"মূলা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সংশোধন
(103.166.88.132-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে Tahmid-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা পুনর্বহাল উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
(সংশোধন)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
 
|binomial_authority = ([[Carl Linnaeus|L.]]) Domin
}}
'''মূলা''' (''Raphanus raphanistrum'' subsp. ''sativus'') একটি মূলবিশেষ খাবার উপযোগী সবজীসবজি, [[রোমান সাম্রাজ্য|রোমানদের]] আগে ইউরোপে ব্রাসিকাসি পরিবারের একটি ঘরোয়া খাবার ছিল মূলা। সারা বিশ্বেই মূলা জন্মায় এবং খাওয়া হয়, বেশিরভাগ সময় এটি কাঁচা কচকচে সালাদ সবজীসবজি হিসাবে খাওয়া হয়। মূলা অনেক বৈচিত্রময়, আকারে আলাদা,গন্ধযুক্ত, বিভিন্ন রং এবং পরিপক্ব হওয়ার সময়ের বিভিন্নতা রয়েছে। মূলা গাছ দ্বারা বিভিন্ন মিশ্রিত রাসায়নিক নির্গত হওয়ার কারণে এটি তিব্র গন্ধযুক্ত হয়, যার সাথে যুক্ত থাকে গ্লূকোসাইনোলেট, মাইরোসিনাস এবং ইসোথিওসায়ানেট। মূলা কখনও কখনও অন্যান্য সবজীরসবজির সাথে সহচর সবজীসবজি হিসাবে জন্মায়, এবং কিছু কিটপতঙ্গ ও রোগে ভোগে।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি | শেষাংশ১ = Price | প্রথমাংশ১ = Andrew J. | শেষাংশ২ = Jason | প্রথমাংশ২ = K. Norsworthy | বছর = 2013 | শিরোনাম = Cover Crops for Weed Management in Southern Reduced-Tillage Vegetable Cropping Systems | ডিওআই = 10.1614/WT-D-12-00056.1 | সাময়িকী = Weed Technology | খণ্ড = 27 | সংখ্যা নং = 1| পাতাসমূহ = 212–217 }}</ref> তারা অঙ্কুরিত হয় দ্রুত এবং বড় হয় দ্রুততার সাথে, ছোট জাতের মূলা খাওয়ার উপযোগী হয় এক মাসের মধ্যে, যেখানে বড় জাতের মূলা সময় নেয় কয়েক মাস। মূলা সাধারণত ঘাটতি পূরণের শীতকালীন সবজীসবজি হিসাবে বাজারে ব্যবহৃত হয়, ঠিক যেমন অবহেলীত সবজী।সবজি। কিছু মূলা তাদের বীজ থেকে জন্ম নেয়। উদাহরণ স্বরূপ সম্ভবত কিছু তেল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি | শেষাংশ১ = Fitzgerald | প্রথমাংশ১ = J. J. | শেষাংশ২ = Black | প্রথমাংশ২ = W. J. M. | বছর = 1984 | শিরোনাম = Finishing Store Lambs on Green Forage Crops: 1. A Comparison of Rape, Kale and Fodder Radish as Sources of Feed for Finishing Store Lambs in Autumn | সাময়িকী = Irish Journal of Agricultural Research | খণ্ড = 23 | সংখ্যা নং = 2/3| পাতাসমূহ = 127–136 | jstor=25556085}}</ref> কিছু ব্যবহৃত হয় বীজ তৈরীতে এবং মূলা ও মূলার পাতা উভয়েই মাঝে মাঝে ঠান্ডা খাবার হিসাবে রান্না করা হয়।
 
== ইতিহাস ==
মূলা আমেরিকাতে একটি সার্বজণীন ক্ষেতের ফসল হিসাবে পরিচিত, এবং প্রারম্ভিক কালীন ফসল সংগ্রহ যা বাচ্চাদের জন্য জনপ্রিয়, বাচ্চাদের বাগান তৈরীর কাজে। ফসল সংগ্রহের পরে মূলা সংরক্ষণ হতে পারে কোন রকম মানের পরিবর্তন ছাড়াই, সাধারণ তাপমাত্রায় মূলা দুই থেকে তিন দিনের জন্য রাখা হয়, এবং দুই মাস ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর সাথে আপেক্ষিক আদ্রতা ৯০-৯৫%
 
