বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ

শিল্পকলা

বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ (সংক্ষেপে বিষ্ণুধর্মোত্তর) হল একটি বিশ্বকোষ-তুল্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। পৌরাণিক কাহিনি ছাড়াও এই গ্রন্থে বিশ্বতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষ, কাল-বিভাজন, প্রতিকূল গ্রহ ও নক্ষত্রের আনুকূল্য লাভের জন্য কৃত্য শান্তিস্বস্তয়নের পদ্ধতি, বংশলতিকা (প্রধানত রাজা ও ঋষিগণের), আদর্শ আচরণবিধি ও রীতিনীতি, শাস্তিবিধান, বৈষ্ণবের কর্বত্য, আইন ও রাজনীতি, যুদ্ধকৌশল, মানুষ ও পশুর রোগচিকিৎসা প্রণালী, খাদ্যবিধি, ব্যাকরণ, ছন্দ ও অলংকারশাস্ত্র, শব্দার্থ, নাট্যকলা, নৃত্য, কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত এবং শিল্পকলা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।[১] এই গ্রন্থটিকে বিষ্ণুপুরাণ গ্রন্থের "খিল" অর্থাৎ পরিশিষ্টভাগ বলে মনে করা হয়। বৃহদ্ধর্ম পুরাণে (এক. ২৫. ২৩-২৬) উল্লিখিত আঠারোটি উপপুরাণের তালিকায় এই পুরাণটির নামও পাওয়া যায়। [২]

বিষয়বস্তুসম্পাদনা

বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণের যে পুথিগুলি আজ পাওয়া যায়, সেগুলি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ড ২৬৯টি, দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৩টি এবং তৃতীয় খণ্ড ১১৮টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

তৃতীয় খণ্ডসম্পাদনা

তৃতীয় খণ্ডের প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে মূর্তিনির্মাণের উৎস এবং শিল্পকলার পারস্পরিক নির্ভরতার কথা। ২য়-১৭শ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ব্যাকরণ, শব্দার্থ, ছন্দ ও অলংকারশাস্ত্র। ১৮শ ও ১৯শ অধ্যায়ে কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতের কথা আলোচিত হয়েছে। ২০শ-৩৪শ অধ্যায়ে নৃত্যকলা ও নাট্যকলার কথা বর্ণিত হয়েছে। ৩৫শ-৪৩শ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে ভারতীয় চিত্রকলার বিভিন্ন শাখা, পদ্ধতি ও আদর্শগুলি। এই আলোচনা শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়নি, বহুলাংশে তা ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও করা হয়েছে। এখানে "দৃশ্য ও কল্পিত বস্তুর রং, আকৃতি ও চিত্রন যে আনন্দ উৎপাদন করে তা ঘোষিত হয়েছে।"[৩] ৪৪শ-৮৫শ অধ্যায়ে "প্রতিমালক্ষণ" বা মূর্তিকল্প ব্যাখ্যা আলোচিত হয়েছে। ৮৬শ-৯৩ অধ্যায়ে মন্দির নির্মাণ-সংক্রান্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৯৪শ-১০৮শ অধ্যায়ে "আবাহন" বা বিগ্রহে দেবতাকে অধিষ্ঠান করানোর বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। ১০৯শ-১১৮শ অধ্যায়ে সংস্কারকার্য ও অনুষ্ঠানবিধি আলোচিত হয়েছে।

স্টেলা ক্র্যামরিশ বলেছেন যে, বিষ্ণুপুরাণের রচনাকাল অন্যূনপক্ষে খ্রিস্টীয়। ৪র্থ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ। কিন্তু বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণে যে সকল চিত্রকলার কথা আলোচিত হয়েছে সেগুলি খ্রিস্টীয় ৭ম শতাব্দীর সৃষ্টিকর্ম।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Hazra, R.C. (1962, reprint 2003). The Upapuranas in S. Radhakrishnan (ed.) The Cultural Heritage of India, Vol.II, Kolkata:The Ramakrishna Mission Institute of Culture, আইএসবিএন ৮১-৮৫৮৪৩-০৩-১, pp.277-8
  2. Hazra, R.C. (1962, reprint 2003). The Upapuranas in S. Radhakrishnan (ed.) The Cultural Heritage of India, Vol.II, Kolkata:The Ramakrishna Mission Institute of Culture, আইএসবিএন ৮১-৮৫৮৪৩-০৩-১, p.272
  3. Kramrisch, Stella. The Vishnudharmottara Part III: A Treatise On Indian Painting And Image-Making. Second Revised and Enlarged Edition, Calcutta: Calcutta University Press, 1928, p.3. Quote. It "proclaims the joy that colours and forms and the representation of things seen and imagined produce".
  4. Kramrisch, Stella. The Vishnudharmottara Part III: A Treatise On Indian Painting And Image-Making. Second Revised and Enlarged Edition, Calcutta: Calcutta University Press, 1928, p.5.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা