"ভাষাবিজ্ঞান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন (By FindAndReplace)
(বানান সংশোধন (By FindAndReplace))
ভাষাসমূহের বৈজ্ঞানিক বিবরণ ছাড়াও এগুলির উৎপত্তি কীভাবে হয়, শিশুরা কীভাবে ভাষা অর্জন করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা কীভাবে মাতৃভাষা ব্যতীত অন্য নতুন [[ভাষা]] শেখে, সেগুলিও ভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। আবার ভাষাসমূহের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং সময়ের সাথে সাথে এগুলির পরিবর্তন নিয়েও এই শাস্ত্রে অধ্যয়ন করা হয়। কোনও কোনও [[ভাষাবিজ্ঞানী]] ভাষাকে একটি মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ভাষা উৎপাদন ও উপলব্ধি করার যে বিশ্বজনীন মানবিক ক্ষমতা,সেটির একটি তত্ত্ব দাঁড় করাতে চেষ্টা করেন। আবার অন্যান্য কিছু ভাষাবিজ্ঞানী সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ভাষাকে দেখেন এবং মানুষের কথা বলার ভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে বোঝার চেষ্টা করেন মানুষ কীভাবে পরিবেশ ভেদে কর্মস্থলে, বন্ধুদের সাথে বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যথাযথভাবে একই ভাষার বিভিন্ন রূপ প্রয়োগ করে। আবার কিছু ভাষাবিজ্ঞানী ভিন্ন ভিন্ন ভাষার [[মানুষ]] একসাথে হলে কী ঘটে, তা নিয়ে [[গবেষণা]] করেন। এছাড়া [[ভাষা শিক্ষণ]] ও শিখনের ব্যাপারেও তারা তত্ত্ব দিতে পারেন।
 
ভাষা নিয়ে গবেষণা একটি অতি প্রাচীন শাস্ত্র হলেও কেবল উনিশ শতকে এসেই এটি বিজ্ঞানভিত্তিক "ভাষাবিজ্ঞান" নামীয় শাস্ত্রের রূপ নেয়। ভাষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দিক ও ব্যবহারিকব্যাবহারিক দিক দুই-ই বিদ্যমান। তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানে ভাষার ধ্বনিসম্ভার ([[ধ্বনিতত্ত্ব]] ও [[ধ্বনিবিজ্ঞান]]), ব্যাকরণ ([[বাক্যতত্ত্ব]] ও [[রূপমূলতত্ত্ব]]) এবং শব্দার্থ ([[অর্থবিজ্ঞান]]) নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যবহারিকব্যাবহারিক ভাষাবিজ্ঞানে অনুবাদ, ভাষা শিক্ষণ, বাক-রোগ নির্ণয় ও বাক-চিকিৎসা, ইত্যাদি আলোচিত হয়। এছাড়া ভাষাবিজ্ঞান জ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথে মিলে [[সমাজভাষাবিজ্ঞান]], [[মনোভাষাবিজ্ঞান]], [[গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান]] ইত্যাদির জন্ম দিয়েছে।
 
== ভাষাবিজ্ঞানের শাখা ==
ভাষাবিজ্ঞানীরা কোন নির্দিষ্ট কালের একটি নির্দিষ্ট ভাষার ওপর গবেষণা করতে পারেন; একে বলা হয় এককালিক, সমকালীন, বা [[কালকেন্দ্রিক ভাষাবিজ্ঞান]]। অথবা তারা কোন একটি ভাষার ঐতিহাসিক বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করতে পারেন; একে বলা হয় কালানুক্রমিক, বিবর্তনমূলক, বা [[ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান]]।
 
[[তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞান|তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানে]] কোন ভাষার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর একটি তত্ত্ব প্রদানের চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে [[ব্যবহারিকব্যাবহারিক ভাষাবিজ্ঞান|ব্যবহারিকব্যাবহারিক ভাষাবিজ্ঞানে]] ভাষিক ধারণাগুলো শিক্ষণ ও অন্যান্য কাজে লাগানো হয়। তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানে যেহেতু ভাষার অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়, এ গবেষণার প্রকৃতি তাই মূলত এককালিক। তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানে ভাষার অর্জন, প্রয়োগ, সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিক অনুষঙ্গ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় না। এগুলো ব্যবহারিকব্যাবহারিক ভাষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন [[সমাজভাষাবিজ্ঞান]], [[মনোভাষাবিজ্ঞান]], [[নৃতাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞান]], ইত্যাদি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গবেষণা করা হয়।
[[File:Major levels of linguistic structure bn.png|thumb|300px|left|ভাষার কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের ওপর ভিত্তি করে ভাষাবিজ্ঞানের শাখাগুলি]]
ভাষার কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের ওপর ভিত্তি করে ভাষাবিজ্ঞানকে নিচের শাখাগুলোতে ভাগ করা যায়:
* [[সমাজভাষাবিজ্ঞান]]: ভাষা ও সমাজ কাঠামোর পারস্পরিক সম্পর্কের গবেষণা।
* [[মনোভাষাবিজ্ঞান]]: মস্তিষ্কের বা মনের ভেতর ভাষা কীভাবে রূপলাভ করে, সে সম্পর্কিত আলোচনা।
* [[ফলিত ভাষাবিজ্ঞান]]: শিক্ষণ, অনুবাদ, ইত্যাদি ব্যবহারিকব্যাবহারিক বিষয়ে ভাষাবিজ্ঞানের অবদান।
* [[গাণিতিক ভাষাবিজ্ঞান|গাণিতিক]] ও [[গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান]]: ভাষার গাণিতিক ও পরিসাংখ্যিক প্রকৃতি, কম্পিউটারে মানুষের ভাষার প্রক্রিয়াকরণ, ইত্যাদি।
* [[শৈলীবিজ্ঞান (ভাষাবিজ্ঞান)|শৈলীবিজ্ঞান]]: সাহিত্যে ভাষাবিজ্ঞানের প্রয়োগ।
* কালানুক্রমিক, বিবর্তনমূলক, বা ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান – Diachronic, evolutionary or historical linguistics
* [[তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞান]] – Theoretical linguistics
* ব্যবহারিকব্যাবহারিক ভাষাবিজ্ঞান – Applied linguistics
* ভাষার অর্জন – Language acquisition
* [[সমাজভাষাবিজ্ঞান]] – Sociolingusitics