান করুন আমিন।


মৌলানা আবদুল্লাহ ভূঁইয়া দাওরায়ে হাদিস মাষ্টার্স ফাজেলে জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক মাদ্রাসা হোছাইনিয়া আজিজুল উলুম রাজঘাটা, লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম। লেখক গবেষক ব্লগার ও ইসলামি অনলাইন এক্টিভিস্ট ।

02//***

১ম রত্ন:-নাস্তিক্যবাদিদের মতে ‘যা দেখি না তা মানি না’ বিজ্ঞানের আলোকে যুক্তি খন্ডন,

============================================================সম্পাদনা

আজকাল আমাদের দেশে নাগরীক জীবনে নৈতীক শিক্ষার অভাবের কারণে শিক্ষা ব্যবস্হায় ধস নামার ফলে যত্রতত্র নাস্তিকদের দৌরাত্ব্য লক্ষ করা যাচ্ছে।এতে করে আমাদের সামাজীক জীবনে যেমন বিশ্রিঙ্খলা তৈরী হচ্ছে তেমনি ভাবে নতুন প্রজন্মের মনে বিভ্রান্তির দানা বাঁধছে।আজকাল ইন্টারনেট,ফেইজবুক,ব্লগও ইউটোব সহ নানান সামাজীক যোগাযোগের মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদিরা ইসলামের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে অসত্য বানোয়াট কূরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।তারা ইসলাম, মুসলমান ,নবী-রসুল,ছাহাবায়ে কেরাম,এমন কি ইসলামের বিধিবিধান সহ স্বয়ং মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালাকে নিয়েও তারা কটুক্তি করতে কুন্ঠবোধ করেনি।এমন পরিস্হিতিতে যার যার অবস্হান থেকে এর প্রতিবাদ করা ঈমানী দায়িত্ব।এবং তৎ সঙ্গে লেখনীর মাধ্যমে ঐ সকল বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের যুক্তিনির্ভর জবাবের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে সতর্ক করাও অপরিহার্য কর্তব্য।কারণ তারা অজ্ঞতার কারণেই এমন বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে।নাস্তিক্যবাদীদের প্রত্যেকটি কথার জবাব যূক্তিভিত্তিক লেখনীর মাধ্যমে দিয়েই তাদেরকে ইসলামের শীতল ছায়াতলে টানার চেষ্টা করাই যুক্তিযুক্ত,কিন্তু হত্যাকান্ড সমাধান নয়, বিচার বহির্ভূত যে কোন হত্যাকান্ড অমানবিক ,কাউকে হত্যাকরে কারো মতবাদকে দমানোর নজির প্রায় নেই বললেই চলে,যদিও তাসাময়ীক। ২০১৩সালে মুসলিম জাতি সত্বার প্রাণের স্পন্দন,বিশ্ব মানবতার মূক্তিরদূত বিশ্বনবী মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ কে অবমাননা ও ব্যঙ্গ করে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে নির্মিত ইসলাম বিরোধী "ইনোসেন্স ইন্ ইসলাম" নামে যে সিনেমা তৈরী করা হয়েছিল।যখনবিশ্ব মুসলিম এর প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছিল,তখনি লন্ডনের "discover islam uk" বিশ্বনবী সাঃ এর মহানআদর্শ ও প্রকৃত ইসলামের মাহাত্ব্য সম্বলীত একটি বই লিখে বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে সেই বিদ্রুপাত্নক সিনেমার অসাধারণ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।এতে করে অনেক অমুসলিমরাও ইসলামের মহাত্ব বুঝতে সক্ষম হয়েছিল ফলশ্রুতিতে কয়েক হাজার অমুসলিম ইসলামের শীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন । আরও খুশির সংবাদ হল কিছু দিন পূর্বে ‘ফিতনা’ নামে ইসলামবিরোধী যে সিনেমা বানিয়ে দুনিয়াজুড়ে নিন্দার ঝড় বইয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের কিছু উগ্রপন্থী খ্রিস্টান। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূত- পবিত্র চরিত্রে কালিমা লেপন করা অশালীন এই সিনেমার বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম জাহানে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। কী আশ্চর্য, এই সিনেমা যাদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় বানানো হয়েছিল, তাদেরই একজন ডান রাজনীতিবিদ ও চলচ্চিত্র পরিচালক আর্নড ভ্যান ডর্ন আজ মুসলমান। কেন তিনি ইসলাম গ্রহন করলেন ?