"জোড়হাট প্রভিন্সিয়াল রেলওয়ে" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
(→‎ইতিহাস: নতুন)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
 
== ইতিহাস ==
 
১৮৭৯ সালে ডব্লিউ. ডব্লিউ. হাণ্টারের 'A Statistical Account of Assam'তে জোড়হাট নগরের বাণিজ্যিক গুরুত্বর ওপরে এক আলোকপাত প্রকাশিত হয়। ১৮৬৫ সালে জোড়হাট নগরে ১৬০টি দোকান ছিল, তার ২৮টি মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীদের। তারা কার্পাস ও উলবস্ত্র, নুন, সর্ষের তেল, ধঁপাততামাক, গুড়, শুকনো মটর, মাটি, সোনা, প্রবাল, পিতলের বাসন-বর্তন, রন্ধন সরঞ্জাম, কাঁচের অলংকার ইত্যাদি [[কলকাতা|কলিকাতা]], সিরাজগঞ্জ ও [[গোয়ালপাড়া জেলা|গোয়ালপারা]] থেকে আমদানি করত এবং এর থেকে পাটের কাপড়, সর্ষের বীজ, ও হাতির দাঁত রপ্তানি করত। কয়েকজন মুসলমান লোক দ্বারা পরিচালিত দোকানে ইউরোপীয় বস্তু-দ্রব্যের বেচা-কেনাও চলত। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা সেরূপে উন্নত ছিল না। ইতিমধ্যে [[দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে]]র সংবাদ পেয়ে অভিভূত হয়ে চীফ কমিশনার স্টুয়ার্ট বেইলি (Steuart Bayley) ১৮৮২ সালে ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়াই জোড়হাটে একটি রেলপথ বাড়ানোর জন্য ১,১১,৩২০ টাকা অসমের প্রভিন্সিয়াল রেভিনিউ থেকে গ্রহণ করেন। তারজন্যে তাকে জবাবদিহি করতে হলেও [[ব্রিটিশ রাজ|ভারত সরকার]] প্রকল্পিপ্রকল্পটি অনুমোদন করে। কিন্তু বেইলির প্রকল্পটি যথেষ্ট যুগান্তকারী ছিল - ককিলামুখের সমীপবর্তী গোঁহাইগাঁও থেকে জোড়হাট নগর পর্যন্ত ৭ মাইল দৈর্ঘ্যের এক রেলপথ। অদূর ভবিষ্যতে ১৮৮৩ সালে রেলপথগুলি ককিলামুখ ঘাট পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে এটি সহায়ক হয়ে উঠেছিল। সেইবছর সেপ্টেম্বর মাসে [[দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে]]র মতই ২ ফুট গজের রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেহেতু প্রধান নগর ও ঘাটের মধ্যে চাপাতা ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী পরিবহনই এর লক্ষ্য ছিল। সামান্য মূলধনের সঙ্গে ২ ফুট গজ এক সঠিক সিদ্ধান্তই ছিল বলে মনে করা হয়। ডিব্রু-শদিয়া রেলপথের প্রতি মাইল নির্মাণ কার্যে ১.২ লাখ টাকা খরচ হওয়ার বিপরীতে ককিলামুখ ট্রামওয়ের প্রতি মাইল নির্মাণে ২৯,০০০ টাকা খরচ হয়েছিল।
 
ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে দেওয়া তথ্য অনুসারে, ককিলামুখ ট্রামওয়ের মুক্তিশুভমুক্তি হওয়ার তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৩। যদিও ১৮৯০-৯১ সংখ্যার ভারতীয় রেলওয়ে আধিকরণ প্রতিবেদন অনুসারে, এই রেলপথগুলি ১৮৮৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তারিখে মালবাহী যাতায়াতের কারণে ও যাত্রীবাহী পরিষেবার কারণে ১৮৮৫ সালের ১৭ অক্টোবর তারিখে মুক্তিমুক্ত হয়। কিন্তু সরকারী পুরানো নথিতে পাওয়া তথ্য অনুসারে রেলপথগুলি মুক্তিমুক্ত করা হয় ১৮৮৪ সালের ৯ ডিসেম্বরে।
 
অসমের এই দ্বিতীয় রেলপথগুলিই অতিশীঘ্রই এর কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করে। চাশিল্প অল্পকালেই এই নতুন রেলপরিষেবাটির উপযোগিতা অনুধাবন করে। ঘটনাক্রমে শীঘ্রই সমস্ত চা-বাগানকে সংযোগ করে রেলপথের সম্প্রসারণের এক সামগ্রিক দাবীও উত্থাপিত হয়। ৩,৯৬,৫০০ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ মূল রেলপথগুলিকে [[তিতাবর|তিতাবর পর্যন্ পর্যন্ত]] সম্প্রসারণ করার সঙ্গে এক শাখাপথ [[মরিয়নি]] পর্যন্ত সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাব ভারত সরকারের কাছে দাখিল করা হয়। প্রস্তাবটিতে একটি টিপ্পনীও যোগ দেওয়া হয়েছিল যে, এই সম্প্রসারণ অঞ্চলটিতে যোগান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার সঙ্গে প্লাবনভূমির আশে-পাশে পতিত মাটির কর্ষণে উদ্যোগ যোগাবে।
১৮৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাহে [[লর্ড রিপন]] এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেন কিন্তু এক শর্ত সংলগ্ন করে দেন যে, রেলপথগুলির নাম পূর্বের "ককিলামুখ ট্রামওয়ে" থেকে "ককিলামুখ স্টেট রেলওয়ে"তে পরিবর্তিত করা উচিত।
 
১৮৮৪ সালের নভেম্বেনভেম্বরে ধলী নদী পর্যন্ত রেলপথগুলির নির্মাণ সম্পূর্ণ হয় ও সেই বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে মালবাহী রেলের চলাচল আরম্ভ হয়। কিন্তু ১৮৮৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেলপথগুলি যাত্রীবাহী রেল চলাচলের উপযোগী হিসাবে গণ্য করা হয়নি, যদিও মালবাহী রেলের চলাচল তখন পর্যন্ত সুচারুরূপেই পরিচালিত হচ্ছিল।
 
ইতিমধ্যে ১৮৮৪ সালের ৯ ডিসেম্বরে গোঁহাইগাঁও ও জোড়হাটের মধ্যবর্তী রেলপথগুলির "ককিলামুখ স্টেট রেলওয়ে" হিসাবে পুনঃনামকরণ করা হয় ও অসমের চীফ কমিশনার স্যার সি. এ. এলিয়ট আনুষ্ঠানিকভাবে পথগুলির শুভমুক্তি ঘটান।
৪,২১৪টি

সম্পাদনা