প্রথম বায়েজীদ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

লিঙ্কের পরামর্শ: ৮টি লিঙ্ক যুক্ত করা হয়েছে।
(মৃত্যুর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক আছে)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(লিঙ্কের পরামর্শ: ৮টি লিঙ্ক যুক্ত করা হয়েছে।)
 
==জীবনী==
কুতাহিয়ার গভর্নর হিসেবে বায়েজীদ প্রথম বড় দায়িত্বপালন শুরু করেন। কারামানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষিপ্রতার জন্য তিনি ইলদিরিম বা [[বজ্রপাত]] নামে পরিচিত হয়েছিলেন।
 
কসোভোর যুদ্ধে সুলতান [[প্রথম মুরাদ]] নিহত হওয়ার পর বায়েজীদ সিংহাসনে বসেন। এই যুদ্ধ জয়লাভের ফলে সার্বিয়া [[উসমানীয় সাম্রাজ্য|উসমানীয় সাম্রাজ্যের]] করদ রাজ্যে পরিণত হয়। ১৩৯০ সালে বায়েজীদ কসোভোর যুদ্ধে নিহত রাজা লাজারের কন্যা ওলিভেরা দিসপিনাকে বিয়ে করেন।<ref>Halil Inalcik, "Bayezid I", ''The Encyclopedia of Islam'', Vol. I, Ed. H.A.R.Gibb, J.H.Kramers, E. Levi-Provencal and J.Schacht, (Brill, 1986), 1118.</ref> লাজারের পুত্র স্টিফেন লাজারেভিচকে বায়েজীদ কিছু স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে সার্বিয়ার নতুন শাসক নিযুক্ত করেন।
 
[[File:Qur'anic Manuscript - Mid to Late 15th Century, Turkey.jpg|thumb|130px|প্রথম বায়েজীদের যুগে লিখিত কুরআনের একটি পাণ্ডুলিপি।]]
১৩৯১ সালে সেনাপতি পাশায়িগিত স্কোপজা শহর অধিকারের পূর্ব পর্যন্ত উচ্চ সার্বিয়া প্রতিরোধ চালিয়ে যায়।
 
ইতিমধ্যে সুলতান আনাতোলিয়াকে তার শাসনাধীনে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। ১৩৯০ সালের [[গ্রীষ্ম]] ও হেমন্তে বায়েজীদ আইদিন, সারুহান ও মেনতেশে বেয়লিক অধিকার করেন। ১৩৯০ সালের হেমন্ত ও শীতে বায়েজীদ অবশিষ্ট হামিদ, তেকে ও জেরমিয়ান বেয়লিক অধিকার করে নেন। পাশাপাশি আকশেহির ও নিগদে শহরও অধিকার করেন। তিনি কারামানের রাজধানী [[কোনিয়া]] অধিকার করেছিলেন। ১৩৯১ সালে তিনি কারামানের শান্তিপ্রস্তাব গ্রহণ করেন। এরপর বায়েজীদ উত্তরে কাসতামনুর দিকে অগ্রসর হয়ে শহরটি অধিকার করেন।<ref>Shaw, ''History of the Ottoman Empire'', vol. 1 pp. 30f</ref>
 
১৩৮৯ সালে বায়েজীদ [[বুলগেরিয়া]] ও উত্তর [[গ্রিস]] জয় করেন। ১৩৯৪ সালে তিনি [[দানিউব নদী]] অতিক্রম করে ওয়ালাচিয়া আক্রমণ করেন। উসমানীয়দের সৈন্য সংখ্যা বেশি হলেও রোভিনের যুদ্ধে ওয়ালাচিয়ানরা জয়ী হয় ফলে বায়েজীদের বাহিনী অগ্রসর হতে পারেনি।<ref>John V.A. Fine, ''The Late Medieval Balkans'', (The University of Michigan Press, 1994), 424.</ref>
 
