বেল (ফল)

উদ্ভিদের প্রজাতি

বেল একটি পুষ্টিকর আর উপকারী ফলকাচা পাকা দুটোই সমান উপকারী। কাচা বেল ডায়রিয়াআমাশয় রোগে ধন্বন্তরীপাকা বেলের শরবত সুস্বাদু। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাসপটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান। বেলকে বলা হয় শ্রীফল কারণ হিন্দুদের পুজা-অর্চনায় বেলের পাতা ও ফল ব্যবহার করা হয়। হিন্দুরা বেল কাঠ ও পবিত্র জ্ঞান করে বিধায় কখনো বেল কাঠ পুড়িয়ে রান্না করে না।

বেল
Aegle marmelos
Bael (Aegle marmelos) tree at Narendrapur W IMG 4116.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: উদ্ভিদ
(শ্রেণীবিহীন): এনজিওস্পার্ম
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Rosids
বর্গ: Sapindales
পরিবার: Rutaceae
উপপরিবার: Aurantioideae
গোত্র: Clauseneae
গণ: Aegle
Corrêa
প্রজাতি: A. marmelos
দ্বিপদী নাম
Aegle marmelos
(L.) Corrêa[১]

বর্ণনাসম্পাদনা

 
বেল

এর বৈজ্ঞানিক নাম: Aegle marmelos Correa (syn. Feronia pellucida Roth, Crataeva marmelos L)। বেল রুটাসি (Rutaceae) অর্থাৎ লেবু পরিবারের সদস্য। এর সংস্কৃত নাম বিল্ব। বেলের জন্ম ভারতবর্ষে। বেল গাছ বড় ধরনের বৃক্ষ যার উচ্চতা প্রায় ১০-১৬ মিটারশীতকালে সব পাতা ঝরে যায়, আবার বসন্তে নতুন পাতা আসে। পাতা ত্রিপত্র যুক্ত, সবুজ, ডিম্বাকার ; পত্রফলকের অগ্রভাগ সূঁচালফুল হালকা সবুজ থেকে সাদা রঙের। বোঁটা ছোট, ৪-৫টি পাঁপড়ি থাকে, পুংকেশর অসংখ্য, গর্ভাশয় বিস্তৃত ও কেন্দ্রস্থল খোলা। ফুলে মিষ্টি গন্ধ আছে। ফল বড়, গোলাকার, শক্ত খোসাবিশিষ্ট। ফলের ভিতরে শাঁস ৮-১৫টি কোয়া বা খন্ডে বিভক্ত থাকে। প্রতিটি ভাগে বা খন্ডে চটচটে আঠার সাথে অনেক বীজ লেগে থাকে। কাচা ফলের রঙ সবুজ, পাকলে হলদে হয়ে যায়। ভিতরের শাঁসের রঙ হয়ে যায় কমলা বা হলুদ। পাকা বেল থেকে সুগন্ধ বের হয়। পাকা বেল গাছ থেকে ঝরে পড়ে। গাছ যখন ছোট থাকে তখন তাতে অনেক শক্ত ও তীক্ষ্ণ কাঁটা থাকে। গাছ বড় হলে কাঁটা কমে যায়। খাদ্য হিসাবে বেল অসাধারণ উপকারী । তবে বেল গাছ প্রচুর পরিমাণে কমে যাওয়ায় এখন চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। বাজারে পাকা বেল খুব চড়া দামে বিক্রি হয়।

বেলপাতাসম্পাদনা

অনেকে মনে করেন প্রতিদিন একটি করে বেল পাতা ঘি দিয়ে ভেজে চিনি সহ খেলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে।[২] বেল পাতা ত্রিফলক যুগ্মপত্র।অর্থাৎ একটা বোটায় তিনটি করে পাতা থাকে। হিন্দুদের শিবপূজায় ত্রিনয়নের প্রতীক হিসাবে বিল্বপত্র ব্যবহার হয়। বেল পাতায় aegeline নামক এক প্রকার উপাদান থাকে যা ওজন কমানোর কাজে ব্যাবহৃত হয়। ২০১৪ সালে হওয়ায় দ্বীপে ৯৭ জন মানুষ aegeline দিয়ে তৈরি OxyElitePro ঔষুধ ব্যবহার করে হেপাটাইটিস রোগের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৭২ জন aegeline সমৃদ্ধ OxyElite Pro ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেন। এটা ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে হার্ট এট্যাক বা হৃদ রোগমানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা হতে পারে । এটি ব্যবহারের ফলে যকৃত বা লিভারের প্রভূত ক্ষতি হয়।

বেলসম্পাদনা

বেলের দ্রব্যগুণসম্পাদনা

ফলের খাদ্যগুণসম্পাদনা

১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে থাকে: জল 54.96-61.5 গ্রাম, আমিষ 1.8-2.62 গ্রাম ; স্নেহপদার্থ 0.2-0.39 গ্রাম ; শর্করা 28.11-31.8 গ্রাম ; ক্যারোটিন 55 মিলিগ্রাম ; থায়ামিন 0.13 মিলিগ্রাম ; রিবোফ্ল্যাবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম ;নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম ; এসকর্বিক এসিড ৮ - ৬০ মিলিগ্রাম ; এবং টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম।

ফলের ভেষজগুণসম্পাদনা

বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয়ে উপকার করে। আধাপাকা সিদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক। বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম হয়। পাতার রস, মধু ও গোল মরিচ এর গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে জন্ডিস রোগ নিরাময় হয়। পেট খারাপ, আমাশয়, শিশুর স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য বেল উপকারী। বেলে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। এই ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বেল নিয়মিত খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

পাতা ও খোসায় (ফলের) সুগন্ধী তেলসম্পাদনা

উদ্বায়ী তেল

  • d-limonene,
  • alpha-d-phellandrene,
  • cineol,
  • citronellal,
  • citral;
  • p-cyrnene,
  • cumin aldehyde

পাতা ও ছালের (কাণ্ডের) বিষসম্পাদনা

পাতায় নানা উপক্ষার (Alkaloid) আছে:

  • O-(3,3-dimethylallyl)-halfordinol,
  • N-2-ethoxy-2-(4-methoxyphenyl) ethylcinnamide,
  • N-2-methoxy-2-[4-(3',3'-dimethyalloxy) phenyll]ethylcinnamide,
  • N-2-methoxy-2-(4-methoxyphenyl)-ethylcinnamamide ইত্যদি

তাই পাতা খেলে গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে বলে মনে করা হয়। গাছের ছাল Celebes দেশে মাছ মারা বিষ হিসাবে ব্যবহার হয়।

বেলের আঠাসম্পাদনা

চিত্রশালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Taxon: Aegle marmelos (L.) Corrêa"। GRIN Global, National Plant Germplasm System, US Department of Agriculture। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০১৮ 
  2. মাধ্যমিক জীববিজ্ঞানঃ ২০০৮ সংস্করন

বহিঃসংযোগসম্পাদনা