"পাবনা রেলওয়ে স্টেশন" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান ও অন্যান্য সংশোধন
(সংশোধন)
(বানান ও অন্যান্য সংশোধন)
 
ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর ৭৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার রেলপথ নিমার্ণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। পাবনা সদর এলাকায় জমি নেয়া হয় ১১ কিলোমিটার। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের এই প্রকল্পের কাজের গতি একটুখানি থেমে যায় ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্যে। তিনবার স্টাডি করা হয়। প্রস্তাবিত রেললাইনের সঠিক গতি পথ নির্ণয়ে তিন দফা পরিবর্তন করা হয় নকশা। একারণে কেটে যায় এক বছর। প্রথমবার প্রস্তাবিত রেলপথ ছিল পাবনা-ঢাকা ভায়া আতাইকুলা-বনগ্রাম বাজারের দক্ষিণ দিক হয়ে ঢালারচর। এ পথ বাতিল করে আতাইকুলার কাছে মহাসড়ক ক্রস করা হয়। রাখা হয় ক্রসিং ব্যবস্থা। তৃতীয় বারে আর একটু পরিবর্তন আনা হয়। মহেন্দ্রপুর ও টেবুনিয়াবাসীর কয়েকজন পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রেলপথ সামান্য পরিবর্তনের জন্যে।
 
রেল পথঃরেলপথঃ আগের কথা ১৮৭১ এর প্রথম দিন ৭৫ কিমি দীর্ঘ গোয়ালন্দ পর্যন্ত রেল লাইন উদ্বোধন করা হয়। এসময় এ অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের দাবানল স্তিমিত হয়ে আসে। রেলের কাজ চলতে থাকে অবিরাম। সাড়া ঘাট থেকে চিলহাটি হয়ে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত আড়াই শ কিলোমিটার দীর্ঘ মিটার গেজ রেল লাইন স্থাপন সম্পন্ন হয় ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে। তখন দামুকদিয়া থেকে পোড়াদহ পর্যন্ত ব্রডগেজ রেল লাইন সংযোজন করে। সে সময় ব্রড গেজ, মিটার গেজ ও ন্যারো গেজ এই তিন রকমের রেলপথ প্রবর্তন করা হয়।
 
১৯১৫ সালে চালু করা হয় ঈশ্বরদী-পাকশী রেলপথ। মিটার গেজ লাইন সাড়াঘাট হতে রাজশাহীর আত্রাই পর্যন্ত খোলা হয়। এর কিছু অংশ পাবনার মধ্যে পড়েছে। অপর দিকে খুলনা হতে পার্বতীপুর পর্যন্ত শাখা রেলপথটির ঈশ্বরদী-পাকশীর মধ্যে ৮.৩৫ কিলো বা ৫ মাইল দীর্ঘ। এ অংশটুকু পাবনার প্রধান ব্রডগেজ রেলপথ। হার্ডিঙ্গ সেতুর ওপর দিয়ে রেলপথটি পদ্মা নদী অতিক্রম করে পাবনা জেলাকে কুষ্টিয়া জেলার সাথে সংযুক্ত করেছে। এছাড়া উত্তর পূর্ব দিকে ৫৬ মাইল দীর্ঘ একটি শাখা রেলপথ ঈশ্বরদীকে সংযুক্ত করেছে সিরাজগঞ্জকে।
এ জেলায় প্রায় একশ বছর পর রেলপথ সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের মনে জেগে উঠবে আশার আলো। দূর হয়ে যাবে পরিবহন স্বার্থস্রোত। দেশের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার অঙ্গ হলো রেলপথ। এর নির্মাণ গতি ত্বরান্বিত করা দরকার। বর্তমানে এ জেলায় ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রুটে ১৬টি রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে মুলাডুলি, চাটমোহর, গুয়াখরা, ভাঙ্গুড়া, বড়াল ব্রিজ ও শরৎনগর স্টেশন পর্যন্ত পাবনার মধ্যে। ঈশ্বরদী হতে পাকশী পর্যন্ত পাঁচ মাইল মেইন লাইন পাবনায় পড়ে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দের পর পাবনায় রেলপথ নির্মিত হয়নি।
 
পাবনা কেন্দ্রিক রেলপথের ইতিহাস যোগাযোগের মহিমা উপলদ্ধি করতে পারলে ত্বরান্বিত হয় উন্নয়নের ধারা। এটা দেখিয়ে গেছে ব্রিটিশ সরকার। এরই রেশ ধরে শেখ হাসিনার সরকার পাবনার ঈশ্বরদী থেকে বেড়া উপজেলার ঢালার চর পর্যন্ত রেল পথরেলপথ উন্নয়নের কাজ হাতে নেয়। এ প্রকল্পের তিন ভাগের এক ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে।
 
পাবনা শহরে কোন রেলপথ নেই। ঈশ্বরদী জংশন থেকে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ এবং সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ রয়েছে। যাত্রী চলাচল ও পণ্য দ্রব্য আমদানি-রফতানি সুবিধার জন্যে শহরে একটি আউট এজেন্সি খুলেছিল পাকিস্তান ইস্টার্ণ বেঙ্গল রেলওয়ে। টিকিট ও নানা প্রকার মালামাল বুকিং এবং ডেলিভারির ব্যবস্থা ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রিটিশ সরকারের আমলে অর্থাৎ ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাবনা বিশ্বাস মটর সার্ভিস লিমিটেডের ওপর এই আউট এজেন্সি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল।
৯,৮০০টি

সম্পাদনা