== সহচর সবজীসবজি ==
[[File:Daikon.jpg|thumb|right|ডাইকন]]
মূলা একটি উপকারী সহচর সবজীসবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয় অন্য সবজীরসবজির জন্য, কারণ সম্ভবত মূলার কটু গন্ধ বাধা প্রদান করে কীট-পতঙ্গকে যেমন জাবপোকা, শসা পোকা, টমেটো হরণওয়ার্মস, ক্ষুদ্র জীবাণু এবং পিপড়াদেরকে। মূলা একটি ফাঁদ ফসলের মত কাজ করতে পারে, যা কীটপতঙ্গকে প্রলোভিত করে প্রধান ফসল থেকে দূরে রাখে। শসা এবং মূলা একসাথে লাগালে অনেক ভাল ফসল দেয় যা পরীক্ষা করে দেখা গেছে। মূলা ভাল জন্মায় চারভিল, লেটুস, মটর এবং নাসটার টিউমাস এর সাথে। যদিও তারা বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখায় সুগন্ধি লতাবিশেষের সাথে জন্মানোর সময়।
 
== রোগ-বালাই ==
দ্রুত বর্ধনশীল সবজীসবজি হলেও, রোগ-বালাই সাধারণত মূলার জন্য কোন সমস্যাই না, কিন্তু কিছু পোকামাকড় এখানে উপদ্রব সৃষ্টি করতে পারে। শুয়োপোকা এবং গোবরে পোকা(ডেলিয়া রেডিকুম) মাটিতে বাস করে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক গোবরে পোকা ফসল ক্ষতিগ্রস্থ করে, পাতা খেয়ে ফেলে, বিশেষভাবে বীজের বড় হওয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। ডাঁশ পতঙ্গ(কন্টারিনিয়া নাসটারটিল) পাতাকে আক্রমণ করে এবং গাছের ডগায় জন্মায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যহত করে, উচ্ছ্বসিত অথবা তরঙ্গায়িত পাতা এবং কাণ্ড গঠনের জন্য গাছের বৃদ্ধি সাধনে অনেক পরামর্শ রয়েছে। শুয়োপোকা মাঝে মাঝে গোড়া আক্রমণ করে। পাতাগুচ্ছ মাঝে মাঝে ঢলে পড়ে এবং বিবর্ণ রং ধারণ করে, এবং ছোট হয়, সাদা পোকাগুলো মুলার ভেতর গর্ত তৈরী করে, একে অনাকর্ষনীয় এবং অখাদ্য করে তোলে।
 
== বৈচিত্র ==
মোটামুটিভাবে বলতে গেলে, ঋতু অনুসারে মূলাকে চারটি মুল ভাগে শ্রেণীভুক্তকরণ করতে পারি, যখন তারা বড় হয়, এবং গঠনের বিভিন্নতা, রং এবং আকারের ঠিক যেমন লাল, ফেকাশে লাল, সাদা, ধূসর কাল অথবা হলুদ মূলা যা গোলাকার অথবা সম্প্রসারিত এবং যা গাজর জাতীয় সবজীসবজি থেকে বেশি বড় হতে পারে।
 
