ক্রোধ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

MD MUZADDIN ISLAM CHOWDHURY-এর করা 5673087 নং সংস্করণে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। (টুইং)
({{অনুলিপি সম্পাদনা}} ট্যাগ যোগ করা হয়েছে (টুইং))
ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত
(MD MUZADDIN ISLAM CHOWDHURY-এর করা 5673087 নং সংস্করণে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। (টুইং))
ট্যাগ: পূর্বাবস্থায় ফেরত
{{one source|date=জুলাই ২০১৫}}
{{অনুলিপি সম্পাদনা|date=মার্চ ২০২২}}
২৮-০২-২০২২
ক্রোধ:
ক্রু+ধ্+অ=ক্রোধ।ক্রোধ অর্থ-রাগ,কোপ,রোষ ইত্যাদি(১)
ইংরেজি-Anger
হিন্দি-क्रोध
আরবী-غضب
পর্তুগীজ-raiva
ফরাসি-colère
মালে-murka
জাপানি-怒り
চীনা-愤怒(২)
 
তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে '''ক্রোধ''' বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ [[ষড়ঋপুঋ|ষড়ঋপুর]] মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://dictionary.cambridge.org/define.asp?key=35689&dict=CALD |শিরোনাম=ক্যাম্ব্রিজ ডিকশোনারি |সংগ্রহের-তারিখ=২৭ এপ্রিল ২০১৬ |আর্কাইভের-তারিখ=৫ মার্চ ২০১০ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20100305200541/http://dictionary.cambridge.org/define.asp?key=35689&dict=CALD |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref> রেগে থাকলে একজন ব্যক্তির শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নি:সরণ বেড়ে যায়। রক্তের সুগারের তারতম্য শুরু হয়। যারা প্রায়ই রেগে যান তাদের শুভ বুদ্ধির চর্চাও কমে যায়। অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে পাকস্থলীয় কোষ উজ্জিবিত হয়ে পরে এবং এসিড নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকগন ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।<ref>http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/city/2015/01/27/28397.html</ref>
তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে 'ক্রোধ' বলে(৩)।
এটি একটি বিশেষ্যপদ। মানুষের সড়ঋপুর দ্বিতীয় ঋপু।
ক্রোধ বা রাগের ফলে মানুষ হিতাহিতজ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। ক্রোধ একটি অস্বাভাবিক তীব্র মানসিক অবস্থা যা অনুভূতিতে আঘাত প্রাপ্তির ফলে একটি শক্তিশালী ও অস্বস্তিকর এবং অসহযোগী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।ক্রোধ প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত এবং অপরের কাছে তা ভীতির কারণ হতে পারে।
 
{{আবেগ}}'''ক্রোধ বা রাগ'''
ক্রোধের লক্ষণ:
একেকজনের একেকরকম লক্ষণ প্রকাশ পায়।
সাধারণত:চোখ-মুখ রক্তিম হওয়া, কপালে ঘাম দেখা দেওয়া,মাথার চুল ছিঁড়তে থাকা, হেঁচকি ওঠা ইত্যাদি।
 
ক্রোধ বা রাগ, একটি স্বাভাবিক তীব্র মানসিক অবস্থা যা অনুভূতিতে আঘাত প্রাপ্তির ফলে একটি শক্তিশালী অস্বস্তিকর এবং অসহযোগী প্রতিক্রিয়া। ক্রোধের সম্মুখীন একজন ব্যক্তি মানসিক অবস্থার পাশাপাশি প্রায়ই শারীরিক প্রভাব অনুভব করেন। যেমন হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, এবং অ্যাড্রেনালিন এবং নোরাড্রেনালিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কেউ কেউ রাগকে একটি আবেগ হিসাবে দেখেন যা অস্বস্তিকর উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাগের বাহ্যিক অভিব্যক্তি মুখের অভিব্যক্তি, শরীরের ভাষা, শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া এবং মাঝে মাঝে জনসাধারণের উপর আগ্রাসনের মধ্যে পাওয়া যায়। যদিও যারা রাগ অনুভব করেন তাদের বেশিরভাগই রাগের কারণ উল্লেখ করেন। তবুও একজন রাগান্বিত ব্যক্তির খুব বড় ভুল হতে পারে কারণ রাগ স্ব-পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার ক্ষতিসাধন করে। অনিয়ন্ত্রিত রাগ ব্যক্তিগত বা সামাজিক সুস্থতার উপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রোধের কুফল:
ক্রোধ ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কুফল বয়ে আনে। ব্যক্তিগত ক্ষতিসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১। অ্যাড্রিনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
২। মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি।
৩। ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক।
৪। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা।
৫। বুকে ব্যথা, মাইগ্রেন, মাথা ব্যথা।
৬। এসিডিটি ও বদহজম।
৭। ত্বকের সমস্যা ইত্যাদি (৪)
৮।রেগে থাকলে একজন ব্যক্তির শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নি:সরণ বেড়ে যায়।
৯।রক্তের সুগারের তারতম্য শুরু হয়।
১০।যারা প্রায়ই রেগে যান তাদের শুভ বুদ্ধির চর্চাও কমে যায়।
১১।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে পাকস্থলীয় কোষ উজ্জিবিত হয়ে পরে এবং এসিড নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এজন্য চিকিৎসকগন ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন(৫)
 
