"আন্তঃআণবিক বল" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

নতুন পৃষ্ঠা
(নতুন পৃষ্ঠা)
 
আণবিক বল সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় আলেক্সিস ক্লেইরটের কাজ  [[:fr:Figure de la Terre|Theorie de la Figure de la Terre]]<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://en.wikipedia.org/wiki/Intermolecular_force#cite_note-1|শিরোনাম=Margenau, H. and Kestner, N. (1969) Theory of inter-molecular forces, International Series of Monographs in Natural Philosophy, Pergamon Press, ISBN 1483119289|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=2020-09-23|সাময়িকী=Wikipedia|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=}}</ref> এ। অন্যান্য বিজ্ঞানী যারা একাজে অবদান রেখেছেন তারা হলেন: [[পিয়ের সিমোঁ লাপ্লাস]], [[কার্ল ফ্রিড‌রিশ গাউস]], [[জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল]], এবং [[লুডভিগ বোলৎসমান]]।
 
আন্তঃআণবিক আকর্ষনআকর্ষণ বলকে নিমোক্তভাগে ভাগ করা যায়:
 
•[[হাইড্রোজেন বন্ধন]] /H-বন্ধন
 
== হাইড্রোজেন বন্ধন ==
হাইড্রোজেন বন্ধন হচ্ছে নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগলধারী [[তড়িৎ ঋণাত্মকতা|তড়িৎ ঋণাত্বক]] পরমাণুর সাথে হাইড্রোজেন পরমানুর মধ্যকার আকর্ষনআকর্ষণ বল। সাধারণত [[হাইড্রোজেন]]-র সাথে [[নাইট্রোজেন]], [[অক্সিজেন]], [[ফ্লোরিন]] যুক্ত হয়ে এই বন্ধন গঠিত হয়<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://en.wikipedia.org/wiki/Intermolecular_force#cite_note-GoldBook-H02899-2|শিরোনাম=IUPAC, Compendium of Chemical Terminology, 2nd ed. (the "Gold Book") (1997)|শেষাংশ=|প্রথমাংশ=|তারিখ=2020-09-23|সাময়িকী=Wikipedia|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=}}</ref>। হাইড্রোজেন বন্ধনকে প্রায়ই শক্তিশালী তড়িৎ (ইলেকট্রিক) মেরু-মেরু (ডাইপোল-ডাইপোল) ক্রিয়া হিশেবে বর্ণনা করা হয়। সমযোজী বন্ধনের মত এতেও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে: এটা দিকমুখী, ভ্যানডার ওয়ালস বল থেকে শক্তিশালী, আন্তঃআণবিক দূরত্ব ভ্যানডার ওয়ালস বলে মৌলদ্বয়ের ব্যাসার্ধের যোগফল অপেক্ষা কম এবং যোজ্যতানুসারে সীমিত-সংখ্যক মৌলের সাথেও যুক্ত হয়। মৌলদ্বয় দ্বারা গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধনের সংখ্যা তাদের সক্রিয় ইলেকট্রন যুগলের সমান। যে মৌল ইলেকট্রন দান করে([[হাইড্রোজেন]]) তাকে দাতা, আর ইলেকট্রন গ্রহণকারী নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগলধারী [[তড়িৎ ঋণাত্মকতা|তড়িৎ ঋণাত্বক]] পরমাণুকে গ্রহীতা বলে। সক্রিয় যুগলের মান বন্ধনে [[হাইড্রোজেন]] পরমাণুর ইলেকট্রন দান এবং [[তড়িৎ ঋণাত্মকতা|তড়িৎ ঋণাত্বক]] পরমাণুর ইলেকট্রন গ্রহণ সংখ্যার সমান।
 
[[File:Hydrogen-bonding-in-water-2D.png|)|alt=|250x250পিক্সেল]]
'''নিয়মিত ডাইপোল'''
 
ডাইপোল-ডাইপোল বল হছে অণুসমূহের মধ্যকার তড়িৎ(স্থির) ক্রিয়া যাদের স্থায়ী ডাইপোল বিদ্যমান। এটা লন্ডন বল অপেক্ষা শক্তিশালী কিন্তু আয়নিক বন্ধন অপেক্ষা দুর্বল প্রকৃতির; কারণ এতে আংশিক আধান (ক্যাটায়ন বা অ্যানায়ন) বিদ্যমান। এটা অণুসমূহের নিজেদের মধ্যকার আকর্ষণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে (বিভব শক্তি হ্রাস পায়)।হাইড্রোজেন বন্ধন একপ্রকার ডাইপোল-ডাইপোল আকর্ষণ বল। যেহেতু পরমাণুর মধ্যে ডাইপোলের ব্যপারটা লক্ষ্য করা যায় না, তাই দুটি ভিন্ন পরমাণুর মধ্যকার ডাইপোল-ডাইপোল আকর্ষণ বল সাধারণত শুন্য।
 