== বসন্ত অথবা গ্রীষ্মকালীন মূলা ==
* "স্নো বেলী" হচ্ছে সর্বত্র সাদা প্রকারের মূলা, এটি গন্ধ এবং সাদে চেরী বেলী জাতের মত।
* "হোয়াইট আইকেল" অথবা আইকেল সাদা অনেকটা গাজরের মত আকারের যা ১০ থেকে ১২ সে.মি.(৪ থেকে ৫ ইনচি) লম্বা হয়, যা ষোড়শ শতাব্দী থেকে পাওয়া যায়, এটি সহজে কাটা যায় এবং মোটামুটি শক্ত।
* "ফ্রেন্স ব্রেকফাস্ট" যা অনেক দীর্ঘায়িত, লাল-ত্বকের মূলা যার সাথে সাদা ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে গোড়াতে। এটি সাধারণত হালকা নরম অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন সবজীরসবজির চেয়ে, কিন্তু এটি অনেক বেশি সতেজ।
* "পাম পারপেল" একটি রক্তবর্ণ মূলা যা পরিচর্যার জন্য ঠাণ্ডা জায়গায় থাকতে হয় তার জীবনের মোটামুটি বড় একটি সময়।
* 'গালা' এবং 'রোডবল' নেদারল্যান্ড এর সকালের নাস্তার থালায় দুটি বৈচিত্রপূর্ণ জনপ্রীয় খাবার। যা মাখন লাগানো রুটির সাথে পাতলা করে কেটে খাওয়া হয়।
* "এস্টার এগ" এটি মূলত কোন জাতের ভিতর পড়েনা, কিন্তু কিছু সবজীরসবজির মিশ্রণ যাদের আলাদা আলাদা ত্বকের রং। সাধারণত সাদা, ফেকাশে লাল, লাল এবং রক্তবর্ণ মূলা এই মিশ্রণে যোগ করা হয়। নামের ভিত্তিতে বাজারে মূলা বিক্রি করা এবং বীজ প্যাকেট করায়,বীজের মিশ্রণ ফসল সংগ্রহের সময় বৃদ্ধি করতে পারে একজাতীয় মূলা লাগানোর ক্ষেত্রে, কারণ ভিন্ন জাতের মুলা প্রাপ্তবয়স্ক হতে ভিন্ন সময় নেয়।
 
== শীতকালীন বিভিন্ন রকম মূলা ==
"ব্লাক স্প্যানিশ" অথবা "ব্লাক স্প্যানিশ রাউন্ড" গোলাকার এবং লম্বা দুই ধরনের হয়ে থাকে, এবং তাদেরকে সাধারনভাবে ডাকা হয় কাল মূলা বলে(Raphanus sativus ''L. var. niger (M.) S.K.'' or ''L. ssp. niger (M.). D.C. var. albus D.C''), অথবা ফ্রেন্স ভাষায় ডাকা হয় "গ্রস নয়ির ডি হাইবার" নামে, এটির ইউরোপে জন্ম ১৫৪৮ সালের দিকে, এবং উনিশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের খেতের একটি সার্বজনীন সবজীসবজি ছিল মূলা। মূলা একটি অমসৃণ কাল ত্বকের যা উষ্ণ-স্বাদের, ভিতরে সাদা, গোলাকার অথবা মাঝে মাঝে নাশপতি গঠনের, এবং ১০ সে.মি. (৪ ইনচি) ব্যাসার্ধের মধ্যে জন্মায়।
 
এশিয়া থেকে মূলা অনেক দীর্ঘ বৈচিত্রের তেলবীজ দেয়। যখন জাপানের দাইকন ইংরেজিতে গৃহীত হয়, এটি মাঝে মাঝে জাপানিয়ান মূলা, চাইনিজ মূলা, এশিয়ার মূলা, অথবা মূলি(ইন্ডিয়া এবং সাউথ আফ্রিকাতে) বলেও ডাকা হয়। দাইকন সাধারনভাবে লম্বা সাদা গোড়ার, যদিও অনেক ধরনের দাইকন রয়েছে। একটি সার্বজনীন বৈচিত্রের মূলার জাত হল "এপ্রিল ক্রস", যার মসৃণ সাদা মূলা রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস বর্ণনা করেছিল "মাসাটো রেড" এবং "মাসাটো গ্রীন" দুটি জাত ভিন্ন বৈচিত্রের এবং অনেক লম্বা, দেরীতে খাওয়া এবং ঠান্ডাতে সংরক্ষন করার জন্য এই দুই জাত অনেক ভাল। সাকুরিজিমা মূলা উষ্ণ-স্বাদযুক্ত যা সাধারণত ১০ কেজী (২২ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে।
 
