"স্বাভাবিক ক্রিয়া বৃদ্ধি গবেষণা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

 
==উদ্বেগজনক স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণা==
ব্যাপক অর্থে স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণা বলতে এমন এক ধরনের গবেষণাকে বোঝায় যা কোনও জৈব কর্মকে (biological agent) এমন পরিবর্তন সাধন করে যাতে এটি নতুন স্বাভাবিক ক্রিয়া অর্জিত হয় বা বিদ্যমান স্বাভাবিক ক্রিয়ার উন্নতিসাধন হয়। কিছু বিজ্ঞানী এ ধরনের যেকোনও পরিবর্তন সাধনকারী গবেষণাকেই স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করেন। কিন্তু স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি হিসেবে বর্ণিত সব গবেষণাকর্মই একই মাত্রার ঝুঁকি বহন করে না। যেমন মানব ইনসুলিন উৎপাদনে সহায়তার উদ্দেশ্যে কোনও ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন সাধন করা কিংবা কর্কটরোগের সিএআর-টি কোষ চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনাক্রম্য কোষগুলির বংশাণু কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনার গবেষণাগুলিকে নিম্নঝুঁকিবিশিষ্ট গণ্য করা হয়। যেসব স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণাতে (যা সমস্ত এরূপ গবেষণা একটি অংশমাত্র) সম্ভাব্য মহামারী-উৎপাদক রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর সংবহনযোগ্যতা এবং/অথবা সংক্রমণ-প্রাবল্য (virulence) বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকে এবং এর ফলে মানুষের জন্য এগুলি আরও বিপজ্জনক হবার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলিকে ''উদ্বেগজনক স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণা'' (Gain-of-function Research of concern) বা ''সম্ভাব্য বৈশ্বিক মহামারী-সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুর স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণা'' (Gain-of-Function Research Involving Potential Pandemic Pathogens) বলা হয়। এগুলিকে সর্বদা তাৎপর্যপূর্ণ পরিমাণে বিচারবিবেচনা ও নিরীক্ষণের অধীনে রাখা হয়।<ref name="NIH">{{Cite web |title=Gain-of-Function Research Involving Potential Pandemic Pathogens |url=https://www.nih.gov/news-events/gain-function-research-involving-potential-pandemic-pathogens |publisher=National Institute of Health |access-date=30 July 2021}}</ref>
 
''সম্ভাব্য বৈশ্বিক মহামারী-সৃষ্টিকারী রোগজীবাণু'' বলতে এমন সব ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবকে বোঝায় যেগুলির উচ্চ সংবহনযোগ্যতা, মানব জনসমষ্টিসমূহের ব্যাপক ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা ও উচ্চ সংক্রমণ-প্রাবল্যের অধিকারী হবার সম্ভাবনা থাকে, এবং এর ফলে এগুলির দ্বারা মানুষের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণরূপে উচ্চ পরিমাণে রোগীসংখ্যা ও মৃত্যুসংখ্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব রোগজীবাণু মানব সম্প্রদায়ে মহামারী সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রাখে বা ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে মহামারী সৃষ্টি করেছে, তাদের কয়েকটি দৃষ্টান্ত হল এইচ৫এন১ বা এইচ৭এন৯ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (যেগুলি পক্ষী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নামেও পরিচিত), সার্স-কোভি (যা ২০০৩ সালে একাধিক দেশে মহামারীর সৃষ্টি করেছিল) এবং সার্স-কোভি-২ অর্থাৎ গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকার ভাইরাস-২, যা ২০১৯-২০ সাল থেকে ২০১৯ করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) বৈশ্বিক মহামারীর জন্য দায়ী। প্রকৃতিতে নিয়মিতভাবে রোগজীবাণুর (বিশেষত যেসব ভাইরাসের বংশাণুগত উপাদান রাইবোনিউক্লিয়িক অ্যাসিড বা আরএনএ দিয়ে গঠিত) বংশাণুগত পরিবর্তন বা পরিব্যক্তি হয়ে থাকে। প্রকৃতিতে সংঘটিত পরিব্যক্তিগুলি রোগজীবাণুগুলিকে নতুন স্বাভাবিক ক্রিয়া অর্জনে বা বিদ্যমান ধর্মাবলি যেমন প্রতিলিপিকণ বা প্রজনন ক্ষমতা (fitness) ও রোগসৃষ্টিকারক ক্ষমতা (pathogenicity), ইত্যাদির উন্নতিসাধনে ভূমিকা রাখতে পারে। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীতে সার্স-কোভি-২ ভাইরাসের পরিব্যক্তিতে এরূপ বহু উদাহরণ দৃষ্ট হয়েছে।<ref name="NIH" />
 
<!--
Potential pandemic pathogens (PPPs) are bacteria, viruses, and other microorganisms that are likely highly transmissible and capable of wide, uncontrollable spread in human populations and highly virulent, making them likely to cause significant morbidity and/or mortality in humans. Examples of pathogens that have the potential to cause human pandemics, or have caused a human pandemic, include the H5N1 or H7N9 influenza viruses(link is external), also referred to as bird or avian influenzas, SARS-CoV(link is external), which caused an epidemic in several countries in 2003, and SARS-CoV-2(link is external), also known as Severe Acute Respiratory Syndrome coronavirus 2, which causes COVID-19 disease. Genetic changes or mutations in pathogens, especially viruses that have ribonucleic acid as its genetic material, regularly occur in nature. Some mutations in nature can cause pathogens to gain new functions or enhance existing characteristics such as fitness or pathogenicity (ability to cause disease). We have seen many examples of that with SARS-CoV-2 since the beginning of the pandemic.
-->
এই ধরনের উদ্বেগজনক স্বাভাবিক ক্রিয়াবৃদ্ধি গবেষণাগুলিকে যথোপযুক্ত জৈব-সুরক্ষা ও জৈব-নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণবিশিষত পরীক্ষাগারে সম্পাদন করা যুক্তিসঙ্গত বা ন্যায়সঙ্গত হিসেবে গণ্য করা হতে পারে, যদি এগুলি বিজ্ঞানীদেরকে মানব-রোগজীবাণু আন্তঃক্রিয়ার মৌলিক প্রকৃতি বুঝতে, উদীয়মান সংক্রামক রোগজীবাণুসমূহ বা কর্মকসমূহের সম্ভাব্য মহামারী সৃষ্টির ক্ষমতা যাচাই করতে, এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রস্তুতি প্রচেষ্টাগুলিকে (যেমন কড়া নজরদারি, টিকা ও চিকিৎসামূলক প্রতিকার ব্যবস্থা নির্মাণ) তথ্য যোগান দিতে সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করা হয়। এই ধরনের গবেষণা জৈব-সুরক্ষা ও জৈব-নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্ট করতে পারে, এবং সাবধানতার সাথে এই সব ঝুঁকির ব্যবস্থাপনা করতে অহয়। যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তহবিলের অর্থে এই ধরনের গবেষণা সম্পাদনা করা হয়, তখন সেগুলিকে কেবলমাত্র কঠোর নজরদারিতে থাকে ও যথোপযুক্ত জৈব-সুরক্ষা ও জৈব-নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের সুবন্দোবস্তবিশিষ্ট পরীক্ষাগারে করতে হয়, যাতে গবেষকেরা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকেন এবং পরীক্ষাগার থেকে যেন বাইরের পরিবেশে অণুজীবসমূহের মুক্তি প্রতিরোধ করা যায়।<ref name="NIH" />
 
৫১,৮২৫টি

সম্পাদনা