তার মূলে ছিল বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের এক যোগে প্রতিবাদ সাম্প্রতিককালের সত্যি ঘটনা। আর্নড নিজেই সামাজিক ওয়েবসাইট টুইটারে তার মুসলমান হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানিয়েছেন। যিনি কিছুদিন আগেও ছিলেন ঘোরতর ইসলামবিদ্বেষী, তিনি কেন আজ ইসলাম গ্রহণ করলেন? এই আশ্চর্যজনক ঘটনা কিভাবে ঘটল? বিশ্বকেনকেনেদারল্যান্ডসের উগ্র ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টির সাবেক এই সদস্য জানিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী।‘আমি সব সময়ই ইসলাম ও হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে খারাপ খারাপ কথা শুনে এসেছিলাম। তাই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর যখন মুসলমানরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়, তখন আমি বেশ অবাক হই। তখনই সিদ্ধান্ত নিই আমি কোরআন ও হাদিস পড়ে ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে জানব। এক বছর ধরে আমি ইসলাম নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করেছি। এরপর আমি নিজের ভুল বুঝতে পারি। ইসলাম সম্পর্কে আমার যা যা নেতিবাচক ও ভুল ধারণা ছিল, সেসব দূর হয়ে যায়। আমি তাই তওবাহ করে মুসলমান হয়েছি। পরবর্তিতে সে ওমরাহ পালন সহ মদীনার যেয়ারতে গিয়ে ছালা্তুত তাওবাহ আদায় করে রওযাহ মোবারকের পাশে। - amsterdamherald.com(updated March 11 2013 to include Van Doorn's interview with Al Jazeera) ( নির্ভর যোগ্য সুত্রঃ - আরমন্ট ভ্যান ডর্ন টুইটার saudigazette.com.sa)পরপ১১১১ এই জন্যই আমাদেরকে সর্বপ্রথম সত্যকে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।তাহলে আসুন আজকাল নাস্তিক্য বাদিদের মতে ‘যা দেখি না তা মানি না"এই কথাটা কত টুকু যুক্তিযুক্ত তা বিজ্ঞানের আলোকেই জেনে নেয়ার চেষ্টা করবো। ফেইজবুকে এক ভদ্র লোক এক নাস্তিকের সাথে তার কথোপকোথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, পরিবর্তিতে তা ইউটোবেও আপলোড করা হয়।ঐ নাস্তিক ভদ্রলোকটিসহ অন্যান্যদের যুক্তি হল "যা দেখি না তা মানি না" সেই হিসাবে স্রষ্টাকে দেখা যায়না তাই স্রষ্টাকে মানা যাবেনা বা স্রষ্টার অস্তিস্তকে বিশ্বাস করা যাবেনা ।এই অজ্ঞতাপূর্ণ বাক্যটি উচ্চারণ করে এমন এক মহান স্রষ্টাকে দর্শন লাভ করার আকাঙ্খায় জেদ ধরে বসে আছেন, অথচ সেই স্রষ্টার অসংখ্য অগণিত সৃষ্টিকেই তারা দেখার যোগ্যতা রাখেন না।সেখানে স্রষ্টাকে দেখবেন কি ভাবে?কিন্তু স্রষ্টার অগণীত সৃষ্টিকে না দেখেও বিশ্বাস করেন কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল স্রস্টাকে বিশ্বাস করেন না।তাই আমার এ প্রবন্ধে বিজ্ঞানের আলোকেই তাদের যুক্তিটা খন্ডন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ ।কারণ কোরান-হাদীস বা কোন ধর্মীয় গ্রন্থের যুক্তি বা রেফারেন্স তাদের কাছে যেহেতু অগ্রহন যোগ্য সেহেতু তাদের সেই কথিত বিজ্ঞান দিয়েই তাদেরকে দপা-রপাই যুক্তিযুক্ত। ১-যেমন যে বাতাসের সাগরে মানব সম্প্রদায় ডুবে আছে, সেই বাতাসের উপাদান অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থগুলোকে মানুষ মোটেও দেখতে পায় না। প্রতিবার নি:শ্বাস নেয়ার সময় কোটি কোটি অক্সিজেন পরমাণু গ্রহণ করছে কিন্তু এর একটি পরমাণুকেও দর্শন লাভ করতে পারছে না। অথচ শুধুমাত্র একটি অক্সিজেন পরমাণুতে আটটি ইলেকট্রন, আটটি প্রোটন ও আটটি নিউট্রন কণিকা বর্তমান আছে। মানুষের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই মৌলিক কণিকাগুলোর দর্শন লাভ করা সম্ভব নয়। তাই বলে কি বস্ত্তবাদে বিশ্বাসীরা ‘যা দেখিনা তা মানি না’ এই নীতির উপর ভিত্তি করে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন এবং তাদের