কোরিয়ান মূলাকে মিউ (무) নামে ডাকা হয়, মিউ একটি সাদা-মূলা বৈচিত্রের যা মজবুত কচকচে গঠনের। যদিও কোরিয়াতে মিউ হল একটি জেনেটিক টার্ম (যেমন দাইকন একটি জেনেটিক টার্ম জাপানী মূলার জন্য) বিশ্ব এ নামকে সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করে থাকে, উল্লেখযোগ্য হল জোসিয়ান রেডিস (조선무, ''Joseonmu''). কোরিয়ান রন্ধনপ্রণালীতে জোসিয়ান ব্যবহার করা হয়, কোরিয়া এবং জাপানের পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য। লম্বা, চিকন এবং ওয়েটিরাইয়ার জাপানী দাইকন কোরিয়াতে চাষ করা হয় প্রধানত দামুজিকে, ওয়াই হিসাবে নির্দেশ করার জন্য। কোরিয়ান মূলা সাধারণত খাট, স্থূলকায়, শক্ত জাপানী দাইকন এর চেয়ে, এবং হালকা সবুজ ছোপ উপরের অর্ধেক নিচে থেকে। তারা আরও শক্তিশালী স্বাদের, গাড় মাংশ, এবং নরম পাতা বিদ্যমান। কোরিয়ান মূলার সবুজ শাকসবজীকেশাকসবজিকে ডাকা হয় মিউচেয়ং (무청) নামে এবং বিভিন্ন পাত্রে সবজীসবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
 
== বীজের বৈচিত্রতা ==
 
=== রান্না করা ===
সবচেয়ে বেশি যে অংশ খাওয়া হয় তা হল মূলা গাছের শেকড় বা মাটির ভিতরের মূলাটুকু, যদিও পুরো গাছের সবকিছুই খাওয়া যায় এবং উপরের পাতা, পাতা জাতীয় সবজীসবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। একই পদ্ধতিতে বীজ মুগডাল এর মত খাওয়া যায়।
 
মূলা গাছের গোঁড়ার অংশ সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয়, যদিও কঠোর মান নিয়ন্ত্রিত হয় তাপে রান্না করলে। কাঁচা মূলা মুচমুচে ধরনের এবং একটু কটু গন্ধের, ঝাঝালো স্বাদের, কারণ এতে রয়েছে গ্লুকোসাইনোলেটস এবং এনজায়মি মাইরোসাইনাস, যার সাথে মিলেছে এনওয়েল আইসোথায়োসায়ানেটস, আরও রয়েছে মাসটার্ড, হর্সরেডিস এবং ওয়াসাবি।
 
=== সংস্কৃতি ===
পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, এবং দক্ষিণ এশিয়ার রন্ধন প্রণালীতে মূলার বিভিন্ন জাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য। জাপান এবং কোরিয়াতে মূলার পুতুল মাঝে মাঝে বাচ্চাদের খেলনা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মূলা এমন একটি সবজীসবজি যা জাপানের সেভেন হার্বস উৎসবে ব্যবহৃত হয়। এটি করা হয় নতুন বছরেরর সপ্তম দিনে।
 
অক্সাকা এবং মেক্সিকোর নাগরিকরা নাইট অফ দা রেডিস উৎযাপন করে ডিসেম্বরের ২৩ তারিখে যা ক্রিসমাস উৎযাপনের একটি অংশ। জনগনের শিল্পকর্ম প্রতিযোগীতায় বড় আকারের মূলা ব্যবহৃত হয় যা সর্বোচ্চ ৫০ সে.মি. (২০ ইনচি) লম্বা এবং সর্বোচ্চ ওজন ৩ কেজী (৬.৬ পাউন্ড)। একরকম ধর্মবিশ্বাসে অখবা জনপ্রিয়তার খাতিরে এলাকাতে তারা ভাল দক্ষতা এবং নির্মানকুশলতা দেখায় মূলার উপর।
 
== উৎপাদনের প্রবণতা ==
সাত মিলিয়ন টন মূলা বাৎসরিক উৎপাদিত হয়, যা মোটামুটিভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক শতকরা ২ ভাগ, পৃথিবীর মোট সবজীসবজি উৎপাদনের।
==চিত্রশালা==
<gallery>