"হারুন আহমেদ চৌধুরী" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন (By FindAndReplace)
(সম্প্রসারণ)
(বানান সংশোধন (By FindAndReplace))
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
হারুন আহমেদ চৌধুরী ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমী হতে সফলভাবে প্রশিণ সমাপ্তির পর সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন। বিভিন্ন কর্মস্থলে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় ইপিআর-এর ৬ নম্বর সেক্টরের কাপ্তাইস্থ ১৭ নম্বও উইংয়ের সহকারী অধিনায়ক হিসাবে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে টেলিফোনে মেজর রফিকের পাঠানো ‘ব্রিং সাম উড ফর মি’ কোড ওয়ার্ডটি জানার পর সব অবাঙালী অফিসার ও জওয়ানকে বন্দি কওে উইংয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মেজর রফিকের সাথে যোগ দেয়ার জন্য চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। ২৬ মার্চ কালুরঘাট এসে মেজর জিয়ার সাথে দেখা হয় এবং জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী তার সাথে যোগ দিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন।
 
এক কোম্পানি সৈন্যসহ তিনি চট্টগ্রাম কলেজ এলাকায় অবস্থান নেন। ৩০ মার্চ চকবাজার এলাকায় ২০ বেলুচ রেজিমেন্ট এবং একই স্থানে ৬ এপ্রিল আগুয়ান পাক বাহিনীর ওপর আক্রমনআক্রমণ চালিয়ে তিনি শত্র“র ব্যাপক তি সাধন করতে সম হন
মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে [[চট্টগ্রাম জেলা|চট্টগ্রাম]]-[[কক্সবাজার জেলা]] সড়কে কর্ণফুলী নদীর তীরে কালুরঘাট। সেখানে উত্তর দিক থেকে হালদা এবং দক্ষিণ দিক থেকে সাঙ্গু নদী এসে মিলিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় এখানে ছিল অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট,[[ইপিআর]] ও ছাত্র-যুবক সমন্বয়ে গড়া মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন কয়েকটি দলে বিভক্ত। নদীর পশ্চিম পূর্ব তীরের একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হারুন আহমেদ চৌধুরী।[[চট্টগ্রাম]] শহর দখলের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বড় দল অগ্রসর হয় কালুরঘাট অভিমুখে। [[এপ্রিল ১১|১১ এপ্রিল]] সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি, মর্টার ও নৌবাহিনীর গান ফায়ারের সাপোর্ট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর তুমুল আক্রমণ শুরু করে। কালুরঘাটের পশ্চিমে চট্টগ্রামের দিকে রাস্তা এবং আশপাশে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ দল পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে থাকে। কিন্তু পাকিস্তানি আক্রমণ ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত, ব্যাপক ও সুবিন্যস্ত। সম্মুখভাগে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা প্রবল আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আক্রমণের তীব্রতায় তারা পেছনে কালুরঘাট সেতুতে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো খবর দিতে পারেননি। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয় সেতুর দিকে। হারুন আহমেদ চৌধুরী তার দল নিয়ে ছিলেন সেতু এলাকায়। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের শিকার হন। একদম কাছাকাছি দূরত্বে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। হারুন আহমেদ চৌধুরী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ডান দিকে ছিলেন। এ সময় তিনি প্রতিরক্ষা অবস্থান ছেড়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। তখন হঠাৎ করে তার একেবারে সামনে শত্রু পাকিস্তানি সেনারা দৃশ্যমান হয়। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি। মুক্তিযোদ্ধা সেখানে মাত্র ৩৫ জন। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনা কমপক্ষে ১০০ জন। হারুন আহমেদ চৌধুরী বিচলিত হলেন না। সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে থাকলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ পারলেন না। পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া একটি গুলি এসে লাগল তার পেটে। সেতুর ওপর তিনি লুটিয়ে পড়েন। হারুন আহমেদ চৌধুরী সৌভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যান। <ref>{{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম= একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (দ্বিতীয় খন্ড)|শেষাংশ= |প্রথমাংশ= |লেখক-সংযোগ= |coauthors= |বছর=মার্চ ২০১৩ |প্রকাশক= প্রথমা প্রকাশন |অবস্থান= |আইএসবিএন= 9789849025375|পাতা= ৬৬|পাতাসমূহ= |সংগ্রহের-তারিখ= |ইউআরএল=}}</ref>