বৈদ্যব্রাহ্মণ

বৈদ্য(Sanskrit: वैद्य Bengali: বৈদ্য Malayalam:വാദ്ധ്യാർ) এবং বেদ একই শব্দমূল বিদ' ধাতু থেকে উৎপন্ন যার অর্থ জ্ঞান, মূলত বৈদিক ব্রাহ্মণদের যে শাখা আধ্যাত্মিক ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্র তথা উপবেদ " আয়ুর্বেদ" অনুশীলন করতেন সেই সম্প্রদায়ের বেদজ্ঞানীগণ বৈদ্য ব্রাহ্মণ[১] [২][৩] হিসেবে পরিচত।শাস্ত্রানুসারে ব্রাহ্মণকুলজাত ব্যক্তিগণ বিপ্র (অর্থাৎ জ্ঞানী) এবং দ্বিজ অভিহিত হয়ে থাকেন (অর্থাৎ দু'বার জাত), ব্রহ্মান্ড পুরাণ অনুসারে দ্বিজত্ত প্রাপ্তির পর যাঁরা চৌদ্দ শাস্ত্র অধ্যয়নে ব্রতী হতেন এবং পুনরায় উপনীত হয়ে বেদের উপবেদ রূপে আয়ুর্বেদ অধ্যয়ন করতেন তাঁদের 'বৈদ্যব্রাহ্মণ বা ত্রিজ[৪] নামে অবিহিত করা হত।[৫] মহাভারতের উদ্যোগপর্বে বলা হয়েছে, ‘‘ প্রাণী অপ্রাণীর মধ্যে প্রাণীরা শ্রেষ্ঠ, প্রাণীদের মধ্যে বুদ্ধিমানরা শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমানদিগের মধ্যে মানুষ শ্রেষ্ঠ, মানুষদিগের মধ্যে ব্রাহ্মণরা শ্রেষ্ঠ, ব্রাহ্মণগণের মধ্যে বৈদ্যরা শ্রেষ্ঠ, বৈদ্যগণের মধ্যে যাদের বুদ্ধি পরিণত হয়ে সাধনার অভিমুখে চালিত হয়েছে, তাঁরা শ্রেষ্ঠ। ’’ ফণিভূষণ আচার্যের ‘শব্দসন্ধান’-এ বৈদ্যের ব্যাখ্যা, ‘‘যিনি সর্ববিদ্যায় পারদর্শী: বৈদ্য, যিনি সকল বেদে দক্ষ: বৈদ্য এবং যিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে কুশল: বৈদ্য।’’

বৈদ্যব্রাহ্মণ

হিন্দু গ্রন্থ পরাশর সংহিতা অনুসারে বিখ্যাত লেখক লেসলি বর্ণনা করেছেন যে বৈদ্যরা কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদেরই চিকিৎসা করত আর সেই কারণেই দ্বীজের মধ্যে ব্রহ্মের নিখুঁত / সুবিন্যস্ত গোষ্ঠী বৈদ্যব্রাহ্মণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বৈদ্য ছাড়া বাকিরা (অশুচি) অম্বষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়।[৬] ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের বর্ণনানুসারে দেবচিকিৎসক অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের একজনের ব্রাহ্মণী স্ত্রীর সন্তানরা বৈদ্যব্রাহ্মণ আর ব্রাহ্মণ পিতা ও বৈশ্যমাতার সন্তানরা অম্বষ্ঠ।


