"নওয়াব বাঈ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

নবাব বাঈ-এ করা পুনর্নির্দেশ সরানো হয়েছে
(Nettime Sujata নওয়াব বাঈ কে নবাব বাঈ শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন)
ট্যাগ: নতুন পুনর্নির্দেশনা
 
(নবাব বাঈ-এ করা পুনর্নির্দেশ সরানো হয়েছে)
ট্যাগ: পুনর্নির্দেশ সরানো হয়েছে
 
'''রহমত-উন-নিসা''' ( {{Lang-fa|رحمت النساء بیگم}} ) (মৃত্যু: {{circa}} ১৬৯১ খ্রিস্টাব্দ) তাঁর '''নবাব বাঈ''' নামে অধিক পরিচিত, তিনি মোগল সম্রাট [[আওরঙ্গজেব|আওরঙ্গজেবের]] দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। নবাব বাঈয়ের বংশপরিচয়ের পরস্পরবিরোধী বিবরণ রয়েছে, তবে তিনি হিন্দু ছিলেন এবং ১৬৩৮ সালে রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসাবে আওরঙ্গজেবকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি [[প্রথম বাহাদুর শাহ]] সহ আওরঙ্গজেবের প্রথম দুই পুত্রের জন্ম দেন, বাহাদুর শাহ ১৭০৭ সালে মোগল সম্রাট হয়েছিলেন। নবাব বাঈ মুঘল দরবারে অপ্রিয় ছিলেন এবং জীবনের প্রথম দিকেই তিনি স্বামীর অনুগ্রহ হারিয়েছিলেন এবং পরবর্তী জীবনে দুই ছেলে মুহাম্মদ সুলতান এবং মুহম্মদ মুয়াজ্জমের দুর্ব্যবহারের ফলে তাঁর জীবন তিক্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন স্বামী ও সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরে তিনি ১৬৯১ সালে দিল্লিতে মারা যান।
#পুনর্নির্দেশ [[নবাব বাঈ]]
 
== পরিবার এবং বংশ ==
নবাব বাইয়ের বংশপরিচয়ের দুটি বিতর্কিত বিবরণ রয়েছে। {{Sfn|Sarkar|1912}} একটি বিবরণ অনুসারে, তিনি [[কাশ্মীর|কাশ্মীরের]] [[রাজৌরি]] রাজ্যের রাজা রাজুর মেয়ে ছিলেন এবং জারাল বংশের লোক ছিলেন। {{Sfn|Manucci|1907}} {{Sfn|Irvine}}
 
তবে মোগল ইতিহাসবিদ কাফি খানের মতে তিনি ছিলেন [[আব্দুল কাদের জিলানী|আবদুল-কাদির গিলানির]] বংশধর সৈয়দ শাহ মীর নামে এক সাধু সন্তের কন্যা, যিনি রাজৌরীর পাহাড়ে অবসর জীবন যাপন করেছিলেন। রাজৌরীর রাজা এই পবিত্র ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করে, তাঁকে তাঁর কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সৈয়দ শাহ মীর মেনে নিয়ে বিভ করেছিলেন এবং তাঁরা এক পুত্র এবং এক কন্যার জন্ম হন। তারপর এই সাধু [[মক্কা|মক্কায়]] তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তাঁর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। {{Sfn|Sarkar|1912}} পরে [[শাহ জাহান]] যখন রাজার নিকট অর্থ {{Sfn|Irvine}} এবং তাঁর বাড়ির এক কন্যা দাবি করেছিলেন, তখন রাজা তাঁকে এই নাতনী নবাব বাঈকে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি তাঁর সৌন্দর্য, সহৃদয়তা এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য খ্যাতিযুক্ত ছিলেন। {{Sfn|Sarkar|1912}} আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে বাহাদুর শাহকে নিজেকে [[সৈয়দ]] বলার অধিকার দেওয়ার জন্য তাঁকে এই ভুয়া বংশধর দেওয়া হয়েছিল। {{Sfn|Sarkar|1912}} {{Sfn|Irvine}}
 
== বিবাহ ==
রাজকীয় হারেমে তাঁকে একাধিক শিক্ষক, শিক্ষয়িত্রী এবং দরবারের আদবকায়দায় দক্ষ ফার্সী মহিলারা ভাষা ও সংস্কৃতি শিখিয়েছিলেন, এবং ১৬৩৮ সালে তিনি আওরঙ্গজেবকে বিয়ে করেছিলেন {{Sfn|Sarkar|1912}} তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে উঠেন। বিয়ের পরে তাঁর নাম হয়েছিল রহমত-উন-নিসা। {{Sfn|Sarkar|1912}}
 
