"মিশরীয় চিত্রলিপি" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

Typo fixing, replaced: অংক → অঙ্ক, উহ্য → ঊহ্য (5), ধরণ → ধরন (2) using AWB
(r2.7.1) (রোবট পরিবর্তন করছে: ar:هيرغليفية مصرية)
(Typo fixing, replaced: অংক → অঙ্ক, উহ্য → ঊহ্য (5), ধরণ → ধরন (2) using AWB)
}}
 
'''মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক''' ([[গ্রিক ভাষা|প্রাচীন গ্রিক]]: τὰ ἱερογλυφικά [γράμματα], {{lang-en|Hieroglyphic}}) বা বহুবচনে '''মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক্স''' হলো মিশরীয় লিপিবিশেষ। [[প্রাচীন মিশর|প্রাচীন মিশরে]] তিন ধরণেরধরনের [[লিপি]] প্রচলিত ছিলো: হায়ারোগ্লিফিক (মিশরীয়), [[হায়রাটিক লিপি|হায়রাটিক]] এবং [[ডেমোটিক লিপি|ডেমোটিক]]। তিনটি লিপির নামই [[গ্রিক|গ্রিকদের]] দেয়া। হায়ারোগ্লিফিক লিপির [[প্রতীক|প্রতীককে]] বলা হয় "হায়ারোগ্লিফ" (Hieroglyph)।<ref name="HHK">{{cite book |author=ফরহাদ খান |title=হারিয়ে যাওয়া হরফের কাহিনী |origdate= |origyear=২০০৪ |origmonth=ফেব্রুয়ারি |url= |format=প্রিন্ট |accessdate=৯ |accessyear=২০১০ |accessmonth=জুন |edition=ফেব্রুয়ারি ২০০৫ |series= |date= |year= |month= |publisher=দিব্যপ্রকাশ |location=ঢাকা |language=বাংলা |isbn=984-483-179-2 |pages=২৭২ }}</ref>
 
== শব্দগত তাৎপর্য ==
 
== হায়ারোগ্লিফিকের বৈশিষ্ট্য ==
উদ্ভবের কাল থেকে বিলুপ্তির কাল পর্যন্ত হায়ারোগ্লিফিক ছিলো [[শব্দলিপি]] ও [[অক্ষরলিপি]]নির্ভর। অক্ষরলিপি হিসেবে ছিলো প্রায় ২৪টি একক ব্যঞ্জনধ্বনি এবং তার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু উহ্যঊহ্য কোনো এক স্বরধ্বনি। যেহেতু স্বরধ্বনির আলাদা অস্তিত্ব ছিলো না, তাই তার চিহ্নও ছিলো উহ্য।ঊহ্য। একটি ব্যঞ্জনধ্বনি যেকোনো স্বরধ্বনিসহযোগে উচ্চারিত হতে পারতো, যেমন: ল্যাটিন ব্যঞ্জনধ্বনি m দিয়ে উদাহরণ দিলে ma, me, mi, mu ইত্যাদি। এছাড়া ছিলো প্রায় ৮০টির মতো দ্বিব্যঞ্জনধ্বনি এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন অবস্থানে উহ্যঊহ্য থাকা যেকোনো স্বরধ্বনি। যেমন দ্বিব্যঞ্জনধ্বনি tm দিয়ে উদাহরণ দিলে তার সাথে স্বরধ্বনি থাকতে পারে tama, tuma, tame, tima ইত্যাদি বিভিন্ন রূপে। দ্বিব্যঞ্জনধ্বনির জন্য ছিলো একটিমাত্র চিহ্ন।<ref name="HHK"/>
 
সাধারণভাবে প্রতিটি মিশরীয় শব্দের শুরু ব্যঞ্জনধ্বনি দিয়ে। কিছু কিছু শব্দের শুরুতে অবশ্য স্বরধ্বনি রযেছে, যেমন: Amon, Osiris ইত্যাদি। কিছু ক্রিয়াপদের শব্দের শুরুতেও থাকে স্বরধ্বনি। তবে এগুলো থাকে ব্যঞ্জনধ্বনির হ্রস্ব উচ্চারণের ক্ষেত্রে এবং তাও উহ্যঊহ্য অবস্থায়। এভাবে হায়ারোগ্লিফিকের মাধ্যমে স্বরধ্বনি উহ্যঊহ্য রেখে শুধু ব্যঞ্জনধ্বনি দিয়ে প্রকাশিত হতো একেকটি শব্দ। শ্রুতির ঐতিহ্য অনুসারে মানুষ বুঝে নিতো কোথায় কোন স্বরধ্বনি বসিয়ে নিয়ে কোন মানেটা বুঝতে হবে। যেমন [[নেফারতিতি|নেফারতিতির]] নাম লেখার সময় হায়ারোগ্লিফিকে লেখা হতো nfrtt -শ্রুতির ঐতিহ্য অনুসারে মিশরীয়রা স্বরধ্বনি বসিয়ে নিয়ে বুঝতো Nefertiti।<ref name="HHK"/>
 