'''আয়ন-ডাইপোল এবং আয়ন-আবিষ্ট ডাইপোল বল'''
 
== ভ্যানডার ওয়ালস বল ==
আধানবিহীন পরমাণু বা অণুসমূহ এর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া থেকে ভ্যানডার ওয়ালস বল এসেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ঘনীভূত পর্যায়, গ্যাসের শোষণ এবং জগতের ক্ষুদ্র বস্তুসমূহের আকর্ষণ থেকেও এসেছে।<ref name=":0">{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://dx.doi.org/10.3390/ijms131012773|শিরোনাম=Theoretical Models for Surface Forces and Adhesion and Their Measurement Using Atomic Force Microscopy|শেষাংশ=Leite|প্রথমাংশ=Fabio L.|শেষাংশ২=Bueno|প্রথমাংশ২=Carolina C.|শেষাংশ৩=Da Róz|প্রথমাংশ৩=Alessandra L.|শেষাংশ৪=Ziemath|প্রথমাংশ৪=Ervino C.|শেষাংশ৫=Oliveira|প্রথমাংশ৫=Osvaldo N.|তারিখ=2012-10-08|সাময়িকী=International Journal of Molecular Sciences|খণ্ড=13|সংখ্যা নং=12|পাতাসমূহ=12773–12856|doiডিওআই=10.3390/ijms131012773|issn=1422-0067}}</ref>
 
'''কেসম (স্থায়ী-স্থায়ী ডাইপোল) বল'''
 
আধানসমূহের মধ্যে স্থির তড়িৎ ক্রিয়া(অণুর আয়নে), ডাইপোলসমূহ(অপোলার অণু), কোয়াড্রপোল(সকল অণু যা কিউবিকের চেয়ে কম প্রতিসাম্য) এবং স্থায়ী মাল্টিপোল এর জন্য দায়ী কেসম বল(উইলিয়াম হেন্ড্রিক কেসমের নামে) যা ভ্যানডার ওয়ালস বলের প্রথম অবদান।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://dx.doi.org/10.1016/0031-9163(65)90679-7|শিরোনাম=Second virial coefficient of non-polar non-spherical molecules|শেষাংশ=Saksena|প্রথমাংশ=M.P.|শেষাংশ২=Saxena|প্রথমাংশ২=S.C.|তারিখ=1965-08|সাময়িকী=Physics Letters|খণ্ড=18|সংখ্যা নং=2|পাতাসমূহ=120–122|doiডিওআই=10.1016/0031-9163(65)90679-7|issn=0031-9163}}</ref> স্থায়ী ডাইপোলসমূহের মধ্যকার আকর্ষণ থেকে এ বলের উৎপত্তি এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।<ref name=":0" />
 
এটা ডাইপোলসমূহের মধ্যকার আকর্ষণ বল যা বিভিন্ন ঘূর্ণন কাঠামো ডাইপোলের জড়ো গড় (ensemble averaged) নিয়ে গঠিত। এটা ধারণা করা হয় যে অণুসমূহ প্রতিনিয়ত ঘুরতে থাকে এবং কখনোই এক জায়গায় স্থির থাকে না। এটা যদিও ভালো ধারণা, কিন্তু কোন কোন বিন্দুতে অণুসমূহ স্থির থাকে। কেসম বলের শক্তি দূরত্বের(অণুসমূহের) ষষ্ঠ ঘাতের বিপরীত মানের উপর নির্ভর করে। কেসম বল কেবল সেইসব অণুর মধ্যে ঘটতে পারে যাদের স্থায়ী ডাইপোল বিদ্যমান। কেসম খুবই দুর্বল প্রকৃতির ভ্যানডার ওয়ালস বল এবং জলীয় দ্রবণে ঘটে না। কৌণিক গড়ের সমীকরণ:
 
<math>\frac{-m_1^2 m_2^2}{24\pi^2 \varepsilon_0^2 \varepsilon_r^2 k_\text{B} T r^6} = V,</math>
'''ডিবাই (স্থায়ী-আবিষ্ট ডাইপোল) বল'''
 
