"বৌদ্ধ ধ্যান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

→‎দশ অনুস্মৃতি ধ্যান: সম্প্রসারণ, তথ্যসূত্র যোগ/সংশোধন
(→‎দশ অশুভ ধ্যান: সম্প্রসারণ)
(→‎দশ অনুস্মৃতি ধ্যান: সম্প্রসারণ, তথ্যসূত্র যোগ/সংশোধন)
মৃত্যুর পর মানব দেহে পরিবর্তন ঘটে এবং এই পরিবর্তনকে নিমিত্ত করে ধ্যানকেই দশ অশুভ ধ্যান বলা হয়। প্রথমত বর্ণ, অর্থাৎ মৃতদেহটি কোন বর্ণের, কালো, সাদা, হলুদাভ ইত্যাদি সম্পর্কে ভাবনা। দ্বিতীয়টি হল মৃতদেহটি কোন লিঙ্গের এবং বয়সের সে বিষয়কে নিমিত্ত করে ভাবনা। তৃতীয়টি হলও সংস্থান, অর্থাৎ এটা মৃতদেহের মস্তক, গ্রীবা, হাত, পা, উদর ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। চতুর্থটি হল দিশা, অর্থাৎ দেহের ডান-বাম, উপর-নীচ ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। পঞ্চমটি হল অবকাশ, অর্থাৎ এখানে হাত আছে, পা আছে, মাথা আছে ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। ষষ্ঠ হল পরিচ্ছেদ, অর্থাৎ মাথা চুল দিয়ে আচ্ছন্ন, দেহ ত্বক দিয়ে আচ্ছন্ন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। সপ্তম হল সন্ধি, অর্থাৎ দেহে আট হাজার সন্ধি (জয়েন্ট) আছে, যেমন আঙ্গুলের সন্ধি, হাতের সন্ধি ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। অষ্টম হল দেহস্থ বিবর বা ছিদ্র, যেমন কান, নাক ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। নবম হল নিম্ন, অর্থাৎ দেহে মুখ গহ্বর, গলনালী ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। দশম হল স্থল, অর্থাৎ দেহের যে জায়গাগুলো উঁচু হয়ে থাকে যেমন কপাল, নাক ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে ভাবনা। পরিশেষে সমস্ত, অর্থাৎ সমস্ত মৃতদেহকে এক ভেবে ভাবনা করা।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
=== দশ অনুস্মৃতি ধ্যান ===
অনুস্মৃতি বলতে এক মনে কোন কিছু বার বার স্মরণ করা। বৌদ্ধ ধর্মে ১০ প্রকার অনুস্মৃতির বিবরণ পাওয়া যায়:
 
১) বুদ্ধানুস্মৃতি: গৌতম বুদ্ধের নয় গুণকে স্মরণ করে ধ্যান করাই বুদ্ধানুস্মৃতি ধ্যান, যে গুণ গুলো হলঃ অরহত, সম্যক সম্বুদ্ধ, বিদ্যাচরণ সম্পন্ন, সুগত, লোকবিদ, অতুলনীয় ও শ্রেষ্ঠ সারথি, দেব-মানুষের শিক্ষক/শাস্তা, জ্ঞানী, এবং ভগবান।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
২) ধর্মানুস্মৃতি: ধর্মের ছয় গুণকে স্মরণ করে ধ্যান করাই ধর্ম্নুস্মৃতি ধ্যান, যে গুণ গুলো হলঃ ধর্ম সুব্যাখ্যাত, স্বয়ং দৃষ্ট, কালাকাল হীন, "এসো ও দেখো" বলার যোগ্য, নির্বাণগামী ও বিজ্ঞব্যক্তি দ্বারা প্রত্যবেক্ষণযোগ্য।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৩) সঙ্ঘানুস্মৃতি: সঙ্ঘকে স্মরণ করে ধ্যান করাই সঙ্ঘানুস্মৃতি ধ্যান। সঙ্ঘের ৯ গুণ হলঃ সুপ্রতিপন্ন, ঋজুপ্রতিপন্ন, ন্যায়প্রতিপন্ন, আহবানযোগ্য, সতকারযোগ্য, দক্ষিণারযোগ্য, অঞ্জলিযোগ্য, অনুত্তর পূর্ণ ক্ষেত্র।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৪) শীলানুস্মৃতি: শীলের সদাচার অনুসরণ করে ধ্যানই হল শীলানুস্মৃতি। বৌদ্ধ ধর্মে পঞ্চশীল, অষ্টশীল সহ যেকোন শীলকে কেন্দ্র করেই এই ধ্যান করা যায়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৫) ত্যাগানুস্মৃতি: ত্যাগ বা দানকে অনুসরণ করে ধ্যান বা ভাবনাকেই ত্যাগানুস্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৬) দেবতানুস্মৃতি: দেবতাদের গুণানুস্মরণে করা ধ্যান বা ভাবনাকেই দেবতানুস্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৭) উপশমানুস্মৃতি: নির্বাণের সুখ বা সকল দুঃখের উপশমকে চিন্তা করে যে ধ্যান করা হয় বা ভাবনা করা হয়, তাকেই উপশমানুস্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৮) মরণানুস্মৃতি: মরণ বা মৃত্যুকে উপশমকে চিন্তা করে যে ধ্যান করা হয় বা ভাবনা করা হয়, তাকেই মরণানুস্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
৯) কায়াগতানুস্মৃতি: দেহের বত্রিশ প্রকারের অশুচি ( কেশ, লোম, নখ, দাঁত, ত্বক, মাংস, স্নায়ু, অস্থি, মজ্জা, মস্তিষ্ক, হৃদয়, ক্লোম, ফুসফুস, প্লিহা, যকৃৎ, অন্ত্র, বৃহদান্ত্র, বৃক্ক, বিষ্ঠা, অশ্রু,সিকনি, থুথু, শ্লেমা, পিত্ত, মূত্র, পুঁজ, স্বেদ, মেদ, লাসিক ইত্যাদি) কেন্দ্র করে যে ধ্যান করা হয় তাকেই কায়াগতানুস্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
১০) আনাপানা স্মৃতি: শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করে যে ধ্যান করা হয়, তাকেই আনাপানা স্মৃতি বলা হয়।{{sfnp|বুদ্ধঘোষ|৫ম শতাব্দী}}
 
=== চার অপ্রমেয় ধ্যান বা ব্রহ্মবিহার ধ্যান ===
৮৬৭টি

সম্পাদনা