"বাঁকুড়া সদর মহকুমা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

===প্রাচীন যুগ===
সমগ্র [[বাঁকুড়া জেলা]] ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে [[রাঢ়]] অঞ্চলের অন্তর্গত। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে লিখিত [[আরণ্যক#ঐতরেয় আরণ্যক|ঐতরেয় আরণ্যকে]] এই অঞ্চলের অধিবাসীদের "[[অসুর]]" নামে অভিহিত করা হয়েছিল। বর্তমান যুগেও এই জেলার বহু গ্রামের নাম এই অসুরদের নামের সঙ্গে যুক্ত। সেই যুগে বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রাঢ় অঞ্চলে আদিবাসি জনগোষ্ঠীগুলির সংখ্যা অধিক ছিল। [[নিষাদ রাজ্য|নিষাদ]] (প্রত্ন-অস্ট্রালয়েড উপজাতি) ও "[[দাস-দস্যু]]" ([[দ্রাবিড় জাতি|দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠীর]] শাখাবিশেষ) ছিল এখানকার প্রধান দুই জাতিগোষ্ঠী। উপগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল [[বাগদি]], [[বাউড়ি]], [[কৈবর্ত|জেলে]], [[হাড়ি (বর্ণ)|হাড়ি]], [[ডোম]] ও অন্যান্যেরা। [[সাঁওতাল]] ও মালপাহাড়িয়ারা সম্ভবত গোড়া থেকেই এই অঞ্চলের অধিবাসী ছিল।<ref>Ghosh, Binoy, pp. 328-331</ref> এই সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যাভ্যাস, পোষাকপরিচ্ছদ, ধর্ম, আচার-ব্যবহার সহ নানা বিষয়ে যেমন পার্থক্য ছিল, তেমন পারস্পরিক মেলামেশাও ছিল না; স্বগোষ্ঠীর বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন তো দূরের কথা।<ref name=Ray/> [[উত্তর ভারত]] থেকে আগত [[প্রত্ন-ইন্দো-আর্য]] জাতিগোষ্ঠীর মাধ্যমে এই অঞ্চলের [[আর্যীকরণ|আর্যীকরণের]] সূত্রপাত ঘটে। ফলে এই অঞ্চলে বর্ণভিত্তিক একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠতে শুরু করে। পুরনো সমাজব্যবস্থার সঙ্গে কয়েক শতকে সংঘাত ও সহযোগিতার পরিবেশের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এই আর্যীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।<ref name=Ray/> উল্লেখ্য, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ-পঞ্চম শতাব্দীর [[বৌধায়ন|বৌধায়ন ধর্মসূত্রে]] বলা হয়েছে, [[অঙ্গ]] (অধুনা পূর্ব [[বিহার]]) ও [[মধ্যদেশ|মধ্যদেশে]] ([[গঙ্গা নদী|গঙ্গা]]-[[যমুনা নদী (ভারত)|যমুনা]] দোয়াব অঞ্চল) আংশিক আর্যীকরণ সম্পন্ন হলেও [[পুণ্ড্রবর্ধন|পুণ্ড্র]] (অধুনা উত্তর [[বাংলাদেশ]] ও পশ্চিমবঙ্গের [[উত্তর দিনাজপুর জেলা|উত্তর]] ও [[দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা|দক্ষিণ দিনাজপুর]] জেলা), [[বঙ্গ রাজ্য|বঙ্গ]] ([[গাঙ্গেয় বদ্বীপ]] অঞ্চল) ও [[কলিঙ্গ]] (দক্ষিণ [[ওডিশা]] ও উত্তর [[অন্ধ্রপ্রদেশ|অন্ধ্রপ্রদেশের]] অংশবিশেষ) কেবলমাত্র উত্তর ভারতীয় আর্যদের সংস্পর্শেই এসেছে।<ref name=Binoy1>Ghosh, Binoy, pp. 60-61</ref>
 
[[সংস্কৃত ভাষা|সংস্কৃত]] ও [[প্রাকৃত ভাষা|প্রাকৃত]] ভাষায় লিখিত [[শুশুনিয়া]] লিপি থেকে জানা যায়, খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে পুষ্করণার (অধুনা বাঁকুড়া সদর মহকুমার [[পোখরনা]]) রাজা সিংহবর্মণের পুত্র [[চন্দ্রবর্মণ]] প্রায় সমগ্র রাঢ়ে নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করে পূর্বে অধুনা বাংলাদেশের [[ফরিদপুর জেলা]] পর্যন্ত রাজ্যবিস্তার করেছিলেন।<ref>Majumdar, R.C., ''History of Ancient Bengal'', pp. 32, 444, Tulshi Prakashani.</ref><ref>Ghosh, Binoy, ''Paschim Banger Sanskriti'', (in Bengali), part I, 1976 edition, pp. 408-409, Prakash Bhaban</ref> [[এলাহাবাদ স্তম্ভ|এলাহাবাদ প্রশস্তি]] থেকে জানা যায়, [[গুপ্ত সাম্রাজ্য|গুপ্ত সম্রাট]] [[সমুদ্রগুপ্ত]] চন্দ্রবর্মণকে পরাজিত করেছিলেন এবং তার ফলে প্রাচীন বাংলায় গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রসারের পথ সুগম হয়েছিল।<ref>Sengupta, Nitish, ''History of the Bengali-speaking People'', p.21, UBS Publishers’ Distributors Pvt. Ltd.</ref> [[বর্ধমানভুক্তি]] (অধুনা [[পূর্ব বর্ধমান জেলা|পূর্ব]] ও [[পশ্চিম বর্ধমান জেলা|পশ্চিম বর্ধমান]] জেলা) ও [[দণ্ডভুক্তি]] (অধুনা [[পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা]]) দীর্ঘকাল পুষ্করণার রাজাদের অধীনস্থ ছিল।<ref name=Ghosh>Ghosh, Binoy, ''Paschim Banger Sanskriti'', (in Bengali), part I, 1976 edition, pp. 82-86, Prakash Bhaban</ref>
 
==ভূগোল==