কিছু কিছু ত্রিব্যঞ্জনধ্বনিবিশিষ্ট চিহ্নও ছিলো। এসব চিহ্ন ব্যবহার করা হতো বড় বড় শব্দের বেলায়। মিশরীয় লিপিকররাই মূলত লিখনপদ্ধতির নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী সাজাতেন অক্ষর, তবে ঐতিহ্যের ধারা তারা ঠিকই মানতেন। লিপিকররা ঠিক করতো লিপি কোথায় লেখা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে, লিপিমালা ডান না বাম, কোনদিক থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ হায়ারোগ্লিফিক কখনও ডান থেকে বামে, কখনও বাম থেকে ডানে যেতো। কখনওবা উপর থেকে নিচে। আরেকটি পদ্ধতি ছিলো, যাকে বলা হয় 'হলাবর্ত পদ্ধতি', অনেকটা কৃষক যেমন করে জমিতে লাঙল দেন, তেমন করে ডান থেকে বামে, আবার বাম থেকে ডানে এমনিভাবে। তবে বোঝার পদ্ধতি হলো: মানুষ অথবা প্রাণীবাচক চিত্রের মুখ যেদিকে আছে অথবা হাত পা যেদিকে মুখ করে আছে, সেই দিকটাই হলো লিপি পঠনের শুরু আর তা এখন যেদিকেই যাক।<ref name="HHK"/>
হায়ারোগ্লিফিক লিপি চিত্রে ভরপুর। অবস্থান বুঝে এসব চিত্রে আবার অলঙ্করণও থাকতো। চিত্রগুলো হতো বাস্তবধর্মী। এছাড়া আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিলো হায়ারোগ্লিফিকের: নির্ধারক চিহ্নের ব্যবহার। এই চিহ্নগুলোও বাস্তবধর্মী। প্রতিটি ভাষায় সমস্বর অনেক শব্দ থাকে। বাংলায় যেমন আছে বাণ, বান; সমস্বর শব্দ হলেও অর্থ পৃথক। প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় সমস্বর শব্দের সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন মিশরীয় ভাষায় শুধু SS চিহ্নে লিখিত শব্দটির অর্থ "লিপিকর" এবং "দলিল" দুটোই। এখন কোথায় লিপিকর আর কোথায় দলিল বোঝাবে, তা ঠিক করে নির্ধারক চিহ্ন। SS-এর সাথে যখন একজন 'মানুষের ছবি' থাকে তখন তা বোঝায় 'লিপিকর', আর যখন SS-এর সাথে থাকে 'লেখার ফলক' বা 'লেখার পাতা', তখন তা বোঝায় 'দলিল'।<ref name="HHK"/>
 
মিশরীয় লিখনপদ্ধতি চিত্রলিপি ও ভাবলিপির স্তর পেরিয়ে শব্দ ও অক্ষরলিপিতে পরিণত হলেও সংখ্যাবাচক চিহ্নের বেলায় তা ভাবলিপির স্তরেই থেকে যায়। এরকম অবস্থা এখনো যেমন রোমক সংখ্যাচিহ্নে দেখা যায়: I, II, III, IV, V ইত্যাদি। সংখ্যা খুব বড় হয়ে গেলে তা বোঝাতে জ্যামিতিক ধরণেরধরনের চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।<ref name="HHK"/>
 
== ইতিহাস ==
হায়ারোগ্লিফিকসহ অন্যান্য প্রাচীন মিশরীয় লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে আগের ভুল ধারণাগুলো ভাঙার শুরু অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে। তখনই অনেক গবেষক হায়ারোগ্লিফিককে শব্দলিপি বলে সন্দেহ করতে থাকলেন। তখন গবেষকদের হাতে এলো উপবৃত্তাকার এক প্রকারের ফ্রেম, যার [[ফরাসি]] নাম কার্তুশ। তাঁরা ধারণা করলেন এগুলোতে হয়তো ফারাও অথবা তাঁদের পত্নিদের নাম লেখা থাকতে পারে। যোহান গেয়র্গ [[১৭৯৭]] খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর একটি বইয়ে এরকম অনেকগুলো কার্তুশের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরে জানান, সদৃশ কার্তুশগুলো একই ব্যক্তির নাম আর বৈসদৃশ কার্তুশগুলো ভিন্ন ভিন্ন নাম।<ref name="HHK"/>
 
এরপর [[১৭৯৮]] খ্রিস্টাব্দে [[নেপোলিয়ন]] [[প্রাচীন মিশর|মিশর]] আক্রমণ করেন এবং [[১৭৯৯]] খ্রিস্টাব্দে তাঁর সৈন্যরা বিখ্যাত [[রোসেটা কৃষ্ণশিলাপট]] উদ্ধার করেন। রোসেটা কৃষ্ণশিলাপট আসলে একটি শিলালিপি। এতে একই সাথে রয়েছে তিনটি স্তর ও তিন স্তরে তিন লিপি: প্রথম স্তরে মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক লিপি, দ্বিতীয় স্তরে [[হায়রাটিক লিপি]], আর তৃতীয় স্তরে [[গ্রিক লিপি]]। কিন্তু লেখার [[ভাষা]] ছিলো দুটি: [[মিশরীয় ভাষা|মিশরীয়]] আর [[গ্রিক ভাষা]]। [[টলেমি রাজবংশ|টলেমি রাজবংশের]] রাজা [[পঞ্চম টলেমি]] [[এপিফানেস]] [[খ্রিষ্টপূর্ব ১৯৬|১৯৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে]] এক ফরমান জারি করেন, যা মিশরীয় পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে রোসেটা কৃষ্ণশিলাপটে উৎকীর্ণ হয়। এই দ্বিভাষিক ত্রিলিপি অংকিতঅঙ্কিত শিলালিপিটিই খুলে দিয়েছিলো মিশরীয় লিপি ও ভাষা পঠনের দুয়ার।<ref name="HHK"/>
 
পরবর্তিতে হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার করেন [[ফরাসি]] জাঁ ফ্রাঁসোয়া শাঁপোলিয়ঁ এবং [[ব্রিটিশ]] [[পদার্থবিজ্ঞান|পদার্থবিদ]] টমাস ইয়ং।<ref name="HHK"/>
২,২০০টি

সম্পাদনা