"অ্যাঞ্জেলিনা জোলি" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

২০০৩ সালে জোলি ছয় দিনের সফরে [[তানজানিয়া|তানজানিয়ার]] পশ্চিম সীমান্তে যান, যেখানে মূলত [[কঙ্গো|কঙ্গোর]] শরণার্থীরা অবস্থান করেন। এছাড়া তিনি [[শ্রীলংকা|শ্রী লংকাতেও]] এক সপ্তাহব্যাপী একটি সফর করেন। [[নর্থ ককেশাস]] অঞ্চলে ভ্রমণের ইতি টানার জন্য চারদিনের সফরে [[রাশিয়া|রাশিয়াও]] ভ্রমণ করেন। ''বিয়ন্ড বর্ডারস'' চলচ্চিত্রের প্রকাশের সাথে সাথে তিনি ''[[নোটস ফ্রম মাই ট্রাভেলস]]'' নামের একটি দিনলিপি প্রকাশ করেন, যেটিতে ২০০১-২০০২ বছরে তাঁর বিভিন্ন সফরের ক্রমানুক্রমিক দিনলিপি বিধৃত ছিলো। ব্যক্তিগতভাবে ২০০৩-এর ডিসেম্বরে [[জর্ডান|জর্ডানে]] সময় কাটানোর সময় তিনি জর্ডানের পূর্ব মরুভূমিতে অবস্থিত ইরাকী শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন, এবং তার পরের মাসে তিনি সুদানী শরণার্থীদের সাথে দেখা করতে মিশর যান।
 
জোলি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তাঁর প্রথম জাতিসঙ্ঘ সফরের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে [[অ্যারিজোনা]] সফর করেন। সেখানকার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র দক্ষিণপূর্বীয় অঞ্চলের মূল কর্মকাণ্ডগুলোর একটি—[[ফিনিক্স, অ্যারিজোনা|ফিনিক্সের]] উদ্বাস্তু শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ২০০৪ সালে তিনি [[শাদ|শাদের]] সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে পশ্চিম সুদানের [[দারফুর]] সংকটের কারণে সৃষ্ট উদ্বাস্তুদের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। চার মাস পর তিনি সরাসরি দারফুরেই সফর করেন। ২০০৪ সালে তিনি থাইল্যান্ডে অবস্থিত আফগান শরণার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বড়দিনের ছুটিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে [[লেবানন|লেবাননের]] রাজধানী [[বেইরুটবৈরুত|বেইরুটেবৈরুতে]] ইউএনএইচসিআর-এর আঞ্চলিক দপ্তর পরিদর্শন করেন। সেই সাথে এ সফরে তিনি বেইরুটের কিছু অল্পবয়সী শরণার্থী ও ক্যান্সার রোগীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।<ref>ইউএনএইচসিআর। [http://www.unhcr.org/news/NEWS/41d2b32f4.html জোলি উৎসবের সময়টি লেবাননে, শরণার্থীদের সাথে পার করলেন]। ইউএনএইচসিআর। ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৪। নিশ্চিতকরণ: ২২ নভেম্বর, ২০০৮।</ref>
 