এক বছর পরে, তিনি আওরঙ্গজেবের প্রথম পুত্র নবাবজাদা মুহাম্মদ সুলতান মির্জার জন্ম দেন। তাঁর জন্ম [[মথুরা|মথুরায়]] ২৯ ডিসেম্বর ১৬৩৯ সালে। {{Sfn|Sarkar|1912}} পরবর্তী আট বছরে তিনি আরও দুটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তারা হলেন প্রিন্স মুহাম্মদ মুয়াজ্জাম মির্জা (ভবিষ্যত সম্রাট [[প্রথম বাহাদুর শাহ|বাহাদুর শাহ প্রথম]] ), এবং কুরআনের হাফেজ, রাজকন্যা [[বদর-উন-নেসা বেগম|বদর-উন-নিসা বেগম]] । {{Sfn|Sarkar|1912}}
 
যদিও তিনি আওরঙ্গজেবের প্রথম পুত্রকে জন্ম দিয়েছিলেন, তবুও তাঁর প্রথম স্ত্রী পার্সিয়ান রাজকন্যা দিলরাস বানু বেগম তাঁর প্রধান সহবাসী ছিলেন এবং তাঁর অধিকতর প্রিয়ও ছিলেন। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=A History of Gujarat: Mughal period, from 1573 to 1758|শেষাংশ=Commissariat|প্রথমাংশ=Mānekshāh Sorābshāh|বছর=1958|প্রকাশক=Longmans, Green & Company, Limited|পাতাসমূহ=151|আইএসবিএন=}}</ref>
 
=== আওরঙ্গজেবের রাজত্ব ===
তাঁর ছেলেরা, মুহাম্মদ সুলতান এবং মুহাম্মদ মুয়াজ্জামের দুর্ব্যবহার তাঁর পরবর্তী জীবনকে তিক্ত করেছিল। {{Sfn|Sarkar|1912}} ১৬৯৯ সালে পর পরের যুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে মুহাম্মদ সুলতান, তাঁর চাচা [[শাহ সুজা|শাহ সুজার সাথে]] যোগ দেন এবং চাচার মেয়ে গুলরুখ বানু বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে, শীঘ্রই তিনি রাজপুত্রকে ছেড়ে চলে যান এবং <ref name="ReferenceA">{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The History of India, as Told by Its Own Historians. The Muhammadan Period:&nbsp;Ed. from the Posthumous Papers of the Late Sir H. M. Elliot ...|শেষাংশ=Elliot|প্রথমাংশ=Sir Henry Miers|বছর=1877|প্রকাশক=Trübner and Company|পাতাসমূহ=249–51|আইএসবিএন=}}</ref> ১৬৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর পিতার কাছে ফিরে আসেন। <ref name="ReferenceA"/> আওরঙ্গজেবের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সলিমগড় দুর্গে প্রেরণ করা হয়,<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Indian Travels of Thevenot and Careri: Being the Third Part of the Travels of M. de Thevenot Into the Levant and the Third Part of a Voyage Round the World by Dr. John Francis Gemelli Careri|শেষাংশ=Sen|প্রথমাংশ=Surendra Nath|বছর=1949|প্রকাশক=National Archives of India|পাতাসমূহ=370|আইএসবিএন=}}</ref> এবং পরে ১৬৬১ সালে গোয়ালিয়র দুর্গে স্থানান্তর করা হয়। {{Sfn|Sarkar|1947}}
 
১৬৬২ সালে, আওরঙ্গজেবের অসুস্থতার সময়, তাঁর বোন রোশনারা বেগম তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নিজের বিশ্বাসী ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁকে দেখার অনুমতি দিতেন না। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Emperors of the Peacock Throne: The Saga of the Great Mughals|শেষাংশ=Eraly|প্রথমাংশ=Abraham|বছর=2000|প্রকাশক=Penguin Books India|পাতাসমূহ=536|আইএসবিএন=978-0-141-00143-2}}</ref> ভাইয়ের বেঁচে থাকার কোনও আশা নেই বলে বিশ্বাস করে রোশনারা রাজ্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। নবাব বাঈ এই বিষয়টি জানতে পেরে অভিযোগ করলে, রোশনারা রেগে যান, এবং তাঁর চুল ধরে আওরঙ্গজেবের কক্ষ থেকে বার করে দেন।
 
১৬৬৯ সালে আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি নবাব বাঈয়ের কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন যে, তার পুত্রকে বরখাস্ত করার পরে আরানডোলের ফৌজদারের পদ তাকে মঞ্জুর করা হোক। তবে বিষয়টি আওরঙ্গজেবের কাছে জমা দেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The British Historical Context and Petitioning in Colonial India|শেষাংশ=Majid (Prof.)|প্রথমাংশ=Siddiqui|তারিখ=January 1, 2005|প্রকাশক=Aakar Books|পাতাসমূহ=13|আইএসবিএন=978-8-187-87950-3}}</ref>
 
