মীনা (ধারাবাহিক কার্টুন): সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্প্রসারণ
(সম্প্রসারণ)
(সম্প্রসারণ)
| powers = কল্যাণমূলক
}}
'''মীনা''' দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি [[কার্টুন]] ধারাবাহিক ও [[কমিক বই]]। ১৯৯৩ সালে প্রথম টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। মীনা কার্টুন শুধু বাংলা ভাষায় তৈরি হয়নি। হিন্দি, উর্দুসহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। প্রথমে মীনার ১৩টি পর্ব বানানো হয়েছিল। প্রচার করা হয় সার্কভুক্ত সাতটি দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।
'''মীনা''' দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি [[কার্টুন]] ধারাবাহিক ও [[কমিক বই]]। সেই সাথে এই কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। [[দক্ষিণ এশিয়া|দক্ষিণ এশীয়]] দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে [[ইউনিসেফ|ইউনিসেফের]] সহায়তায় এই কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়ে থাকে। যেসকল সচেতনতা মীনা কার্টুনের মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে তার মধ্যে আছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণ ও ব্যবহারে উৎসাহিত করা, মেয়েদের স্কুলে পাঠানো, কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে থেকে স্কুলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, যৌতুক বন্ধ করা, ছেলে-মেয়ে সমান পুষ্টি ও সুযোগ-সুবিধার দাবিদার, প্রয়োজনীয় ও সমঅধিকার পেলে মেয়েরাও অনেক কিছু হতে পারে তা বোঝানো, শহরের বাসায় বাসায় কাজে সাহায্য করে এমন মেয়েদের প্রতি সুবিচার ও তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।<ref name=":0">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://bd.toonsmag.com/2019/07/meena.html|শিরোনাম=মীনা: সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনকারী এক যুগান্তকারী চরিত্র|ওয়েবসাইট=টুনস ম্যাগ|সংগ্রহের-তারিখ=2019-09-14}}</ref><ref>http://www.unicef.org/rosa/media_2479.htm</ref> প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইস্ট-এশিয়ার দেশসমূহে পালন করা হয়।
 
== গুরুত্ব ==
'''মীনা''' দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি [[কার্টুন]] ধারাবাহিক ও [[কমিক বই]]। সেই সাথে এই কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুনগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র। [[দক্ষিণ এশিয়া|দক্ষিণ এশীয়]] দেশগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে [[ইউনিসেফ|ইউনিসেফের]] সহায়তায় এই কার্টুন ধারাবাহিকটি নির্মিত হয়ে থাকে। যেসকল সচেতনতা মীনা কার্টুনের মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে তার মধ্যে আছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণ ও ব্যবহারে উৎসাহিত করা, মেয়েদের স্কুলে পাঠানো, কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে থেকে স্কুলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, যৌতুক বন্ধ করা, ছেলে-মেয়ে সমান পুষ্টি ও সুযোগ-সুবিধার দাবিদার, প্রয়োজনীয় ও সমঅধিকার পেলে মেয়েরাও অনেক কিছু হতে পারে তা বোঝানো, শহরের বাসায় বাসায় কাজে সাহায্য করে এমন মেয়েদের প্রতি সুবিচার ও তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।<ref name=":0">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://bd.toonsmag.com/2019/07/meena.html|শিরোনাম=মীনা: সামাজিক মূল্যবোধ পরিবর্তনকারী এক যুগান্তকারী চরিত্র|ওয়েবসাইট=টুনস ম্যাগ|সংগ্রহের-তারিখ=2019-09-14}}</ref><ref>http://www.unicef.org/rosa/media_2479.htm</ref> প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইস্ট-এশিয়ার দেশসমূহে পালন করা হয়।
 
[[চিত্র:মীনা.jpg|250px|thumb|মীনা কার্টুন ধারাবাহিকের মূল চরিত্র ''মীনা'']]
 