২০০৫ সালে জোলি [[পাকিস্তান|পাকিস্তানে]] অবস্থিত আফগান শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন, এবং সেই সাথে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি [[পারভেজ‍পারভেজ মোশাররফমুশাররফ]] ও প্রধানমন্ত্রী [[শওকত আজিজ|শওকত আজিজের]] সাথে সাক্ষাৎ করেন। [[কাশ্মির ভূমিকম্প ২০০৫|২০০৫ সালের কাশ্মির ভূমিকম্পের]] প্রভাব ও ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা পরিদর্শনের জন্য তিনি থ্যাংকসগিভিং-এর সাপ্তাহিক ছুটিতে ব্রাড পিটের সাথে আরেকবার পাকিস্তান সফর করেন। ২০০৬-এ জোলি ও পিট [[হাইতি|হাইতিতে]] যান ইয়েলা হাইতি নামের একটি দাতব্য সংগঠনের অর্থায়িত স্কুল পরিদর্শনের জন্য। এই দাতব্য সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা হিপহপ সঙ্গীতশিল্পী [[ওয়াইক্লেফ জন]]। ভারতে ''আ মাইটি হার্ট'' চলচ্চিত্রের চিত্র ধারণের সময় তিনি [[নয়া দিল্লী|নয়া দিল্লীতে]] আফগান ও [[বার্মা|বার্মিজ]] শরণার্থীদের সাথেও সাক্ষাৎ করেন। ২০০৬ সালের [[বড়দিন]] তিনি [[কোস্টা রিকা|কোস্টা রিকার]] [[স্যান জোসে, কোস্টারিকা|স্যান জোসেতে]] কলম্বীয় শরণার্থীদের সাথে পালন করেছেন। সেখানে তিনি তাঁদের মাঝে উপহারও বিতরণ করেন। ২০০৭-এ জোলি [[দারফুর|দারফুরের]] অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিমাপের জন্য দুই দিনের সফরে [[শাদ]] সফর করেন। শাদ ও দারফুরের তিনটি ত্রান সংগঠনকে জোলি ও পিট ১ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেন।<ref>ইউএনএইচসিআর। [http://www.alertnet.org/thenews/newsdesk/UNHCR/dc35790f8bdb81d4b2df69046a0af36b.htm জোলি-পিট ফাউন্ডেশন ডোনেটস ওয়ান মিলিয়ন ইউএস ডলার টু গ্রুপস ওয়ার্কিং দারফুর]। রয়টার্স অ্যালার্টনেট। ১০ মে, ২০০৭। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।</ref> সেই বছরে জোলি প্রথমবারের মতো [[সিরিয়া]] সফর করেন, এবং দুইবার [[ইরাক]] সফর করেন। ইরাকে তিনি শরণার্থীদের সাথে সাক্ষাতের পাশাপাশি বহুজাতিক সৈন্য ও মার্কিন সৈন্যদের সাথেও সাক্ষাৎ করেন।<ref>সিএনএন। [http://edition.cnn.com/2008/WORLD/meast/02/07/iraq.jolie/?iref=mpstoryview জোলি ইন ইরাক: টুএম রেফিউজিস নিড হেলপ]। সিএনএন ডট কম। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮। নিশ্চিতকরণ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।</ref>
 
[[Image:2005 06 15 rice-jolie 600.jpg|left|thumb|200px|জুন ২০০৫ সালে [[বিশ্ব শরণার্থী দিবস]]-এ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও [[কন্ডোলিৎসা রাইস]]]]
সময়ের সাথে সাথে জোলি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, মানবতার পক্ষে সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর কাজে আরো বেশি সময় দেওয়া শুরু করেন। তিনি নিয়মিত [[ওয়াশিংটওয়াশিংটন ডি.সি.]]-তে [[বিশ্ব শরণার্থী দিবস|বিশ্ব শরণার্থী দিবসে]] অংশগ্রহণ করে আসছেন। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে [[সুইজারল্যান্ড|সুইজারল্যান্ডের]] [[ডাভোস|ডাভোসে]] অনুষ্ঠিত [[বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থা|বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থার]] অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে মানবতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তদ্বির শুরু করেন, এবং ২০০৩ সালে তিনি কমপক্ষে ২০ বার বিভিন্ন কংগ্রেস সদস্যের সাথে দেখা করেন।<ref name="Bad Girl Interrupted">সুইবেল, ম্যাথিউ। [http://www.forbes.com/forbes/2006/0703/118_print.html ব্যাড গার্ল ইন্টারাপ্টেড]। ''ফোর্বস''। ১২ জুন, ২০০৬। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮</ref> ''[[ফোর্বস]]'' ম্যাগাজিনকে এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ওয়াশিংটন দেখার কোনো সেরকম ইচ্ছা আমার ছিলো না, আমি যা করেছি তা শুধু বলটা নড়ানোর জন্যই।”<ref name="Bad Girl Interrupted">সুইবেল, ম্যাথিউ। [http://www.forbes.com/forbes/2006/0703/118_print.html ব্যাড গার্ল ইন্টারাপ্টেড]। ''ফোর্বস''। ১২ জুন, ২০০৬। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮</ref>
 
২০০৫ সালে তিনি [[ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব (যুক্তরাষ্ট্র)|ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের]] অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে তিনি ''ন্যাশনাল সেন্টার ফর রেফিউজি এন্ড ইমিগ্রান্ট চিলড্রেন'' নামে একটি সংস্থার গোড়াপত্তনের ঘোষণা দেন। এই সংগঠনের কাজ হবে এতিমখানায় থাকা যেসব শিশুর আইনগত অধিকার পাবার সুযোগ নেই, তাঁদেরকে আইনগত সুবিধাদি প্রদান করা। এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম দুই বছরের জন্য জোলি ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন।<ref>ইউএনএইচসিআর। [http://www.unhcr.org/cgi-bin/texis/vtx/news/opendoc.htm?tbl=NEWS&id=422f33944 অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মাতৃ-পিতৃহারা শিশুদের জন্য সাহায্যকেন্দ্র খুলেছেন]। ইউএনএইচসিআর ডট ওআরজি। ৯ মার্চ, ২০০৫। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।</ref> তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই জোলি শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ও শিশুদের বিভিন্ন কাজে এমন অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন।<ref name="Bad Girl Interrupted">সুইবেল, ম্যাথিউ। [http://www.forbes.com/forbes/2006/0703/118_print.html ব্যাড গার্ল ইন্টারাপ্টেড]। ''ফোর্বস''। ১২ জুন, ২০০৬। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮</ref> যেহেতু তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয়, তাই তার এই পরিচিতিকে তিনি মানবতার দাবী গণমাধ্যমে সামনে আনার জন্য ব্যবহার করেন। ''দ্য ডায়েরি অফ অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এন্ড ড. জেফরি স্যাচেস ইন আফ্রিকা'' নামে [[এমটিভি|এমটিভির]] জন্য তিনি একটি বিশেষ অনুষ্ঠান তৈরি করেন। এর কাহিনী গড়ে উঠেছে জোলি ও বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ [[ড. জেফরি স্যাচ|ড. জেফরি স্যাচের]] পশ্চিম কেনিয়ার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীতে সফরকে কেন্দ্র করে। ২০০৬ সালে জোলি দাতব্য সংগঠন “জোলি/পিট ফাউন্ডেশন”-এর গোড়াপত্তন করেন, যা [[গ্লোবাল অ্যাকশন ফর চিলড্রেন]] এবং [[ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস]] নামের দুটি সংগঠনের প্রত্যেককে এক মিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেয়।<ref>গ্রীন, ম্যারি। [http://www.people.com/people/article/0,26334,1537302,00.html ব্রাড এন্ড অ্যাঞ্জেলিনা স্টার্ট চ্যারিটেবল গ্রুপ]। ''পিপল'' ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৬। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।</ref> সেই বছরেই জোলি [[ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ|ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের]] স্থাপিত ''এজুকেশন পার্টনারশিপ ফর চিলড্রেন অফ কনফ্লিক্ট''-এর সহ-চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন। এ প্রতিষ্ঠানটির কাজ হচ্ছে বিভিন্ন সংঘর্ষের শিকার শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা প্রদান করা।<ref>[http://www.educationpartnership.org/about-founders গোড়াপত্তনকারীদের সম্পর্কে তথ্য]। এজুকেশন পার্টনারশিপ ফর চিলড্রেন কনফ্লিক্ট। নিশ্চিতকরণ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।</ref>
৬,০৭০টি

সম্পাদনা