সমুদ্রমন্থনে ধন্বন্তরির জন্ম

প্রচলিত একটি মতে দেবাসুরের সমুদ্র মন্থনকালে ধন্বন্তরীর জন্ম হয় এবং বৈদ্যরা তার উত্তরপুরুষ। অন্য মতে ধন্বন্তরীর জন্ম হয় জনৈক মুনির বৈদিক মন্ত্র জপের মাধ্যমে তাই তিনি বৈদ্য নামে পরিচিত হন। মনুস্মৃতিতে বৈদ্যব্রাহ্মণ পিতা ও বৈশ্য মাতার অনুলোম সংকর জাতি হিসেবে অম্বষ্ঠদের উল্লেখ করা হয়েছে। "ব্রাহ্মণ্যব্দৈবৈশ্যকন্যায়াং অম্বষ্ঠ নাম জায়তে..."। (মনুস্মৃতি ১০. ৪৭ ও ৮) অর্থাৎ, বৈদ্যব্রাহ্মণ এবং বৈশ্য কন্যার সঙ্কর অম্বষ্ঠ নামে পরিচিত। বৈদ্য ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একটি মতও প্রচলিত আছে যে, অম্বষ্ঠ নামে সিন্ধুনদের তীরে একটি স্থান ছিল; সেখান থেকে বৈদ্যদের একটি দল দক্ষিণ ভারতে এবং অন্য একটি দল বাংলায় আসে।বৈদ্যরা সাধরনত আয়ুর্বেদ পঠন-পাঠন ও ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য এই তিন দ্বিজের চিকিৎসা করত অপরদিকে অম্বষ্ঠ নিম্নজাতের ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়, শুদ্রের চিকিৎসা করত। [৭]

পেশাদারী ইতিহাসসম্পাদনা

প্রাচীণকালে সকল শ্রেণীর ব্রাহ্মণ বৈদ্য হতে পারত।কালক্রমে পেশাগত কারণে বৈদ্যদের একটি স্বতন্ত্র সমাজ গড়ে ওঠে এবং নিজেদের মধ্যে আয়ুর্বেদ,অথর্ববেদ ছাড়াও গুপ্তবিদ্যা বা স্বতন্ত্র দক্ষতাসম্পন্ন চিকিৎসাবিদ্যার প্রসার লাভ করে এবং বংশানুক্রমিক আলাদা একটি সম্প্রদায়ের সূচনা হয়।এ কারণে অন্য পেশার ব্রাহ্মণরা চাইলেও আর বৈদ্যদের সমকক্ষ পেশাদারী হতে পারত না।প্রাচীণ ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বৈদ্যদের উপর নির্ভরশীল ছিল।প্রবীণ অনুশীলনকারী বা শিক্ষকদের সম্মানের চিহ্ন হিসাবে বৈদ্যরাজ ("চিকিৎসক-রাজা") বলা হত। কিছু অনুশীলনকারী যাদের গ্রন্থগুলির সম্পূর্ণ জ্ঞান ছিল এবং অনুশীলনে দক্ষ ছিলেন তারা প্রানাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। ভারতের কিছু রাজপরিবারের ব্যক্তিগত বৈদ্য ছিল এবং তাদের রাজবৈদ্য ("রাজার চিকিত্সক") হিসাবে উল্লেখ করা হত।মুসলিম শাসনামলে ইউনানী, ইংরেজ উপনিবেশিক কালে হোমোপ্যাথিক এবং অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আবির্ভাব হলে বৈদ্যব্রাহ্মণ শ্রেণির প্রভাব কমে যায় এবং বৈদ্যদেরকে প্রচুর পরিমাণে নিজ পেশা পরিবর্তন করে অন্যান্য আধুনিক পেশায় নিয়োজিত হতে দেখা যায়।

শ্রেণি বিভাগসম্পাদনা

প্রাচীনকালে যেহেতু সকল শ্রেণীর ব্রাহ্মণ বৈদ্য হতে পারত তাই বৈদ্যদের মাঝে শ্রেনীবিভাগও অনেক কিন্তু সকলে মিলে "বৈদ্যব্রাহ্মণ" নামে একটি সম্প্রদায়ে সমবেত হয়।[৮] কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈদ্যব্রাহ্মণ শ্রেণি:

  • শাকদ্বীপি বৈদ্যব্রাহ্মণ: শাকদ্বীপি ব্রাহ্মণ বলতে শাকদ্বীপ (পাশ্চাত্য) হতে আগত ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রায় পুরোটাই বৈদ্য অর্থাৎ আয়ুর্বেদ চর্চাকারী।
  • সারস্বত বৈদ্যব্রাহ্মণ:পুরো ভারতবর্ষে এই সারস্বত বৈদ্য শ্রেণি বিদ্যমান। [৮]
  • গৌড় সারস্বত বৈদ্যব্রাহ্মণ: বাংলাদেশ,পশ্চিমবঙ্গ,কর্ণাটক,কেরালায় সাধারণত এই শ্রেণি দেখা যায়।[৮]
  • পাঞ্জাবি সারস্বত বৈদ্যব্রাহ্মণ: পাঞ্জাবে স্বারস্বত ব্রাহ্মণদের মাঝে এই বৈদ্যশ্রেণি বিদ্যমান।এরা ময়হাল ব্রাহ্মণ হিসেবেও পরিচিত। [৯]
  • রাঢ়ী বৈদ্যব্রাহ্মণ:বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে দেখা যায়।[৮]
  • বরেন্দ্র বৈদ্যব্রাহ্মণ: বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে দেখা যায়।[৮]
  • পুষ্পক বৈদ্যব্রাহ্মণ: কেরালায় এ বৈদ্যব্রাহ্মণ শ্রেনি অষ্টবৈদ্য নামে পরিচিত।[১০][১১][১২]
  • উৎকল বৈদ্যব্রাহ্মণ: এদের আদি নিবাস উড়িষ্যায় হলেও বাঙলায়ও এই বৈদ্যব্রাহ্মণ দেখা যায়।

বৈদ্যব্রাহ্মণ পদবীসম্পাদনা

  • সেন : সেনগুপ্ত, সেনশর্মা,সেন চৌধুরী,   সেন লাল
  • গুপ্ত: সেনগুপ্ত, দাশগুপ্ত,  দত্তগুপ্ত, গুপ্তশর্মা, ধরগুপ্ত, করগুপ্ত।
  • শর্মা : সেনশর্মা, গুপ্তশর্মা, দাশশর্মা, ধরশর্মা , করশর্মা, দেবশর্মা
  • আচার্য : সেন আচার্য,  গুপ্ত আচার্য
  • মল্লিক (উপাধি)
  • মজুমদার(উপাধি)

আচার অনুষ্ঠানসম্পাদনা

 
ত্রিজত্ব প্রাপ্তির পর বৈদ্যনাথ(শিব) জ্যোতির্লিঙ্গ পূজা এই পূজার পর সাধারণ ব্রাহ্মণের সহিত ত্রিজ বৈদ্যব্রাহ্মণ একই পঙক্তিতে বসিত না।সাধারাণ ব্রাহ্মণ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক পঙক্তির নিচে দাঁড়াইয়া থাকিত,এই নিয়ম ভঙ্গ করিলে রোগাক্রান্ত হইলে কোনো বৈদ্য তার চিকিৎসা করিত না।

বৈদ্যরা বৈদিক ব্রাহ্মণ হওয়ায় বৈদিক আচারকে প্রাধান্য দিয়ে পৌরাণিক বিভিন্ন দেবদেবীর পূজাকে গ্রহন করেনি এবং পৌরহিত্যও করেনি।বৈদ্য রাজারা বিভিন্ন বৈদিক যজ্ঞের আয়োজন করতেন এবং এসব যজ্ঞে বৈদ্যরা ঋত্বিকের ভূমিকা পালন করতেন। উল্লেখযোগ্য কিছু যজ্ঞ

  • রাজসূয় যজ্ঞ
  • অশ্বমেধ যজ্ঞ
  • পুত্রেষ্টি যজ্ঞ
  • সর্প যজ্ঞ
  • বৈদ্যনাথ(শিব) পূজা
  • অশ্বিনীকুমার পূজা
  • চন্দন: চন্দন বৈদ্যদের একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। বিবাহ ও দত্তকগ্রহণ প্রভৃতি মাঙ্গলিক উৎসবে এটি অনুষ্ঠিত হয় । চন্দন উপলক্ষে সমস্ত বৈদ্য সন্তান কে নিমন্ত্ৰণ করতে হয়। নির্দিষ্ট দিবসে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ সমবেত হলে, এক সভামণ্ডপে তারা সমাসীন হন । সভার সর্বপ্রধান স্থানে সমাজপতি এবং তঁহার উভয় পাশ্বে অরবিন্দ, বিকৰ্ত্তন এবং প্রভাকর বংশীয় বৈদ্যগণ উপবেশন করেন। তৎপর অস্তান্ত বংশীয় কুলীনগণ, অষ্টঘর শ্রেণীস্থ বৈদ্যগণ এবং অপরাপর বংশীয় বৈদ্য-সন্তান ক্রমন্বয়ে উপবিষ্ট হলে, কৰ্ম্মকৰ্ত্তা ঐ সভাস্থলে আসন পরিগ্রহ করেন। অতঃপর জনৈক কুলাচাৰ্য্য চন্দনদ্বারা কৰ্ম্মকৰ্ত্তার ললাটে তিলক প্রদান করেন এবং তৎপর সমাজপতি, তার উভয়পাশে উপবিষ্ট কুলীন সন্তানগণের ও অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিগণের কপালে ক্রমান্বয়ে তিলক প্রদান করে কাৰ্য্যশেষ করেন । এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে যে সমস্ত ব্যক্তি আগমন করেন, তারা বংশ মর্য্যাদায় কৰ্ম্মকৰ্ত্তা।[১৩]