ভিতরে অবস্থিত মৌলিক কণিকাগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করার দুঃসাহস দেখাবেন ? এটা একটা মৌলিক প্রশ্ন । ২- হাবিশ্বের সূচনা লগ্নে Stable Atom হিসেবে মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেনই সর্বপ্রথম আবির্ভূত হয়। বর্তমান মহাবিশ্বের শতকরা ৭৫ ভাগ পদার্থই হচ্ছে এই হাইড্রোজেন নামক মৌলিক পদার্থ। প্রতিটি নক্ষত্রের ভেতর জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। সমগ্র মহাবিশ্বটি এই হাইড্রোজেন নামক মহাসুক্ষ্ম পরমাণুতে ভরপুর। বস্ত্তবাদীরাও অদৃশ্য হাইড্রোজেন দ্বারা এ মহাবিশ্বটি পূর্ণ হয়ে আছে বলে বিশ্বাস করেন।কিন্তু দেখেননা, না দেখেও বিশ্বাস করেন, অথচ তারা এই অদৃশ্য হাইড্রোজেনের স্রষ্টাকে অদৃশ্যের অজুহাতে তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে শুধু মানব সভ্যতার সাথেই প্রতারণা করছেন না, তারা নিজেরাও নিজেদেরকে প্রতারিত করছেন।অদৃশ্য সৃষ্টি মানবেন আর অদৃশ্য স্রষ্টা মানবেন না এটা কোনো ধরণের মূর্খতা? দ্বিমুখী নীতির এর চেয়ে নির্লজ্জ উদাহরণ আর কী হতে পারে? ৩-এই মহাবিশ্বে শূন্য বলতে কিছুই নেই। কার্যত সর্বত্র শক্তি, তেজস্ক্রিয়তা ও মহাসুক্ষ্ম কণিকা দ্বারা ভরপুর। দৃষ্টি আওতার বহির্ভূত বলে আমরা তা দেখতে পাই না। প্রায় ভরশূন্য মহাসুক্ষ্ম কণিকা নিউট্রিনো প্রায় আলোর গতিতে সকল প্রকার বস্ত্তকে ভেদ করে মহাবিশ্বব্যাপি পরিভ্রমণরত রয়েছে। প্রতি ইঞ্চি জায়গা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন (১ মিলিয়ন = ১০ লক্ষ) মহাসুক্ষ্ম নিউট্রিনো কণিকা অতিক্রম করে চলে যাচ্ছে। এদের গতিপথ কেউই রুখতে পারে না।এমন কি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ভিতর দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১০০ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন=১০০০ মিলিয়ন) পরিমাণ নিউট্রিনো কণিকা ভেদ করে চলে যাচ্ছে। অথচ আমরা তা অনুভব করতে পারি না,বা দেখিনা। অদৃশ্য নিউট্রিনো কণাগুলোর এসব নীরব কর্মকান্ড প্রমাণ করছে যে, ‘যা দেখিনা তা মানি না"উক্তিটি শুধু অজ্ঞ বা মূর্খলোকদের জন্যই সাজে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য কখনোই তা শোভনীয় নয়। ৪- ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস নামক দুইটি মহাসুক্ষ্ম জগৎ রয়েছে। এদের আকৃতি ও গঠন আমাদের দৃষ্টি শক্তির আওতার বহির্ভূত, তাই আমরা এদেরকে দেখতে পাই না। এরা এতই ক্ষুদ্রজগতের বাসিন্দা যে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে এরা রীতিমত আসা-যাওয়া করলেও আমরা এদের দেখতে বা অনুভব করতে পারি না। এদের কারণেই আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই, কখনো বা মৃত্যুও ঘটে। এই মহাসুক্ষ্ম ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া জগৎও যেন ঐ সব বস্ত্তবাদে বিশ্বাসী নাস্তিক বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন করছে-হে জ্ঞানী সমাজ! কেন মিথ্যার ভান করছ? আমাদের না দেখেও যদি শুধুমাত্র আমাদের উপস্থিতির চিহ্ন দিয়ে বিশ্বাস করা যায় তাহলে স্রষ্টাকে না দেখে তার অনন্য, মহাবিস্ময়কর, কল্পনাতীত অগণিত জীবন্ত দর্শণ দেখার পরও কেন তাকে অস্বীকার করা হবে? এর কি কোনো যুক্তি আছে? এটাতো স্পষ্টত আত্মপ্রবঞ্চনার শামিল।উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনেক বেশি সুক্ষ্ম বলে আমরা তা দেখতে পাই না। 5-কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই মহাবিশ্বের বেশির ভাগ জিনিসই আমরা দেখতে পাই না। মাথার উপর কি বিশাল বিস্তৃত আকাশ।তাতে অবস্থান করছে লক্ষ কোটি মহাজাগতিক বস্ত্ত। যেমন, ধুমকেতু,কোয়াসার,ব্লাকহোল,সুপার নোভা, নিউট্রন স্টার, গ্যালাক্সী ইত্যাদি।এই বস্ত্তগুলো কতটা বিশাল তা শুধু গ্যালাক্সীর কথা বিবেচনা করলেই বুঝা যাবে। এক একটি গ্যালাক্সীর আয়তন এক থেকে দেড় লক্ষ আলোকবর্ষ। আজকের বিজ্ঞান সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাবিশ্বের যতটুকু অবস্থান অবলোকন করতে পেরেছে, বিজ্ঞানীদের অনুমান তা মোট মহাবিশ্বের বড়জোড় দশ ভাগ হবে। এই দশ ভাগের মধ্যেই চারশ কোটি গ্যালাক্সীসহ বিলিয়ন বিলিয়ন মহাজাগতিক বস্ত্তর সন্ধান পাওয়া গেছে। তাহলে সহজেই অনুমান করা যায় বাকি ৯০ ভাগ মহাবিশ্বে গ্যালাক্সীর মত কিংবা তার চেয়ে বহুগুণ বড় কত বিলিয়ন বিলিয়ন মহাজাগতিক বস্ত্ত অবস্থান করছে। আজ পর্যন্ত আমরা যার সন্ধান লাভ করতে পারিনি,কিন্তু বিশ্বাস করি নাস্তিকরাও বিশ্বাস করেন ।একেমন অদ্ভুদ কান্ডজ্ঞানহীন কথা যে স্রষ্টার সৃষ্টিকে অদৃশ্য হওয়া সত্বেও বিশ্বাস করবে আর স্রষ্টাকে অদৃশ্য হওয়ার অজুহাতে বিশ্বাস করা যাবেনা।এদের চেয়ে কপাল পোড়া অপদার্থ কি আর হতে পারে? 6- ১৮৮০ সালের পর থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা শুরু হলেও তা ব্যাপকতা লাভ করে ১৯ শতকের গোড়ার দিকে। কিন্তু তখনো মহাকাশ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা তেমন কিছুই জানতেন না, কারণ তখনো টেলিস্কোপ (Telescope)আবিষ্কার হয়নি। ১৯২০ সালে ইডুইন হাবেল টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন।তখনো সবাই মহাকাশ বলতে আমাদের সৌরজগৎ সহ খালিচোখে দেখা যায় এই নগণ্য আকাশকেই মনে করতো। এর বেশি কল্পনাও করতে পারতো না। শুধু মহাকাশ বিজ্ঞান নয় বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখাতেই মানুষের জ্ঞান ছিল আজকের তুলনায় অতি নগণ্য। আজ হতে মাত্র এক থেকে দেড় শত বছর পূর্বে যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানের অবস্থা হয় এতটাই নাজুক তবে চিন্তা করুন আজ থেকে১৪০০ বছর পূর্বে বিজ্ঞান সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কতটা সীমাবদ্ধ ছিল। থাকবেই বা কী করে? তখনকার যুগতো বিজ্ঞানের যুগ ছিল না, তখনকার যুগ ছিল জমাট বাধা অন্ধকার ও কুসংস্কারের যুগ। গোটা মানব সম্প্রদায় নানাবিধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে অন্ধকার অনুন্নত, জ্ঞানের আলোহীন পরিবেশে আরব মরুর বুকে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রিয় বাণী বাহকের কাছে অবতীর্ণ করলেন এমন কিছু বাণী যার মাধ্যমে সেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগেই পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে মানব জাতিকে জানিয়ে দিলেন গ্যালাক্সী সম্পর্কে। আরো জানালেন বিগ ব্যাংগ থিওরী, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, Cosomic String অভিকর্ষবল, ব্ল্যাকহোল, সম্প্রসারণ শীল মহাবিশ্ব, গ্যালাক্সিদের পশ্চাদ মুখিবেগ সম্পর্কে। এভাবে আরো শ’খানেক বিষয়ে উদাহরণ আছে। উক্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে পবিত্র কুরআনই যে মানব জাতিকে সর্বপ্রথম ধারণা দিয়েছেএ ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্যে এবং এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষনের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়ার জন্যে উক্ত বিষয়গুলো পবিত্র কুরআনের যে সূরার যে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে তা যথাক্রমে তুলে ধরছি। ২৫নং সূরা আল ফুরক্বান ৬১/৬২নং আয়াতে, তাফসীর মারেফুল কোরআন বাংলা , যথাক্রমে৯৬৪/৯৬৫/৯৬৬/৯৬৭/৯৬৮ পৃষ্ঠায় বিস্তারীত বর্নণা করা হয়েছে। ২১নং সূরা সূরায়ে আম্বিয়া ৩০/৩১নং আয়াতে, ৩৫ নংসূরা সূরায়ে ফাতির এর ৪১নং আয়াতে, ৫১নং সূরা, সূরায়ে আযযারিয়াতের ৭/৪৭/৪৮ নংআয়াতে, ৫৬নং সূরা, সূরায়ে ওয়াক্বিয়াহর ৭৫ ও ৭৬ নং আয়াতে, ৫৭নং সূরা সূরায়ে হাদীদের ৪/৫/৬নং আয়াতে এবং ৭১ নং সূরা, সূরায়ে নূহ এর ১৫/১৬/১৭/১৮/ও ১৯ নং আয়াতে এসব বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একবার চিন্তা করুন যেখানে আজ হতে এক থেকে দেড় শত বছর পূর্বে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না সেখানে আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে কিভাবে ১টি গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবেএই বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হল? নিঃসন্দেহে এর রচয়িতা মহান স্রষ্টা নিজেই। 7- বিশ্ব বিখ্যাত রসায়নবিদ ও পদার্থ বিজ্ঞানী মাইকেলফ্যারাডে যিনি সারা জীবন স্রষ্টাকে অস্কীকার করে এসেছিলেন। মাইকেল ফ্যারাডে যখন মৃত্যু শয্যায় তখন তার এক সহকর্মী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ফ্যারাডে স্রষ্টা সম্পর্কে এখন তোমার ধারণা কী? মৃত্যুপথ যাত্রী ফ্যারাডে প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করে বললেন, ধারণা? স্রষ্টাকে অশেষ ধন্যবাদ আমাকে আর কোনো ধ্যান ধারণার উপর নির্ভর করতে হবে না। আমি কাকে বিশ্বাস করতাম জানতে পেরেছ। বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী লর্ড কেনভীন বলেছেন- ‘আপনি যদি খুব গভীরভাবে চিন্তা করেন, তাহলে বিজ্ঞান আপনাকে স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করাতে বাধ্যকরবে। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্যার আলর্বাট আইনস্টাইন স্রষ্টার প্রতি এতটাই বিশ্বাসি ছিলেন যে, তিনি ঘোষণাকরেছিলেন- ‘ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু আর বিজ্ঞানহীন ধর্ম অন্ধ’।


১৬শ’শতাব্দির বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের একটি বাণী স্বরণ করিয়ে দিতে চাই । ফ্রান্সিস বেকন বলেছিলেন-সামান্য দর্শন জ্ঞান মানুষকে নাস্তিকতার দিকে নিয়ে যায়, আর গভীর দর্শন জ্ঞান মানুষকে ধর্মের পথে টেনে আনে।আজকে যে সকল তরুন, নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবীত হচ্ছে তাহল অল্প বিদ্যা ভয়ংকর হওয়ার সাথে সাথে পারিবারীক ভাবে সন্তানদের কে ধর্মীয় শিক্ষার নাগালে রেখেই শুধুমাত্র প্রাচ্যাত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত করার কারনে। ফ্রান্সের বিখ্যাত বিজ্ঞানী মরিচ বোকাইলি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্হ "বাইবেল,কোরআন ও বিজ্ঞান" নামক গ্রন্হে লিখেছেন ,আমরা দেখেছি মহা-বিশ্ব সম্পর্কে কোরআনের একটি আয়াতও এমন নয়,যা বৈজ্ঞানীক বিচারে সঠিক নয়।যেখানে বাইবেলে ভূলের পরিমান পর্বত সমান।সেখানে কোরআনের কোন আয়াতে কোন ভূল খুজে পাইনি।বৈজ্ঞানীক তত্ব ও তথ্য সম্বলীত আয়াতের সংখ্যা প্রচুর।আর এসব বানী আধুনিক বৈজ্ঞানীক সত্যের সাথে কিভাবে যে এত বেশী সামঞ্জস্যপূন্য হতে পারে সে বিষয়টাই আমাকে বিস্মিত করেছে সবচাইতে বেশী । 8-স্রষ্টার অস্বিত্বে কি ভাবে একটা লোক অবিশ্বাসী হতে পারে আমার বুঝে আসেনা যদি আপনাকে কোন এক ব্যক্তি বলে এই শহরে একটা কারখানা আছে,যার নাই কোন মালিক, নাই কোন ইন্জিনিয়ার,নাই কোন মিস্ত্রি,সমস্ত কারখানা মেশিন পত্র নিজে নিজে হয়ে গেছে,সমস্ত নাট-বল্টু নিজে নিজে লেগে গেছে। সমস্ত মেশিন নিজে নিজে চলছে।আশ্চার্য আশ্চার্য জিনিস পত্র নিজে নিজে বের হচ্ছে।এখন আপনিই বলুন যে,আপনাকে যে এই কথা বলবে তখন আপনি আশ্চার্য হয়ে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন কিনা?এখন আপনি বিচার করুন, একটা কারখানা সম্বন্ধে আপনি কখনো এটা মানার জন্য প্রস্তুত হবেন না যে , এটা কেউ চালানো ছাড়া নিজে নিজে চলছে। তাহলে আপনি বলুন পৃথিবী ও আকাশের যে বিশাল কারখানা আমাদের সামনে চলছে, যেখানে চাঁদ-সূর্য ও মহাবিশ্বে গ্যালাক্সীর মত কিংবা তার চেয়ে বহুগুণ বড় কত বিলিয়ন বিলিয়ন মহাজাগতিক বস্ত্ত অবস্থান করছে। এবং বড় বড় নক্ষত্র ঘড়ির কাঁটার মত চলছে,আপনি এটা কিভাবে মানবেন,যে এটা কেউ বানানো ছাড়া নিজে নিজে হয়ে গেছে এবং কারো চালানো ছাড়া নিজে নিজে চলছে?মানব জাতি তুচ্ছ বির্য ছিল। কিছু দিন পর বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে খুব সংকৃর্ণ স্হান হতে বের হয়েছে । তার জন্য মায়ের স্তন হতে দুধ উৎপন্ন হয়েছে, কিছু দিন পর ঐ মানবকে বুদ্ধি জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।এখন আমার প্রশ্ন এত সব কিছু কে করলো? নিশ্চয় আপনি উত্তর দিবেন সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালাই করেছেন।দুনিয়ার মধ্যে যে কোন কাজ চাই ছোট হোক কিংবা বড়,কখনো সুব্যবস্হা ছাড়া নিয়মিত ভাবে চলতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তার কোন না কোন দায়িত্বশীল না হবে। এক স্কুলের দুজন প্রধান শিক্ষক,এক বিভাগের দুজন ডাইরেক্টর, এক ফোজের দুই কমান্ডর , এক দেশের দুজন প্রধানমন্ত্রী আপনি কি কখনো শুনেছে? আর যদি কখনো এমন হয় তবে আপনিই বলুন কি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে? এখন আপনি চিন্তা করুন যে,আপনার উপর কোটি কোটি ভারী-ভারী গাড়ি ঘুরছে যা আপনি স্বচোখে দেখছেন, এই পৃথিবী যেখানে আপনি বসবাস করছেন, এই চাঁদ যে রাতে বের হয়, এই সূর্য যে প্রতিদিন বেব হয়। এই সব কিছুর সুন্দর ব্যবস্হায় চলা একথার প্রমান নয়,যে এই পৃথিবীর স্রষ্টা এবং ব্যবস্হাপক কেবল একমাত্র আল্লাহ।পৃথিবীতে অসংখ্য জিনিষ আছে যা দেখা যায় না তবে মানুষ তার অস্বিত্ব স্বীকার করে । যেমনটি পূর্বেও আলোচনা করা হয়েছে।এক ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কথা-বার্তা বলে স্বাভাবিক জীবন যাপন করে তখন আমরা তার অন্তরে আত্মার অস্তিত্ব থাকার পূর্ণ বিশ্বাস করি । কিন্তু যখন সে জমিনে পড়ে যায় । আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়, শরীর ঢিলা হয়ে যায়, তখন আমরা তার অন্তর হতে আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পূর্ণ বিশ্বাস করি। অথচ তার আত্মা বের হতে আমরা দেখিনি।সুতরাং এমনি হাজারো লাখো উদাহরণ আছে যে অনেক সৃষ্টির রহস্য আমরা জানিনা বা দেখিনা কিন্তু না দেখা সত্বেও আমরা বিশ্বাস করি কিন্তু স্রষ্টাকে দেখা যায়না তাই বলে "যা দেখি না তা মানি না"এমন কথা আল্লাহদ্রোহী নাস্তিক ,গন্ডমূর্খ নাফরমানদের মানায়,কোনআস্তিকের জন্য নয়।পরিশেষে পরামর্শ স্বরুপ বলবো আজকে মানুষ নাস্তিক্যবাদের দিকে কেন ধাবীত হচ্ছে ?তার ৪টি কারণ যা অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

১ম:- পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৪২০টির মত ধর্ম প্রচলীত আছে আমরা সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করি,আপনি নিজের জ্ঞান বুদ্ধি গবেষনা দিয়ে সত্যকে গ্রহন করবেন এটাই বাস্তব,কিন্তু আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত সর্বশ্রেষ্ঠ ও শেষ ধর্মই হল ইসলাম।ইসলাম ছাড়া কোন ধর্মই বর্তমানে আল্লাহর নিকট গ্রহন যোগ্য নয়।আল কোরআন: যাই হউক আপনি যে কোন ধর্মেরই অনূসারী হউননা কেন যদি পারিবারিক ভাবে সন্তানদেরকে ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না করেন তাহলে কোন একসময় এসন্তান নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।এই জন্যই অবিভাবককেই সন্তানদের প্রাথমীক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্হা করতে হবে।এ ক্ষেত্রে বড় আলেম মুফতি মোহাদ্দেস হওয়া জরুরী নয় বরং যে পরিমান এলেম অর্জনের দ্বারায় হারাম হালাল ও জরুরীয়াতে দ্বীন ও আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে চিনতে পারে ততটুকুই যথেষ্ট। রসুল সাঃ বলেন প্রতিটি মানব সন্তানই ফিতরতে ইসলামের উপরই জন্ম গ্রহন করে থাকে কিন্তু তাঁর মাতা-পিতাই তাকে ইহুদী-খুষ্টান বা মূর্তিপুজক বানায়।অর্থাৎ জন্ম সূত্রে প্রত্যেক শিশু ইসলামের উপর জন্ম গ্রহন করলেও মাতা-পিতার কারণে সে হিন্দু-মুসলিম ইহুদী-খৃষ্টান ও নাস্তিক হিসাবে গডে উঠে।