ভ্যানডার ওয়ালস বলের দ্বিতীয় অবদান। স্থায়ী ডাইপোলসমূহের ঘূর্ণন এবং পরমাণু ও অণুসমূহের (আবিষ্ট ডাইপোল) মধ্যকার সম্পর্ক থেকে ডিবাই বল এসেছে। যখন একটি অণুর স্থায়ী ডাইপোল অপর অণুর ইলেকট্রনগুলোকে সরিয়ে দেয় তখন আবিষ্ট ডাইপোলের সৃষ্টি হয়। স্থায়ী ডাইপোলধারী অণু নিজ ধর্মের অন্য অণুকে আবিষ্ট করে এবং পারস্পরিক আকর্ষণ ঘটায়। এই বল কেসম বলের মত তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে না কারণ আবিষ্ট ডাইপোলের স্থানান্তর ঘটতে পারে এবং পোলার অণুর চারপাশ ঘুরতে পারে। ডিবাই আবেশ প্রভাব এবং কেসম কাঠামো প্রভাবকে পোলার ক্রিয়া বলা হয়।<ref name=":0" /> বিজ্ঞানী পিটার জে. ডব্লিউ. ডিবাইয়ের নামানুসারে ডিবাই বলের নামকরণ করা হয়েছে।
 
এ বলের একটি উদাহরণ হচ্ছে HCl এবং Ar এর মধ্যকার বল। HCl এর প্রভাবে Ar এর ইলেকট্রন H এর দিকে ধাবিত হয় অথবা Cl এর কারণে দূরে সরে যায়, ফলে Ar এ আবিষ্ট ডাইপোলের সৃষ্টি হয়।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://dx.doi.org/10.1007/bf00577166|শিরোনাম=A Floating Gaussian Orbital calculation on argon hydrochloride (Ar � HCl)|শেষাংশ=Blustin|প্রথমাংশ=Peter H.|তারিখ=1978|সাময়িকী=Theoretica Chimica Acta|খণ্ড=47|সংখ্যা নং=3|পাতাসমূহ=249–257|doiডিওআই=10.1007/bf00577166|issn=0040-5744}}</ref> <ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://dx.doi.org/10.1039/tf9383401346|শিরোনাম=Induced dipoles and the heat of adsorption of argon on ionic crystals|শেষাংশ=Roberts|প্রথমাংশ=J. K.|শেষাংশ২=Orr|প্রথমাংশ২=W. J. C.|তারিখ=1938|সাময়িকী=Transactions of the Faraday Society|খণ্ড=34|পাতাসমূহ=1346|doiডিওআই=10.1039/tf9383401346|issn=0014-7672}}</ref> কৌণিক গড়ের সমীকরণ:
 
:<math>\frac{-m_1^2 \alpha_2}{16\pi^2 \varepsilon_0^2 \varepsilon_r^2 r^6} = V,</math>
 
যেখানে <math>\alpha</math> = পোলার যোগ্যতা।
 
পোলার এবং অ-পোলার অণুর মধ্যে এধরণের বল দেখা যায়। এ বল ডাইপোল-ডাইপোল বল থেকে দুর্বল, কিন্তু লন্ডন বল অপেক্ষা শক্তিশালী।
|-
|আয়নিক বন্ধন
|২৫০–৪০০০<ref name=Purdue-Lattice>{{citeওয়েব webউদ্ধৃতি |titleশিরোনাম=Lattice Energies |urlইউআরএল=http://chemed.chem.purdue.edu/genchem/topicreview/bp/ch7/lattice.html |accessসংগ্রহের-dateতারিখ=2014-01-21}}</ref>
|১১০০-২০০০০
|
 
== কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল তত্ত্ব ==
উপরে বর্ণিত, অণু এবং পরমাণুসমূহের মধ্যকার আন্তঃআণবিক বল ঘটনাগতভাবে স্থায়ী এবং আবিষ্ট ডাইপোলের মধ্যে ঘটে। অন্যদিকে, কেউ একটি মৌলিক, সমন্বয় তত্ত্ব চাইতে পারে যা বিভিন্ন প্রকার ক্রিয়া যেমনঃ হাইড্রোজেন বন্ধন, ভ্যানডার ওয়ালস বল এবং ডাইপোল-ডাইপোল বল ব্যাখ্যা করবে। সাধারণত, অণুসমূহে কোয়ান্টাম গতিবিদ্যার ধারণা প্রয়োগ এবং রেইলি-স্রোডিঞ্জারের বিচলন তত্ত্ব ( [[:en:Perturbation_theoryPerturbation theory|perturbation theory]]) বিশেষ প্রভাব হিশেবে বিবেচনা করা হয়। যখন কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি প্রয়োগ করা হয়, তখন প্রায় সদৃশ পদ্ধতির কিছু বিন্যাস এই আন্তঃআণবিক ক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করে। এই প্রকার আন্তঃআণবিক ক্রিয়া দৃশ্যমান করার সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রিতে পাওয়া যায়, যাকে অ-সমযোজী মিথস্ক্রিয়া ইনডেক্স ([[:en:Non-covalent_interactions_indexcovalent interactions index|non-covalent interaction index]]) বলে, যা ইলেকট্রন ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। লন্ডন বল এতে বড় ভূমিকা রাখে।
 
== তথ্যসূ্ত্র ==
১৭,৯৭২টি

সম্পাদনা