বেসামরিক বিমান চলাচল

বেসামরিক বিমান চলাচল দুটি প্রধান শ্রেণীর একটি, যা ব্যক্তিগত, বাণিজ্যিক সহ সকল ধরনের অসামরিক বিমান চলাচলের প্রতিনিধিত্ব করে‌। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) এর সদস্য এবং এজেন্সিটির মাধ্যমে বেসামরিক বিমানের জন্য নির্ধারিত সাধারণ মান এবং প্রস্তাবিত অনুশীলন প্রতিষ্ঠায় একত্র হয়ে কাজ করে।

২০০৯ সালে নির্ধারিত এয়ারলাইন ট্র্যাফিক

বেসামরিক বিমান চলাচলে দুটি প্রধান বিভাগ অন্তর্ভুক্ত:

  • নির্ধারিত বিমান পরিবহন, সকল যাত্রী এবং কার্গো ফ্লাইট নিয়মিত ভাবে নির্ধারিত রুটে পরিচালনা; এবং
  • জেনারেল এভিয়েশন (জিএ), অন্যান্য বেসামরিক ফ্লাইট, ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক সহ

যদিও নির্ধারিত বিমান পরিবহনের যাত্রী সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তর অপারেশন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএ(জেনারেল এভিয়েশন) যে কোন স্বতন্ত্র বিমান সংস্থার চেয়ে প্রতি বছর ১৬৬ মিলিয়ন বেশি যাত্রী বহন করে, যদিও বিশ্বব্যাপী সব এয়ারলাইন্সের তুলনায় কম।[১][২] ২০০৪ সাল থেকে, মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর ৬০০ মিলিয়ন যাত্রী বহন করেছে, এবং ২০১৪ সালে তারা একটি সম্মিলিতভাবে ৬৬২,৮১৯,২৩২ জন যাত্রী বহন করে।[৩]

কিছু দেশ এছাড়াও একটি নিয়ন্ত্রক পার্থক্য ব্যবহার করে যে বিমান ভাড়া করে উড়ানো হয় কিনা যেমন:

  • বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের মধ্যে রয়েছে ভাড়া করা বেশিরভাগ বা সকল উড়তে পারা বিমান, বিশেষ করে এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত সেবা; এবং
  • ব্যক্তিগত বিমান চলাচলের মধ্যে রয়েছে পাইলটদের নিজস্ব উদ্দেশ্যে (বিনোদন, ব্যবসায়িক মিটিং, ইত্যাদি) কোন ধরনের পারিশ্রমিক না পেয়ে বিমান চালনা।
একটি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৪৭-৪০০ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ছেড়ে যাচ্ছে। এটি বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবার একটি উদাহরণ।

সকল নির্ধারিত বা শিডিওলড বিমান পরিবহন বাণিজ্যিক, কিন্তু সাধারণ বিমান হয় বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত হতে পারে। সাধারণত, পাইলট, বিমান এবং অপারেটর কে পৃথক ভাবে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন এবং অপারেশন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুমতি নিতে হয়।

ইতিহাসসম্পাদনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাক্তন সামরিক পাইলট ব্যবহার করে মানুষ এবং পণ্য পরিবহন শুরু হয়। যে সব কারখানা বোমারু বিমান উৎপাদন করেছিল তারা দ্রুত ডগলাস ডিসি-৪ এর মত যাত্রীবাহী বিমান উৎপাদনে অভিযোজিত হয়। এই বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী সামরিক বিমানবন্দর স্থাপন দ্বারা ত্বরান্বিত হয়, হয় যুদ্ধ ব্যবহার বা প্রশিক্ষণের জন্য যাতে এগুলো সহজেই বেসামরিক বিমান চলাচলের ব্যবহারের জন্য পরিণত হতে পারে। প্রথম বাণিজ্যিক জেট বিমান ছিল ব্রিটিশ ডি হাভিল্যান্ড ধূমকেতু। ১৯৫২ সালে, ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিওএসি ধূমকেতু কে ব্যবহার নির্ধারিত সেবা চালু করে। যদিও এটি একটি প্রযুক্তিগত অর্জন ছিল, বিমানটি অত্যন্ত ব্যর্থতার প্রতীক হিসাবে চিন্হিত হয়। এটিতে জানালার আকৃতি কারণে ধাতব ক্লান্তির সৃষ্টি হয় যার ফলে ফাটল সৃষ্টি করে। যখন সমস্যা দূর করা হয়, অন্যান্য জেট বিমান যেমন বোয়িং ৭০৭ এর মতো বিমানগুলো ইতোমধ্যে সার্ভিসে প্রবেশ করেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসম্পাদনা

কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন ("শিকাগো কনভেনশন") ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়; এতে বলা হয়েছে যে বিমান পরিবহনের নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং নিয়মিতব্যবহারের জন্য আকাশসীমার ব্যবহারের সমন্বয় সাধন এবং প্রমিত করতে স্বাক্ষরকারীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা উচিত।[৪] সাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা ১৯৩। বেসামরিক বিমান চলাচলের নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশভিত্তিক একটি করে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষও (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফএএ) রয়েছে।

  • কর্মীদের লাইসেন্সিং- মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ন্ত্রণ এবং লাইসেন্স এবং সার্টিফিকেট ইস্যু করা।
  • ফ্লাইট অপারেশন- বাণিজ্যিক অপারেটরদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান করা।
  • বিমানযোগ্যতা- বেসামরিক বিমানের নিবন্ধন এবং সার্টিফিকেট ইস্যু করা, এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান করা।
  • এরোড্রোম- এরোড্রোম সুবিধা নকশা এবং নির্মাণ।
  • এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস- একটি দেশের আকাশসীমার ভেতরে ট্রাফিক পরিচালনা করা।

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে ৩.৪৪ বিলিয়ন পরিবহন কৃত যাত্রীর প্রাথমিক সর্বোচ্চ তালিকা সহ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর পরিবহনকৃত যাত্রীর সংখ্যার তালিকা তৈরি করেছে।[৫] একইভাবে, বিশ্বব্যাপী নিবন্ধিত বাহকের টেকঅফের সংখ্যা ২০১৫ সালে প্রায় ৩ মিলিয়নের শিখরে পৌঁছেছে।[৬] ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাপী মৌসুমী ভাবে সমন্বয়কৃত রাজস্ব যাত্রী কিলোমিটারে (আরপিকে) ৫৫০ বিলিয়ন কিলোমিটার (৩,৭০০ এইউ) (বছরে ৬.৬ ট্রিলিয়ন যাত্রী প্রায় প্রতি ২০ কিলোমিটারে), যা এক বছরের তুলনায় ৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।[৭][৮]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Archived copy"। ২০০৯-০৯-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৮-১৬ 
  2. "Archived copy"। ২০০৮-০৯-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-০৩ 
  3. United States Depart of Transportation. "Bureau of Transportation Statistics ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৫-০৭-২৫ তারিখে". Retrieved 24 July 2015
  4. "Archived copy"। ২০০৮-০৯-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-০৩ 
  5. "Air transport, passengers carried - International Civil Aviation Organization, Civil Aviation Statistics of the World and ICAO staff estimates"। ২০১৭-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. "Air transport, registered carrier departures worldwide- International Civil Aviation Organization, Civil Aviation Statistics of the World and ICAO staff estimates."। ২০১৭-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  7. "Press Release No.: 11 / Strong Passenger Demand Continues into 2016"IATA। ৮ মার্চ ২০১৬। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  8. "Archived copy" (PDF)। ২০১৭-০৩-১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০২-০৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা