আলাপ:প্রধান পাতা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত
ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত
== আবু ছায়েদ হেডমাস্টার ==
 
 
প্রিন্সিপ্যাল আবু ছায়েদ : জীবন ও কর্ম
নোয়াখালীর উপক‚ল বিধৌত কোম্পানীগঞ্জের পূর্বাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের এক মহান স¥রণীয় ব্যক্তি হলেন প্রিন্সিপ্যাল আবু ছায়েদ। তিনি আবু ছায়েদ হেডমাস্টার নামে সর্বত্র পরিচিত। কর্মজীবনের প্রারম্ভেই তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি এ পেশাকে ধারণ ও লালন করেছিলেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে অত্র এলাকায় স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভ‚মিকা রাখেন। তাই এতদঞ্চলে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দলমত নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও অভিভাবকত‚ল্য। নির্লোভ নির্মোহ এ ব্যক্তির জ্বালিয়ে দেয়া শিক্ষার আলো সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত নোয়াখালীর দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল আজ আলোকিত।
 
জন্ম: প্রিন্সিপ্যাল আবু ছায়েদ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামে আবু বকর পাটোয়ারি বাড়িতে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল আজিজ তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন ও মাতার নাম আছিয়া খাতুন পেশায় গৃহিনী ছিলেন। চার ভাই বোনের মাঝে তিনি সর্বজ্যেষ্ঠ। তার বোনেরা হলেন হালিমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও রাজিয়া খাতুন।
শিক্ষাজীবন: জনাব ছায়েদ গ্রামে মক্তব ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানা সদরে অবস্থিত বসুরহাট এ এইচ সি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে এস এস সি পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সি. ইন. এ্যড (ডিপ্লোমা) কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে এইচ. এস. সি (প্রাইভেট) পরীক্ষায় তিনি সফলতার সাথে পাশ করেন। পরবর্তীতে কর্মজীবনে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে বি. এ ও ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে এম. এ ডিগ্রি লাভ করেন।
 
কর্মজীবন: এস এস সি পাশ করে তিনি ১ জুলাই, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনাগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৩ বছর উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে তিনি ১১ ফেব্রæয়ারি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে দাগনভ‚ঁইয়াস্থ বাতশিরি বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। সেখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই বছর যাবত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ ফেব্রæয়ারি, ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি চৌধুরী হাট বি. জমান উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তাঁর হাত ধরেই চৌধুরী হাট বি. জমান উচ্চ বিদ্যালয় কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কর্মজীবনের এ পর্যায়ে এসে তিনি ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামস্থ টিএনটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে মার্চ মাস পর্যন্ত উক্ত স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১ এপ্রিল, ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ হতে তিনি উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব গ্রহন করেন। ৩ জুলাই, ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি টিএনটি উচ্চ বিদ্যালয় হতে অবসর গ্রহন করেন। ৩ জুলাই, ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করে তিনি চরপার্বতী আছিয়া কারম্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৮ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি এ বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ নারী শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করেন। এ প্রতিষ্ঠানটিও কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম একটি বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে সুনাম অর্জন করে। ২১ ফেব্রæয়ারি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে দায়িত্ব অবসর গ্রহন করেন। দীর্ঘ ৪ বছর অবসর যাপনকালে চৌধুরী হাটে প্রতিষ্ঠিত চৌধুরী হাট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপ্যাল পদে দায়িত্ব গ্রহন করেন। দীর্ঘ নয় মাস কলেজের দায়িত্ব পালন করে কলেজকে একটি ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে তিনি অবসরে যান। অবসরকালীন সময়ে তিনি তার বাড়ীর দরজায় আল আমিন মসজিদ ও হেফজ খানা নামে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। আমৃত্যু তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৬টি

সম্পাদনা