== নির্মাণ ইতিহাস ==
১৯৯১ থেকে ২০০০ সালকে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের দশক ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। জাতিসংঘ শিশু তহবিল এটি প্রসারের দায়িত্ব নেয়। সে সময় ডেনমার্ক সরকার দক্ষিণ এশিয়াতে অ্যানিমেশন কার্টুন তৈরির জন্য অর্থসহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ রাজি হয়। মীনা কার্টুন ১৯৯০ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশের যোগাযোগ বিভাগের নিল ম্যাককি ও কোল ডজের নেতৃত্ব যাত্রা শুরু করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.tbsnews.net/feature/panorama/meenas-journey-three-decades-136906|শিরোনাম=Meena’s journey of three decades|তারিখ=2020-09-24|ওয়েবসাইট=The Business Standard|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2021-04-08}}</ref> ইউনিসেফের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান কানাডীয় নিল ম্যাককির নির্দেশনায় ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুদ্দিন আহমেদ পরিকল্পনা করেন। এ অঞ্চলের সব দেশের মানুষের কথা বিবেচনা করে মীনা নামটি প্রস্তাব করা হয়। ভারতের মুম্বাইয়ের রামমোহন প্রতিটি চরিত্রের পোশাক কী হবে, তাদের অবয়ব কী হবে, সেগুলো আঁকেন। মীনা কার্টুনের প্রথম পর্ব ‘মুরগিগুলো গুণে রাখ’ ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানিমেশন স্টুডিও হানা বারবারায় তৈরি করা হয়। পরে মীনা কার্টুন মুম্বাইয়ের রামমোহন স্টুডিওতে তৈরি হয়। এখন বাংলাদেশেই মীনা কার্টুন তৈরি হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/‘এটি-একটি-ভালো-কাজ-হয়েছে’|শিরোনাম='এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে'|শেষাংশ=প্রতিবেদক|প্রথমাংশ=নিজস্ব|ওয়েবসাইট=Prothomalo|ভাষা=bn|সংগ্রহের-তারিখ=2021-04-08}}</ref> মীনা কার্টুন তৈরিতে র‍্যাচেল কার্নেগি ইউনিসেফের মীনা প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। নুজহাত শাহজাদি ও ভারতের মীরা আঘি প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।কার্টুনের থিম গানের গায়িকা বলিউডের সুষমা শ্রেষ্ঠ। <ref name=":0" />
 
=== চরিত্র তৈরি ===
শামসুদ্দিন আহমেদ মীনা নামটি প্রস্তাব করেন। রফিকুন নবী প্রথম মীনা, রাজুকে আঁকেন। মুস্তাফা মনোয়ার একটি ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করেন। প্রথম পর্বের দোকানদার ও মুরগি চুরি করে নিয়ে যাওয়া চোর চরিত্র তৈরি করেন শিশির ভট্টাচার্য। দোকানদারের মুখটিও তাঁর করা।
 
== চরিত্রসমূহ ==
আমারোতো সাধ আছে, আছে অভিলাষা<br/>
ঘরে বেঁধে রেখো না, নিয়ে যাও এগিয়ে।
 
== অন্যান্য কার্যক্রম ==
সংবাদমাধ্যমে শিশু সংক্রান্ত প্রতিবেদন যাতে আরও ভালো হয় সেলক্ষ্যে সাংবাদিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০০৫ সালে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড চালু করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। ২০১২ সালে ইউনিসেফ একটি সরাসরি রেডিও শো শুরু করে যেখানে মীনা, মিঠু ও রাজুকে উপস্থাপক হিসাবে দেখানো হয়। ২০১৬ সালে ইউনিসেফের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ‘মীনা গেম’ চালু করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.unicef.org/bangladesh/%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AB|শিরোনাম=মীনা ও ইউনিসেফ|ওয়েবসাইট=www.unicef.org|ভাষা=bn|সংগ্রহের-তারিখ=2021-04-09}}</ref>
 
== বাংলাদেশে মীনা ==
বাংলাদেশ টেলিভিশনে মীনা কার্টুন দেখানোর পাশাপাশি রেডিওতে প্রচারিত হয় মীনার অনুষ্ঠান। ইউনিসেফ ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস প্রথম রেডিওর জন্য মীনা সিরিজ তৈরি করে। ৬৮টি ভ্রাম্যমাণ ফিল্ম ইউনিটের মাধ্যমে মীনা পৌঁছে গেছে দেশের আনাচ-কানাচে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পে মীনা কমিক বইগুলো সহায়ক পাঠ উপকরণ হিসেবে ব্যবহূত হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/আমাদের-সবার-প্রিয়-মীনা|শিরোনাম=আমাদের সবার প্রিয় মীনা|শেষাংশ=প্রতিবেদক|প্রথমাংশ=নিজস্ব|ওয়েবসাইট=Prothomalo|ভাষা=bn|সংগ্রহের-তারিখ=2021-04-09}}</ref> ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান তাদের ফ্লাইটের অভ্যন্তরীণ বিনোদন কর্মসূচিতে মীনা কার্টুন অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিটি ফ্লাইটে মীনা কার্টুন প্রদর্শিত হতো।
 
== তথ্যসূত্র ==