বিশ্বজনীন ব্যাকরণ

বিশ্বজনীন ব্যাকরণ হল ভাষাবিজ্ঞানের একটি তত্ত্ব যা অনুসারে সব ভাষার মানুষই ভাষা বিষয়ক কিছু সার্বজনীন ধারণা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এদের সমষ্টিগত নামকে বিশ্বজনীন ব্যাকরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী নোম চম্‌স্কি[১]

ইতিহাসসম্পাদনা

বিশ্বজনীন ব্যাকরণের ধারণা পাওয়া যায় রজার বেকনের আনুমানিক ১২৪৫ সালের ওভারভিউ অফ গ্রামার ও আনুমানিক ১২৬৮ সালের গ্রিক গ্রামার থেকে। তিনি উল্লেখ করেন সকল ভাষাতেই একটি সাধারণ ব্যাকরণ রয়েছে, যদিও এতে অনেক পরিবর্তন দেখা যায়; এবং ১৩শ শতাব্দীতে যারা বেকনকে অনুসরণ করতেন তারা স্বীকার করেন সকল ব্যাকরণেই বিশ্বজনীন রীতি বিদ্যমান। বিশ্বজনীন ব্যাকরণ বা ভাষার এই ধারণা দর্শনতাত্ত্বিক ভাষার ১৭শ শতাব্দীর কার্যক্রমের প্রধান উপাদান ছিল। দর্শনতাত্ত্বিক ভাষার কার্যক্রম থেকে পৃথক ১৮শ শতাব্দীর একটি বিশ্বজনীন ব্যাকরণবিদদের স্কটিশ শাখা ছিল, যেখানে জেমস বিটি, হিউ ব্লেয়ার, জেমস বার্নেট, জেমস হ্যারিসঅ্যাডাম স্মিথরা যুক্ত ছিলেন। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৭৭১) এর প্রথম সংস্করণে ব্যাকরণ বিষয়ক নিবন্ধে "অফ ইউনিভার্সাল গ্রামার" শিরোনামে একটি বড় অধ্যায় ছিল।[২]

১৯৫০-১৯৭০ এর দশকে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞাননোম চম্‌স্কি ও মন্টাগুয়ের তত্ত্ব দিয়ে এই ধারণা প্রসার লাভ করে ও প্রভাব বিস্তার করে।[১]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Tool Module: Chomsky's Universal Grammar"। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৭ 
  2. "Universal grammar"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]