২য়:-পারিবারীক ভাবে ধর্মীয় অনূশাসন মেনে না চললেও ঐ সন্তান-সন্ততি কোন এক সময় নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবীত হতে পারে অথবা নাস্তিক্যবাদকে সমর্থন দিতে পারে।ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে সে নিজেও নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।এজন্য অভিবাবকদের করনীয় পারিবারীক ভাবে যত টুকু সম্ভব ধর্মীয় অনূশাসন মেনে চলা। বিজাতীয় অশ্লীল কালসার থেকে পরিবারকে মূক্ত রাখা। ৩য়:-স্কুল-কলেজ ওবিশ্ববিদ্যালয়ে নাস্তিক্যবাদিদের লেখা পাঠ্যবই পাঠ করলে ধীরে ধীরে ঐ সকল ছাত্র-ছাত্রী সে, যে কোন ধর্মাবলম্বী হউকনা কেন মনে মগজে নাস্তিক্ হয়ে বের হবে ।এই জন্য করণীয়; সরকারকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী লেখকদের বই, পাঠ্যক্রম থেকে সংকুচিত করে জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক তথা ধর্মীয় শিক্ষার বই অন্তর্ভূক্ত করা।মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলে মানুষ মুসলমান হিসাবে গণ্য হয়৷ কিন্তু তাকে যদি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও আদর্শের সাথে পরিচিত করা না হয়, তাহলে সে কি প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে?যে দেশের পাঠ্যপুস্তকে ৫৭ থেকে ৮০ ভাগ লেখা বিধর্মীদের, সেদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি প্রকৃত মুসলমান থাকবে? বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সে দেশে শিক্ষাব্যবস্থার ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে সেকুলারও বিধর্মী লোকদের লেখা গল্প-কবিতার পরিমাণ প্রায় ৫৭ থেকে ৮০ ভাগ। এসব লেখার মাধ্যমে ১৫ কোটি মুসলমানের ছাত্রসমাজকে তাদের আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় ভাবধারা কোন দিকে ধাবীত হচ্ছে তা ভাবনার বিষয়৷ ৪র্থ:- ইসলাম আমাদের মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে তা পৃথিবীর কোন ইজম্ দিতে পারেনাই।তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কারো মানহানী বা কারো অনূভুতিতে আঘাত হেনে নয়।তা সীমানা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে নয়।রাস্তা দিয়ে হাঁটার অধিকার ধনী-গরীব,রাজা বাদশাহ,মন্ত্রি-মিনিষ্টার সকলেরই আছে,তাই বলে কি আপনি নিজেকে মুক্তমনা আর স্বাধীন ভেবে আপনি হাঁটার সময় অন্যকে ধাক্কামেরে রাস্তার বাহিরে ফেলে দিবেন?অথবা অন্যের গায়ে ঢিল্ মেরে থুথু মেরে বা অন্যকোন নোংরামীর মাধ্যমে রাস্তার পরিবেশ নষ্ট করবেন?না,না,না। এমন স্বাধীনতা পৃথিবীর কোন সংবিধান আপনাকে আমাকে দিতে পারেনা। আজকাল মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় অনুভূতীতে আঘাত দেয়ার শাস্তি না হওয়ার কারণে মানুষ নাস্তিক্যবাদের দিকে ধাবীত হচ্ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ।এই জন্য সরকারই কঠোর আইনের মাধ্যমে এ জাতিকে নাস্তিক্যবাদের অভিশাপ থেকে মূক্তি দিতে পারে,কারন শাস্তির ভয়ে হলেও তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া থেকে বিরত থাকবে। সুতরাং ১ম ও২য় আমাদের সাধারণ জনগনকে ব্যবস্হা নিতে হবে এবং ৩য় ও ৪র্থ টি সরকারকেই করতে হবে। তাছাডা আরও চারটি কারণ যা অনেক গবেষকগন বর্ণনা করেছেন তাহল,

