"রাজনৈতিক বাস্তবতাবাদ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান ও অন্যান্য সংশোধন
(বানান সংশোধন (সংশোধন))
(বানান ও অন্যান্য সংশোধন)
'''রাজনৈতিক বাস্তবতাবাদ''' বা '''বস্তুতন্ত্রবাদ''' বা '''রাজনৈতিক বস্তুতন্ত্রবাদ''' বা '''রাজনৈতিক বাস্তববাদ''' [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিভাষা|রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] ও [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক]] বিষয়ক বিদ্যার একটি বিশেষ শাখা। এটি কোন রাষ্ট্রের এমন বিশেষ রাজনৈতিক আচরণের ব্যাখ্যা দেয় যে আচরণের ফলে রাষ্ট্র নৈতিকতা, আদর্শ, সামাজিক পূণর্গঠন ইত্যাদি বিষয়াবলীকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র ও যেকোন উপায়ে জাতীয় স্বার্থ কায়েম ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নীতি নির্ধারণ করে থাকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় বস্তুতন্ত্রবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতিকে ক্ষেত্র বিশেষে পরস্পরের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বস্তুতন্ত্রবাদের মতে- আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা কার্যত নৈরাজ্যবাদমূলক; প্রতিটি রাষ্ট্র টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোকে প্রাধান্য দেয় এবং পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রের স্বতঃস্ফুর্ততা ও গতিময়তার মধ্য দিয়ে সম্পাদিত হয়; রাষ্ট্রের এরূপ নীতিমালার জন্য মানবকূল পরস্পরের প্রতি সাংঘর্ষিক মনোবৃত্তি ধারণ করে; ব্যক্তি পর্যায়ের নৈতিক আদর্শগুলোর দ্বারা রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকে মূল্যায়ন করা যায় না কেননা রাষ্ট্রসমূহ যখন পরস্পরের মুখোমুখি হয় তখন তা তারা ব্যক্তি হিসেবে নয় বরং একেকটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে হয়; রাজনৈতিক নীতিমালার ভিত্তি যতটা না আদর্শ, তার চেয়ে বেশি স্বার্থ ও ক্ষমতা; টিকে থাকার লড়াই ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র এককভাবে দায়ী।
 
রাজনোইতিক বাস্তববাদ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্বসমূহের মধ্যে একটি [[চিন্তাধারা]], যা প্রারম্ভিক আধুনিক ইউরোপের বাস্তব-রাজনৈতিক ধারণার মধ্য দিয়ে উদ্ভুতউদ্ভূত হয়েছিল। এই চিন্তাধারা মূলত এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যে, বিশ্ব রাজনীতি চূড়ান্তভাবে সবসময় এবং অপরিহার্যভাবে ক্ষমতান্বেষণকারীদের দ্বন্দ্ব-ক্ষেত্র। এই প্রত্যাখ্যান-অযোগ্য দ্বন্দ্বের উৎস্য কী - সেই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক বাস্তববাদীদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। [[ধ্রুপদী বাস্তববাদ|ধ্রুপদী বাস্তববাদীগণ]] মনে করেন এর উৎস্য মানব প্রকৃতি বা প্রবৃত্তিতেই নিহিত। [[নব্যবাস্তববাদ|নব্যবাস্তববাদীগণ]] নৈরাজ্যময় রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোকে এই দ্বন্দ্বের উৎস্য বলে মনে করেন। এদিকে [[নব্য-ধ্রুপদী বাস্তববাদ|নব্য-ধ্রুপদী বাস্তববাদীগণ]] এর উৎস্য হল মানব প্রকৃতি ও নৈরাজ্যময় রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো দুটোই, ও সেই সাথে কিছু নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় আভ্যন্তরীন চলক। এছাড়াও বিশ্ব রাজনীতির পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রগুলোকে কিরকম কাজ করা উচিত তা নিয়েও নব্যবাস্তববাদীরা দুইভাগে বিভক্ত: [[প্রতিরক্ষামূলক বাস্তববাদ]] ও [[আক্রমণাত্মক বাস্তববাদ]]। বাস্তববাদীরা দাবি করেন, প্রাচীন যুগের [[থুসিডাইডিস|থুসিডাইডিসের]] সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতির ইতিহাসের সকল সময়ে রাজনৈতিক বাস্তববাদের ঐতিহ্য বজায় রয়েছে।
 
[[জোনাথন হাসলাম]] রাজনৈতিক বাস্তববাদকে "বিভিন্ন ধারণার একটি বর্ণালী" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।<ref name="Goodin 2010 132">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=Goodin|প্রথমাংশ=Robert E.|বছর=2010|শিরোনাম=The Oxford Handbook of International Relations|অবস্থান=Oxford|প্রকাশক=Oxford University Press|পাতাসমূহ=132|আইএসবিএন=978-0-19-958558-8}}</ref> যে সংজ্ঞাই ব্যবহার করা হোক না কেন, রাজনৈতিক বাস্তববাদের তত্ত্ব সমূহ চারটি কেন্দ্রীয় প্রস্তাবকে ঘিরেই আবর্তিত হবে:<ref name="Goodin 2010 133">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=Goodin|প্রথমাংশ=Robert E.|বছর=2010|শিরোনাম=The Oxford Handbook of International Relations|অবস্থান=Oxford|প্রকাশক=Oxford University Press|পাতাসমূহ=133|আইএসবিএন=978-0-19-958558-8}}</ref>
১৯,৮৯৭টি

সম্পাদনা