"আখড়াই গান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
অষ্টাদশ শতকে বাংলা গানের যে ধারাগুলি বিশেষ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আখড়াই গান। মনে করা হয় সেন রাজাদের আমলে নৃত্যগীত সহযোগে যে শাস্ত্রীয় গীতের প্রচলন ছিল তারই একটি শাখা 'আখড়াই' নামে পরিচিত হয়েছিল। অন্যমতে, 'গীতগোবিন্দে' উল্লিখিত 'প্রবন্ধম্' শৈলী নানা বিবর্তনে নাটগীতি থেকে আখড়াই গান এর রূপ নিয়েছে। আবুল ফজলের 'আইন ই আকবরী' থেকেও জানা যায় যে গায়ক বাদক ও নর্তক দের যৌথ সম্প্রদায় কে 'আখড়া' বলা হত। শাস্ত্রীয় তাল সমন্বিত প্রেমগীতিই পরিবেশন করতেন তাঁরা। এই আখড়াই সঙ্গীতই কালক্রমে স্বভাব কবিদের জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে 'কবির লড়াই' তথা কবিগানের জন্ম দিয়েছে।
 
কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত তার 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার ১২৬০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় লিখেছেন যে প্রায় দেড় শত বৎসর পূর্বে শান্তিপুরের ভদ্র সন্তানেরা আখড়াই গানের সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ আখড়াই প্রায় তিনশত বৎসরেরও বেশি পুরনো সঙ্গীত ধারা। অষ্টাদশ শতকে আখড়াই গানের দুটি শাখা ছিল- একটি খেউর, এবং অন্যটি প্রভাতী। খেউর ছিল অত্যন্ত অশ্লীল, প্রভাতীও সুশ্রাব্য ছিল না। মনে করা হয় গৌড়বঙ্গ উদ্ভূত হয়ে, শান্তিপুর-কৃষ্ণনগর অঞ্চলে অবস্থিতির পর অষ্টম শতকে চুঁচুড়া হয়ে আখড়াই গান কলকাতায় প্রবেশ করে। কলকাতায় প্রবেশ করার পর আখড়াই গানকে অনেকটা শালীন করে তোলা হয় এবং সেইসঙ্গে ভবানী বিষয়ক এক নতুন অংশ এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। আখড়াই গানের প্রতিযোগিতা হত,তবে কবির দলের মতো উত্তর প্রত্যুত্তর ছিল না। আখড়াই থেকে পরে হাফ-আখড়াই নামে আর এক শ্রেণীর গীতধারার উদ্ভব হয়।
 
আখড়াই গানে ঢোল, কাঁসি প্রভৃতি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো হতো। চুঁচুড়া অঞ্চলে ঢোল-কাঁসি থেকে হাঁড়ি-কলসি মিলিয়ে মোট বাইশ রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো। সেই জন্য সেখানকার দলের নাম হয়েছিল 'বাইশেরা'।