প্রধান মেনু খুলুন

ব্যাসদেব হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে -- ঋষি বিশেষ । ইনি বশিষ্ঠের প্রপৌত্র, শক্তির পৌত্র, পরাশরের পুত্র শুকদেবের পিতা । ইনি হিন্দুধর্মের প্রাথমিক প্রত্যাদিষ্ট হিন্দুশাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত বেদের ব্যবহারিক-বিন্যাসকারী , পৌরাণিক মহাকাব্য মহাভারত ,

ব্যাস
Vyasa.jpg
Veda Vyasa (modern painting)
শিরোপা/সন্মানতার জন্মদিনটি গুরু পূর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয়
মহাভারত এর রচয়িতা
, বেদান্তদর্শন , প্রভৃতির সংকলক , সম্পাদক ও অবশেষে সমন্বায়ক এক জ্ঞানান্বেষী ঋষি

যমুনানদীতে খেয়া নৌকার ভিতর পরাশর মুনি সত্যবতীর সাথে মিলিত হলে, সত্যবতী গর্ভবতী হন । পরে যমুনা'র একটি দ্বীপে এঁর জন্ম হয় । যমুনার দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন বলে এর নাম হয় দ্বৈপায়ন । এঁর গায়ের রং কালো ছিল বলে , পুরো নাম দাঁড়ায় কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন । এঁর মাথায় কপিল বর্ণের জটা ছিল । তাঁর চোখ ছিল উজ্জ্বল ও মুখে পিঙ্গল বর্ণের দাড়ি ছিল। ইনি তপস্যাবলে মহর্ষিত্ব প্রাপ্ত হয়ে বেদকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন । এই কারণে ইনি বেদব্যাস বা 'ব্যাস' নামে পরিচিত হন । জন্মের পরপরই ইনি তাঁর মায়ের অনুমতি নিয়ে তপস্যার জন্য যাত্রা করেন । এঁর তপস্যার স্থান ছিল বদরিকাশ্রম । এই কারণে ইনি বাদরায়ণ নামেও পরিচিত ছিলেন ।

পরিচ্ছেদসমূহ

বেদ বিভাগকর্তাসম্পাদনা

ইনি বেদকে শতশাখাযুক্ত চার ভাগে বিভক্ত করে বেদব্যাস নামে অভিহিত হয়েছেন ।

অষ্টাদশ মহাপুরাণ ও উপপুরাণ এর রচয়িতাসম্পাদনা

ব্যাসদেব অষ্টাদশ মহাপুরাণ ও উপপুরাণ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন । বেদান্তদর্শন রচনাও ব্যাসদেব অন্যতম কৃতিত্ব। কিন্তু এই পুরাণগুলি ব্যাসদেবের রচিত কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ বর্তমান , কারণ মহর্ষি বেদব্যাস এর পুত্র শ্রী শুকদেব কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ অর্থাৎ মহাভারত যুদ্ধ হোয়ার পূর্বেই দেহ ত্যাগ করেছেন । এই ঘটনাটি মহাভারত মহাকাব্যের শান্তি পর্ব 332 থেকে 333 নম্বর অধ্যায়ে বর্ণিত আছে । তার যে পুত্র আগেই মারা গিয়েছেন তিনি আবার কি করে তার বহু বছর পরে ভাগবত শোনাতে পারেন সুতরাং ব্যাসদেব এই পুরান গুলি রচনা করেন নি । মহর্ষি বেদব্যাস আত্মজ্ঞানী ব্রহ্মজ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন, তিনি কিভাবে পুরাণ রচনা করতে পারেন কারণ এই পুরান গুলিকে একে অপরের বিরুদ্ধে মত পোষণ হয়েছে । শুধু তাই নয় এই পুরান গুলি গাঁজাখুরি কাহিনী দিয়ে ভর্তি যা কেবল রূপকথার গল্পে এই ভালো লাগে ।

ভাগবত পুরাণের রচয়িতাসম্পাদনা

বিষ্ণু অবতার ও কৃষ্ণ জীবনকথা নিয়ে রচিত ব্যাসদেবের এই অনবদ্য রচনায় মোট বারোটি স্কন্দ (সর্গ) ও প্রায় ১৮,০০০ শ্লোকে রয়েছে। কিন্তু এই ভাগবত মহর্ষি বেদব্যাসের রচনাই নয় কারণ বেদব্যাসের পুত্র শুকদেব মহাভারত যুদ্ধের আগেই দেহ ত্যাগ করেছেন , অতএব তার সেই পুত্র যুদ্ধের বহু পরে এসে কি করে একজনকে ভাগবত শোনাতে পারেন ।

মহাভারতব্রহ্মসূত্র রচনায় হিন্দুধর্মের শাস্ত্রীয় সমন্বয়সম্পাদনা

মহাভারত রচনসম্পাদনা

"যথাতে সংযোগ হয় বিয়োগ অবশ্য । শরীর অনিত্য জান মরণ অবশ্য।।" মহাভারতের এরকম হাজারও শ্লোকের রচরিতা ব্যাসদেব । মহাভারত হতে জানা যায় যে ইনি মহাভারত লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্রহ্মার কাছে একজন লিপিকার নিয়োগের পরামর্শ গ্রহণ করতে গেলে ব্রহ্মা গণেশকে নিয়োগ করতে বলেন । গণেশ এই শর্তে লিপিকার হতে সম্মত হলেন যে, লিপিবদ্ধ করার সময় ইনি ক্ষণমাত্রও থামবেন না । ব্যাস তাতে রাজি হয়ে অপর একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বললেন যে , গণেশ কোনো বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ না বুঝে লিপিবদ্ধ করতে পারবেন না । এরপর গণেশ এই শর্তে রাজি হলে মহাভারত লিখা শুরু হয় । ব্যাসদেব তাঁর শ্লোক রচনার মাঝে মাঝে কিছু জটিল শ্লোক রচনা করতেন -- গণেশ এই শ্লোকগুলির অর্থ বুঝে লিখতে যে সময় ব্যয় করতেন, সেই সময়ের মধ্যে ব্যাসদেব আরও অনেক শ্লোক বানিয়ে ফেলতেন।

এবং ব্রহ্মসূত্রসম্পাদনা

ক্ষীণাঙ্গী ৫৫৫ পংক্তিতে বেদব্যাস হিন্দুশাস্ত্রের প্রজ্ঞাসঙ্কলন চয়িত ক'রে নাম দিলেন সৃজকসূত্র যার পরতে পরতে প্রাচীন বেদের অভিজ্ঞতা ও পুরাণাদির অভিজ্ঞানের মহাকাব্যিক লিপায়ন মহাভারত-নির্যাস গীতার পরিশোধিত আত্মা যেমন উপলব্ধ তেমনি শ্রুতি-স্মতির সমুদ্রমন্থিত প্রজ্ঞা সুঅনুধাব্য । সৃজকসূত্র রচনে স্রষ্টাসৃষ্টি সম্পর্কিত তার যুক্তিপরম্পরা জ্ঞানান্বেষীকৌশলে স্রষ্টা-অন্বেষণকেই প্রাধাণ্য দিয়েছে ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা