"ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাস" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভূ-রাজনৈতিক সত্তা, যা ইউরোপ মহাদেশের একটি বড় অংশজুড়ে বিস্তৃত। অনেকগুলো চুক্তির উপর ভিত্তি করে এর প্রতিষ্ঠা। অনেক রাষ্ট্র যেরকম ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছে, তেমনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদাও হয়ে গেছে। এরকম সম্প্রসারণ ও সংকোচনের ধারায় প্রতিষ্ঠাকালীন ৬টি দেশ থেকে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭-এ।
 
ফেডারেশন, কনফেডারেশন এবং ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[উইনস্টন চার্চিল]] প্রস্তাবিত "ইউরোপীয় যুক্তরাষ্ট্রের" মতো শুল্ক ইউনিয়ন গঠনের মত উদ্দেশ্য ইইউ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র গঠনের আশাবাদই ইইউ বিনির্মাণের পথ সুপ্রশস্ত করে। ১৯৫০ সালে রবার্ট শুম্যান প্রদত্ত শুম্যান ঘোষণাপত্র এবং ১৯৫১ সালের ইউরোপীয় ঘোষণাপত্র অনুযায়ী এই বহুজাতিক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেমন যুদ্ধকে "অসম্ভব" ও "অভাবিত"করে তুলবে, তেমনি সদস্য দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে ভূমিকা রাখবে।<ref>http://www.schuman.info/9May1950.htm</ref> ইউরোপীয় অঙ্গার (কয়লা) এবং ইস্পাত সংগঠন (১৯৫১), প্যারিস চুক্তি (১৯৫১), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালনকারী রোম চুক্তি (১৯৫৮),ইউরোপীয় পারমাণবিক শক্তি সংগঠন সহ অনেক উদ্যোগ এই ধারণাকেই বিধৃত করে।
 
১৯৯২ সালের মাসট্রিক্ট চুক্তির ফলে " পিলারস সিস্টেম " বা স্তম্ভব্যবস্থা সমন্বিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়। ইউরোপীয় সংঘের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো এই স্তম্ভব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়। এর হাত ধরেই ১৯৯৯ সালে ইউরোপজুড়ে ইউরো নামের একটি সাধারণ মুদ্রা প্রবর্তিত হয়। মাসট্রিক্ট চুক্তি অ্যামস্টারডাম (১৯৯৭),নিস (২০০১) এবং লিসবন (২০০৭) চুক্তির মাধ্যমে সংশোধিত হয়।
 
১৮১৮ সালের আই-লা-শাপেল সম্মেলনে জার আলেক্সান্ডার সর্বপ্রথম একটি স্থায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী গঠনের কথা বলেন, যা যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করবে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=A history of the Modern World|শেষাংশ=Palmer|প্রথমাংশ=R.R.}}</ref>
 
 
প্যান-ইউরোপা আন্দোলন যুদ্ধকালীন সময়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে ।
১৯৪৬ সালে চার্চিল ইউরোপীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের আহবান জানালে ইউরোপীয় ঐক্যের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে ১৯৪৯ সালে কাউন্সিল অব ইউরোপ নামে একটি আন্তঃইউরোপীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫০ সালে ফ্রেঞ্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট শুম্যান ইউরোপের কয়লা এবং ইস্পাত শিল্পগুলোকে একীভূত করে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। <ref>http://www.ena.lu/?lang=2&doc=6584</ref>
 
শুম্যানের ঘোষণার ভিত্তিতে ফ্রান্স, ইতালি ও বেনেলুক্স (বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ) দেশগুলো ১৯৫১ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষর করে। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয় "ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সংগঠন"। এই সংগঠনের উচ্চ পরিষদ পরবর্তীতে ইউরোপীয় কমিশন এবং সাধারণ পরিষদ ইউরোপীয় সংসদে রূপ নেয়।<ref>http://digicoll.library.wisc.edu/cgi-bin/History/History-idx?type=article&did=HISTORY.0057.0400.0023&isize=M</ref>
 
[[মার্শাল পরিকল্পনা]]-ও এই সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে। আমেরিকান পররাষ্ট্রসচিব জর্জ সি মার্শালের এ পরিকল্পনা বর্তমানের বাজারমূল্যে ইউরোপ পুনর্গঠনে ১০০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য করে, যা ইস্পাত এবং কয়লা সংগঠন প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করে।<ref>https://www.rferl.org/a/1084818.html</ref>
১৯৭৯ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ইউরোপীয় সংসদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউরোপীয় সংসদের প্রথম মহিলা সভাপতি সিমোন ভ্যালিসহ ৪১০ জন সাংসদ নির্বাচিত হন।<ref>http://www.cvce.eu/obj/the_new_european_parliament-en-e40aba1b-45f1-43bf-bbd1-a34bb52f15db.html</ref>
 
