রংপুর জেলা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: ২০১৭ উৎস সম্পাদনা
::[[অমর একুশে গ্রন্থমেলা]]<nowiki/>য় এ অঞ্চলের সৃজনশীল বই প্রকাশে বিশেষ অবদান রাখছে এবং সংস্থাটি এ অঞ্চলের পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী একমাত্র প্রকাশনা সংস্থা।
* পাতা প্রকাশ, সত্ত্বাধিকারী শাকিলা পারভিন, প্রতিষ্ঠাকাল (২০১৩)
 
==লোকসংস্কৃতি==
এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি ও খেলাধুলা অন্য অঞ্চলের খেলার চেয়ে স্বতন্ত্র‍্য বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য ধারণ করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://http/%3A%2F%2Fwww.rangpur.gov.bd%2Fsite%2Fpage%2F64b7b940-18fd-11e7-9461-286ed488c766%2F%25E0%25A6%2596%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25A7%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25BE%2520%25E0%25A6%2593%2520%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%258B%25E0%25A6%25A6%25E0%25A6%25A8|শিরোনাম=রংপুর জেলা|ওয়েবসাইট=http|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2021-06-24}}{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=জুলাই ২০২১ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref>এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সাথে জড়িয়ে আছে যে খেলাগুলোর তার মধ্যে অন্যতম হল- হাডুডু, কাবাডি (কাপাটি), লাঠি খেলা, দাঁড়িয়া বান্ধা, গোল্লাছুট, এক্কা-দোক্কা, বউ-ছুট, লুকোচুরি, চেংকুডারা বা চেংগু-পেন্টি (বলা যায় বর্তমান ক্রিকেটের এ দেশীয় আদিরূপ), তরবারি খেলা, পাতা খেলা, গুড্ডি বা ঘুড়ি উড়ানো খেলা, কেরাম খেলা, নৌকাবাইচ, ঘোড়দৌড়, ফুটবল, আটকোটা, উরূণ-গাইন, লুডু, পিংপং, পিন্টু-পিন্টু, লুকোচুরি প্রভৃতি। নিজস্ব ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই খেলাগুলো এ অঞ্চলের মানুষের একদা শরীর চর্চা ও আনন্দ বিনোদনের মাধ্যম ছিল। অবশ্য এখন আধুনিক খেলাধুলার মধ্যে প্রচলিত ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, টেনিস, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট প্রভৃতির চর্চাই বেড়েছে অনেক বেশি। এগুলোর অধিকাংশই শহর কেন্দ্রিক। এ জনপদে অধিকাংশ মেলায় জুয়া খেলার অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। জুয়া নির্দিষ্ট একটি খেলার নাম নয়, যে খেলাটি বাজি ধরে খেলা হয় এবং বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা লাভ করা যায় তাকেই বাজী যা স্থানীয়ভাবে জুয়া খেলা বলা হয়। এ খেলাটি মেলার সময় ব্যাপক রূপ পায়। সাধারণত যে বিষয়গুলি আমাদের কাছে আদিকাল থেকে জুয়া হিসেবে দৃশ্যমান সেগুলো হচ্ছে তাসখেলা, চুড়ি খেলা, ডাব্বু খেলা, পাশা খেলা, হালের হাউজি খেলা প্রভৃতি। এ খেলাগুলো বিনোদন অপেক্ষা পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বৈকল্য সৃজনে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। মেলায় খেলাধূলা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে যারমধ্যে লোক নৃত্য, ভাওয়াইয়া, আধূনিক, রবীন্দ্র নজরুল সঙ্গীত প্রভৃতি লক্ষ করা যায়। এখানে জারি গান, পুঁথি, যাত্রা, পালাগান, কুশানগান, সার্কাস, পুতুলনাচ প্রভৃতি দৃশ্যমান।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://http/%3A%2F%2Fwww.rangpur.gov.bd%2Fsite%2Fpage%2F649eb141-18fd-11e7-9461-286ed488c766%2F%25E0%25A6%25AD%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%25BE%2520%25E0%25A6%2593%2520%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%2582%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%2595%25E0%25A7%2583%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BF|শিরোনাম=রংপুর জেলা|ওয়েবসাইট=http|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2021-06-27}}{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=জুলাই ২০২১ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.kholakagojbd.com/prints/4802|শিরোনাম=রংপুরের লোকসংস্কৃতি : - Poriborton|ওয়েবসাইট=www.kholakagojbd.com|সংগ্রহের-তারিখ=2021-06-27}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.uttorbangla.com/128672|শিরোনাম=“রংপুরের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি” একটি প্রশংসনীয় গবেষণাকর্ম|শেষাংশ=admin|ওয়েবসাইট=উত্তর বাংলা|ভাষা=en-US|সংগ্রহের-তারিখ=2021-06-27}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=রংপুর জেলার ইতিহাস|শেষাংশ=পরিষদ|প্রথমাংশ=সম্পাদনা|বছর=২০০০|প্রকাশক=রংপুর জেলা প্রশাসন|অবস্থান=রংপুর|পাতাসমূহ=৭১৪}}</ref>রংপুর এমন একটি অঞ্চল যে জায়গার মানুষের রয়েছে স্বতন্ত্র ঐতিহ্যবাহী খেলা। যা গ্রামাঞ্চলের ছোট বড় সবাই খেলে আনন্দ উপভোগ করে। এই খেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানবিকাশের ক্ষেত্র। নিচে এই খেলাগুলোর নাম ও পরিচয় দেয়া হলো :
 