সামাজিক ক্ষতি:
অনেক সময় ক্রোধ বা রাগ থেকে খুন,গুম, ধর্ষণ, মারামারি ইত্যাদি নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হয়।
 
ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের সুফল:
ক্রোধ নিয়ন্ত্রন ও অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়ার ফলে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা নেমে।এ ছাড়া ইসলাম ধর্মে ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
যেমন:
রাগ নিয়ন্ত্রণ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে। যে ব্যক্তি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, সে আধ্যাত্মিকভাবে এবং জাগতিকভাবেও পুরস্কৃত হয়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং জান্নাতের যেকোনো হুর নিজের ইচ্ছামতো বেছে নেওয়ার অধিকার দান করবেন।’(৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার ক্রোধ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই।’ (৭)।
 
এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে বললেন, ‘আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন, “তুমি রাগ করো না”। ওই ব্যক্তি কয়েকবার তা বললেন। নবীজি (সা.) প্রতিবারই বললেন, “রাগ করো না”(৮)
 
ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের উপায়:
ইসলাম ধর্মে ক্রোধ নিয়ন্ত্রনের চমৎকার ও বিজ্ঞান সম্মত উপায় আলোচনা করা হয়েছে।
যেমন:
যখন রাগ আমাদের গ্রাস করতে চায় কিংবা আমরা রাগান্বিত অবস্থায় থাকি, তখন আমাদের কী করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তবে তার উচিত বসে পড়া। যদি তার রাগ কমে যায়, তবে ভালো; নয়তো তার উচিত শুয়ে পড়া।’(৯)।
 
নবী করিম (সা.) আমাদের উপদেশ হিসেবে আরও বলেছেন রাগান্বিত অবস্থায় অজু করতে, যা রাগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার একটি উত্তম পদ্ধতি। নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে; শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে, আর একমাত্র পানির মাধ্যমেই আগুন নেভানো সম্ভব। তাই তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে, তার উচিত অজু করা।’(১০)।
এ ছাড়া নবীজি (সা.) শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগের কথাও বলেছেন। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি এমন একটি কালেমা জানি, যা পাঠ করলে ক্রোধ দূর হয়ে যায়। (আর তা হলো) “আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বনির রাজিম” অর্থাৎ, আমি বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই(১১)।
অন্যান্য ধর্মের মানুষের জন্যও এ পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখা যেতে। কমপক্ষে পরিস্কার চোখে মুখে ছিটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সকলের জীবন সুন্দর হোক, পৃথিবীতে শান্তি নেমে আসুক সেই প্রত্যাশায়।
 
(১)https://www.dictionaryf
(২)https://www.google.com
(৩)http://dictionary.cambridge.org
(৪)Jagonews24.com(২৫ আগস্ট,২০২০)
(৫)http://www.ittefaq.com.bd/
৬।(ইবনে মাজাহ: ৪১৮৬)
৭।(ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)
৮।বুখারি, খণ্ড: ৮, অধ্যায়: ৭৩, হাদিস: ১৩৭
৯। সহীহ আত-তিরমিযী।
১০। আবু দাউদ
১১।মুসলিম, অধ্যায়: ৩২, হাদিস: ৬৩১৭)।
 
==লক্ষণ==