১৬৭০ সালে, চাটুকাররা, মুহাম্মদ মুয়াজ্জমকে স্ব-ইচ্ছায় এবং স্বতন্ত্রভাবে আচরণের জন্য প্ররোচিত করেছিল। এই বিষয়ে আওরঙ্গজেবের পরামর্শমূলক চিঠিটির কোনও ফল না হওয়ায়, তিনি ছেলের আচরণ সংশোধন করতে, ছেলের কাছে প্রেরণের জন্য নবাববাঈকে দিল্লি থেকে ডেকে পাঠালেন। তিনি ১৬৭০ সালের এপ্রিলে সিকান্দ্রায় পৌঁছেছিলেন, সেখানে মুহাম্মদ আকবর, বখশিমুলক আসাদ খান এবং বাহরামন্দ খান তাঁকে রাজকীয় হারেমের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। {{Sfn|Sarkar|1947}} ১৬৭০ সালের মে মাসে তিনি আওরঙ্গাবাদে যাত্রা শুরু করেন এবং পুত্র মুহাম্মদ সুলতানের সাথে দু'দিন [[গোয়ালিয়র|গওয়ালিয়ায়]] কাটানোর আদেশ পান। কিছুদিন সেখানে থাকার পরে, সারবুলান্দ খান তাকে মুহাম্মদ মুয়াজ্জামের কাছে নিয়ে যান। {{Sfn|Sarkar|1947}}
 
১৬৮৬ সালে তিনি [[গোয়া|গোয়ায়]] বিখ্যাত ইতালীয় লেখক ও ভ্রমণকারী নিকোলাও মানুচির সাথে দেখা করেছিলেন {{Sfn|Manucci|1907}} যিনি দাবি করেছিলেন যে বছরে দু'বার নবাব বাঈকে রক্তপাত করেছেন। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The Mughal World: Life in India's Last Golden Age|শেষাংশ=Eraly|প্রথমাংশ=Abraham|তারিখ=January 1, 2007|প্রকাশক=Penguin Books India|পাতাসমূহ=145|আইএসবিএন=978-0-143-10262-5}}</ref>
 
১৬৮৭ সালে মুহাম্মদ মুয়াজ্জাম গোলকোন্ডার শাসক সুলতান আবুল হাসানের সাথে অবাধ্যতা করেছিলেন।। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Mughal Empire in India: A Systematic Study Including Source Material, Volume 2|শেষাংশ=Sharma|প্রথমাংশ=S. R.|তারিখ=January 1, 1999|প্রকাশক=Atlantic Publishers & Dist|পাতাসমূহ=605|আইএসবিএন=978-8-171-56818-5}}</ref> তাঁর পরামর্শ এবং এমনকি ব্যক্তিগত অনুরোধের কোনও প্রভাব পড়েনি এবং শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেবের আদেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। {{Sfn|Sarkar|1912}} মুয়াজ্জামের ছেলেরা,<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Encyclopaedia Indica: Aurangzeb and his administrative measures|শেষাংশ=Shashi|প্রথমাংশ=Shyam Singh|বছর=1999|প্রকাশক=Anmol Publications|পাতাসমূহ=270|আইএসবিএন=978-8-170-41859-7}}</ref> এবং তার প্রথম ও প্রধান স্ত্রী নূর-উন-নিসা বেগমকেও পৃথক কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The Mughal administration|শেষাংশ=Srivastava|প্রথমাংশ=M. P.|বছর=1995|প্রকাশক=Chugh Publications|পাতাসমূহ=247|আইএসবিএন=978-8-185-61397-0}}</ref>
 
নবাব বাই গিরিখাতের পাদদেশে, ফারদাপুরে একটি সেরাই তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়, এবং [[ঔরঙ্গাবাদ, মহারাষ্ট্র|আওরঙ্গবাদ]] শহরতলিতে বাইজিপুরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। {{Sfn|Sarkar|1912}}
 
== মৃত্যু ==
স্বামী ও সন্তানদের থেকে দীর্ঘ বহু বছর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরে, তিনি ১৬৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লিতে মারা যান। আওরঙ্গজেব তাঁর কন্যা [[জিনাত-উন-নিসা|জিনাত-উন-নিসা সহ]] সমবেদনা জানাতে মুহাম্মদ মুয়াজ্জামের কাছে এসেছিলেন। {{Sfn|Sarkar|1947}}
 
== তথ্যসূত্র ==
{{সূত্র তালিকা|3}}
 
[[বিষয়শ্রেণী:১৬৯১-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৬২৩-এ জন্ম]]