# '''বৌ-ছি''' : কয়েকজন মেয়ে একত্রে মিলে একজনকে বৌ বানায়ে এই খেলা খেলে। বৌ-কে ধরা বা ছোঁয়ার মধ্যে জয় পরাজয় হয়।
# '''গোল্লা ছুট''' : একে ছুট গোল্লা খেলাও বলা হয়। ছেলেরা দু’দলে ভাগ হয়। একদল লম্বাভাবে দাঁড়ায়ে বাঁধার দেয়াল তৈরী করে; অপর দল একটি কেন্দ্রে একজনকে বুড়ি বানায়ে অন্যরা দৌঁড়ে প্রতিপক্ষের দেয়াল পার হতে ধরে। এভাবে সুযোগমত বুড়ি দেয়াল পার হলে বিজয় হয়। আর বুড়িকে ছুঁতে পারলে পরাজয় হয়। একে বুড়ি খেলাও বলা হয়।
# '''গাদন''': খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনুযায়ী মাটিতে ঘর তৈরী করে এই খেলা হয়। একদল একটি ঘরে থাকে এবং অন্যদল প্রতিটি ঘরে বাঁধার দেয়াল তৈরী করে। দেয়াল পার হতে পারলে বিজয় হয়। আর প্রতিপক্ষ কাউকে ছুঁতে পারলে পরাজয় হয়।
# '''কড়ি খেলা''' : কড়ি বা পাটকাটি দিয়ে এই খেলা হয়। মোট ৪ জনে খেলতে হয়। ইহা প্রায় লুডু খেলার মত।
# '''খোলাপাট্টি''' : কতিপয় খোলা একটির উপর একটি দিয়ে সাঁজায়ে উঁচু করতে হয়। এর চতুর্দিকে প্রতিপক্ষ দাঁড়ায়ে থাকে। একজন একটি বল দিয়ে এই খোলাকে ঢিল দিয়ে ভাঙ্গাতে চেষ্টা করে। বলটি ধরে প্রতিপক্ষ নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে ফেলে। এই বল দিয়ে ঢিল ছুঁড়া দলের কাউকে ঢিল দিতে পারলে বিজয় হয়।
# '''চ্যাংকুপ্যান্টি''': বাঁশের কঞ্চি কেঁটে একটি বড় (যাকে প্যান্টি বলা হয় ) ও একটি ছোট (যাকে চ্যাংকু বলা হয়) করে খেলা হয়। একদল মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তাতে চ্যাংকু রেখে প্যান্টি দিয়ে চ্যাংকুকে ডাঙ দিয়ে উড়ায়ে দেয়। ইহা প্রতিপক্ষের কঞ্চি বা ঝাড়ে লাগলে পরাজয়; আর না লাগলে চ্যাংকুটিকে গর্ত বরাবর ঢিল দেয়। প্যান্টির চেয়ে কম দূরত্বে চ্যাংকু পরলে সে খেলোয়াড় আউট হয়। আর প্যান্টি দিয়ে চ্যাংকুকে আঘাত করতে পারলে বা প্যান্টির মাপের চেয়ে বেশি দূরত্বে পরলে খেলা চলতে থাকে।
# '''হাতা-পাতা-হা-হা''' : দু’জন সামনা সামনি দাঁড়ায়ে হাত দিয়ে একে অপরকে আঘাত করতে থাকে আর বলে-''হাতাপাতা হা-হা/কাক ডাকে কা-কা।'' আর অন্যান্যরা হাতের নিচ দিয়ে চলতে থাকে।
