"তিউনিস" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সংশোধন
(চিত্র)
(সংশোধন)
মদিনার পূর্ব পাশ থেকে সমুদ্রদ্বার (বাব এলা ভার বা পর্ত দো ফ্রঁস নামেও পরিচিত) অতিক্রম করলে শুরু হয় আধুনিক বা ইউরোপীয় তিউনিস শহর, যাকে ভিল নুভেল নামেও ডাকা হয়। নতুন তিউনিসের ভেতর দিয়ে চলে গেছে বিশাল হাবিব বুরগিবা রাজপথ বা অ্যাভিনিউ। এই রাজপথের উপরে ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলের অনেক ভবন অবস্থিত, যেগুলি প্রাচীন ক্ষুদ্রতর স্থাপনাগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এরও পূর্বে সমুদ্রতীরে রয়েছে কার্থেজ, লা মারসা এবং সিদি বোউ সাইদ নামের শহরতলীগুলি।
 
কৃষিকাজ এখানকার অর্থনৈতিক উপার্জনের মূল উৎস। এখানে মূলত জলপাই ও খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয়। এগুলি থেকে জলপাই তেল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। শিল্পকারখানাগুলিতে বস্ত্র, পোষাকপোশাক, ফরাস, সিমেন্ট, ধাতব নির্মাণ সামগ্রী, রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদিত হয়। ধাতুগলন, যন্ত্রপাতি নির্মাণ, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও রেলগাড়ির কারখানাও আছে। হাল্ক আল ওয়াদি বন্দরে অনেকগুলি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে এবং মাকরিনে একটি সীসা গলন কারখানা আছে। পর্যটন শহরের অর্থনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শহরের উত্তর-পূর্বে আল-উওয়াইনাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুইটি অবস্থিত। শহরটি রেলপথের মাধ্যমে অন্যান্য উত্তর আফ্রিকান সমুদ্রবন্দরের সাথে সংযুক্ত।
 
তিউনিসে দুইটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চনাটক মিলনায়তন আছে। জুলাই মাসে কার্থেজে গ্রীষ্মকালীন উৎসব হয়, যেটি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে। শহরের আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে আছে এর উষ্ণ স্নানঘর বা গোসলখানাগুলি, যেগুলি রোমেন আন্তোনিন সম্রাটদের সময় থেকে, অর্থাৎ খ্রিস্টীয় ২য় শতকে থেকে, এখানে অবস্থিত। সিদি বু সাইদ নামক টিলা, স্থানীয় বাজার বা সুক, ৮ম শতকে নির্মিত আল-জাইতুনাহ মসজিদ, যা তিউনিসের সবচেয়ে প্রাচীন ও সম্মানিত সৌধ। ১৯৬০ সালে তিউনিস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। শহরের দক্ষিণ-পূর্বে ওয়াদি মিলিয়ান উপত্যকাতে গেলে চোখে পড়বে রোমানদের নির্মিত জলপরিবহনপথের দৃষ্টিনন্দন অবশেষ, যে পথটি জাগওয়ান পর্বত ও কার্থেজ শহরকে সংযুক্ত করেছিল।