মনসা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

2409:4060:111:5E11:3D3A:90FD:8ECD:635F (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে Arian Writing-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত
(এই তত্ব টি সম্পূর্ন ভুল । ইনি একজন লৌকিক দেবী জার উল্লেখ অর্ধেকের বেশি পুরানেই পাওয়া যায় না)
ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(2409:4060:111:5E11:3D3A:90FD:8ECD:635F (আলাপ)-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে Arian Writing-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত)
ট্যাগ: পুনর্বহাল
 
[[পুরাণ|পুরাণে]] তাকে ঋষি [[কাশ্যপ]] ও [[নাগ]]-জননী [[কদ্রু|কদ্রুর]] কন্যা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দী নাগাদ মনসা প্রজনন ও বিবাহের দেবী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং শিবের আত্মীয় হিসেবে [[শৈব]] দেবমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হন। কিংবদন্তি অনুসারে, শিব [[সমুদ্রমন্থন|বিষ পান করার]] পর মনসা মধ্যে তা সঞ্চার হয় এবং ‘বিষহরা’ নামে পরিচিত হন। মনসার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং তা [[দক্ষিণ ভারত]] পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে মনসা-কেন্দ্রিক ধর্মীয় গোষ্ঠীটি শৈবধর্মের প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়। এর ফলে শিবের কন্যা রূপে মনসার জন্মের উপাখ্যানটি রচিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত শৈবধর্মও এই আদিবাসী দেবীকে মূলধারার হিন্দুধর্মের ব্রাহ্মণ্য ধারার অন্তর্ভুক্ত করে ।<ref>{{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম= Sacred Places of Goddess: 108 Destinations|লেখক = Tate, Karen|বছর= 2005|প্রকাশক= CCC Publishing|অবস্থান= |আইএসবিএন= 1-888729-11-2|পাতাসমূহ= [https://archive.org/details/sacredplacesgodd00tate/page/n194 194]|ইউআরএল=https://archive.org/details/sacredplacesgodd00tate|ইউআরএল-সংগ্রহ= registration}}</ref>
 
== মনসার কথা ==
 
মনসার কাহিনী পঞ্চদশ শতাব্দী শেষ হবার আগেই পরিপূর্ণ পাঁচালিরূপ ধারণ করেছিল। এর ইঙ্গিত পাই [[বিপ্রদাস পিপলাই|বিপ্রদাস পিপ্‌লাইয়ের]] ‘মনসাবিজয়’ কাব্যে। বিপ্রদাসের কাব্যখানি রচিত হয়েছিল পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে। বাস্তুদেবতার, আরোগ্যের দেবতা অথবা সম্পদের দেবতা—এই বিভিন্ন নামে মনসার পূজা এদেশে বরাবর চলে এসেছে। এখন ইনি বিশেষ করে সাপের দেবতা, তবে নিজে সাপ নন। আরোগ্য ও পুষ্টির রূপকাশ্রিত দেব ভাবনা বলে এঁর মহিমা বেদের সময় থেকেই গীত। মনসা মুখ্যত [[সরস্বতী]]। ইঁহারই নামান্তর ইলা, পুষ্টি, শ্রী। ইনি গৌরী যিনি জল কেটে একপদী দ্বিপদী চতুষ্পদী অষ্টাপদী নবমপদী সৃষ্টি করেছিলেন। ইনিই বাক্ যিনি [[নারী]]রূপে [[গন্ধর্ব]]দের ছলনা করে দেবতাদের [[সোম]] এনে দিয়েছিলেন, যা [[অমৃত]]। দেবীর এই প্রসন্ন রূপ কিন্তু বাংলা সাহিত্যে গোড়া থেকেই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। এখানে মনসা [[চণ্ডী]]র প্রতিদ্বন্দ্বী, শিবভক্তের বিদ্বেষিণী।
 
ঋগ্বেদের একটি রূপক ভাবনাও পরে দেবীত্বে মূর্তি পেয়েছিল। তিনি দুর্গম অরণ্যের দেবতা। পৌরাণিক সাহিত্যে ইনি দুর্গতের দেবতা [[দুর্গা]] (এবং [[পার্বতী]], চণ্ডী) হয়েছেন। তারও পূর্বে ইনি সরস্বতী ও শ্রীর সঙ্গে অভিন্ন ছিলেন। পৌরাণিক যুগের আগেই সরস্বতী ও শ্রীর সঙ্গে [[বাস্তুনাগ]] দেবতার পূজা মিশে গিয়েছিল। তখন হতে মনসা নিজে নাগ না হয়েও সর্পরাজ্ঞী। সরস্বতী ও শ্রী দুই পৃথক দেবতায় (মনসা ও [[লক্ষ্মী]]) পরিণত হবার আগেই নাগ-পূজার সঙ্গে দেবীর যোগাযোগ ঘটে গিয়েছিল। পরে সরস্বতী ও শ্রী যখন ভাগাভাগি হল তখন মনসার ভাগে পড়ল সর্পনাগ আর লক্ষ্মীর ভাগে পড়ল হস্তীনাগ। মনসা ও লক্ষ্মীর মৌলিকতার অনেক প্রমাণ আছে। দুই জনেরই নামান্তর কমলা ও পদ্মা। পদ্মদলে মনসার উৎপত্তি আর কমলার আসন পদ্মে। লক্ষ্মীর উৎপত্তি সাগরে, মনসার উৎপত্তি হ্রদে।
 
অর্বাচীন পৌরাণিক সাহিত্যে মনসার ও সরস্বতীর প্রাচীনত্বের ও মৌলিকত্বের বিশেষত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট। সরস্বতী অবিবাহিত (মতান্তরে তিনি বিষ্ণুপত্নী), মনসাও স্বাধীন নারী (জরৎকারুর সঙ্গে তাঁর বিবাহ দেবসমাজে কেবল মুখরক্ষা মাত্র)। সরস্বতীকে স্রষ্টা (ব্রহ্মা) কামনা করেছিলেন, মনসাকে পিতা (শিব) কামনা করেছিলেন। সরস্বতী বিদ্যাদেবী, মনসা প্রথমে বাক্ পরে মূর্তিমতী বিষবিদ্যা। সরস্বতী গীতবাদ্যের দেবী, মনসা গীতবাদ্যপ্রিয়—গান-বাজনা না হলে তাঁর পূজা হয় না এবং এই গীতনৃত্য করেই বেহুলা তাঁর (মনসার) প্রসাদ লাভ করেছিলেন। এদেশে মনসা-কাহিনীর সূত্রপাত বৈদিক যুগে, কিন্তু পূর্ব-ভারতে বৈদিক যুগ শেষ হওয়ার আগেই মনসা বাস্তুদেবতায় ও গ্রামদেবীতে পরিণত হয়েছিলেন। তারপর ধাপে ধাপে তাঁর অবনতি ঘটে। আধুনিক সময়ে তিনি ভদ্র দেবসমাজ-বহিস্কৃত নারীপূজিত দেবী রূপেই প্রধানতঃ রয়ে গিয়েছেন। গ্রামদেবীরূপে তিনি পশ্চিমবঙ্গে চণ্ডী ([[বিশালাক্ষী]]) এই নাম এবং ধাম আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। অনেক রকম প্রাচীন দেবভাবনা ও রূপকল্পনা নানাদিগ্-দেশাগত কাহিনী মিলেমিশে [[মনসামঙ্গল]]ে মনসার কাহিনী গঠিত। এতে বহু উপাদান আছে,—
# বৈদিক নদী-পুষ্টি দেবভাবনাজাত ইলা, সরস্বতী ও শ্রী,
# বৈদিক সোম-ঐতিহ্যগত গন্ধর্বসঙ্গিনী বাক্, যিনি পরবাসিনী (গৌরী, হৈমবতী) এবং সলিলক্রীড়া পরায়ণা, যিনি রুদ্র আদিত্য বসু প্রভৃতি বিশ্বদেবতার শক্তি,
# বৈদিক রদ্রের ‘মনা’,
# বৈদিক ‘সর্পরাজ্ঞী’ বা বসুন্ধরা,
# বৈদিক অপঘাতিনী ও অলক্ষী,
# পরবৈদিক কমলাসনা দেবী,
# পরবৈদিক নাগ লাঞ্ছনা (হাতি ও সাপ) দেবী,
# শেষবৈদিক কুমারী ও ময়ূরী এবং পরবৈদিক বিষনাশিনী ময়ূরী বিদ্যাধরী,
# লৌকিক বাস্তুদেবতা—সিজ গাছে যাঁর অধিষ্ঠান ইত্যাদি।<ref>বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড, পৃঃ ১৫৮–৫৯, ১৯৭–৯৮</ref>
 
== মূর্তিতত্ত্ব ==
১২,৫৩৮টি

সম্পাদনা