# '''ধাপরিবেছন''' : এই খেলাটি শিশুরা বিছানায় হাত রেখে খেলায়। আর বলে, ''ধাপরি বেছন ধাপরি বেছন/তার তলে নেওছা বেছন।''
# '''চকচ্ছাল/পাইত''': এই খেলা দু’টি মাটিতে দাগ দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক গুটি দিয়ে খেলে হয়।
# '''মারবেল খেলা''': মাটিতে মারবেল ছুঁরে দিয়ে এই খেলা হয়।
# '''কয়া (আঁটি) খেলা''' : আমের কয়া দিয়ে মাটিতে গোল দাগ দিয়ে কয়া দিয়ে কয়াকে মেরে খেলা হয়।
# '''গোলা খেলা''': মাটিতে ১২টি ছোট গর্ত খুঁড়ে তাতে নিম গাছের ফল দিয়ে খেলা হয়।
# '''বাক্বকরি খেলা''' : মাটিতে আড়াআড়ি দাগ টেনে খেলা হয়।
# '''ফুল খেলা''' : পাথরের টুকরা বা ইটের খোয়া দিয়ে মেয়েরা খেলে। খেলার সময় বলে-''ফুল ফুল ফুলটি/একে দোলটি/সুরুশাম সুরুশাম সুরুশামটি/একে জোড় সুরুশামটি। একে তেলটি।''
# '''হাড়ি খেলা''' : ছেলে-মেয়েরা পুকুরে ডুব দিয়ে এই খেলা খেলে।
# '''কিত্কিত্ খেলা''' : মেয়েরা মাটিতে আয়তাকারে কয়েকটি দাগ টেনে পা দিয়ে একটি ছোট খোলাকে আঘাত করে খেলে; আর বলে কিত্কিত্কিত্।
# '''পানপাতা খেলা''' : পান পাতার মত মাটিতে দাগ টেনে একটি ছোট খোলা দিয়ে খেলা হয়। আর বলতে থাকে পানপাতা হা হা।
# '''ধুলাপাট্টি খেলা''' : ধুলা দিয়ে একটি ছোট আইল তৈরী করে এর ভিতরে একটি ছোট্ট কুটা লুকিয়ে রেখে দু’হাত একত্র করে কুটাটিকে ধরার জন্য মাটিতে হাত রেখে খেলা হয়।
 
এমনিভাবে আরও কিছু খেলা দেখা যায় যেমন-হাড়িভাঙ্গা, আমশু-বাঘাশু, হাতেকোচে, রুমালখেলা, টিলা খেলা ইত্যাদি। এই সব আঞ্চলিক খেলা ছাড়াও ফুটবল, কাবাডি, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেট, ভলিবল, সাঁতার, দীর্ঘ জাম্প, হাই জাম্প, সুঁই-সুতা, বিস্কুট দৌঁড় ইত্যাদি খেলা প্রচলিত আছে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=গংগাচড়া উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য|শেষাংশ=আলম|বছর=২০১৩|প্রকাশক=লেখক সংসদ|অবস্থান=রংপুর|পাতাসমূহ=১৩৮-১৪০|আইএসবিএন=9789848923450}}</ref>
 
== লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্যপত্রিকা ==
১৯,৪২২টি

সম্পাদনা