"বৌদ্ধ ধ্যান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

→‎ধ্যানের স্তর: সংশোধন, বানান সংশোধন
(→‎ধ্যানের স্তর: সংশোধন, বানান সংশোধন)
ধ্যান বা ভাবনা করার সময় ধ্যানী বিভিন্ন স্তরে অবতীর্ণ হয়ে থাকেন যাকে ধ্যানের শ্রেণীও বলা হয়ে থাকে। এই স্তর বা শ্রেণী সমূহকে ১০ ভাগে বিভক্ত, যা প্রথম থেকে দশম ধ্যান পর্যন্ত বিস্তৃত।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* প্রথম ধ্যানঃধ্যান: জাগতিক ভোগ বিলাস থেকে সরে এসে সাধক যখন কোন বিষয় বা নিমিত্ত বা ধ্যেয়কে অবলম্বন করে ধ্যান বা ভাবনা করে, তখন তার প্রথম ধাপে বা স্তরে পঞ্চনিবারণ (কামচ্ছন্দ/ভোগ, ব্যাপদ/ক্রোধ, স্ত্যানমিদ্ধ/আলস্য, ঔদ্বত্য/অস্থিরতা, বিচিকিচ্ছা/সন্দেহ) লোপ পায়। যার কারণে ধ্যানীর বিতর্ক, বিচার, প্রীতি, সুখ ও একাগ্রতা লাভ হয়। এটিই ধ্যানের প্রথম স্তর, যা পঞ্চাঙ্গ সংযুক্ত রূপাবচর ধ্যান।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* দ্বিতীয় স্তরঃস্তর: ধ্যানী, ধ্যানের প্রথম স্তরের সুখে আবিষ্ট না হয়ে যখন আরও উচ্চতর ধ্যানের জন্য সাধনা করতে থাকে, তখন পঞ্চাঙ্গ সংযুক্ত রূপাবচর ধ্যান থেকে প্রথম অঙ্গ, বিতর্ক অংশটি প্রয়োজনহীন অনুভব করেন এবং সেটা ছাড়াই ধ্যান চর্চা চালিয়ে যান। এই স্তরে তার মন আরও হালকা, তৎপর ও তীক্ষ হয়ে উঠে।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* তৃতীয় স্তরঃস্তর: ধ্যানী যখন আরও উচ্চতর ধ্যানের জন্য সাধনা করতে থাকে, তখন পঞ্চাঙ্গ সংযুক্ত রূপাবচর ধ্যান থেকে বিচার অংশটিও প্রয়োজনহীন অনুভব করেন এবং সেটা ছড়াই ধ্যান চর্চা চালিয়ে যান। এই স্তরে তার মন আরও হালকা, তৎপর ও তীক্ষ হয়ে উঠে এবং ঋদ্ধি ক্ষমতা অর্জন করেন।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* চতুর্থ স্তরঃস্তর: ধ্যানী যখন আরও উচ্চতর ধ্যানের জন্য সাধনা করতে থাকে, তখন পঞ্চাঙ্গ সংযুক্ত রূপাবচর ধ্যান থেকে প্রীতি অংশটিও প্রয়োজনহীন অনুভব করেন এবং সেটা ছড়াই ধ্যান চর্চা চালিয়ে যান। এই স্তরে তার মন সুখ ও একাগ্রতা অনুভব করে।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* পঞ্চম স্তরঃস্তর: ধ্যানী যখন আরও উচ্চতর ধ্যানের জন্য সাধনা করতে থাকে, তখন পঞ্চাঙ্গ সংযুক্ত রূপাবচর ধ্যান থেকে সুখ অংশটিও প্রয়োজনহীন অনুভব করেন এবং সেটা ছড়াই ধ্যান চর্চা চালিয়ে যান। এই স্তরে তার ধ্যানে চরম একাগ্রতা আসে। ধ্যানীর মনে রূপ জাতীয় কোন কিছুই আর উদয় হয়না, যার জন্য একে অরূপধ্যানও বলা হয়। অনেকে একে নির্বাণ ভেবে ভুল করে। এই স্তরও লৌকিক ধ্যান বলে গণ্য হয়।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* ষষ্ঠ স্তরঃস্তর: এই স্তরে অসীম আকাশকে অবলম্বন করে ধ্যান করা হয়ে থাকে। তাই একে ষষ্ঠ সমাপত্তি ধ্যান ছাড়াও আকাশ অনন্ত আয়তন ধ্যানও বলা হয়ে থাকে।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* সপ্তম স্তরঃস্তর: ধ্যানের সপ্তম স্তরে এসে ধ্যানী অনন্ত বিজ্ঞান আয়তনকে অবলম্বন করে ধ্যান বা ভাবনা করতে থাকেন যাকে বিজ্ঞান আয়তন ধ্যানও বলা হয়ে থাকে।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* অষ্টম স্তরঃস্তর: আকাশ অনন্ত আয়তন ধ্যান ও বিজ্ঞান অনন্ত আয়তন ধ্যান করে ধ্যানী শূণ্যতা ও একাকীত্বতা উপলব্ধি করেন। একে আকিঞ্চন আয়তন ধ্যানও বলা হয়ে থাকে। {{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* নবম স্তরঃস্তর: এই স্তরে, ধ্যানের মধ্যে একেবারে সুক্ষাতিসূক্ষ্ম সংজ্ঞাগুলোই বিদ্যমান থাকে। ধ্যানের এই স্তর হল লোকায়ত স্তরের সর্বশেষ স্তর।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
* দশম স্তরঃস্তর: এই স্তরের ধ্যান হল লোকত্তোর ধ্যান। এখানে চিত্তের সংজ্ঞা ছাড়া বাকি সব কিছুই (বেদনা, সঙ্গাকার ও বিজ্ঞান) প্রশমিত হয়। [[গৌতম বুদ্ধ]] এর আবিষ্কারক। এই স্তরে ধ্যানী নির্বাণ লাভ করে বলে একে নৈর্বাণিক ধ্যানও বলা হয়ে থাকে।{{sfnp|বড়ুয়া|২০১৪}}
 
= ধ্যানের প্রকারভেদ =
৮৬৭টি

সম্পাদনা