বড়াইগ্রাম উপজেলা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(→‎সংষ্কৃতি: বানান ঠিক করা হয়েছে)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল অ্যাপ সম্পাদনা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
 
==সংস্কৃতি==
নাটোরের লোকজ সংস্কৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্য অফুরন্ত। যে কোনো প্রাচীন জনপদ সচরাচর লোকসংস্কৃতিতে ধনী হয়ে থাকে। নাটোর জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।নাটোরেরনয়। নাটোরের শহরাঞ্চলের ক্ষুদ্র গন্ডী পেরিয়ে গেলেই পাওয়া যায় লোকজ সংস্কৃতির বেগবান ধারার খোঁজ। অন্যদিকে আছে লোকজ বা গ্রাম্য ধাঁধা যাকে নাটোরের কোনো কোনো অঞ্চলে ‘মান’ বলা হয়।সাধারণ পল্লীবাসী মানুষকে মোটাবুদ্ধির বলে অবজ্ঞা করার যে স্বভাব আমাদের শহুরে পন্ডিতদের মধ্যে দৃশ্যমান, তার প্রকৃষ্ট প্রতিবাদ হচ্ছে পল্লীবাসী সাধারণ মানুষ কর্তৃক ধাঁধার সৃষ্টি। কোনো জিনিসকে বা বস্ত্তকে প্রত্যক্ষভাবে না বলে ধাঁধার মাধ্যমে প্রহেলিকা সৃষ্টি করে বলাটা একধরনের উচ্চাঙ্গের শিল্পসৃষ্টিও বটে। নাটোর জেলার ধাঁধাসমূহ শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়দেরও বিমল আনন্দের সামগ্রী।মানুষের, বিশেষত শিশু-কিশোরদের বুদ্ধিবৃত্তির প্রখরতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান অনুশীলনের প্রকৃষ্ট পন্থা। গ্রামাঞ্চলের মুরুবিবরা সন্ধ্যায় সারাদিনের কর্মক্লান্ত দেহ এলিয়ে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে দাওয়ায় বা উঠোনে সপ-পাটি-মাদুর বিছিয়ে শুয়ে-বসে ধাঁধা বা মান ভান্ডারের আসর বসান। যে বা যারাই এই ধাঁধাগুলির সৃষ্টি করুক না কেন, তাদের মেধা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের কথা ভাবলে মাথাটা শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে। চকিত বুদ্ধির ঝিলিক, পরস্পর সম্পৃক্ত বস্ত্তগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক আর তীব্র কৌতূকের ঝলকানির সমন্বয় দেখা যায় এই ধাঁধাগুলিতে।
 
ধাঁধার পাশাপাশি নাটোর জেলার সর্বত্র লোকে মুখে মুখে অসংখ্য প্রবাদ-প্রবচন আউড়ে থাকে। এই প্রবাদ-প্রবচনে কৃষি, আবহাওয়া, সমাজতত্ত্ব, সামাজিক অবস্থাসহ জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার সারাৎসার উৎসারিত হয়েছে। সরদার আবদুল হামিদ লিখেছেন- ‘প্রবাদ প্রবচন লোকসাহিত্যের মূল্যবান সামগ্রী। সরস ছন্দবহ ভাবব্যঞ্জক বাক্য বা বাক্যসমষ্টিই প্রবাদ। অনুভূতিপ্রবণ মানবমনের অভিজ্ঞতা হতে প্রবাদের জন্ম। প্রবাদকে খন্ড জ্ঞানভান্ডার বলা চলে। এক একটি প্রবাদবাক্য হীরার টুকরার ন্যায় দামী। সাগরের বুকে যেমন মণি-মুক্তা লুক্কায়িত থাকে, তেমনি মানবমনের গহীনে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত হয় প্রবাদরূপ রত্নরাজি। প্রবাদের মাধ্যমে আমরা পেয়ে থাকি চিরন্তন জ্ঞানের কথা, অজানা রহস্যের কথা, আনন্দঘন হাস্যরস ও কৌতুকের কথা যা মনকে সাময়িক আনন্দে উৎফুল্ল করে তোলে। তাই প্রবাদ বাক্য যেমন আনন্দের খোরাক, তেমনই এর উপদেশমালা চিন্তার খোরাকও বটে। দেখা যায়, পল্লীর প্রবীণ লোকেরা কথায় কথায় প্রবাদ আওড়ান। এগুলো যেন তাদের রক্তের সাথে মিশে আছে। প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনে তাদের মুখ দিয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বেরিয়ে আসে রাশি রাশি প্রবাদ বচন।স্থান-কাল-পাত্রভেদে কোথায় কোনটি প্রযোজ্য, অন্তর-ভান্ডার খুঁজে বের করতে তাদের আদৌ বেগ পেতে হয় না। (দ্রষ্টব্য: চলনবিলের লোকসাহিত্য। প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা।)<ref name="সংষ্কৃতি">[http://baraigram.natore.gov.bd/site/page/7e7f3ae4-1ab0-11e7-8120-286ed488c766/ভাষা%20ও%20সংষ্কৃতি সংষ্কৃতি]</ref>
১,৪৩৫টি

সম্পাদনা