১৩৯৪ সালে বায়েজীদ [[বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য|বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের]] রাজধানী [[কনস্টান্টিনোপল]] অবরোধ করেন।<ref>Mango, Cyril. ''The Oxford History of Byzantium''. 1st ed. New York: Oxford UP, 2002. p. 273-4</ref> দ্বিতীয় অবরোধের অংশ হিসেবে [[আনাদোলুহিসারি]] দুর্গ ১৩৯৩ থেকে ১৩৯৪ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এবং ১৩৯৫ সালে দ্বিতীয়বার অবরোধ করা হয়। বাইজেন্টাইন সম্রাট দ্বিতীয় মানুয়েলের আগ্রহে বায়েজীদকে পরাজিত করার জন্য একটি নতুন [[ক্রুসেড]] সংগঠিত করা হয়। এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়, ১৩৯৬ সালে হাঙ্গেরির রাজা সিগিসমুন্ডের নেতৃত্বে [[খ্রিষ্টান]] জোটবাহিনী [[নিকোপলিসের যুদ্ধ|নিকোপলিসের যুদ্ধে]] পরাজিত হয়। এই বিজয়ের স্মরণে বায়েজীদ বুরসায় [[বুরসা জামে মসজিদ]] নির্মাণ করেন।
 
[[File:Chlebowski-Bajazyt w niewoli.jpg|thumb|[[তৈমুর লং|তৈমুর লঙের]] হাতে বন্দী প্রথম বায়েজীদ।]]
[[File:71 Bursa la Grande Moschea.jpg|thumb|[[বুরসা জামে মসজিদ]]।]]
 
কনস্টান্টিনোপলের অবরোধ ১৪০২ সাল পর্যন্ত চলে।<ref>Nancy Bisaha, ''Creating East And West: Renaissance Humanists And the Ottoman Turks'', (University of Pennsylvania Press, 2004), 98.</ref> বায়েজীদ পূর্ব দিকে তিমুরি সাম্রাজ্যের সাথে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার পর বাইজেন্টাইনরা অবরোধ থেকে নিস্কৃতি পায়।<ref>Dimitris J. Kastritsis, ''The Sons of Bayezid: Empire Building and Representation in the Ottoman Civil War of 1402-13'', (Brill, 2007), 5.</ref> এসময় ইউরোপে উসমানীয় সাম্রাজ্য [[থ্রেস]] (কনস্টান্টিনোপল ব্যতীত), মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া ও সার্বিয়ার অংশ জুড়ে ছিল। এশিয়ায় সাম্রাজ্য [[তোরোস পর্বতমালা]] পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বায়েজীদের সেনাবাহিনী মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হত এবং বায়েজীদ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৪০০ সালে [[মধ্য এশিয়া|মধ্য এশিয়ার]] শাসক তৈমুর লং আনাতোলিয়ার উসমানীয়দের অধীনে বেয়লিকগুলোকে নিজের পক্ষে আনেন। ১৪০২ সালের ২০ জুলাই সংঘটিত [[আঙ্কারার যুদ্ধ|আঙ্কারার যুদ্ধে]] উসমানীয়রা পরাজিত হয় এবং বায়েজীদ বন্দী হন। অনেক লেখকের মতে তৈমুর বায়েজীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। তবে তৈমুরের দরবারের লেখক ও ইতিহাসবিদের লেখা অনুযায়ী বায়েজীদের সাথে ভালো আচরণ করা হয়েছিল এবং তার মৃত্যুতে তৈমুর শোক পালন করেছিলেন। বায়েজীদের এক পুত্র [[মুস্তাফা চেলেবি]] তার সাথে বন্দী হন। তাকে ১৪০৫ সাল পর্যন্ত তিনি সমরকন্দে বন্দী ছিলেন।
 
বায়েজীদের পুত্র [[সুলাইমান চেলেবি]], [[ঈসা চেলেবি]], [[প্রথম মুহাম্মদ (উসমানীয় সুলতান)|মুহাম্মদ চেলেবি]] ও [[মুসা চেলেবি]] যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে সিংহাসন নিয়ে তাদের মধ্যে [[উসমানীয় গৃহযুদ্ধ|গৃহযুদ্ধ]] দেখা দেয়।<ref>Dimitris J. Kastritsis,1-3.</ref> মুহাম্মদ জয়ের পর [[প্রথম মুহাম্মদ (উসমানীয় সুলতান)|প্রথম মুহাম্মদ]] হিসেবে সিংহাসনে বসেন।
৯৯৯টি

সম্পাদনা