"বাংলাদেশে ব্যাংকিং" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ইতোমধ্যে অর্থ-অগ্রাধিকার খাতের পরিবর্তনের ফলে প্রশাসন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়।কিন্তু এতদিনেও সঠিক ঋণগ্রহীতা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনের জন্য কোনো উপযুক্ত প্রকল্প-মূল্যায়ন পদ্ধতি গৃহিত হয় নি। ঋণগ্রহীতা ও প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন ছিলনা, প্রায়শই বিভিন্ন কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ লক্ষ করা যেত। কার্যত, ব্যাংকগুলো তখন নতুন করে ঋণ দেওয়া থেকেও প্রাপ্য বকেয়া আদায়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছিল কেননা বকেয়া সমস্যা দূর করার জন্য হিসাব সংরক্ষণ ও ঋণ সংগ্রহ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। ঋণখেলাপের ব্যাপারটি যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল কেননা ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধে ব্যার্থ হচ্ছিলো। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, কোনপ্রকার অর্থনৈতিক বিবেচনার ছাড়াই ব্যাংক ঋণ শুধুমাত্র সেইসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকটা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে, যারা কিনা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। ১৯৮৬ অর্থবছরে কৃষি ঋণের বকেয়া আদায়ের হার ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ, শিল্প ঋণের ক্ষেত্রে আরও খারাপ অবস্থা ছিল। এই দুরবস্থার ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ শৃঙ্খলা জোরদার করতে সরকার ও ব্যাংকগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধান ঋণদাতারা ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। যার ফলস্বরূপ, ১৯৮৭ সালের দিকে বকেয়া আদায়ের হার বাড়তে শুরু করে। ১৯৮৭ সালের শুরুর দিকে অর্থ, ঋণ ও ব্যাংকিং বিষয়ক জাতীয় কমিশন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়, যার অনেকগুলো নীতিই ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাথে [[আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল|আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের]] স্বাক্ষরিত তিন বছরের ক্ষতিপূরণমূলক অর্থায়ন সুবিধা নিয়ে তৈরি করা।
 
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এত অ-ব্যবস্থাপনায় মধেওমধ্যেও [[গ্রামীণ ব্যাংক]] ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম, যেটি ১৯৭৬ সালে সরকারী প্রকল্প হিসেবে এবং ১৯৮৩ স্বাধীন/স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। আশির দশকের শেষের দিকে ব্যাংকটি কোনো বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই হত-দরিদ্র মানুষদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যৌক্তিক শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া শুরু করে। এর গ্রাহক ছিল মূলত ভূমিহীন মানুষেরা যারা বাসস্থানসহ অন্যান্য সব আর্থিক কার্যক্রমের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ নিত।ব্যাংকটিরনিত। ব্যাংকটির ৭০ শতাংশ ঋণগ্রহীতাই ছিল মহিলা, যারা কিনা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নজরে আসতো না। গ্রামীণ উদ্যোক্তারা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নলকূপ, রাইস মিলস্, ওয়েল মিলস্, তাঁতের কলের জন্য বিনিয়োগ এবং যৌথভাবে চাষ করার জন্য জমি ইজারার জন্য ঋণ নিতে পারতো। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের গড় ঋণদান ছিল ২০০০ টাকা (প্রায় ২৫ মার্কিন ডলার) এবং সর্বোচ্চ মাত্র ১৮ হাজার হাজার টাকা (টিনঘর তৈরীর জন্য)। গ্রামীণ আবাসনের জন্য ঋণ পরিশোধের শর্ত হিসেবে সুদহার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য সাধারণ ঋণের জন্য ৮.৫ শতাংশ। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রথম ১০ বছরে ২০০,০০০ ভূমিহীন মানুষকে সুদবিহীন ঋণ প্রদান করে। এর বেশিরভাগ গ্রাহকই পূর্বে কোনো ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সুবিধা পায় নি। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল আশ্চর্যজনকভাবে ঋণ পরিশোধের হার। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার দূরাবস্থার মধ্যেও গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ বকেয়া ছিল। ব্যাংকটির নিবিড় ঋণ তদারকির মূলে ছিল তাদের কিছু বিশেষায়িত ব্যবস্থা। যার সঠিক প্রয়োগই তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। এর সাফল্য যদিও তখনো ছোট পরিসরে ছিল তবে আশা করা হয়েছিল যে এটি ক্রমান্বয়ে বাড়বে এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। গ্রামীণ ব্যাংক দ্রুতই সম্প্রসারিত হতে লাগলো এবং আশির দশকের শেষ দিকে সারা দেশে এর শাখা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়।
 
১৯৮৫ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ বেসরকারী ঋণ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমানোর লক্ষ্যে একটি কঠোর [[মুদ্রানীতি]] জারি করে। অর্থ সরবরাহ ও মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অনেকটাই সফল হয়েছিল। ১৯৮৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। তদুপুরি বকেয়া ঋণ আদায়ের সমস্যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ছিল হুমকিসরূপ, যা ছিল সম্পদের অসম বণ্টন এবং কঠোর অর্থনৈতিক বৈষম্য জন্য দায়ী। এ অবস্থায় সরকার আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু এতে ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হয়ে পরে ফলে ব্যবসায়ী তথা উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন করে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ানোতে একধরনের নিরুৎসাহ চলে আসে।
 
১৯৮৬ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ) ছিল ৪৭৬ মিলিয়ন [[মার্কিন ডলার]], যা দুই মাসের আমদানি খরচ থেকেও বেশি। বিগত বছরের তুলনায় এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ বেশি, যা মূলত বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে হয়েছে।এরিমধ্যে দেশের আমদানি খরচ ১০ শতাংশ কমিয়ে ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে আসা হয়। ঐ সময়ে বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ হিসেবে নমনীয় ঋণ পাওয়ার জন্য বেসরকারি ঋণখেলাপীদের মাত্র ৬ শতাংশ সরকারি ঋণের জন্য দায়ী।১৯৮৬ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল বার্ষিক ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
 
== বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং ==
বাংলাদেশে ৮ টি ইসলামি ব্যাংক রয়েছে, ২টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং ইউনিট চালু রয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকটি ব্যাংকও তাদের সেবার পাশাপাশি ইসলামি ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। ২০১৭ এর হিসাব মতে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং এর মূলে রয়েছে [[ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড]],যারা কিনা বাংলাদেশী আমানতের ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহের মাঝে ২০১০ সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারি [[অগ্রণী ব্যাংক]] এবং ২০১০ এর ২৯শে জুন [[সোনালী ব্যাংক]] ইসলামী ব্যাংকিং ইউনিটের শাখা চালু করে। একটি হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ইসলামি ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করে। বাংলাদেশ সরকারের একটি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে গ্রহযোগ্যাতা/সমর্থন রয়েছে।