সংগঠনে গ্রিস ১৯৮১ সালে এবং স্পেন ও পর্তুগাল ১৯৮৬ সালে যোগদান করে। তবে ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন লাভের পর ১৯৮২ সালে গ্রিনল্যান্ড সংগঠন ছেড়ে চলে যায়। <ref>http://www.cvce.eu/obj/negotiations_for_enlargement-en-19a4fd81-119d-4090-bfac-c7cc8ae64a20.html</ref>
 
১৯৮৬ সালে জ্যাক ডেলোর কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হলে ইউরোপীয় পতাকা গৃহীত হয়। এছাড়াও "একীভূত ইউরোপ আইন" ইউরোপীয় সংসদে পাস হয়, যা ১৯৮৭ সালে কার্যকর হয়। এই আইনের ফলে একীভূত ইউরোপ বাজারের সূচনা হয়।<ref>http://www.cvce.eu/obj/the_provisions_of_the_single_european_act-en-243555aa-d219-4525-9978-34325bb5e17a.html</ref>
১৯৯৩ সালের ১লা নভেম্বর মাসট্রিক্ট চুক্তি কার্যকর হয়।<ref>http://europa.eu/abc/history/1990-1999/1993/index_en.htm</ref> ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে বামপন্থীরা সংসদে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। নির্বাচনের পরে ইউরোপীয় কাউন্সিল জ্যাক সাঁতেরকে কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করেন । সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি ইউরোপীয় সংসদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন পান।<ref>http://www.cvce.eu/obj/the_crisis_of_the_santer_commission-en-7380f95b-1fb2-484d-a262-d870a0d5d74d.html</ref>
 
১৯৯৪ সালে [[অস্ট্রিয়া]], [[ফিনল্যান্ড]] ও [[সুইডেন|সুইডেনের]] সাথে সদস্যপদ-লাভ সম্পর্কিত আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটে। ইতোমধ্যে [[নরওয়ে]],[[আইসল্যান্ড]] এবং [[লিখচেনস্টাইন]] ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকায় যোগদান করে। ১৯৯৬ সালের ভেতরে সকল সদস্যদেশে শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৯৯ সালে ইউরোপীয় মুদ্রার প্রবর্তন ইউরোপে আর্থিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করে।
 
১৯৯০ সালে বলকান অঞ্চলে সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ইইউ "সাধারণ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি" প্রণয়ন করে। কিন্তু বলকান অঞ্চলে সহিংসতা প্রতিরোধে এটি ব্যর্থ হয়। আমস্টারডাম চুক্তিতে এ বিষয়টির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। <ref>http://www.ena.lu/?lang=2&doc=18928</ref>
১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় সংসদ অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে বাজেট পাস করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিণামে সম্পূর্ণ সাঁতের কমিশন পদত্যাগ করে।<ref>http://aei.pitt.edu/2919/01/156.pdf</ref>
 
পরবর্তী নির্বাচনে বামপন্থী দল পিপলস পার্টির কাছে তাদের বহু বছরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। নবনির্বাচিত প্রডি কমিশন প্রতারণা দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।<ref>https://web.archive.org/web/20060619223954/http://www.politics.co.uk/issue-briefs/europe/eu-budget/eu-budget-fraud/eu-budget-fraud-%24366701.htm</ref> ২০০৪ সালে আরো দশটি রাষ্ট্রকে সদস্য হিসেবে কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবে নিস চুক্তি ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০০৩ সালে কার্যকর হয়।
 
==২০০৪-বর্তমান==
২০১৩ সালে [[ক্রোয়েশিয়া]] এবং ২০১৪ সালে [[মায়োতে]] ইইউ-তে যোগদান করে।<ref>http://eur-lex.europa.eu/LexUriServ/LexUriServ.do?uri=OJ:L:2012:204:0131:0131:EN:PDF</ref>
 
২০১৬ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করে, যা [[ব্রেক্সিট]] নামে পরিচিত।<ref>https://www.bbc.com/news/live/uk-politics-36570120</ref> ২০২০ সালে ব্রেক্সিট কার্যকর হয়।
 
==তথ্যসূত্র==
{{সূত্র তালিকা|২}}
 
[[Categoryবিষয়শ্রেণী:ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]
[[Categoryবিষয়শ্রেণী:ইউরোপের ইতিহাস]]
১,৭৮,৫৭৪টি

সম্পাদনা