"ভারতে জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-১৯৭৭)" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(সংশোধন)
(পাতা উইকিপিডিয়া আর্টিকেল অনুসারে পরিমার্জিত হল)
((সংশোধন))
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
    এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বেরোনোর ১৩ দিন পর অর্থাৎ ২৫-শে জুন বিরোধী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তাঁরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে এক সপ্তাহব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাবে এবং ঐ দাবি জানাতে তাঁরা একদিন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও যাবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বেছে নিয়েছিলেন মানুষের অধিকার হরণের রাস্তাটিকে। আসলে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তিনি এতটাই আতঙ্ক হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যে ভীত ও সন্ত্রস্ত মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। আর সেই কারণে দলের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি যে স্বৈরতান্ত্রিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে আসছিলেন, সেটা আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল। এমন অবস্থায় ক্ষমতাই থাকার ভবিষ্যৎ তাঁর যতই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ততই তিনি ক্ষমতাই থাকতে চাইছিলেন। অর্থাৎ, সমস্যা সমাধানের কোনো কল্যাণকামী নীতি গ্রহণ তাঁর পক্ষে নেওয়া সম্ভব ছিল না, তাঁর বা তাঁর দলের শ্রেণিস্বার্থেই। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন এই রাস্তাটিকে। ইতিমধ্যে ২৫-এ জুন জয়প্রকাশ নারায়ণ দিল্লিতে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইন্দিরা গান্ধি ভারতে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চলেছেন এবং জনসাধারণকে এজন্য সতর্ক হতে বলেন (‘দি টাইমস-লন্ডন, ২৭ জুন, ১৯৭৫)। সেই ২৫ জুন রাত্রেই শুরু হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন স্থানে সি. পি. আই বাদে অন্য বিরোধী দলগুলির নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তার। ২৬ জুন রাষ্ট্রপতি ফকিরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ নং ধারার, ১ উপধারা অনুসারে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন- ‘a grave emergency exists whereby the security of India is threatend by internal disturbances.’।৩ এর ফলে ভারতের রাজনীতিতে স্বৈরতন্ত্র একটা পাকাপাকি ভিত্তি পেয়ে গিয়েছিল।
 
    ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর অভাবনীয় আক্রমণ নেমে এসেছিল। তাই দেখা গিয়েছিল যে, ২৬ জুন সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গে সরকারি আদেশগুলিকে বিচারবিভাগের আওতার বাইরে রেখে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সেভাবে ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হননি, বিনা বিচারে যেকোনো ব্যক্তিকে জেলে পুরে রাখার জন্য নতুন করে মিসা অর্ডিন্যান্স হিসাবে চালু হয়েছিল যা তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনবার সংশোধিত হয়েছিল। এমনকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বক্তৃতার স্বাধীনতা, সংগঠন ও জমায়েতের অধিকার, ধর্মঘটের অধিকার, বিক্ষোভ-প্রতিবাদের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অনেক রাজ্যে ছাত্র ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। শ্রমিক, কর্মচারী, খেতমজুরক্ষেতমজুর, কৃষক, সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে দূরে রাখা হয়েছিল মিশা, ডি. আই. আর ইত্যাদি আইনে গ্রেপ্তার ও জেলে পুলিশি অত্যাচারের ভয় দেখিয়ে। বলাবাহুল্য, এক বিরাট পুলিশ-রাজ আত্মপ্রকাশ করেছিল সেইসময়।
 
    পাশাপাশি শুরু হয়েছিল শিল্প-সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অত্যাচার। তাই ১৯৭৫ সালে বহু নাট্যকর্মীর ওপর নৃশংস অত্যাচার নেমে এসেছিল। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে নাট্যকার অমল রায়ের ওপর একদল সশস্ত্র গুন্ডা আক্রমণ করেছিল এবং ১৯৭৬ সালের মার্চ মাসে শ্রী সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে পুলিশ খানাতল্লাশি চালিয়েছিল। ১৯৭৬ সালে বারাকপুরে নটতীর্থ ‘নিজবাসভূমে’ নাটকটি মঞ্চস্থ করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে হাজির হয়েছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত শিল্পীরা তার আগেই সরে গিয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে নৈহাটিতে মুকুন্দদাস যাত্রাসমাজ শরৎচন্দ্রের ‘অভাগী স্বর্গ’ গল্পের পালারূপ অভিনয় করতে গেলে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল। এছাড়া তারকেশ্বরে ‘হে রাজবিদ্রোহী’, হাওড়ার শিবপুরে ‘দিন আসবেই’, বসিরহাটে ‘লাসবিপণি’, শ্রীরামপুরে ‘রক্তের জোয়ারে শুনি’ প্রভৃতি নাটকগুলি মঞ্চস্থ হলে এগুলির ওপরও আক্রমণ চালানো হয়েছিল।৪