"উইকিপিডিয়া:খেলাঘর ৩" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট: স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করেছে
(মফস্বল, বানান সংশোধন)
ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত
(বট: স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করেছে)
ট্যাগ: প্রতিস্থাপিত হাতদ্বারা প্রত্যাবর্তন
{{খেলাঘর}}<!-- অনুগ্রহপূর্বক এই লাইনটি অপসারণ করবেন না -->
মফস্বলে বেড়ে ওঠা মানুষদের যান্ত্রিক নগরের দূষিত ভারি বাতাস, শব্দ দূষণ কাঁহাতক ভালো লাগে! তাইতো বুক ভরে নিশ্বাস নিতে নাড়ির টানে শিকড়ের সন্ধানে..! সেথায় কতকিছুই না চোখে পড়ে! তার কতটুকুই বা প্রযুক্তি ধারণ করতে পারে! তাহলে তো ঘরে বসেই মানুষ, বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারত! 'যখন বিশ্বের প্রথম ক্যামেরা আবিষ্কার হয়েছিল,সেটা দিয়ে ছবি তুলতে,আট ঘণ্টা স্থির থাকতে হতো' কিন্তু এখন, অত্যাধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে প্রকৃতির বিরল ছবি তুলতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করে মানুষ-
 
শরৎকালের প্রকৃতি সেজেছে,রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির খেলায়,শরতীয় ভঙ্গিমায় ! কৈশোরে হারিয়ে যেতে মন চায় ! মনে পড়ে…'রোদ এলো বৃষ্টি এলো,খেক শিয়ালের বিয়ে হলো' ছড়া.., গত রাতেও শিয়াল ডেকেছিল,এই এলাকা জুড়ে…! গঙ্গার ঘাটে কিছু দুরন্ত কিশোরের চিৎকার 'পানকৌড়ি পানকৌড়ি আমার জন্য একটা ডুব দে না' কয়েকজন ঝপাৎ করে লাফ দেয় জলে ! বিরক্তি নিয়ে ব্যাঙের ঝাঁক ডেকে ওঠে। বেত বাগানের ডাউক পাখির ছানারা নিরাপত্তাহীনতায় কিচিরমিচির করে,সারমেয়র দল অভায় দেয়।
 
আকাশে রংধনু ঘরে থাকা দায়,দে দৌড়ে ছাদে..! ক্ষনিকেই বর্নিল আকাশ,নীল হয়ে যায় ! চিলেকোঠায় নতুন বাচ্চা তুলেছে একজোড়া ঘুঘু , এক ঘরে একটি বাচ্চা,জোড়া হারা নির্বাক ! কদম গাছের ডালে মনের সুখে ডেকে চলছে ঘুঘু..! গৌরী চৌরির ঝরা ফুলে ফুলে চিলেকোঠার মেঝে হলুদ প্রাকৃতিক কার্পেট !
চোখ যায়, দেশের পতাকার মতই সবুজ জমিনে এক থোকা কৃষ্ণচূড়া। অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠা দূর্বাঘাসের উপর বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু জলকণায় অস্তগামী সূর্যিমামার কিরণে,হীরার মতোই চিকচিক..!
 
দূর হতে ভেসে আসে সুমধুর আযানের ধ্বনি । ষাটবাড়িয়া গ্রাম হতে ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি,মন্দির হতে বাদ্য-বাজনা। চারিদিকে জোনাকি পোকার ঘুরঘুর,একনাগাড়ে ঝিঁঝিঁপোকা সমতালে ডেকে চলছে। দলে দলে চামচিকা আর বাদুর আসছে কদম ফুলের মাঝে কি যেন খুঁজতে..!
 
গোধূলি লগ্নে’র শরৎ আকাশের নীলাভ রঙে রঙিন নবগঙ্গা দোহায়,জল-আকাশ একাকার ..! প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি চিত্রে ধারণ করার মত মেধা ও উপকরণ সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দেয়না,তা বুঝেও ব্যর্থ প্রচেষ্টা..! মাথার উপরের ছাতার ছাউনি হতে,টিকটিকি বলে ঠিক্ ঠিক্। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে মাঝেসাজেই সম্মিলিত রূপ পায় মানব সঙ্গ,একাকী জীবনে..!
 
করোনা কালে,নাড়ির টানে,শিকড়ের সন্ধানে,দায়িত্ব ও কর্তব্যের খাতিরে,ঝিনেদা’তে দুই দিনের ঝটিকা সফর। পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে; জন্মভূমিতে পা দিলে করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে না। সঙ্গত কারণে দুটি ঈদ, কেটেছে অনেকটা নীরবে-নিভৃতে ঢাকাতেই। সরকার এখন সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে,সভ্য সামাজিক জীব হিসাবে তা না মেনে চলে উপায় নাই। ফলশ্রুতিতে,যা হবার তাই হয়েছে।
 
একজন সমাজকর্মী’র,জীবনের অন্য সাধারণ দু’টি দিনের মতোই ঘুমতে যাবার আগ পর্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় কাল অতিবাহিত হয়েছে। পার্থক্য,অধিকাংশ সময় মানুষের সান্নিধ্যে কাটেছে। সেমিনার, বন্ধুদের সাথে নির্ভেজাল আড্ডা, পিতা ও আত্মীয়- স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ। স্বাস্থ্য চর্চায় সময় দেওয়াসহ আরো কত কি, তা লিখতে গেলে মহা উপন্যাস হয়ে যেতে পারে-
 
এভাবেই, নির্ধারিত সময় চোখের পলকে শেষ হয়ে যায়। মনের মধ্যের খুঁতখুঁতানি যায়না। মনে পড়লো,এই সময়ের মধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মাথার উপর ছাতা শাশুড়ি’আম্মা, মর্তুজা’দুলাভাই, রাশেদের বাবা, ডালিম’বু ও দুলাভাইসহ, অনেক প্রিয় জন…
 
তাদের সাথে সাক্ষাৎ জরুরী। কেন্দ্রীয় গোরস্থানে যেয়ে মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। এখানে শুয়ে আছে, পূর্বপুরুষ বড় দাদা ইব্রাহিম বিশ্বাস, দাদা ডাক্তার নেহাল উদ্দিন,দাদি,ফুফু,খালা,খালু মাতা,সহধর্মিনী,বন্ধু মোমসহ অনেক প্রিয় জন.. চোখের জলে স্রষ্টার কাছে উত্তোলিত হাতের তালু ভিজে যায় ।
 
ফেরার পথে পায়ের সাথে টক্কর লাগে, রাজপথের পাশে-গোরস্থানের ধারে ঘুমন্ত একটি মানুষের গায়ে,মেগাসিটির দৃশ্যপট,এখন মফস্বল শহরেও যা আতঙ্কের বিষয় ! সারা বিশ্বে পাঁচ কোটি মানুষ যখন গৃহহীন,তাদের সুরক্ষা বাদ দিয়ে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কিভাবে সম্ভব? পক্ষান্তরে,অনেকেরই থাকার কতো জায়গা অবহেলায় পড়ে থাকে ! যা নতুন করে সমাজ ভাবনায়..
৯৩,২২৪টি

সম্পাদনা