প্রথম কারনঃ একজন খুব সুন্দর করে বলেছেন- “চোর যে কারনে পুলিশকে খুঁজে পায় না একই কারনে নাস্তিকরা স্রষ্টাকে খুঁজে পায় না”।  আমার মনে আছে আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্যারেরা অনেক সময় অফিসে বেত আনতে পাঠাত। আমরা দেখেও না দেখার ভান করে চরে এসে স্যারকে বলতাম “স্যার বেত নাই।" বেত পেলে তার Consequence তো আমরা খুব ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম। নাস্তিকরাও আল্লাহকে খুঁজে পায় না এই ভয়ে যে, তাদের পাপ কাজের হিসাব তাদেরকে দিতে হবে। 

দ্বিতীয় কারনঃ Fransis Becon- “এটা সত্য যে জীবনদর্শন সম্পর্কে ক্ষুদ্র জ্ঞান মানুষের মনকে নাস্তিকদের দিকে ঝুঁকে দেয়,কিন্তু দর্শনের গভীর জ্ঞান মানুষের মনকে ধর্মের দিকে নিয়ে আসে।“(১) দর্শনশাস্ত্রের জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে মূলত তারা এ জীবনের দর্শনকে উপলব্ধি করতে পারে না। উপলব্ধি করতে পারে না তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।বিবর্তনবাদ অনুযায়ী মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বংশ পরম্ভরা রক্ষা করা।হাউ ফানি!এমন স্পল্প জীবন দর্শন নিয়ে তারা নিজেকে এবং মানবতাকে কি দিতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ**, স্বল্প জীবনদর্শন সম্পন্ন মানুষ যেমন জীবন সাগরে হাতড়াতে থাকে কিন্তু কোন কুলকিনারা পায় না, তেমনি স্বল্প জীবনদর্শন সস্পন্ন নাস্তিকেরাও তাদের এ জীবনের কোন কিনারা পায় না।

জীবনকে স্বল্প পরিসরে চিন্তা এবং স্বল্প জ্ঞানের উপর ভর করেই চিন্তার কারনে নাস্তিকেরা স্রষ্টায় অবিশ্বা্সীতে পরিনত হয়। 

তৃতীয় কারনঃ Werner Heisenberg বলেছেন- “প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের(জীববিজ্ঞান,রসায়ন,পদার্থ ইত্যাদি) পেয়ালা থেকে প্রথম চুমুক নাস্তিকতা নিয়ে আসলেও, এর তলদেশে স্রষ্টা অপেক্ষমান”। বিজ্ঞানের জ্ঞানের স্বল্পতা নাস্তিকদের নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসে। তারা বিজ্ঞানের পৃষ্ঠে হাবুডুবু খায় কিন্তু এর অন্তঃস্থলের ভান্ডারকে উপলব্ধি করতে কিংবা জানতে চেষ্টা করে না। তারা অনেকে অপবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে গ্রহন করে ধোঁকায় পতিত হয়। Theory of Evolution কে নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ির সীমা নেই। অথচ অনেক বিজ্ঞানী একে পুরোপুরি Reject করেছেন। এটা কোন প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়। আর বিজ্ঞানী Coley বলেছেন, “Science is the statement of truth found out.” অর্থাৎ সত্যই একমাত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।বিবর্তনবাদের মত hypothesis তো বিজ্ঞানের চৌসীমানায় ও আসে না। তাই এটি অপবিজ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নয়।

চতুর্থ কারনঃ আল্লাহ কোরানে বলেছেন- “ তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল’,সুরা নামল-১৪ আল্লাহ ঠিকই বলেছেন তাদের অন্তর যদিও ইসলামকে মেনে নেয় কিন্তু তারা অন্যায় ও অহংকার বশত আল্লাহকে অস্বীকার করে। তারা যখন দেখে ইসলাম গ্রহন করলে তাদের alcohol ছাড়তে হবে, Free sex কে বলতে হবে No, Homo sexuality কে বলতে হবে No, অনেক Atheist রা হয়ত এখন বলবেন নাস্তিকতা মানেই কি alcoholism, Free sex, Homo sexuality. আমার অনুরোধ নাস্তিকদের বই, প্রবন্ধ পড়লেই এ সকল জিনিসকে স্বাধীনতা আর প্রাকৃতিকরনের নামে হালালীকরন, খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে নেয়ার মানেই হচ্ছে মনের প্রবৃত্তিকে দমন করতে হবে। আর এই জিনিসটিই স্রষ্টা বিশ্বাসের পথে নাস্তিকদের কাছে এক বিরাট বাঁধা । anontheanonymous.blogspot.com/2015/03/

মৌলানা আবদুল্লাহ ভূঁইয়া দাওরায়ে হাদিস মাষ্টার্স ফাজেলে জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক মাদ্রাসা হোছাইনিয়া আজিজুল উলুম রাজঘাটা, লোহাগাড়া,চট্টগ্রাম। লেখক গবেষক ব্লগার ও ইসলামি অনলাইন এক্টিভিস্ট ।