বৈদিক অর্চনা ছাড়া সাধারণত পৌরাণিক পূজাঅর্চণায় বৈদ্যদের অনীহার কারণে তারা ঋগবেদীয় আয়ুর্বেদ চর্চায় ঝুঁকে পরে এবং পেশাদারি চিকিৎসক জাতিতে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বৈদ্যব্রাহ্মণ লেখকঃশ্যামাচরণ সেনশর্মা"bangiyasahityaparishat.org। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০ 
  2. সেনশর্মা, ত্রিভঙ্গমোহন (১০ মার্চ ২০১১)। "কুলদর্পণ"Wikipedia। ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৯ 
  3. Bose, Nirmal Kumar (১৯৯৪)। Structure of Hindu Society। Orient BlackSwan। পৃষ্ঠা 163। আইএসবিএন 978-8-12500-855-2 
  4. Education in Ancient India By Hartmut Scharfe https://books.google.com.bd/books?id=GMyiDwAAQBAJ&pg=PA263&lpg=PA263&dq=Trija+Thrise+born&source=bl&ots=q-cweeBNRR&sig=ACfU3U1z7hVjcAYduTYoeENPTu68Lv3pog&hl=bn&sa=X&ved=2ahUKEwjN7_L2na_sAhXFeisKHaTwCQoQ6AEwBHoECAYQAQ#v=onepage&q=Trija%20Thrise%20born&f=false
  5. Brahmanda-Puranam: inspired, inwardly stirred, wise, learned, etc.
  6. Leslie, Charles M. (১৯৭৬)। Asian Medical Systems: A Comparative Study। University of California Press। পৃষ্ঠা 37। আইএসবিএন 978-0-52003-511-9 
  7. "উৎপত্তি"
  8. সেনশর্মা, ত্রিভঙ্গমোহন (১০ মার্চ ২০১১)। "বৈদ্যব্রাহ্মণ কুলপঞ্জিকা"Wikipedia। ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৯ 
  9. Dutta, Anil (১০ মার্চ ২০১১)। "Vaidya as Punjabi Saraswat Brahmin"Wikipedia। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৯ 
  10. Indudharan Menon, Annamma Spudich (অক্টোবর ২০১০)। "The Ashtavaidya physicians of Kerala: A tradition in transition"Journal of Ayurveda and Integrative Medicine1 (4): 245–50। ডিওআই:10.4103/0975-9476.74424পিএমআইডি 21731370পিএমসি 3117315 । সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৬ 
  11. V. T. Yadugiri (২৫ আগস্ট ২০১০)। "The Ashtavaidya medical tradition of Kerala" (PDF)Current Science99 (4)। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১৬ 
  12. P. U. Leela (জানুয়ারি ২০১৩)। "Healers in the context of culture: The ashtavaidya tradition of Kerala, South India."Ancient Science of Life32 (S9): S9। ডিওআই:10.4103/0257-7941.123821পিএমসি 4147565  
  13. https://bn.m.wikisource.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE:%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%AD_%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8_%E0%A6%93_%E0%A6%A4%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%80_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%82%E0%A6%B2_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%82%E0%A6%B2_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%A3.djvu/%E0%A7%AF%E0%A7%AE