"রাসবিহারী বসু" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
'''রাসবিহারী বসু''' ([[মে ২৫]], ১৮৮৬–[[জানুয়ারি ২১]], ১৯৪৫) ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন বিপ্লবী নেতা এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক।
তিনি ভারতের বাইরে [[সিঙ্গাপুর|সিঙ্গাপুরে]] [[আজাদ হিন্দ ফৌজ]] গঠন করেন |রাসবিহারী বসু [[নেতাজির]] হাতে তুলে দেন ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর ভার৷ দিল্লিতে [[গভর্নর জেনারেল]] ও ভাইসরয় [[লর্ড হার্ডিঞ্জ|লর্ড হার্ডিঞ্জের]] ওপর এক বোমা হামলায় নেতৃত্ব দানের কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। তিনি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়াতে সক্ষম হন এবং ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানে পালিয়ে যান।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=রাসবিহারী বোস: ইতিহাসে উপেক্ষিত বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী |ইউআরএল=https://bengali.indianexpress.com/feature/independence-day-rashbehari-bose-bengali-revolutionary-131491/# |ওয়েবসাইট=Indian Express Bangla |সংগ্রহের-তারিখ=৩০ জুলাই ২০২০ |তারিখ=১৫ আগস্ট ২০১৯}}</ref>
 
==জন্ম, বংশ-পরিচয় ও পরিবার==
রাসবিহারী বসু ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ শে মে জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ প্রচলিত মতানুযায়ী তিনি অধুনা [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গের]] [[পূর্ব বর্ধমান জেলা]]য় অবস্থিত তাঁর পৈতৃক গ্রাম সুবলদহে জন্মগ্রহণ করেন৷<ref name="Bose"/><ref name="samasd486/> অপর মতানুযায়ী, তিনি অধুনা [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গের]] [[হুগলি জেলা]]র [[ভদ্রেশ্বর|ভদ্রেশ্বরের]] সন্নিকটস্থ পাড়েলা-বিঘাটি গ্রামে তাঁর মাতামহ নবীন চন্দ্র সিংহের<ref>{{Cite book |last=বসু|first=শ্রীবিজনবিহারী|title=কর্ম্মবীর রাসবিহারী|date=১৯৫৯|publisher=শ্রীমতি ইলা বসু|page=৫৬|quote=''বিনোদবিহারীর প্রথম শ্বশুরালয় ছিল সিঙ্গুরের নিকটবর্তী পাড়েলা গ্রাম৷ নবীন চন্দ্র সিংহ মহাশয় ছিলেন তাহার শ্বশুর ও রাসবিহারীর মাতামহ৷''}}</ref> বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন৷{{refn|group=টীকা|It is mentioned in a footnote in Uma Mukherjee's book "Two Great Indian Revolutionaries", ''Rash Behari's own sister Sushila Devi, at present aged about seventy-eight, has recently informed the present writer when she met her at Benares that both her elder brother and herself were born in their maternal uncle's house at the village of Parala-Bighati in the Hooghly district. This view fits in also with the findings of Sri Harihar Sett of Chandernagore.''<ref name="Bosu"/>}} তাঁর পিতা বিনোদবিহারী বসু এবং তাঁর মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনকড়ি দাসী ছিলেন তার ধাত্রী মাতা৷ তাঁর পিতামহের নাম ছিল কালীচরণ বসু৷
 
এই বসু পরিবারের আদিবাস ছিল অধুনা [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গের]] [[হুগলি জেলা]]র [[বৈঁচী]]তে৷<ref name="rb"/> পরবর্তীকালে এই পরিবার বৈঁচী থেকে প্রথমে হুগলি জেলারই [[সিঙ্গুর]]ে এবং পরবর্তীকালে [[পূর্ব বর্ধমান জেলা]]র সুবলদহে চলে আসে৷ তাঁদের পূর্বপুরুষ নিধিরাম বসুই সর্বপ্রথম সুবলদহে বাস করেন৷<ref name="rb">{{Cite book |last=বসু|first=শ্রীবিজনবিহারী|title=কর্ম্মবীর রাসবিহারী|date=১৯৫৯|publisher=শ্রীমতি ইলা বসু|page=৫০|quote=''এই বসুবংশ প্রথমে বৈঁচীতে, পরে সিঙ্গুরে ও তারপরে সুবলদহে সরিয়া আসেন৷..নিধিরাম বসু সর্ব্বপ্রথম এই গ্রামে বাস করেন বলিয়া শুনিয়াছি৷''}}</ref>
 
জাপানে অবস্থানকালে রাসবিহারী বসু জাপানি সোমা পরিবারের কন্যা তোষিকো সোমাকে বিবাহ করেন৷ তাঁদের দুই সন্তানের নাম হল তেতেকো বসু ও মাসাহিদে বসু (ভারতচন্দ্র)৷
 
== প্রাথমিক জীবন ==
রাসবিহারী বসুরবসুকে জন্ম বর্তমান পূর্ব বর্ধমান জেলার সুবলদহ গ্রামে। পিতা বিনোদবিহারী বসু। তার মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনকড়ি দাসী ছিলেন তার ধাত্রী মাত্রা। রাসবিহারীতাঁর নামটি দিয়েছিলেন রাসবিহারী বসুর দাদুপিতামহ কালীচরণ বসু। রাসবীহারী বসুর মা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন তার কঠিন অসুখ হয়েছিল। তাই সুবলদহ গ্রামের পশ্চিম পাড়াতে অবস্থিত বিষ্ণুমন্দির বা কৃষ্ণ মন্দিরে মানত করা হয়েছিল যাতে সুস্থভাবে সন্তানের জন্ম দেন, তাই পরবর্তীকালে তার নাতির নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণের অপর নাম রাসবিহারী। রাসবিহারী বসু এবং সুশীলা সরকারের শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছিল সুবলদহ গ্রামে। তারা সুবলদহ গ্রামে বিধুমুখী দিদিমণির ঘরে বসবাস করতেন। বিধুমুখী ছিলেন একজন বাল্যবিধবা, তিনি ছিলেন কালিচরণ বসুর ভ্রাতৃবধূ। রাসবিহারী বসুর শৈশবের পড়াশোনা সুবলদহের গ্রাম্য পাঠশালায় (বর্তমানে সুবলদহ রাসবিহারী বসু প্রাথমিক বিদ্যালয়) দাদুর সহচর্যে সম্পন্ন হয়েছিল। রাসবিহারী বসু শৈশবে লাঠিখেলা শিখেছিলেন সুবলদহ গ্রামের শুরিপুকুর ডাঙায়। তিনি সুবলদহ গ্রামে তাঁর দাদু কালিচরণ বসু এবং তার শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গল্প শুনে তার বিপ্লবী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রামবাসীদের নয়নের মণি। শোনা যায় যে, তিনি ইংরেজদের মূর্তি তৈরি করতেন এবং লাঠি খেলার কৌশলে সেই মূর্তিগুলোকে ভেঙে ফেলতেন। তিনি ডাংগুলি খেলতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি শৈশবে সুবলদহ গ্রামে ১২ থেকে ১৪ বছর ছিলেন, এছাড়াও তিনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে সুবলদহ গ্রামে এসে গা-ঢাকা দিতেন। পিতা বিনোদবিহারী বসুর কর্মক্ষেত্র ছিল হিমাচল প্রদেশের শিমলা। তিনি সুবলদহ পাঠশালা, মর্টন স্কুল ও ডুপ্লে কলেজের ছাত্র ছিলেন। জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং [[আলীপুর বোমা মামলা|আলিপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায়]] ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে অভিযুক্ত হন। পর তিনি [[দেরাদুনে]] যান এবং সেখানে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেড ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। তার অন্যতম কৃতিত্ব বড়লাট হার্ডিঞ্জের ওপর প্রাণঘাতী হামলা। বিপ্লবী কিশোর [[বসন্ত বিশ্বাস]] তাঁর নির্দেশে ও পরিকল্পনায় দিল্লিতে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বোমা ছোড়েন হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে। এই ঘটনায় পুলিশ তাঁকে কখোনোই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ভারতজোড়া সশস্ত্র সেনা ও গণ অভ্যুত্থানের বিরাট প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন রাসবিহারী। বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে সেই কর্মকান্ড ফাঁস হয়ে যায়। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্ট থাকায় সরকারের সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বন্যা বিধ্বস্ত সুবলদহ গ্রামে আসেন এবং ত্রাণ বিলি করেন।<ref name="সংসদ">সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, ''সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান'', প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৬৭১-৬৭২, {{আইএসবিএন|978-81-7955-135-6}}</ref> ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ১২ মে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে জাপানি জাহাজ 'সানুকি-মারু' সহযোগে তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। তার আগে নিজেই পাসপোর্ট অফিস থেকে রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় রাজা প্রিয়নাথ ঠাকুর ছদ্মনামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
 
== বিপ্লবী জীবন ==
৩৩৬টি

সম্পাদনা